📄 'ফেরাশি' বিছানায় আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা রাসূলে খোদা (স) -এর প্রতি এমন সময় অবতীর্ণ হয়েছে যখন তিনি নিজের বিছানায় ছিলেন। যেমন وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ এই আয়াতটি নবী কারীম (স) বিছানায় শায়িত অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) এর উপমা হিসেবে এটি ছাড়াও আরো দু'টি আয়াত উল্লেখ করেছেন।
📄 'নাওমী' নিদ্রাবস্থায় আয়াত
কেউ কেউ 'নাওমী' নামেও আয়াতের একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা ঘুমন্ত অবস্থায় রাসূলে আকরাম (স) -এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে তাঁরা সহীহ মুসলিম শরীফের ওই বর্ণনাকে উল্লেখ করেছেন, যা হযরত আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত যে, একবার নবীয়ে পাক (স) আমাদের মাঝে তাশরীফ আনলেন। এক পর্যায়ে তিনি তন্ত্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। অতপর তিনি মুচকি হাসতে হাসতে মাথা মুবারক উঠিয়ে বললেন, আমার উপর এই মাত্র একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। এ বলে নবী কারীম (সা.) সূরা কাউসার তেলাওয়াত করলেন-
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ {1} فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ {2} إِنْ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
তবে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কথা হলো, ঘুমন্ত অবস্থায় নবীয়ে পাক (স)-এর প্রতি কোনো আয়াতই অবতীর্ণ হয়নি। উপরোক্ত বর্ণনায় "নিদ্রাচ্ছন্ন” বলে যে অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। মূল হাদীসে তার জন্য اِغفَادَة শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আর ইমাম রাফেঈ (রহ.) সহ আরো অনেকে বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিদ্রা নয়। বরং ওই বিশেষ অবস্থা, ওহী নাযিল হবার সময় নবী কারীম (স)-কে যা আচ্ছন্ন করতো। (তাই উপরোক্ত হাদীস থেকে এ কথা উপলব্ধি করা যে, ঘুমন্ত অবস্থায়ও কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) ও ইমাম রাফেঈ (রহ.)-এর এই মতকে সমর্থন করেছেন।)
টিকাঃ
৭৯. সূরা কাউসার
৮০. "আল-ইতকান" ১/২৩
প্রকাশ থাকে যে, ভবিষ্যদ্বাণী ছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীম ইলমী ও ঐতিহাসিক এমন বহু তথ্য উন্মোচন করেছে, যা ওই যুগে শুধু 'অজ্ঞাত' ছিল, এমনটি নয়; বরং ওই সময় সেগুলোর কল্পনাও করা যেত না। যদি পবিত্র কুরআন মাজীদের এ ধরনের আয়াতগুলো একত্রিত করে সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে পরিণত হতে পারে। এখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে।
১. পবিত্র কুরআনুল কারীম বর্ণনা করেছে যে, যখন ফেরাউন সমুদ্রে নিমজ্জিত হচ্ছিল তখন সে নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য মৌখিকভাবে ঈমানের স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এর জবাবে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা ইরশাদ করেন—
آلآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ * فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ
'এখন (ঈমান আনছ), আগে তো অমান্য করেছ আর ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত থেকেছ। আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পার।' অধিকাংশ মানুষই আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে নিশ্চিতই উদাসীন।
যে সময় এই আয়াত নাযিল হয়েছিল তখন এবং তারপর থেকে শতাব্দী কাল পর্যন্ত কারো জানা ছিল না যে, ফেরাউনের মৃতদেহ এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এখন থেকে মাত্র কয়েক যুগ পূর্বে এই মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এবং আজও তা মিসরের রাজধানী কায়রো জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
২. পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে—
وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
'আর আমি প্রত্যেক বস্তু থেকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।'
এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়েছে তখন কল্পনা ছিল যে, নারী ও পুরুষের জোড়া তো শুধু মানুষ অথবা প্রাণী জগতের মধ্যেই হয়ে থাকে। অথবা কিছু উদ্ভিদ জগতেও হয়ে থাকে। কিন্তু সাইন্স বা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এই কুরআনী তত্ত্ব ও সুস্পষ্ট হতে লাগল যে, নারী ও পুরুষ সব জিনিসের মাঝেই বিদ্যমান। তবে এটা ভিন্ন কথা যে, কোথাও সে জোড়ার নামকরণ করা হয় নারী-পুরুষ, আবার কোথাও পজিটিভ ও নেগেটিভ, আবার কোথাও ইলেকট্রন ও প্রোটন ইত্যাদি। বরং এক আয়াতে পবিত্র কুরআন মাজীদ সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করে দিয়েছে যে, অনেক জিনিসের মাঝে জোড়া খুঁজে পাওয়া এখনো মানুষের অজানা রয়ে গেছে—
سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
'পূত পবিত্র সেই সত্তা যিনি জোড়া সৃষ্টি করেছেন প্রত্যেকটির যা উৎপন্ন করে যমীন, আর তাদের নিজেদের ভিতরেও আর সে সবেও যা তারা জানে না।'
টিকাঃ
৩৯২. সূরা ইউনুস: ৯১-৯২
৩৯৩. যারিআত: ৪৯
৩৯৪. সূরা ইয়াসীন: ৩৬
প্রকাশ থাকে যে, ভবিষ্যদ্বাণী ছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীম ইলমী ও ঐতিহাসিক এমন বহু তথ্য উন্মোচন করেছে, যা ওই যুগে শুধু 'অজ্ঞাত' ছিল, এমনটি নয়; বরং ওই সময় সেগুলোর কল্পনাও করা যেত না। যদি পবিত্র কুরআন মাজীদের এ ধরনের আয়াতগুলো একত্রিত করে সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে পরিণত হতে পারে। এখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে।
১. পবিত্র কুরআনুল কারীম বর্ণনা করেছে যে, যখন ফেরাউন সমুদ্রে নিমজ্জিত হচ্ছিল তখন সে নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য মৌখিকভাবে ঈমানের স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এর জবাবে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা ইরশাদ করেন—
آلآنَ وَقَدْ عَصَيْتَ قَبْلُ وَكُنتَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ * فَالْيَوْمَ نُنَجِّيكَ بِبَدَنِكَ لِتَكُونَ لِمَنْ خَلْفَكَ آيَةً وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ عَنْ آيَاتِنَا لَغَافِلُونَ
'এখন (ঈমান আনছ), আগে তো অমান্য করেছ আর ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত থেকেছ। আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পার।' অধিকাংশ মানুষই আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে নিশ্চিতই উদাসীন।
যে সময় এই আয়াত নাযিল হয়েছিল তখন এবং তারপর থেকে শতাব্দী কাল পর্যন্ত কারো জানা ছিল না যে, ফেরাউনের মৃতদেহ এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এখন থেকে মাত্র কয়েক যুগ পূর্বে এই মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এবং আজও তা মিসরের রাজধানী কায়রো জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
২. পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হচ্ছে—
وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
'আর আমি প্রত্যেক বস্তু থেকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি। যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।'
এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়েছে তখন কল্পনা ছিল যে, নারী ও পুরুষের জোড়া তো শুধু মানুষ অথবা প্রাণী জগতের মধ্যেই হয়ে থাকে। অথবা কিছু উদ্ভিদ জগতেও হয়ে থাকে। কিন্তু সাইন্স বা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এই কুরআনী তত্ত্ব ও সুস্পষ্ট হতে লাগল যে, নারী ও পুরুষ সব জিনিসের মাঝেই বিদ্যমান। তবে এটা ভিন্ন কথা যে, কোথাও সে জোড়ার নামকরণ করা হয় নারী-পুরুষ, আবার কোথাও পজিটিভ ও নেগেটিভ, আবার কোথাও ইলেকট্রন ও প্রোটন ইত্যাদি। বরং এক আয়াতে পবিত্র কুরআন মাজীদ সুস্পষ্ট করে বর্ণনা করে দিয়েছে যে, অনেক জিনিসের মাঝে জোড়া খুঁজে পাওয়া এখনো মানুষের অজানা রয়ে গেছে—
سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ
'পূত পবিত্র সেই সত্তা যিনি জোড়া সৃষ্টি করেছেন প্রত্যেকটির যা উৎপন্ন করে যমীন, আর তাদের নিজেদের ভিতরেও আর সে সবেও যা তারা জানে না।'
টিকাঃ
৩৯২. সূরা ইউনুস: ৯১-৯২
৩৯৩. যারিআত: ৪৯
৩৯৪. সূরা ইয়াসীন: ৩৬
📄 'সামাভী' আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা মেরাজের সময় নবী কারীম রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি আসমানে থাকা অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ ব্যাপারে শুধু সহীহ মুসলিমের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। যা থেকে জানা যায় যে, সূরা বাকারার শেষ আয়াতটি মেরাজের রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহায় অবতীর্ণ হয়েছে।
টিকাঃ
৮১. "প্রাগুক্ত" ১/২৪
📄 'ফেযায়ী' বা শূন্যে অবতীর্ণ আয়াত
আল্লামা ইবনে আরাবী (রহ.) ওহীর প্রকারের মধ্যে এমন একটি প্রকারও বর্ণনা করেছেন যা জমিনেও নাযিল হয়নি এবং আসমানেও নাযিল হয়নি। বরং এতদুভয়ের মাঝামাঝি বা শূন্যে নাযিল হয়েছে। তাঁর মতে সূরা সফফাতের তিন আয়াত-
وَمَا مِنَّا إِلَّا لَهُ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
থেকে শেষ পর্যন্ত এবং সূরা যুখরুফ এর এক আয়াতে-
وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُلِنَا
প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। তবে আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) বলেন, আমি এ ব্যাপারে ধারাবাহিক সূত্র পরম্পরায় কিছু পাইনি।
টিকাঃ
৮১. "প্রাগুক্ত" ১/২৪