📄 'নাহারী' আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা দিনের বেলা অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লামা ইবনে হাবীব বলেন, অধিকাংশ আয়াত এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
📄 'লাইলী' আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা রাতের বেলা অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন, সূরা আলে-ইমরানের শেষের দিকের আয়াত-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
এই আয়াতটি রাতের বেলা অবতীর্ণ হয়েছে। এ ছাড়াও আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) আল-ইতকান গ্রন্থে এ প্রকারের অতিরিক্ত উদাহরণ দিতে গিয়ে এক ডজনের মতো আয়াত উল্লেখ করেছেন।
📄 'সয়ফী' আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা গরমের মৌসুমে অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন, সূরা নিসার শেষ আয়াত-
يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ
সহীহ মুসলিমে হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ী উপরোক্ত আয়াতটি গরমের মৌসুমে অবতীর্ণ হয়েছে। অপর এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, ওই আয়াতটি বিদায় হজ্বের সময় অবতীর্ণ হয়েছে। এ থেকে বুঝা গেল যে, বিদায় হজের সময় যত আয়াত নাযিল হয়েছে, সবগুলোই ছিল 'সয়ফী' বা গ্রীষ্মকালে অবতীর্ণ আয়াত। যেমন-
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
টিকাঃ
৭৮. মায়েদা আয়াত নং ৩
📄 'শীতায়ী' আয়াত
অর্থাৎ ওই সকল আয়াত যা শীতের মৌসুমে অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন, সূরা নূর-এর আয়াত-
إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالْإِفْكِ
এই আয়াতগুলোতে উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এগুলো শীতের সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে। যেমনটি সহীহ বুখারীতে স্বয়ং উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা.) থেকেই বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে সূরা আহযাবে বর্ণিত খন্দক যুদ্ধের ঘটনা সম্বলিত আয়াতগুলোও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, খন্দকের যুদ্ধও শীতকালীন সময়েই সংঘটিত হয়েছিল।