📘 উলুমুল কুরআন 📄 কুরআন নাযিলের ইতিহাস

📄 কুরআন নাযিলের ইতিহাস


পবিত্র কুরআনুল কারীম মূলত মহান আল্লাহ তা'আলার কালাম। তাই সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই তা লাওহে মাহফুযে সুরক্ষিত আছে। এপ্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে- بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَّجِيدٌ فِي لَوْحٍ مَّحْفُوظ '(কাফিররা অমান্য করলেও এ কুরআনের কোনই ক্ষতি হবে না) বস্তুতঃ এটা সম্মানিত কুরআন, যা লাওহে মাহফুযে সুরক্ষিত আছে।'

অতঃপর পবিত্র কুরআনুল কারীম দু'ধাপে 'লাওহে মাহফুয' থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। প্রথম ধাপে সম্পূর্ণ কুরআন একই সঙ্গে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানের “বাইতুল ইজ্জত”-এ নাযিল করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে নবী কারীম (সা.)-এর উপর প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে নাযিল হয়ে দীর্ঘ তেইশ বছরে তা পূর্ণতা লাভ করেছে। “অবতীর্ণ” হওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনুল কারীমে দু'টি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। একটি হলো, إنزال (ইনযাল)। আরেকটি হলো, تنزيل (তানযীল)। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে, কোনো বস্তুর পুরোটা একই সঙ্গে নাযিল করে দেওয়া। আর দ্বিতীয়টির অর্থ হচ্ছে, ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে নাযিল করা। অতএব, পবিত্র আল-কুরআনুল কারীম যেখানেই নিজের জন্য প্রথম শব্দটি [ইনযাল] ব্যবহার করেছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য সাধারণত 'লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ হওয়া।' পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ 'নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে।'

আর যেখানে দ্বিতীয় শব্দটি (তানযীল) ব্যবহার করেছে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, রাসূলে আকরাম (সা.)-এর উপর ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে নাযিল হওয়া। যেমন, কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে- وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَلْنَاهُ تَنْزِيلًا 'আর কুরআন আমি নাযিল করেছি কিছু কিছু করে, যেন তুমি তা মানুষের কাছে পাঠ করতে পার ধীরে ধীরে এবং আমি তা নাযিল করেছি পর্যায়ক্রমে।'

বস্তুত কুরআন নাযিলের এ দু'টি পর্যায় স্বয়ং কুরআনুল কারীমের বর্ণনাভঙ্গি থেকেও বুঝা যায়। এ ছাড়া ইমাম নাসাঈ, হাকেম, বায়হাকী, ইবনে আবী শাইবা, তবারাণী ও ইবনে মারদূইয়া প্রমুখ মুহাদ্দিসীনে কেরাম হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে একাধিক রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। যেগুলোর সারমর্ম হচ্ছে এটাই যে, পবিত্র কুরআনুল কারীম প্রথমবার একসাথে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং দ্বিতীয় বার ধীরে ধীরে [তেইশ বছরে] রাসূলে খোদা (সা.)-এর উপর নাযিল হয়েছে।

টিকাঃ
৫৫. সূরা বুরূজ: ২১-২২
৫৬. সূরা দুখান: ২
৫৭. সূরা বনী ইসরাঈল: ১০৬
৫৮. আল-ইতকান: ১/৪১

📘 উলুমুল কুরআন 📄 এ পরিচ্ছেদের সারাংশ

📄 এ পরিচ্ছেদের সারাংশ


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
কুরআন নাযিলের ইতিহাস এ পরিচ্ছেদের সারাংশ :

এ পরিচ্ছেদে এতে আলোচনা করা হয়েছে কোরআন “লওহে মাহফুজ” থেকে দুনিয়ায় অবতরণের পদ্ধতিগত বর্ণনা। এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে আল-কোরআনে অতিমাত্রায় ব্যবহৃত শব্দদয় “ইনযাল” এবং “তানযীল”-এর মধ্যে কী পার্থক্য! অতঃপর ওহীকে নাযিলের অবস্থানগত দিক দিয়ে দু'টি পর্যায়ে বিভক্তকরণ, যথাঃ একঃ কোরআন কারীম "লওহে মাহফুজ” থেকে দুনিয়ার আসমান "বাইতুল ইজ্জত” নামক স্থানে অবতীর্ণ হওয়া, পাশাপাশি বর্ণনা করা হয়েছে তার হিকমত। দুইঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর অবতীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিকতা। অতঃপর সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াত ও তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনা উল্লেখ, মাক্কী ও মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ, যেমনঃ "কাল্লা (কক্ষনো নয়!)" শব্দ ও সিজদার আয়াত থাকা, আদম (আলাইহিস সালাম) ও ইবলিসের ঘটনা বর্ণিত হওয়া ইত্যাদি মাক্কী সূরার বৈশিষ্ট্য, অন্যদিকে জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত, মুনাফিকদের ব্যাপারে বর্ণনা ইত্যাদি মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্য, এছাড়াও আরও কতক উসূলী বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে, যদ্বারা মাক্কী-মাদানী সূরার পৃথকীকরণ সহজ হয়, পাশাপাশি সূরাসমূহের মধ্যে ভিন্ন রকমের বৈশিষ্ট্য থাকায় কতকের এই মতও খণ্ডন করা হয়েছে যে, "যেমন পরিবেশের মাধ্যমে প্রভাবিত হওয়া কোরআন মানব রচিত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে" এধরণের বক্তব্য নিয়ে (নাউজুবিল্লাহ)।

এছাড়াও এতে আলোচনায় এসেছে কুরআন নাযিলের কাল ও স্থানগত বর্ণনা, যথাঃ “নাহারী, লাইলী (রাত্রিকালীন), সয়ফী, শীতায়ী, ফেরাশী, নাওমী, সামাভী, ফেযায়ী আয়াত, কোরআন অবতরণকালীন ও বর্তমানের বিন্যাস এবং এতে প্রাচ্যবিদদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা ও তার ফলাফল, আসবাবে (শানে) নুযুলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করে, কোরআনের আয়াতের প্রকারভেদ, তার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা, যেমনঃ আহকামের নিগূঢ় রহস্য সম্বন্ধে অবগতিলাভ, মর্ম উপলব্ধির জন্য আবশ্যকতা, কোরআনের উপর অসঙ্গত ধারণার অপনোদন ইত্যাদি, পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে একই আয়াতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন "শানে নুযুল” বর্ণিত হওয়ার প্রকৃত কারণ।

পাশাপাশি শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপারে কতকের মনের ভ্রান্তি-অপনোদন করা হয়েছে। এবং যে তার কথার অর্থ শানে নুযূলের অবহেলা নয়, বরং বিভিন্নতার হাকীকত বর্ণনা করা।

পরবর্তীতে "শানে নুযূল ও বর্ণনার বিভিন্নতা" নামক শিরোনামে সাহাবায়ে কেরাম থেকে একই আয়াতের বিভিন্ন "শানে নুযূল" বর্ণিত হওয়ার কিছু উদাহরণ ও কারণ বর্ণনার পাশাপাশি "তারজীহ” দেয়ার মূলনীতি-বিবরণ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তাফসীর শাস্ত্রে আগ্রহী তালেবে ইলম ভাইদের জন্য বেশ উপকারী। যেমন:
১. সাহাবা এবং তাবিয়ীনে কেরাম কোনো মাসআলার অন্তর্ভুক্তি বুঝাতে আয়াত উল্লেখ করার পর বলতেন, “নাযালাতিল আয়াতু ফি কাযা” আয়াতটি এই বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ এর মাধ্যমে ধোকায় পড়ে যেতে হয় যে, আয়াতটির "শানে নুযূল” এই ঘটনা/বিষয়। এর জটিলতা নিরসনকল্পে উদাহরণসহ উসূলীমূলক আলোচনা করা হয়েছে।
২. "শানে নুযুল” নির্ধারণের ক্ষেত্রে হাদীসের দুর্বলতা ও সবলতার প্রতি খেয়াল রাখা হবে।
৩. হাদীস সমমানের হলে অন্যান্য "করীনাহ"র দিকে নজর দিতে হবে।
৪. আবার কখনো একই আয়াতের একাধিক "শানে নুযূল”ও হতে পারে। যেমন "লিআন” সংক্রান্ত আয়াত।
৫. কখনো একই ঘটনার প্রেক্ষিতে একাধিক আয়াতও নাযিল হয়ে থাকে। কিন্তু বিভিন্নজন অংশবিশেষ করে বর্ণনা করায় তাতে দোদুল্যমানতা জাগে।
৬. আবার কখনো একাধিক ঘটনার জন্যে একই আয়াতও কয়েকবার নাযিল হয়ে থাকে।

আরও আলোচিত হয়েছে "শানে নুযূল” বিশিষ্ট আয়াতসমূহের প্রকারভেদ, যথাঃ
১. নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাযিলকৃত আয়াতের "মিসদাক” কেবল সেই হবে। যেমন আবু লাহাব।
২. অনির্দিষ্টভাবে গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে অন্য দলীলের মাধ্যমে তার পরিচয় পাওয়া গেছে, সেক্ষেত্রেও "ইত্তিফাক” যে, তার হুকুম কেবল উক্ত ব্যক্তির উপরই প্রযোজ্য হবে।
৩. বিশেষ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে, তবে তার শব্দগুলো ব্যাপক, পাশাপাশি কোনো দলীলের মাধ্যমে জানা যায় যে, আয়াতটি উক্ত ঘটনার সাথে নির্দিষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সমস্ত উম্মতই এর আওতাভুক্ত হবে। উদাহরণস্বরূপ আনা হয়েছে "যিহার” এর আয়াত।
৪. বিশেষ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছে, তার শব্দগুলোও ব্যাপক, এবং কোনো দলীলের মাধ্যমে জানা যায় না যে, আয়াতটি উক্ত ঘটনার সাথে নির্দিষ্ট কি-না। এক্ষেত্রে উলামায়ে উম্মতের ইখতিলাফ, পাশাপাশি ফলপ্রসু সমাধানও নিয়ে আসা হয়েছে।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 প্রথম ধাপে অবতীর্ণ

📄 প্রথম ধাপে অবতীর্ণ


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা থেকে এত টুকু জানা যায় যে, পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রথম পর্যায়ের নাযিল লাওহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আসমানে “বাইতুল ইজ্জত” নামক স্থানে হয়েছে। তবে এই বাইতুল ইজ্জতে কুরআন কিভাবে নাযিল হয়েছে? আর সেখানে নাযিলের তাৎপর্য ছিল কি? এ ব্যাপারে সুনিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। অবশ্য কোনো কোনো আলেম এর বিভিন্ন হেকমত বা তাৎপর্য বর্ণনা করেছেন।

যেমন আল্লামা আবু শামাহ (রহ.) এর তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “এর দ্বারা কুরআনুল কারীমের উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করাই ছিল উদ্দেশ্য। আর ফেরেশতাগণকেও এ কথা জানিয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল যে, এটি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বশেষ কিতাব। যা জগৎবাসীর হেদায়াতের জন্য নাযিল করা হচ্ছে।”

আল্লামা যুরকানী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, এভাবে দু'পর্যায়ে পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল করে এ কথা বুঝানো হয়েছে যে, এ কিতাব সর্বপ্রকার সংশয় ও সন্দেহের ঊর্ধ্বে। উপরন্তু নবী কারীম (সা.)-এর পবিত্র বক্ষদেশ ছাড়াও আরো দুই স্থানে তা সুরক্ষিত রয়েছে। একটি হলো, লাওহে মাহফুয ও আরেকটি হলো, "বাইতুল ইজ্জত।”

প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হেকমত ও নিগূঢ় রহস্যাবলী জানার সাধ্য কার? এর মাঝে আরো কি কি রহস্য লুকায়িত আছে তা একমাত্র তিনিই জানেন। আর আমাদেরকে সেগুলোর পেছনে পড়ার কোনো প্রয়োজনও নেই। তবে আমাদেরকে এ টুকু সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পবিত্র লাইলাতুল কদরের রজনীতে প্রথম “ধাপে নাযিল” হয়েছিল।

টিকাঃ
৫৯. মানাহিলুল ইরফান: ১/৩৯

📘 উলুমুল কুরআন 📄 দ্বিতীয় ধাপে অবতীর্ণ

📄 দ্বিতীয় ধাপে অবতীর্ণ


এ ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত যে, প্রিয় নবী কারীম (সা.)-এর প্রতি দ্বিতীয় পর্যায়ের অল্প অল্প করে পর্যায়ক্রমিক অবতরণ তখন থেকে আরম্ভ হয়েছিল, যখন নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স চল্লিশ বছর ছিল। বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে এই অবতরণও শুরু হয়েছিল লাইলাতুল কদর থেকেই। আর এটা ছিল সেই ঐতিহাসিক দিন, যে দিনের (এগারো বছর পর) বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কালামে পাকে ইরশাদ হয়েছে- وَمَا أَنزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ 'আমি আমার বান্দার উপর যা নাযিল করেছি তার প্রতি, যেদিন দু'টি দল মুখোমুখি হয়েছে।'

এভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীমের অবতরণের সূচনালগ্নের ব্যাপারে স্বয়ং আল-কুরআন থেকেই নিম্নোক্ত তথ্যগুলো পাওয়া যায়।
১. অবতরণের সূচনা রমযান মাস থেকে হয়েছে।
২. শবে কদরে অবতরণের প্রথম সূচনা হয়েছিল।
৩. ওই তারিখে প্রথম নাযিল হয়েছিল, যে তারিখে পরবর্তীতে বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

তবে সেই রাতটি রমযানের কোন তারিখ ছিল? এ ব্যাপারে সুনিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। কোনো কোনো বর্ণনা থেকে জানা যায়, তা ছিল রমযানের সতের তারিখ। কোনো বর্ণনায় উনিশতম তারিখ। আবার কোনো কোনো বর্ণনা মতে সাতাশতম তারিখ।

টিকাঃ
৬০. প্রসিদ্ধ আছে যে, রাসূল (সা.) রবিউল আউয়াল মাসে নবুওয়াত প্রাপ্ত হন। আল্লামা সুয়ূতী (রহ.) এর যথাযথ ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, রবিউল আউয়াল মাসে রাসূল (সা.)-এর প্রতি সত্য স্বপ্নের আগমন শুরু হয়েছিল। ছয় মাস পর্যন্ত লাগাতার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। অতঃপর রমযান মাসে কুরআনুল কারীম অবতীর্ণ হতে শুরু করে। "আল ইতকান": ১/৪২
৬১. সূরা আনফাল: ৪১
৬২. দেখুন, "তাফসীরে জামেউল বয়ান": ১০/৭ মিসর। ইবনে জারীর তাবারী (রহ.) রচিত

ফন্ট সাইজ
15px
17px