📄 আসলরূপে ফেরেশতার আগমন
ওহী অবতীর্ণের তৃতীয় পদ্ধতি ছিল এই যে, হযরত জিবরাঈল (আ.) কোনো মানুষের আকৃতি ধারণ না করে নিজের প্রকৃত আকৃতি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে যেতেন। তবে তাঁর জীবনে মাত্র তিনবার ঘটেছিল। প্রথম বার যখন তিনি নিজেই হযরত জিবরাঈল (আ.)-কে প্রকৃতরূপে প্রত্যক্ষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। দ্বিতীয় বার মিরাজ বা ঊর্ধ্বজগত ভ্রমণের সময়। তৃতীয় বার নবুওয়াতের একেবারে সূচনাকালে মক্কা মুকাররমার "আজইযাদ” নামক স্থানে। প্রথম দু'টি ঘটনা তো সঠিক সনদ দ্বারা প্রমাণিত। তবে তৃতীয় ঘটনাটি সনদের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল হবার কারণে সন্দেহের অবকাশ বিদ্যমান।
টিকাঃ
৩২. "আল-ইতকান": ১/৪৬
৩৩. "আল-মিনহাজ" আবু আবদুল্লাহ হুসাইন ইবনুল হাসান-আল হালিমী আল-জুরযানী রচিত।
৩৪. "ফাতহুল বারী": ১/১৬ হাফেয ইবনে হাযার আসকালানী।
📄 সত্য স্বপ্ন
ওহীর চতুর্থ পদ্ধতি ছিল এই যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য স্বপ্ন দেখতেন। স্বপ্নযোগে যা কিছু প্রত্যক্ষ করতেন বাস্তবে তাই ঘটত। উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহা) বলেন- (أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح 'ঘুমন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হবার সূচনা হয়। ওই সময় তিনি স্বপ্নযোগে যা কিছু প্রত্যক্ষ করতেন, প্রত্যুষে তা উদ্ভাসিত প্রভার ন্যায় বাস্তবায়িত দেখতে পেতেন।'
এ ছাড়াও মদীনায়ে তৈয়েবাতে একবার এক মুনাফিক নবী কারীম (সা.)-এর উপর যাদু করেছিল। ওই যাদু সম্পর্কে অবগতি এবং তা প্রতিহত করার উপায়ও নবীজীকে স্বপ্নযোগে মহান আল্লাহর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
টিকাঃ
৩৫. "ফাতহুল বারী": ১/১৬ হাফেয ইবনে হাযার আসকালানী।
৩৬. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: "ফাতহুল বারী": ১/১৮-১৯
৩৭. সহীহ বুখারী: ১/২, হাদীস নং ৩।
📄 আল্লাহ তা'আলার পবিত্র কালাম
হযরত মূসা (আ.)-এর ন্যায় নবী কারীম (সা.) ও সরাসরি মহান আল্লাহ জাল্লা শানুর বাণী শ্রবণ করার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়েছিলেন। জাগ্রত অবস্থায় শুধু মেরাজের সময় এ ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া স্বপ্নযোগেও একবার নবীজী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সামনা সামনি কথা বলার সৌভাগ্য লাভ করে ছিলেন।
টিকাঃ
৩৮. সহীহ বুখারী: ২/৮৫৭-৮৫৮, আসাহহুল মাতাবি' করাচী।
৩৯. "আল ইতকান": ১/৪৬
📄 অন্তরে বার্তা গেঁথে দেওয়া
ওহী অবতীর্ণ হওয়ার ষষ্ঠ পদ্ধতি ছিল এই যে, হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর কোনো রূপ ধারণ করে সামনে আসা ব্যতীত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর অন্তরে কোনো বার্তা ঢেলে দিতেন। যেমন, এক বর্ণনায় তিনি ইরশাদ করেছেন- إِنَّ رُوحَ القُدُسِ نَفَثَ فِي رُوعِي 'পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) আমার অন্তরে (এ কথা) ঢেলে দিয়েছেন।' 'মুসতাদরাক হাকেম'-এর বর্ণনায় এভাবে এসেছে- إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلامُ, أَلْقَى فِي رُوعِيَ أَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ لَنْ يَخْرُجَ مِنَ الدُّنْيَا حَتَّى يَسْتَكْمِلَ رِزْقَهُ 'জিবরাঈল (আ.) আমার অন্তরে এ কথা ঢেলে দিয়েছে যে, তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিই তার রিযিক পূর্ণ করা ব্যতীত অবশ্যই পার্থিব জগৎ ত্যাগ করবে না।'
টিকাঃ
৪০. "আল ইতকান": ১/৪৬
৪১. আল-হাকেম: "আল-মুসতাদরাক [ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়]": ২/৪, দায়েরাতুল মাআরিফ, ১৩৪০ হিজরী।