📘 উলুমুল কুরআন 📄 মানব রূপে ফেরেশতার আগমন

📄 মানব রূপে ফেরেশতার আগমন


ওহীর দ্বিতীয় পদ্ধতি যা উল্লিখিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে তা হলো, ফেরেশতা কোনো মানবাকৃতিতে নবী কারীম (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে মহান আল্লাহ তা'আলার বাণী পৌঁছে দিতেন। এতে সাধারণত হযরত জিবরাঈল (আ.) প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত দিহ্ইয়াতুল কালবী (রা.)-এর আকৃতিতে আগমন করতেন। আল্লামা আইনী (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরামের মধ্য হতে হযরত দিইয়াতুল কালবী (রা.)-কে নির্বাচন করার সম্ভাব্য কারণ এই যে, তিনি তাঁর সময়ের সবচেয়ে সুন্দর ও সুদর্শন পুরুষ ছিলেন। এতটাই সুন্দর ছিলেন যে তিনি নিজ চেহারা ঢেকে চলতেন। অবশ্য কোনো কোনো সময় অন্যদের আকৃতিতেও হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন করার প্রমাণ রয়েছে। যেমন, হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর প্রসিদ্ধ বর্ণনায় হাদীসে জীব্রিলে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত এক ব্যক্তির আকৃতিতে আগমন করেছিলেন।

কেননা, সেখানে উদ্দেশ্যটাই ছিল নবী কারীম (সা.)-এর সাথে এক অপরিচিত ব্যক্তির এতটা অন্তরঙ্গ কথোপকথনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গকে আশ্চর্যান্বিত করা। এবং সর্বোপরি এ কথার উপর সবাই একমত যে, যে ফেরেশতা নবী কারীম (সা.)-এর নিকট ওহী নিয়ে আসতেন, তিনি ছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ.)। পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে- قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ তুমি বল: যে ব্যক্তি জিবরাঈলের সাথে শত্রুতা রাখে এ জন্য যে, সে আল্লাহর হুকুমে এই কুরআনকে তোমার অন্তঃকরণ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছে।

এই আয়াত দ্বারা এ কথা সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়ে যায় যে, হযরত জিবরাঈল (আ.)-ই নবী কারীম (সা.)-এর নিকট ওহী নিয়ে আসতেন। অবশ্য ইমাম আহমদ (রহ.) ইমাম শা'বী (রহ.)-এর উদ্ধৃতি বর্ণনা করেছেন যে, নবুওয়াতের প্রথম দিকে তিন বছর পর্যন্ত হযরত ইসরাফীল (আ.) ওহী নিয়ে আগমন করতেন। তবে তাঁর মাধ্যমে পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল করা হয়নি। সমগ্র কুরআন মাজীদ হযরত জিবরাঈল (আ.)-ই নিয়ে এসেছেন। তবে আল্লামা ওয়াকেদী (রহ.) সহ আরো অনেকেই এ মত প্রত্যাখ্যান করে বলেন, হযরত জিবরাঈল (আ.) ব্যতীত অন্য কোনো ফেরেশতা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ওহী নিয়ে আগমন করেননি। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহ.)-এর অভিমতও এ দিকেই বুঝা যায়। উপরন্তু কোনো মারফু হাদীস কিংবা কোনো সাহাবীর উক্তিতেও এই বর্ণনার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। অবশ্য হাফেয ইবনে হাযার (রহ.) এই বর্ণনা গ্রহণ করার প্রতি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এটাকে তিনি 'ফাতরাতে ওহী' বা ওহীর বিরতিকাল বলে উল্লেখ করেছেন।

মোটকথা, ওহী অবতীর্ণ হওয়ার এই পদ্ধতিতে ফেরেশতা মানবাকৃতিতে আসতেন। আর ওহীর এই পদ্ধতিতে রাসূলে কারীম (সা.)-এর বিশেষ কোনো অসুবিধা হতো না। যেমন এপ্রসঙ্গে সহীহ আবু আওয়ানা-এর এক বর্ণনায় এসেছে, নবী কারীম (সা.) ওহীর এই প্রকারের কথা উল্লেখ করে ছিলেন- وَهُوَ أَهْوَنُهُ عَلَيَّ।

টিকাঃ
২৬. "উমদাতুল কারী": ১/৪৭ ইস্তাম্বুল ১৩০৮ হিজরী। আল আইনী (রহ.) রচিত।
২৭. দেখুন: "মিশকাতুল মাসাবীহ": ১/১১ আসাহহুল মাতাবি' করাচী।
২৮. সূরা বাকারা: ৯৭
২৯. "আল ইতকান" : ১/৪৬ এবং কাসতালানী: "ইরশাদুস সারী": ১/৫৯
৩০. "উমদাতুল কারী": ১/৪৭-৪৮
৩১. "ফাতহুল বারী": ১/২২-২৩

📘 উলুমুল কুরআন 📄 আসলরূপে ফেরেশতার আগমন

📄 আসলরূপে ফেরেশতার আগমন


ওহী অবতীর্ণের তৃতীয় পদ্ধতি ছিল এই যে, হযরত জিবরাঈল (আ.) কোনো মানুষের আকৃতি ধারণ না করে নিজের প্রকৃত আকৃতি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে যেতেন। তবে তাঁর জীবনে মাত্র তিনবার ঘটেছিল। প্রথম বার যখন তিনি নিজেই হযরত জিবরাঈল (আ.)-কে প্রকৃতরূপে প্রত্যক্ষ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। দ্বিতীয় বার মিরাজ বা ঊর্ধ্বজগত ভ্রমণের সময়। তৃতীয় বার নবুওয়াতের একেবারে সূচনাকালে মক্কা মুকাররমার "আজইযাদ” নামক স্থানে। প্রথম দু'টি ঘটনা তো সঠিক সনদ দ্বারা প্রমাণিত। তবে তৃতীয় ঘটনাটি সনদের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল হবার কারণে সন্দেহের অবকাশ বিদ্যমান।

টিকাঃ
৩২. "আল-ইতকান": ১/৪৬
৩৩. "আল-মিনহাজ" আবু আবদুল্লাহ হুসাইন ইবনুল হাসান-আল হালিমী আল-জুরযানী রচিত।
৩৪. "ফাতহুল বারী": ১/১৬ হাফেয ইবনে হাযার আসকালানী।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 সত্য স্বপ্ন

📄 সত্য স্বপ্ন


ওহীর চতুর্থ পদ্ধতি ছিল এই যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য স্বপ্ন দেখতেন। স্বপ্নযোগে যা কিছু প্রত্যক্ষ করতেন বাস্তবে তাই ঘটত। উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহা) বলেন- (أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح 'ঘুমন্ত অবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হবার সূচনা হয়। ওই সময় তিনি স্বপ্নযোগে যা কিছু প্রত্যক্ষ করতেন, প্রত্যুষে তা উদ্ভাসিত প্রভার ন্যায় বাস্তবায়িত দেখতে পেতেন।'

এ ছাড়াও মদীনায়ে তৈয়েবাতে একবার এক মুনাফিক নবী কারীম (সা.)-এর উপর যাদু করেছিল। ওই যাদু সম্পর্কে অবগতি এবং তা প্রতিহত করার উপায়ও নবীজীকে স্বপ্নযোগে মহান আল্লাহর তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

টিকাঃ
৩৫. "ফাতহুল বারী": ১/১৬ হাফেয ইবনে হাযার আসকালানী।
৩৬. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: "ফাতহুল বারী": ১/১৮-১৯
৩৭. সহীহ বুখারী: ১/২, হাদীস নং ৩।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 আল্লাহ তা'আলার পবিত্র কালাম

📄 আল্লাহ তা'আলার পবিত্র কালাম


হযরত মূসা (আ.)-এর ন্যায় নবী কারীম (সা.) ও সরাসরি মহান আল্লাহ জাল্লা শানুর বাণী শ্রবণ করার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়েছিলেন। জাগ্রত অবস্থায় শুধু মেরাজের সময় এ ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া স্বপ্নযোগেও একবার নবীজী মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সামনা সামনি কথা বলার সৌভাগ্য লাভ করে ছিলেন।

টিকাঃ
৩৮. সহীহ বুখারী: ২/৮৫৭-৮৫৮, আসাহহুল মাতাবি' করাচী।
৩৯. "আল ইতকান": ১/৪৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px