📘 উলুমুল কুরআন 📄 সরাসরি আল্লাহ পাকের কালাম বা বাণী

📄 সরাসরি আল্লাহ পাকের কালাম বা বাণী


ইহা ওহীর দ্বিতীয় প্রকার। এ প্রকারে মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহু সরাসরি তাঁর নবী-রাসূলগণকে স্বীয় বাণী শ্রবণ করার সৌভাগ্য দান করেন। এ পদ্ধতিতেও ফেরেশতার কোনো মাধ্যম থাকে না। তবে নবীকে আওয়াজ বা ধ্বনি শুনিয়ে দেওয়া হয়। এ আওয়াজ সৃষ্টিজীবের আওয়াজের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র। যা মেধাশক্তি দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। যে নবী এ ধরনের ওহী শ্রবণ করেন তিনিই কেবল এর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগতি লাভ করেন। ওহীর এ প্রকারের মাঝে যেহেতু নবীগণ সরাসরি মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহুর বাণী শ্রবণ করার সৌভাগ্য লাভ করে থাকেন, তাই এ প্রকার অন্যান্য প্রকারের চাইতে অধিক শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাবান। এ কারণেই হযরত মূসা (আ.)-এর মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করা হয়েছে- وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا 'আর আল্লাহ তা'আলা মূসা (আ.)-এর সাথে অনেক কথাবার্তা বলেছেন।'

টিকাঃ
১০. সূরা নিসা: ১৬৪

📘 উলুমুল কুরআন 📄 ফেরেশতার মাধ্যমে প্রেরিত ওহী

📄 ফেরেশতার মাধ্যমে প্রেরিত ওহী


ইহা ওহীর তৃতীয় প্রকার। এ প্রকারে মহান আল্লাহ জাল্লা শানুহু স্বীয় পয়গাম বা বার্তা নবীগণের নিকট প্রেরণ করেন এবং ফেরেশতা তা পৌঁছে দেয়। কখনো কখনো ফেরেশতা দৃষ্টির অন্তরালে থাকে। শুধু তার আওয়াজ শোনা যায়। আবার কখনো কখনো মানবাকৃতির রূপ নিয়ে সামনে এসে বার্তা পৌঁছে দেয়। আবার কখনো কখনো এমনও হয় যে, ফেরেশতা তার প্রকৃত রূপ নিয়ে সরাসরি নবীর সম্মুখে আসতো।
পবিত্র কালামে পাকে নিম্নোক্ত আয়াতটি ওহীর এই তিন প্রকারের দিকে ইঙ্গিত করে অবতীর্ণ হয়েছে-
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُكَلِّمَهُ اللهُ إِلَّا وَحْيَا أَوْ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِيَ بِإِذْنِهِ مَا يَشَاءُ
'কোন মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তার সাথে (সরাসরি) কথা বলবেন ওহীর মাধ্যম বা পর্দার আড়াল বা কোন দূত প্রেরণ ছাড়া। অতঃপর আল্লাহর অনুমতিক্রমে সে (মনোনীত মানুষের কাছে) ওহী পৌঁছান যা তিনি (আল্লাহ) চান।'

টিকাঃ
১৬. সূরা শুরা: ৫১

ফন্ট সাইজ
15px
17px