📄 জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজন
পূর্বের আলোচনায় আমরা সাহাবাদের ফযীলত এবং তারা সবাই যে ন্যায়পরায়ণ সেটা জানতে পারলাম। আরো জানতে পারলাম যে, তারা রাসূলের সাহচর্যের দিক থেকে ফযীলতের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের। সর্বোৎকৃষ্ট সাহাবা হলেন ইসলাম গ্রহণে অগ্রণী প্রাথমিক পর্যায়ে হিজরতকারীগণ, তারপর আনসারগণ। তারপর বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর আহযাব তথা খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ, তারপর যারা “বাই'আতুর রিদওয়ান” বা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পাদিত বাই'আতে অংশগ্রহণ করেছেন তারা, তারপর মক্কা বিজয়ের পূর্বে হিজরতকারী ও জিহাদে অংশ গ্রহণকারীগণ ঐ সমস্ত লোকদের উপর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী যারা হিজরতের পরে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছে এবং জিহাদ করেছে। মুলতঃ আল্লাহ তাদের প্রত্যেকের জন্যেই প্রতিফল তথা জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাহাবাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিবর্গ হলেন খোলাফায়ে রাশেদীন যথাক্রমে আবু বকর আসিদ্দীক, উমর আল ফারূক, উসমান যুননুরাইন এবং রাসূলের দু' নাতির পিতা 'আলী ইবনে আলী তালিব। তারপর যাদের মর্যাদা তারা হলেন 'আব্দুর রাহমান ইবনে 'আউফ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য জীবন উৎসর্গকারী 'হাওয়ারী' যুবাইর ইবনুল 'আওয়াম, অনুরূপভাবে সা'আদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আর এ উম্মাতের সবচেয়ে বড় আমানতদার ব্যক্তি বলে উপাধি প্রাপ্ত আবু 'উবাইদা ইবনুল জারাহ এবং সা'ঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে নুফাইল রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাদের প্রত্যেকের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হউন।
তাদের ফযীলত বর্ণনায় সাধারণভাবে অনেক হাদীস এসেছে, আবার তাদের মাঝে কারো কারোর ব্যাপারে বিশেষ বিশেষ হাদীসও এসেছে। তাদের ফযীলত বর্ণনাকারী সাধারণ হাদীসসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইমাম আহমাদ ও আসহাবুসুনান তথা আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ কর্তৃক 'আব্দুর রাহমান ইবনে আখনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস। তিনি সা'ঈদ ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ
(عشرة في الجنة، النبي ﷺ في الجنة، وأبو بكر في الجنة، وعمر في الجنة، وعثمان في الجنة، وعلي في الجنة، وطلحة في الجنة، والزبير بن العوام في الجنة، وسعد بن مالك في الجنة، وعبد الرحمن بن عوف في الجنة)¹
"দশজন জান্নাতে যাবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে, আবু বকর জান্নাতে, উমর জান্নাতে, উসমান জান্নাতে, আলী জান্নাতে, ত্বালহা জান্নাতে, যুবাইর ইবনুল 'আওয়াম জান্নাতে, সা'দ ইবনে মালিক জান্নাতে এবং আব্দুর রহমান ইবনে 'আওফ জান্নাতে”।
'যদি তোমরা চাও তবে আমি দশম ব্যক্তির নামও বলে দিতে পারি, বর্ণনাকারী বলেনঃ তারপর তারা বললঃ কে সে? জবাবে তিনি চুপ থাকলেন, ফলে তারা আবার বললঃ কে সে? পরিশেষে তিনি বললেনঃ তিনি "সা'ঈদ ইবনে যায়েদ""।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দশজন ছাড়াও আরো অনেককে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছিলেন, যেমনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ, বিলাল ইবনে রাবাহ, 'উকাশা ইবনে মুহসিন, জা'ফর ইবনে আবি তালিব এবং আরো অনেক। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখে যাদের নাম সুস্পষ্টভাবে ঘোষিত হয়েছে তাদের ব্যাপারে জান্নাতে যাবার সাক্ষ্য দেয়; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে তা এসেছে। তাদের ব্যতীত অন্যান্যদের ব্যাপারে কল্যাণের আশা রাখে; কেননা আল্লাহ তাদের জন্য সামগ্রিকভাবে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন, যেমন আল্লাহ তা'আলা সাহাবাদের উল্লেখ করার পর তাদের কাউকে অপর কারোর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের কথা উল্লেখ করে বলেনঃ
وَكُلًّا وَعَدَ الله الحسنى (النساء: ٩٥).
"তাদের প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ 'হুসনা' বা সবচেয়ে ভাল পরিণামের ওয়াদা করেছেন”। [সূরা আন-নিসাঃ৯৫] এখানে 'হুসনা' বলে জান্নাত বুঝানো হয়েছে।
অনুরূপভাবে সাধারণ মুসলমানদের কারোর জন্য অকাট্যভাবে জান্নাত বা জাহান্নাম কোনটার হুকুম না লাগানোই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের আক্বীদা। তবে তারা তাদের নেক্কারদের জন্য সওয়াবের আশা করে, বদকারদের জন্য শাস্তির ভয় করে, যদিও তারা অকাট্যভাবে এটা বিশ্বাস করে যে, তাওহীদের উপর কারো মৃত্যু হলে সে চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে থাকবেনা; কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ (النساء : ١١٦).
"অবশ্যই আল্লাহ তাঁর সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করবেন না, এ ছাড়া যাবতীয় গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন”। [সূরা আনিসাঃ ১১৬]
টিকাঃ
¹হাদীসটি ইমাম আহমাদ (১/১৮৮) এবং সুনান গ্রন্থকারগণ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন。