📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বৈরিতা, এ দুয়ের অর্থ ও নীতিমালা

📄 গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বৈরিতা, এ দুয়ের অর্থ ও নীতিমালা


পরিচিতিঃ

আরবীতে الولاء শব্দটি মূল ধাতু, এর ক্রিয়া মুল ولي, অর্থাৎ তার নিকটবর্তী হয়েছে। এখানে উদ্দেশ্য হলোঃ মুসলমানদেরকে ভালবাসা, সাহায্য করা আর শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সহযোগিতার জন্য মুসলমানদের পাশে থাকা, এবং তাদের সাথে বসবাস করা।

অপরদিকে আরবী ভাষায় البراء শব্দটি মূল ধাতু, এর ক্রিয়া মূল بری অর্থাৎ কর্তন করল। এভাবেই বলা হয়ে থাকেঃ برى القلم অর্থাৎ কলমটি কেটেছে। এখানে উদ্দেশ্য হলোঃ কাফিরদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করা, তাদেরকে ভাল না বাসা, তাদেরকে সহযোগিতা না করা, প্রয়োজন ব্যতীত তাদের দেশে অবস্থান না করা।

বন্ধুত্ব রাখা ও বৈরিতা পোষণ করা তাওহীদের দাবীঃ

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কারো সাথে বন্ধুত্ব রাখা, আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যেই কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করা, আল্লাহকে খুশি করার জন্যই কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের জন্যই কাউকে ঘৃণা করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব। সুতরাং সে মুসলমানদের ভালবাসবে এবং তাদের সহযোগিতা করবে, আর কাফেরদের সাথে সে শত্রুতা পোষণ করবে ও তাদের ঘৃণা করবে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে। মহান আল্লাহ ঈমানদারদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ওয়াজিব করে দিয়ে বলেনঃ
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَوةَ وَهُمْ رَكِعُونَ * وَمَنْ يَقُولَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْغُلِبُونَ ﴾ (المائدة : ٥٥-٥٦)
"তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু'মিনগণ- যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং তারা রুকু'কারী। কেউ আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মু'মিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে আল্লাহর দল তো বিজয়ী হবেই”। [সূরা আল- মায়িদাহঃ ৫৫-৫৬]

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُو لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ ﴾ (المائدة: ٥١).
"হে মু'মিনগণ! তোমরা ইয়াহুদী ও নাসারাদিগকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করনা, তারা পরস্পরের বন্ধু, তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। [সূরা আল- মায়িদাহঃ ৫১]

তিনি আরো বলেনঃ
﴿لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَهُمْ ﴾ (المجادلة: ٢٢)
"আপনি পাবেন না আল্লাহ ও শেষ দিবসের উপর ঈমানদার এমন কোন সম্প্রদায়, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচারীগণকে ভালবাসে- হোক না এ বিরুদ্ধাচারীরা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি-গোত্র”। [সূরা আল-মুজাদালাহঃ ২২]

এ মহিমান্বিত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ঈমানদারদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা ওয়াজিব, আর এর মধ্যে রয়েছে কল্যাণ। আর কাফেরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা ওয়াজিব, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং এ ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার মধ্যে সীমাহীন ক্ষতি রয়েছে।

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বৈরিতা পোষণ এর দ্বীনি মর্যাদা :

ইসলামে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বৈরিতা পোষণ এ মূলনীতির বিরাট মর্যাদা রয়েছে; কেননা তা ঈমানের সবচেয়ে মজবুত রশি বলে বিবেচিত। আর এর অর্থ হলো, মুসলমানদের মধ্যে প্রীতি ভালবাসার সম্পর্ক মজবুত করা, ইসলামের শত্রুদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা। তাই ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(أوثق عرى الإيمان الموالاة في الله والمعاداة في الله والحب في الله والبغض في الله)¹
“ঈমানের সবচেয়ে মজবুত রশি হলো আল্লাহর জন্যে কারো সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা, আল্লাহর জন্যই কারো সাথে শত্রুতা পোষণ করা, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই কাউকে ভালবাসা এবং আল্লাহর জন্যই কারো সাথে বিদ্বেষ পোষণ করা”¹。

চাটুকারিতা এবং নরম ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য, আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও বৈরিতা পোষণ নীতির উপর এদু'য়ের প্রভাবঃ

চাটুকারিতা হলোঃ দুনিয়ার স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা ছেড়ে দেয়া, দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার যে মহান আত্মমর্যাদা মুসলমানের উপর ওয়াজিব তা ত্যাগ করা। এর উদাহরণ হলোঃ গুনাহগার ও কাফিরদেরকে তাদের গুনাহ ও কুফরীতে লিপ্ত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তাদের সাথে চলাফেরাতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করা, তাদের সাথে উঠাবসা করা, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাদের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ না করা। মহান আল্লাহ বলেনঃ
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَاءِ يُلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ * كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ * تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّونَ الَّذِينَ كَفَرُ والبَسُ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنْفُسُهُمْ أَنْ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمُ خلِدُونَ (المائدة: ۷۸-۸۰).
"বনী ইস্রাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা দাউদ ও মারইয়ামের পুত্র 'ঈসার মুখে অভিশপ্ত হয়েছিল। তা এ জন্যে যে, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যে সব গর্হিত কাজ করত তা হতে তারা একে অন্যকে বারণ করত না। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট। তাদের অনেককে আপনি কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন। [সূরা আল- মায়িদাহঃ ৭৮-৮০]

নম্রভাব হলোঃ ক্ষতি ও অপকার দূরীকরণের স্বার্থে নরম সুরে কথা বলা, কঠোরতা ত্যাগ করা অথবা খারাপ লোকদের থেকে বিমুখ হয়ে থাকা যদি তাদের খারাবির ভয় হয় বা তারা যা করছে তা থেকে বেড়ে গিয়ে আরো বেশী খারাপ কিছু করার সম্ভাবনা থাকে। যেমনঃ মূর্খকে শিক্ষা দেয়ার সময় নম্রতা অবলম্বন করা, ফাসিককে তার খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করার সময়, তার উপর কঠোরতা প্রয়োগ ত্যাগ করা, নরম কথা ও কাজের মাধ্যমে তার কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করা, বিশেষ করে যখন তার অন্তরকে কাছে টানার প্রয়োজন হবে।

রাসূলের হাদীসে 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ “কোন এক লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চাইল। যখন তিনি তাকে দেখলেন তখন বললেনঃ "জ্ঞাতিভ্রাতাদের মধ্যে কতইনা খারাপ লোক, আর জ্ঞাতির সন্তানদের মধ্যে কতইনা খারাপ ছেলে"।, তারপর যখন বসল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখের উপর হাসি দিয়ে কথা বললেন এবং তার জন্য (মন) প্রশস্ত করে দিলেন। লোকটি চলে গেলে 'আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন লোকটিকে দেখলেন তখন এ রকম এরকম বললেন, তারপর তার মুখের উপর হাসলেন এবং তার প্রতি প্রসন্ন হলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
يا عائشة متى عهدتني فحاشاً، إن شر الناس عند الله منزلة يوم القيامة من تركه الناس اتقاء شره¹
"হে 'আয়েশা! কখন তুমি আমাকে খারাপ বাক্য ব্যবহার করতে দেখেছ? নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে খারাপ মর্যাদাসম্পন্ন লোক হলো ঐ লোক যাকে মানুষ তার ক্ষতির ভয়ে ত্যাগ করে"¹。

এ লোকটি খারাপ চরিত্রবিশিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রবেশ করার পর তার সাথে তিনি দ্বীনি স্বার্থে নরম ব্যবহার করেছেন। এতে বুঝা গেল যে, নরম ব্যবহার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সাথে বিপরীতমুখী নয়, যদি সেখানে কোন প্রাধান্যপ্রাপ্ত স্বার্থ থাকবে, যেমন অনিষ্ট থেকে বাঁচা, মনোরঞ্জন বা ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ও হাল্কা করতে। আর এটা হলো আল্লাহর পথে আহবান করার অন্যতম পদ্ধতি। মদীনার মুনাফিকদের অনিষ্টের ভয়ে, তাদের ও অন্যান্যদের মনোরঞ্জনের আশায় তাদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নরম ব্যবহার ছিল এ জাতীয়।

চাটুকারীতা এর বিপরীত কাজ; কেননা তা জায়েয নেই, কারণ তা মূলতঃ খারাপ লোকদের সাথে কোন দ্বীনি স্বার্থ ব্যতীত শুধুমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে তাদের অনুকরণ করা।

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন ও বৈরিতা পোষণ করার কিছু নমুনাঃ

মহান আল্লাহ ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণনা করেনঃ
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أَسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَ وَا مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالبَغْضَاءُ ابْدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللهِ وَحدَةً (الممتحنة: ٤ ) .
"তোমাদের জন্য ইব্রাহীম ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ 'তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদাত কর তার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই, আমরা তোমাদেরকে মানি না, তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হলো শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যদি না তোমরা একমাত্র আল্লাহতে ঈমান আন”। [সূরা আল- মুস্তাহিনাহঃ ৪]

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ আনসারগণ কর্তৃক মুহাজিরদের সাথে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার বর্ণনা করে বলেনঃ
وَالَّذِينَ تَبَوءُ وَالدَّارَ وَ الْإِيْمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُو تُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَيْكَ هُمُ المُفْلِحُونَ (الحشر: ٩).
"আর যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে, তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে কোন আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও। যাদের অন্তর কার্পণ্য হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম। [সূরা আল- হাশরঃ ৯]

গুনাহগার ও বেদ'আতকারীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার হুকুমঃ

যখন কোন লোকের মধ্যে ভাল ও মন্দ, আনুগত্য ও অবাধ্যতা, সুন্নাত ও বেদ'আত একত্রিত হয়, তখন সে তার কাছে যে পরিমাণ কল্যাণ আছে সে পরিমাণ সুসম্পর্ক রাখার হক্বদার হবে। আর তার কাছে যে পরিমাণ অনিষ্টতা রয়েছে সে পরিমাণ শত্রুতা ও শান্তির হক্বদার হবে। তাই কখনো কোন মানুষের মধ্যে সম্মান ও অসম্মান উভয়টি করার কারণ একত্রিত হয়ে থাকে। সুতরাং তার জন্য দু'ধরনের সম্পর্কই বলবৎ থাকবে। যেমন ফকীর চোর, তার হাত কাটা হবে চুরির জন্য, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তার প্রয়োজন মোতাবেক ব্যায় মিটানোর জন্য খরচ করা হবে এবং তাকে সাক্কাও দেয়া যাবে। এটা এমন এক মূলনীতি যার উপর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত একমত হয়েছেন।

কাফেরদের সাথে দুনিয়াবী ব্যাপারে লেনদেন রাখা কি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার পর্যায়ে পড়ে?

সহীহ দলীল প্রমাণাদিতে কাফিরদের সাথে দুনিয়াবী ব্যাপারে লেনদেন করা জায়েয প্রমাণিত হয়েছে। যেমনঃ বেচা কেনা, ভাড়া দেয়া নেয়া, দরকার ও প্রোজনের তাগিদে তাদের সহযোগিতা নেয়া তবে শর্ত হচ্ছে তা যেন অত্যন্ত সীমিত গন্ডির মধ্যে হয় এবং ইসলাম ও মুসলমানদের কোন ক্ষতির কারণ না হয়।
(فقد استأجر النبي عبد الله بن أريقط هادياً خريتاً)
"কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে উরাইক্বিতকে অভিজ্ঞ পথপ্রদর্শক হিসাবে ভাড়া নিয়েছিলেন"¹。

হাদীসে বর্ণিত 'খিররীত' শব্দের অর্থঃ রাস্তা সম্পর্কে সম্যক অভিজ্ঞ।

অনুরূপভাবে রাসূল তাঁর বর্মটি একজন ইয়াহুদীর কাছে এক সা' পরিমাণ যবের বিনিময়ে বন্ধক রেখেছিলেন, 'আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে জনৈকা ইয়াহুদী মহিলার নিকট তার জন্য কুপ থেকে পানি বের করে করে দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন, তিনি প্রতি বালতি পানির বিনিময়ে একটি খেজুর এ হিসাবে ষোলটি বালতি বের করে দিয়েছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মদীনাস্থ ইয়াহুদীদের সাহায্য নিয়েছিলেন। আর কাফির কুরাইশদের বিরুদ্ধে খোযা'আ গোত্রের সাহায্য নিয়েছিলেন। এগুলির কোনটিই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সম্পর্কস্থাপন ও ছিন্নকরণ নীতিমালার উপর কোন প্রভাব ফেলে না। তবে শর্ত হলো, মুসলমানদের মধ্যে অবস্থানকারী কাফেরগণ সাধারণ সৌজন্যবোধজনিত ব্যবহার বজায় রাখবে, আর মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীনের দিকে ডাকবে না।

টিকাঃ
¹ত্বাবরাণী তার মু'জামুল কাবীরে (১১/২১৫), ইমাম বাগভী, শারহুচ্ছুন্নাহ (৩/৪২৯), হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৬০৩২)。
¹সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২২৬৩)。

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 মু'সলমানদের ইমাম বা শাসকের প্রতি, এবং সাধারণ মানুষের প্রতি করণীয় এবং তাদের দলভূক্ত থাকা

📄 মু'সলমানদের ইমাম বা শাসকের প্রতি, এবং সাধারণ মানুষের প্রতি করণীয় এবং তাদের দলভূক্ত থাকা


ইমাম মুসলিম আবু রুকাইয়া তামীমুদ্দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(الدين النصيحة، الدين النصيحة، الدين النصيحة، قلنا: لمن يا رسول الله؟ قال: الله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم)
“দ্বীন হলো নসীহত, দ্বীন হলো নসীহত, দ্বীন হলো নসীহত”, আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! নসীহত কাদের জন্য? তিনি বললেনঃ “আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, মুসলমানদের ইমামের জন্য এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য”¹。

আল্লাহর জন্য নসীহত বলতে বুঝায়ঃ একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করা, তাঁকে সম্মান করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর কাছেই কোন কিছু কামনা করা, তাঁকেই ভালবাসা, তাঁর আদেশ মান্য করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বস্তু পরিত্যাগ করা।

তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নসীহত হলোঃ তিনি যে সমস্ত বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন তার উপর বিশ্বাস স্থাপন, তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন সেগুলো পালন করা, তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ, তাঁর আদর্শ ও ভালবাসা অনুসারে পথ চলা এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন শুধুমাত্র সে অনুসারে আল্লাহর ইবাদাত করা।

মুসলমানদের ইমামের জন্য নসীহত বলতে বুঝায়ঃ তাদের জন্য দো'আ করা, তাদের ভালবাসা এবং আল্লাহর নির্দেশের গন্ডির ভিতরে তাদের আনুগত্য করা।

আর সাধারণ مسلمانوں জন্য নসীহত বলতে বুঝায়ঃ তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করা, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা, যেমনিভাবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য শুভ কামনা করি তেমনিভাবে তাদেরও কল্যাণ কামনা করা, আমাদের সাধ্য অনুযায়ী তাদের জন্য যা কল্যাণকর হবে তা ব্যয় করা ও তাদের সহযোগিতা করা।

শাসকদের প্রতি আমাদের করণীয়ঃ

কুরআন, সুন্নাহ এবং এ উম্মাতের সালফে সালেহীন তথা সঠিক পথের দিশারী আলেমগণের ঐক্যমত প্রমাণ করছে যে, আল্লাহর নির্দেশের গন্ডির ভিতরে থেকে শাসকের আনুগত্য করা ওয়াজিব, যদিও তারা অত্যাচার করে, যতক্ষণ তিনি গুনাহর কাজের নির্দেশ না দিবেন। যদি গুনাহর কাজের নির্দেশ দেন তখন স্রষ্টার অবাধ্য হয়ে সৃষ্টি জগতের কারোরই আনুগত্য করা যাবেনা। তাদের পিছনে নামায পড়া ওয়াজিব, তাদের সাথে হজ্জ ও জিহাদ করা ওয়াজিব। যে সমস্ত মাসআলার মধ্যে ইজতেহাদ বা দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করার অধিকার রয়েছে সে সমস্ত মাসআলাতে তার আনুগত্য করতে হবে। ইজতেহাদী বিষয়ে শাসকের উপর তার অনুসারীদের আনুগত্য করা ওয়াজিব নয়, বরং তারা সেগুলোতে শাসকের অনুসরণ করবে, তার মতের বিপরীত মত পরিত্যাগ করবে; কেননা সর্বসাধারণের স্বার্থ সংরক্ষণ, তাদেরকে একত্রিতকরণ এবং বিচ্ছিন্নতা ও মতভেদ থেকে বেঁচে থাকা বিশেষ স্বার্থের চেয়ে অনেক বড়। অনুরূপভাবে শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে তাকে নসীহত করা, তার আনুগত্য ত্যাগ করার চেষ্টা পরিত্যাগ করা, এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা ওয়াজিব।

ইমাম ত্বাহাবী রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ 'আমরা আমাদের ইমাম ও শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার পক্ষে মত দেই না, যদিও তারা অত্যাচার করুক। আমরা তাদের উপর বদদো'আ করিনা, তাদের আনুগত্য ত্যাগ করিনা, আমাদের মতে যতক্ষণ তারা কোন গোনাহ বা অন্যায় কাজের নির্দেশ না দিবেন ততক্ষণ তাদের আনুগত্য করা ফরয, মহান আল্লাহর আনুগত্যের শামিল। আমরা তাদের সঠিক পথ লাভ ও নিরাপত্তার জন্য দো'আ করি।

কুরআন ও সুন্নায় এর উপর অনেক দলীল-প্রমাণাদি রয়েছে, তম্মধ্যে কুরআন থেকে প্রমাণ আল্লাহর বাণীঃ
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ وَأُو۟لِى ٱلْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ (النساء : ٥٩).
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর আরো আনুগত্য কর তোমাদের মধ্যকার ক্ষমতাশীলদের”। [সূরা আন-নিসাঃ ৫৯]

হাদীস থেকে প্রমাণঃ ابو হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
(من أطاعني فقد أطاع الله، ومن عصاني فقد عصى الله، ومن يطع الأمير فقد أطاعني، ومن يعص الأمير فقد عصاني)¹
"যে আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহর আনুগত্য করল, যে আমার অবাধ্য হলো সে আল্লাহর অবাধ্য হলো, অনুরূপভাবে যে আমীর তথা শাসকের আনুগত্য করল সে আমার আনুগত্য করল, আর যে আমীরের অবাধ্য হলো সে আমার অবাধ্য হলো”¹。

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(على المرء المسلم السمع والطاعة فيما أحب وكره إلا أن يؤمر بمعصية، فإذا أمر بمعصية فلا سمع ولا طاعة)²
"গুনাহের কাজের নির্দেশ দেয়া ছাড়া পছন্দ অপছন্দ সর্বাবস্থায় তাদের কথা শোনা ও মানা প্রত্যেক মুসলিমের উপরই ওয়াজিব, যখন গুনাহের কাজের নির্দেশ দিবে তখন তা শোনাও যাবে না, মানাও যাবে না”²。

যাবতীয় বিশৃংখলা ও ভীতিমূলক পদ্ধতি ব্যবহার থেকে দূরে অবস্থান করে ইমামকে গোপনে নসীহত করা হচ্ছে রাসূলের নীতি বা আদর্শ। এর প্রমাণ হলোঃ ইমাম ইবনে আবী 'আসিম এবং অন্যান্যগণ কর্তৃক বর্ণিত 'ইয়াদ ইবনে গাম রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(من أراد أن ينصح لذي سلطان فلا يبده علانية، وليأخذ بيده فإن سمع منه فذاك، وإلا أدى الذي عليه)¹
"যদি কেউ ক্ষমতাধর কাউকে নসীহত করতে চায় সে যেন তা প্রকাশ্যে না করে, বরং সে যেন তার হাত ধরে (অর্থাৎ গোপনে বলে) যদি সে তা গ্রহণ করল তবে তার কাজে আসল, আর যদি গ্রহণ না করল তাহলে সে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব আদায় করল”¹。

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উপস্থাপিত এ দলীল-প্রমাণগুলি গুনাহের কাজ ছাড়া অন্যান্য যাবতীয় ব্যাপারে ইমাম ও শাসকগোষ্ঠির আনুগত্য করার নির্দেশ দিচ্ছে, আমরা তার সার-সংক্ষেপ হিসাবে বলতে পারিঃ

১. গুনাহর কাজ ছাড়া সর্বাবস্থায় শোনা ও মানা ওয়াজিব।

২. শাসকগোষ্ঠী যদি নসীহত কবুল না করে তারপরও তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা।

৩. যে কেউ শরীয়ত সমর্থিত পদ্ধতিতে শাসকগোষ্ঠীকে নসীহত করল এবং তাদের কর্মকান্ডের সমালোচনা করল সে গুনাহ থেকে মুক্তি পেল।

৪. ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি করা নিষেধ অনুরূপভাবে যে সমস্ত কারণে ফিতনা বা অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে তা করাও নিষেধ।

৫. যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতাশীলদের থেকে এমন কোন সুস্পষ্ট কুফুরী প্রকাশ না পাবে যা কুফুরী হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার দ্বিমত থাকবে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবেনা।

৬. কথা, কাজ ও বিশ্বাসে কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শে পরিচালিত মুসলমানদের জামা'আতকে আঁকড়ে ধরে থাকা ওয়াজিব, তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে হবে, তাদের পথে চলতে হবে, হক ও ন্যায়ের পথে তাদের কথা এক রাখার ব্যাপারে আগ্রহ থাকতে হবে। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না বা তাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করা যাবেনা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا ﴾ (النساء : ١١٥)
"কারো নিকট সৎপথ প্রকাশ হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মু'মিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করে তবে যেদিকে সে ফিরে যায় সেদিকেই তাকে আমরা ফিরিয়ে দেব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস”। [সূরা আন-নিসাঃ ১১৫]

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(عليكم بالجماعة فإن يد الله مع الجماعة، ومن شذ شذ في النار)
"তোমাদের উপর ওয়াজিব একতাবদ্ধ থাকা; কেননা একতাবদ্ধ লোকদের সাথে আল্লাহর হাত রয়েছে, আর যারা তাদের থেকে বের হয়ে ভিন্ন হয়ে যাবে, ভিন্নভাবে সে জাহান্নামে যাবে”¹。

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
(من رأى من أميره شيئاً يكرهه فليصبر، فإنه من فارق الجماعة شبراً فمات فميتته جاهلية)
"কেউ তার আমীরের অপছন্দনীয় কোন কিছু দেখলে সে যেন তার উপর ধৈর্য্যধারণ করে; কেননা مسلمانوں দল থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্যুত হবার পরে কারো মৃত্যু হলে তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলে বিবেচিত হবে”²。

কুরআন ও হাদীসের এ সমস্ত বাণী প্রমাণ করছে যে, মুসলিম জামা'আতের সাথে থাকা, ক্ষমতাশীলদের ক্ষমতা নিয়ে টানাটানি না করা ওয়াজিব। যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে; কেননা জামা'আত তথা একতাবদ্ধ থাকার মধ্যে রহমত রয়েছে পক্ষান্তরে বিচ্ছিন্নতা হচ্ছে শাস্তি।

টিকাঃ
¹ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ৫৫)。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭১৩৭)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭১৪৪)。
¹ হাদীসটি ইবনে আবি আসিম তার সুন্নাহ গ্রন্থে (২/৫০৭) বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেন。
¹তিরমিযী (হাদীস নং ২১৬৭), ইবনে আবি 'আসিম: সুন্নাহ (হাদীস নং ৮০)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭১৪৩)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00