📄 ঈমান ও তার রুকনসমূহ এবং কবীরা গুনাহকারীর হুকুম
ঈমানের পরিচয়ঃ
ঈমান শব্দের অভিধানিক অর্থঃ বিশ্বাস এবং স্বীকার করা।
শরীয়তের পরিভাষায় ঈমান বলেঃ মনে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কার্যে পরিণত করা।
ঈমানের রুকনসমূহ ও তার প্রমাণাদিঃ ঈমানের রুকন ছয়টি, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণীঃ
لَيْسَ الْبَرَان تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمُغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَليْكَةِ وَالْكِتَب وَالنَّبِيِّنَ ﴾ (البقرة: ۱۷৭)
“নেককাজ শুধু এ নয় যে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমরা তোমাদের মুখ ফিরাবে, বরং নেককাজ হলো, ঐ ব্যক্তির কাজ যে ঈমান আনে আল্লাহর উপর, পরকালের উপর, ফিরিস্তাদের উপর, কিতাবের উপর এবং নবীদের উপর”। [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৭৭]
সুন্নাহ থেকে তার প্রমাণ হাদীসে জিবরীল, যখন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেনঃ
أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره. قال: صدقت...¹
'আমাকে ঈমান সম্পর্কে জ্ঞান দিন, তিনি বললেনঃ 'আল্লাহ, তাঁর ফিরিস্তা, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলদের এবং শেষদিনের উপর ঈমান আনয়ন করা, এবং ভাগ্যের ভাল বা মন্দ হওয়ার উপর ঈমান রাখা'। তিনি উত্তরে বললেনঃ আপনি সত্য বলেছেন...'।
ঈমানের বৃদ্ধি ও কমতি প্রসঙ্গেঃ
কুরআন ও সুন্নাহ প্রমাণ করে যে, আনুগত্যের দ্বারা ঈমান বর্ধিত হয় আর অবাধ্যতার কারণে ঈমান কমে যায়।
কুরআন থেকে প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণীঃ
﴿وَالَّذِينَ اهْتَدَوَازَادَهُمْ هُدًى وَاتْهُمْ تَقُوهُمْ ﴾ (محمد : ۱۷)
"আর যারা হেদায়াত অবলম্বন করে তিনি তাদের হেদায়াত বৃদ্ধি করে দেন, তাদেরকে তাকওয়া প্রদান করেন"। [সূরা মুহাম্মাদঃ ১৭]
মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَتُهُ زَادَتْهُمْ إيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ﴾ (الأنفال : ٢)
"মু'মিন তো তারাই যাদের হৃদয় কম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, এবং যখন তাঁর আয়াতসমূহ তাদের নিকট পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বর্ধিত করে আর তারা তাদের প্রতিপালকের উপরই নির্ভর করে”। [সূরা আল-আনফালঃ২]
অনুরূপভাবে তিনি আরো বলেনঃ
﴿هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيْمَانِهِمْ ﴾ (الفتح : ٤).
"তিনি মু'মিনদের অন্তরে প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন যাতে করে তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বর্ধিত হয়”। [সূরা আল-ফাতহঃ ৪]
হাদীস থেকে প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীঃ
يخرج من النار من كان في قلبه مثقال ذرة من إيمان)¹
'যার অন্তরে সরিষা পরিমাণ ঈমান থাকবে সে জাহান্নাম থেকে বের হবে''¹。
অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীঃ
(الإيمان بضع وسبعون شعبة أعلاها لا إله إلا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان)¹
'ঈমানের সত্তরের উপর শাখা রয়েছে, তম্মধ্যে সর্বোচ্চ হলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহ ব্যতীত আর কোন হক্ক মা'বুদ নেই, সর্বনিম্ম হলোঃ পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা"¹。
কবীরা গুনাহকারীর হুকুমঃ
কবীরা গুনাহ দু'প্রকারঃ এক প্রকার গুনাহ আছে যা কাফির বানিয়ে দেয়, আরেক প্রকার আছে যা কাফির বানায় না। যে সমস্ত কবীরা গুনাহ কাফির বানিয়ে দেয় তা হচ্ছে; আল্লাহর সাথে শির্ক করা; কেননা যে সমস্ত গুনাহ দ্বারা আল্লাহর নাফরমানি করা হয় তন্মধ্যে শির্ক সবচেয়ে বড় গুনাহ। অনুরূপভাবে বিশ্বাসগত নিফাক, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে গালি দেয়া ইত্যাদি কবীরা গুনাহ করলে কাফির হয়ে যায়।
দ্বিতীয় প্রকার কবীরা গুনাহ যা গুনাহকারীকে কাফির বানিয়ে দেয় না, দ্বীন থেকেও বের করে না, যদি তা হালাল মনে করা না হয়। আর তা হলো কুফরীর নিম্নপর্যায়ের যাবতীয় গুনাহ যেমন সুদ, হত্যা, ব্যাভিচার ইত্যাদি।
কুরআন ও সুন্নাহ প্রমাণ করছে যে, কাফির বানিয়ে দেয় না এ রকম গুনাহকারী ব্যক্তি ঈমানদার। তবে তার ঈমান অপূর্ণাঙ্গ, আর তাকে বলা হবে ফাসিক বা নাফরমান।
আখিরাতে এ ধরনের গুনাহকারীর হুকুম হলো যে, সে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে তাঁর রহমতের বিনিময়ে ক্ষমা করে দিবেন, আর যদি ইচ্ছা করেন তিনি তাকে তাঁর ইনসাফের চাহিদা অনুসারে শাস্তি দিবেন, এমতাবস্থায় সে শাস্তি পেলেও চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে না বরং শাস্তি ভোগের পর তার তাওহীদ ও ঈমানের কারণে সর্বশেষ গন্তব্যস্থান হবে জান্নাত। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَن يُشْرِكْ بِاللهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَلاً بَعِيدًا (النساء : ١١٦)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শির্ক করাকে ক্ষমা করবেন না, আর তার থেকে ছোট যাবতীয় গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে শির্ক করে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়”। [সূরা আন-নিসাঃ ১১৬]
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
(يخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن شعيرة من خير، ويخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن برة من خير، ويخرج من النار من قال لا إله إلا الله وفي قلبه وزن ذرة من خير)¹
"যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মা'বুদ নেই, এ কথা) বলবে, আর তার মনে একটি যব পরিমাণ কল্যাণও থাকবে, সে জাহান্নাম থেকে বের হবে, জাহান্নাম থেকে ঐ ব্যক্তিও বের হবে যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মা'বুদ নেই, এ কথা) বলবে, আর তার মনে একটি গম পরিমাণ কল্যাণ থাকবে, অনুরূপভাবে জাহান্নাম থেকে ঐ ব্যক্তিও বের হবে যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মা'বুদ নেই এ কথা) বলবে, আর তার মনে সামান্য কণা পরিমাণ কল্যাণও নিহিত থাকবে”।
এখানে কুরআন ও হাদীস দ্বারা যা প্রমাণিত হলো এ উম্মাতের সালফে সালেহীন তথা সাহাবাগণ, কল্যাণ ও হেদায়াতের ভিত্তিতে তাদের অনুসারী 'তাবেয়ী'গণ ও 'তাবে' তাবেয়ী'গণ কবীরা গুনাহকারীর ব্যাপারে এ হুকুমই দিয়ে থাকেন। তাদের এ পথ এ বিষয়ে বাড়াবাড়িকারী ও সংকোচনকারী এ দু'এর মাঝামাঝি। সীমালংঘনকারী প্রাচীন ও নব্য খারেজী সম্প্রদায় কবীরা গুনাহকারীকে কাফির সাব্যস্ত করে তাকে দ্বীন থেকে বের করে দেয়, তার রক্ত হালাল করে দেয়, আর আখিরাতে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে বলে বিশ্বাস করে। অপর পক্ষে সংকোচনকারী দল মনে করে যে, কবীরা গুনাহকারী পরিপূর্ণ মু'মিন। তারা কবীরা গুনাহকারী ও যাবতীয় আদেশকৃত বিষয় পালনকারী ও নিষেধকৃত বিষয় ত্যাগকারী এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য করে না, যে মত পোষণ করে থাকে কট্টর 'মুরজিয়া' সম্প্রদায়। সালফে সালেহীনের অবস্থান এ দু'দলের মধ্যবর্তী।
কবীরা গুনাহকারী যে কাফির নয় তার প্রমাণঃ
কবীরা গুনাহকারী যে কাফের নয় কুরআন ও সুন্নাহ তা প্রমাণ করছে, কুরআন থেকে এর দলীল মহান আল্লাহর বাণীঃ
وَإِن طَائِفَتْنِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتُ احْدُهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِي إِلَى أَمْرِ اللهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ * إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ ﴾ (الحجرات: ٩-١٠)
"মু'মিনদের দু' দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে; তারপর তাদের একদল অপর দলের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করলে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করবে যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে- যদি তারা ফিরে আসে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফয়সালা করবে এবং সুবিচার করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন। মু'মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই; সুতরাং তোমরা তোমাদের দু'ভায়ের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন কর আর আল্লাহকে ভয় কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও”। [সূরা আল-হুজরাতঃ ৯-১০]
আয়াতদ্বয় দ্বারা দলীল নেয়ার কারণঃ আল্লাহ তা'আলা মু'মিনদের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহকারী দু'দলের মধ্যে একে অপরের উপর আক্রমণকারীদের জন্য ঈমান সাব্যস্ত করেছেন অথচ তা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, তাদেরকে ভাই ভাই হিসাবে দেখিয়েছেন এবং ঈমানদারদেরকে তাদের ঈমানী ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে এর প্রমাণঃ মুসলিম শরীফে আবু সা'ঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
يدخل أهل الجنة الجنة، يدخل من يشاء برحمته ويدخل أهل النار النار ثم يقول: انظروا من وجدتم في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان فأخرجوه ...¹
“জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, যাকে ইচ্ছা তিনি তার রহমতের বিনিময়ে সেখানে প্রবেশ করাবেন, আর জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তার পর বলবেনঃ দেখ যার অন্তরে শস্য পরিমাণ ঈমানও তোমরা পাবে তাকে বের করে আন...”¹。
এ হাদীস দ্বারা দলীল নেয়ার কারণ হলোঃ এখানে কবীরা গুনাহকারীকে জাহান্নামের চিরস্থায়ী বাসিন্দা করা হয়নি, কেননা যার মনে সামান্যতম ঈমান অবশিষ্ট আছে তাকেও সেখান থেকে বের করা হবে। অনুরূপভাবে হাদীস দ্বারা এও প্রমাণিত হচ্ছে যে, ঈমানদারগণ তাদের কর্ম অনুসারে বিভিন্ন পর্যায়ভুক্ত, আরও প্রমাণিত হচ্ছে যে, ঈমানদার যতটুকু ওয়াজিব ছেড়ে দিবে বা যতটুকু নিষিদ্ধ কাজ করবে সে পরিমাণ ঈমান বাড়ে ও কমে।
টিকাঃ
¹বুখারী ও মুসলিম, সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৫০), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ৮)。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭৫১০), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৯৩)。
¹সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান (হাদীস নং ৫৭)。
¹সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৪৪), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৯২)。
¹সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, শাফা'আত অধ্যায়, এবং তাওহীদের অনুসারীদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা শিরোনামে (হাদীস নং ১৮৪)。
📄 ইহসান
ইহসানের পরিচয়ঃ
ইহসান অর্থঃ মহান আল্লাহকে যাবতীয় ফরয ও নফল আদায় এবং যাবতীয় হারাম ও মাকরূহ বিষয়াদি ত্যাগ করার মাধ্যমে গোপন ও প্রকাশ্য সর্বাবস্থায় এমনভাবে খেয়াল রাখা, যেন সে এমন সত্তার ধ্যান করছে যাকে সে ভালবাসে, ভয় পায়, তাঁর কাছে সওয়াবের আশা করে, তাঁর শাস্তির ভয় করে। আর মুহসিন হলেন ঐ সমস্ত লোক যারা সৎ কাজে অগ্রণী, যে সমস্ত কাজে ফযীলত রয়েছে সেগুলোতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
ইহসানের দলীলঃ কুরআন থেকে প্রমাণ, মহান আল্লাহর বাণীঃ
﴿إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ ﴾ (النحل : ۱۲۸)
"নিশ্চয়ই আল্লাহ যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের সাথে রয়েছেন, আর যারা মুহসিন”। [সূরা আন-নাহলঃ ১২৮]
হাদীস থেকে, হাদীসে জিবরীল আলাইহিস সালাম নামে বিখ্যাত হাদীসে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ আমাকে ইহসান সম্পর্কে জানান, উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
(أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك)
'তুমি আল্লাহর ইবাদাত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, যদি তুমি তাঁকে দেখতে সামর্থ নাও হও, তিনি তো তোমাকে দেখছেন”¹。
টিকাঃ
¹হাদীসটির তাখরীজ পূর্বে ১৪৩-১৪৪ পৃষ্ঠায় গত হয়েছে。
📄 ইসলাম, ঈমান এবং ইহসানের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়
জিবরীল আলাইহিস সালামের হাদীসে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসানের বর্ণনা এসেছে, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে এ তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলাম দ্বারা প্রকাশ্য কর্মকান্ডে আনুগত্য করাকে বুঝিয়েছেন; 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আল্লাহ ব্যতীত আর কোন হক্ক মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, বাইতুল্লাহর হজ্জ করা।
আর ঈমান দ্বারা অপ্রকাশ্য গায়েবী বিষয়কে বুঝিয়েছেন; আর তা হলোঃ আল্লাহর উপর ঈমান, তাঁর ফিরিশতা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল, শেষ দিন এবং ভাগ্যের ভালো মন্দ হওয়ার উপর ঈমান আনাকে বুঝিয়েছেন।
আর ইহসান দ্বারা প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় আল্লাহকে খেয়াল রাখাকে বুঝিয়েছেন, তাই বলেছেনঃ
(ان تعبد الله كانك تراه فان لم تكن تراه فإنه يراك)
'তুমি আল্লাহর ইবাদাত এমনভাবে করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ, যদি তুমি তাঁকে দেখতে সামর্থ নাও হও তিনি তো তোমাকে দেখছেন'।
সুতরাং যখনই এ তিনটি বিষয় একসাথে বর্ণিত হয়, তখন এর প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রদান করে, তখন ইসলাম দ্বারা উদ্দেশ্য হয় প্রকাশ্য দ্বীনী কর্মকান্ড, ঈমান দ্বারা উদ্দেশ্য হয় গায়েবী বিষয়াদি, আর ইহসান দ্বারা উদ্দেশ্য হয় দ্বীনের সর্বোচ্চ সোপান। কিন্তু যখন শুধু ইসলাম শব্দ ব্যবহার হয় তখন তার মধ্যে ঈমানও এসে যায়, আবার যখন শুধু ঈমান শব্দ ব্যবহার করা হয় তখন তা ইসলামকে শামিল করে। আর যখন শুধু ইহ্সান শব্দ ব্যবহার হয় তখন তার মধ্যে ইসলাম ও ঈমান ঢুকে পড়ে।