📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তির ভিত্তিতে পুনরুত্থানের প্রমাণ

📄 কুরআন, সুন্নাহ ও যুক্তির ভিত্তিতে পুনরুত্থানের প্রমাণ


কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা মৃতদের পুনরুত্থিত করবেন, কুরআন ও সুন্নার বহু স্থানে এ বিষয়টি প্রমাণসহ বর্ণনা করা হয়েছে।

কুরআন থেকে দলীল: মহান আল্লাহর বাণী ৪
﴿ثُمَّ بَعَثْنَكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ (البقرة : ٥٦).
"তারপর তোমাদের মৃত্যুর পর আমরা তোমাদেরকে পুনর্জীবিত করলাম, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও”। [সূরা আল- বাকারাহঃ ৫৬]
﴿مَا خَلَقَكُمْ وَلَا بَعْتُكُمْ إِلَّا كَنَفْسٍ وَاحِدَةٍ إِنَّ اللهَ سَمِيعٌ بَصِيرُ﴾ (لقمان: ۲۸).
"তোমাদের সকলের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি আত্মার সৃষ্টি ও পুনরুত্থানেরই অনুরূপ। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা”। [সূরা লুকমান: ২৮]
﴿زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثْنَ ثُمَّ لَتُنَبُونَ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللهِ يَسِيرُ﴾ (التغابن: ٧)
"কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না, বলুন: অবশ্যই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে তারপর তোমরা যা করতে তা তোমাদেরকে অবশ্যই জানানো হবে, আর তা আল্লাহর পক্ষে সহজ”। [সূরা আত-তাগাবুন : ৭]

সুন্নাহ থেকে দলীল :

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেছেন :
لا تفضلوا بين أنبياء الله فإنه ينفخ في الصور فيصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من شاء الله قال : ثم ينفخ فيه مرة أخرى فأكون أول من بعث أو في أول من بعث فإذا موسى آخذ بالعرش ..¹
“তোমরা আল্লাহর নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণে ব্যস্ত হয়ো না; কেননা শিঙ্গায় যখন ফুঁ দেয়া হবে তখন যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আসমানে যা আছে, আর যমীনে যা আছে সব কিছুই মূর্ছিত হয়ে পড়বে, তারপর আবার তাতে ফুঁ দেয়া হবে তখন আমি সর্ব প্রথম উত্থিত হবো, অথবা বলেছেন: আমি প্রথম উত্থিতদের মধ্যে হবো, আমি তখন মূসাকে দেখতে পাব যে তিনি আরশ ধরে আছেন ...”।

অনুরূপভাবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত আবু সা'ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এসেছে :
فأكون أول من تنشق عنه الأرض²
“তারপর আমিই হবো সে ব্যক্তি সর্বপ্রথম যার জন্য যমীন বিদীর্ণ হবে”²。

এ হাদীসদ্বয় থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন মৃতদেরকে তাদের কবর থেকে পুনরুত্থিত করে হাশরের মাঠে জড়ো করবেন। এ দু' হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠত্বও প্রমাণিত হচ্ছে; কারণ তাকেই প্রথম পুনরুত্থিত করা হবে।

সঠিক যুক্তি দ্বারাও পুনরুত্থানকে সাব্যস্ত করা যায়; কারণ পুনরুত্থান হলো পূণঃসৃষ্টি। আর বিবেকবান মাত্রই এটা জানে যে, কোন বস্তু পূনরায় সৃষ্টি করা তাকে নতুনভাবে সৃষ্টি ও প্রথমবার তৈরী করা থেকে অনেক সহজ। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা তার কিতাবে মানুষকে প্রথমবার সৃষ্টি করা ও তাকে প্রথমবার তৈরী করার কথা উল্লেখ করে এবং যিনি প্রথম সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি যে পুনরাবৃত্তি ঘটাতে আরো উত্তমভাবে সক্ষম, সে কথা জানিয়ে দিয়ে পুনরুত্থান ও এর বাস্তবতাকে সাব্যস্ত করেছেন। যখন পুনরুত্থানের উপর আপত্তি উত্থাপনকারী বললঃ
مَنْ يُحي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيم (يس: ۷۸)
"কে অস্থিতে প্রাণ সঞ্চার করবে যখন তা পঁচে গলে যাবে?" [সূরা ইয়াসীন: ৭৮]

আল্লাহ তা'আলা তার উত্তরে বলেন:
قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَاهَا أَوَّلَ مَرَّة (يس: ٧٩)
"বলুন : 'তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করবেন তিনিই যিনি তা প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন”। [সূরা ইয়াসীন: ৭৯]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَأَهْوَنُ عَلَيْهِ (الروم: ٢٧)
"তিনি সৃষ্টিকে প্রথমবার সৃষ্টি করেন, তারপর তিনি তা পুনর্বার সৃষ্টি করবেন; আর তা তার জন্য অতি সহজ"। [সূরা আর-রূম: ২৭]

সুতরাং এ দলীলটি পবিত্র কুরআন থেকে পুনরুত্থানকে অস্বীকারকারী ও মিথ্যা প্রতিপন্নকারীর মতামত খন্ডনে শরীয়তের পক্ষ থেকে পেশকৃত দলীল হওয়ার সাথে সাথে বিবেকের দলীল হিসাবে ও গণ্য। এটা এমন এক দলীল যা খন্ডন করতে কেউ সমর্থ হবে না।

টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৩৪৪), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৩৭৩), এ ছাড়া অন্যান্যরাও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২৪১২), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২২৭৮)。

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 হাশর

📄 হাশর


কুরআন ও হাদীস থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, পুনরুত্থানের পর বান্দাগণ হাশরের মাঠে খালি পা, উলঙ্গ, খৎনাবিহীন অবস্থায় জমায়েত হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
وَحَشَرْتُهُمْ فَلَمْ تُغَادِرُ مِنْهُمْ أَحَدًا (الكهف: ٤٧)
"আর আমরা তাদের সকলকে একত্র করব আর তাদের কাউকে ছাড়ব না।” [সূরা আল-কাহফঃ ৪৭]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ وَبَرَزُو اللهُ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ (إبراهيم: ٤٨)
"সেদিন এ যমীন পরিবর্তিত হয়ে অন্য যমীন হবে এবং আসমানও; এবং মানুষ পরাক্রমশালী এক আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত হবে"। [সূরা ইব্রাহীমঃ৪৮]

অনুরূপভাবে 'আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ
يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيعًا، يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ؟ قَالَ : (يَا عَائِشَةُ الْأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ)
"কিয়ামতের দিন মানুষকে নগ্ন পা, উলঙ্গ, খৎনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে”। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! মহিলা পুরুষ একত্রে, একে অপরের দিকে তাকাবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “হে আয়েশা! ব্যাপারটা একে অপরের দিকে তাকানোর চেয়ে অনেক বেশী মারাত্মক"¹。

এ হাশর বা একত্রিতকরণ সমস্ত সৃষ্টিকুলের উপর প্রযোজ্য। কুরআন ও হাদীস থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, সেখানে অন্য এক প্রকার হাশর আছে, হয় জান্নাতে নতুবা জাহান্নামে। মু'মিনদেরকে জান্নাতের দিকে দাঁড়ানো সওয়ারী অবস্থায় জমায়েত করা হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
يَوْمَ نَحْشُرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَفُدًا (مريم : ٨٥)
"যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীদিগকে সম্মানিত মেহমান রূপে আমরা সমবেত করব। [সূরা মারইয়ামঃ ৮৫]

ত্বাবারী উল্লেখ করেন যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর বাণীঃ
﴾ تَحْثِرُ الْمُتَّقِينَ إِلَى الرَّحْمَنِ وَقُدًا ﴿
এ আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ 'সাবধান! আল্লাহর শপথ করে বলছি, ওয়াফদ তথা প্রতিনিধি দলকে তাদের পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে না অনুরূপভাবে তাদেরকে জোর করে হাঁকিয়েও নেয়া হবে না। বরং তাদের জন্য এমন সব উট নিয়ে আসা হবে সৃষ্টিকুলের কেউ সেগুলোর মত কিছু দেখেনি। সেগুলোর উপর স্বর্ণের পাদানি আর যেগুলোর লাগাম হবে মুল্যবান যবর্জুদ পাথরের, জান্নাতের দরজায় পৌঁছা পর্যন্ত তাদেরকে এগুলোর উপর সওয়ার করানো হবে"¹。

পক্ষান্তরে কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে তাদের মুখের উপর অন্ধ, বোবা, বধির অবস্থায় হাশর করানো হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ
الَّذِينَ يُحْشَرُونَ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلَى جَهَنَّمَ أُولَئِكَ شَرِّ مَكَانَا وَأَضَلُّ سَبِيلًا ﴾ (الفرقان: ٣٤)
"যাদেরকে মুখের উপর ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তারা স্থানের দিক থেকে অতি নিকৃষ্ট এবং অধিক পথভ্রষ্ট”। [সূরা আল- ফুরকানঃ ৩৪]

قِيمَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيَا وَبُكْمَا وَصُمَّا (الإسراء: ٩٧)
وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ "আর ক্বিয়ামতের দিন আমরা তাদেরকে সমবেত করব তাদের মুখের উপর ভর দিয়ে চালিয়ে অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়”। [সূরা আল-ইস্রাঃ ৯৭]

টিকাঃ
¹ মুত্তাফাকুন আলাইহি, সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৬৫২৭), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৮৫৯)。
¹ তাফসীরে তাবারী (৮/৩৮০)。

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 হাউযের বর্ণনা ও তার দলীল

📄 হাউযের বর্ণনা ও তার দলীল


হাউয হলো এমন এক বিরাট পানির ধারা যা আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাশরের মাঠে দান করেছেন, যেখানে তিনি এবং তার উম্মাত অবতরণ করবে। দলীল-প্রমাণাদি হতে বুঝা যায় যে, তা দুধের চেয়েও শুভ্র, বরফের চেয়েও ঠান্ডা, মধুর চেয়েও মিষ্টি, মিসকের চেয়েও অধিক সুঘ্রাণসম্পন্ন। যা অনেক প্রশস্ত, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সমান, তার কোণ সমূহের প্রত্যেক কোণ এক মাসের রাস্তা, তার পানির মূল উৎস হলো জান্নাত। জান্নাত থেকে এমন দু'টি নলের মাধ্যমে তার সরবরাহ কাজ সমাধা হয়ে থাকে যার একটি স্বর্ণের অপরটি রৌপ্যের। তার পেয়ালা সমুহের সংখ্যা আকাশের তারকারাজীর মত।

হাউযের অস্তিত্ব ও বাস্তবতা অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কোন কোন অভিজ্ঞ আলেম উল্লেখ করেছেন যে, এ হাদীসগুলো মুতাওয়াতির। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ত্রিশ জনের বেশী সাহাবী এ সমস্ত হাদীস বর্ণনা করেছে। তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদীস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(إن قدر حوضي كما بين أيلة إلى صنعاء من اليمن وإن فيه من الأباريق كعدد نجوم السماء)¹
"আমার হাউযের পরিমাণ হচ্ছে 'আইলা' (বায়তুল মুকাদ্দাস) থেকে সান'আ পর্যন্ত, আর সেখানে পেয়ালার সংখ্যা আকাশের তারকার মত এত বেশী”।

অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(حوضي مسيرة شهر وزواياه سواء ماؤه أبيض من اللبن، وريحه أطيب من المسك، وكيزانه كنجوم السماء من يشرب منها فلا يظمأ أبداً)²
"আমার হাউয এক মাসের রাস্তা, তার কোণসমূহ একই সমান, তার পানি দুধের চেয়েও সাদা, তার ঘ্রাণ মিসকের চেয়েও বেশী উত্তম, তার পেয়ালাসমূহ আকাশের তারকার মত বেশী, যে তা থেকে পান করবে সে আর কখনো পিপাসার্ত হবেনা”।

হাউযের অবস্থান হাশরের মাঠে, যার পানি কাউসার থেকে সরবরাহ করা হবে, যা অন্য আরেকটি স্রোতস্বিনী, যা আল্লাহ আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرَ (الكوثر : 1)
"আমরা তো আপনাকে দিয়েছি কাউসার" [সূরা আল-কাউসারঃ১]

মীযান ও হাউযের মধ্যে কোনটি আগে আর কোনটি পরে হবে এ ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ বলেনঃ মীযান আগে, আবার কেউ বলেনঃ হাউয আগে। তম্মধ্যে সঠিক মত হচ্ছেঃ হাউয আগে। কুরতুবী বলেনঃ যুক্তির চাহিদাও তাই; কেননা মানুষ তাদের কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে।

টিকাঃ
¹ মুত্তাফাকুন আলাইহি, সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৬৫৮০), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৩০৩)。
² মুত্তাফাকুন আলাইহি, সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৬৫৭৯), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২২৯২)。

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 মীযানের বর্ণনা ও তার দলীল

📄 মীযানের বর্ণনা ও তার দলীল


পরকালের যে সমস্ত ঘটনার উপর ঈমান আনা ওয়াজিব তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ মীযান বা দাঁড়িপাল্লা। এটা এক প্রকৃত মীযান বা দাড়িপাল্লা যার রয়েছে একটি দাঁড়ি এবং দু'টি পাল্লা, যার মাধ্যমে বান্দাদের আমল বা কর্মকান্ড ওজন বা মাপা হবে। ফলে সামান্য পরিমাণ ভাল ও মন্দের কারণে কোন এক দিক প্রাধান্য পেয়ে যাবে। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে অনেক দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা মীযান সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ﴾ (الأنبياء: ٤٧)
"আর ক্বিয়ামতের দিন আমরা ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোন অবিচার করা হবে না"। [সূরা আল-আম্বিয়াঃ ৪৭]

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ * فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ * وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ * فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ﴾ (القارعة : ٦-٩)
"সুতরাং তখন যার পাল্লা ভারী হবে সে তো লাভ করবে সন্তোষজনক জীবন, পক্ষান্তরে যার পাল্লা হাল্কা হবে তার স্থান হবে 'হাবিয়া"। [সূরা আল-কারি'আহঃ ৬-৯]

অনুরূপভাবে বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(كلمتان حبيبتان إلى الرحمن خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم)¹
“দু'টি বাক্য এমন যা দয়াময়ের কাছে প্রিয়, জিহবার উপর হাল্কা, মীযানের মধ্যে ভারী, আর তা হলোঃ 'সুবাহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি তাঁর প্রশংসা সহকারে), 'সুবহানাল্লাহিল 'আজীম' (মহান আল্লাহ কতই না পবিত্র)””।

অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ, হাকিম এবং অন্যান্যগণ ইবনে মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি 'আরাক' গাছে উঠলেন, তিনি ছিলেন সরু গোড়ালীবিশিষ্ট মানুষ, ফলে বাতাস তাকে নাড়াচ্ছিল তাতে উপস্থিত লোকেরা হেসে উঠল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেনঃ “তোমরা হাসছ কেন?” তারা বললঃ হে আল্লাহর নবী! তার সরু গোড়ালীর কারণে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ
(والذي نفسي بيده لهما أثقل في الميزان من أحد)¹
"যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, এ দু'টি মীযানের উপর উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশী ভারী"¹。

হাকিম হাদীসটি সহীহ বলেছেন আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

মীযানে তিনটি জিনিস ওজন করা হবে, যা কুরআন ও হাদীসের দলীল দ্বারা প্রমাণিতঃ

১. আমল বা কর্মকান্ডঃ প্রমাণিত হয়েছে যে, আমলকে শারিরীক আকৃতি দেয়া হবে এবং মীযানে ওজন করা হবে, এর প্রমাণ পূর্বোল্লেখিত আবু হুরায়রার হাদীসঃ
كلمتان حبيبتان إلى الرحمن.. الحديث.
"দু'টি বাক্য এমন যা দয়াময়ের কাছে প্রিয়..." আল হাদীস।

২. আমলনামা বা কর্মকান্ডের সহীফাসমূহঃ এর প্রমাণ আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস এর হাদীস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(إن الله سيخلص رجلاً من أمتي على رؤوس الخلائق يوم القيامة، فينشر له تسعة وتسعين سجلا كل سجل مثل مد البصر ثم يقول: أتنكر من هذا شيئاً؟ أظلمك كتبتي الحافظون؟ فيقول: لا يا رب. فيقول: ألك عذر أو حسنة؟ فيبهت الرجل، فيقول: لا يا رب. فيقول: بلى إن لك عندنا حسنة واحدة، لا ظلم عليك اليوم فتخرج له بطاقة فيها: أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، فيقول: فتوضع السجلات في كفة والبطاقة في كفة، قال: فطاشت السجلات وثقلت البطاقة ولا يثقل شيء بسم الله الرحمن الرحيم)
"কিয়ামতের দিন আল্লাহ আমার উম্মতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে থেকে বিশেষভাবে কাছে ডাকবেন, তারপর তার নিরানব্বইটি দপ্তর খুলবেন, প্রত্যেক দপ্তর যতদুর চোখ যায় তত লম্বা, তারপর তাকে বলবেনঃ 'তুমি কি এর কিছু অস্বীকার কর? আমার সংরক্ষণকারী লিখকবৃন্দ কি তোমার উপর অত্যাচার করেছে?' তখন সে বলবেঃ না, হে প্রভু! তখন তিনি বলবেনঃ 'তোমার কি কোন ওজর-আপত্তি অথবা নেককাজ আছে'? তখন লোকটি হতবুদ্ধি হয়ে বলবেঃ না, হে প্রভু!, তখন আল্লাহ বলবেনঃ অবশ্যই হাঁ, আমার কাছে তোমার একটি নেক কাজ আছে। আজ তোমার উপর কোন অত্যাচার করা হবে না। তারপর তার জন্য একটি কার্ড বের করবেন যাতে লেখা আছেঃ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মা'বুদ নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল"। তারপর বলেনঃ "তারপর সে সমস্ত দপ্তরগুলো এক পাল্লায় রাখা হবে, অপর পাল্লায় রাখা হবে সে কার্ডটি। তিনি বলেনঃ তাতে দপ্তরগুলো উপরে উঠে যাবে এবং কার্ডের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে, মহিয়ান দয়াময় আল্লাহর নামের মোকাবেলায় কোন কিছুই ভারী হতে পারে না"¹。

৩. স্বয়ং আমলকারীকেও ওজন করা হবেঃ তা ওজন করার স্বপক্ষে প্রমাণ আল্লাহর বাণীঃ
﴿فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَزْنَا ﴾ (الكهف : ١٠٥)
"সুতরাং আমরা তাদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন কোন ওজন স্থির করব না”। [সূরা আল-কাহফঃ১০৫]

অনুরূপভাবে পূর্বে বর্ণিত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ এর হাদীস তার প্রমাণ, যাতে বলা হয়েছেঃ 'তার দু' গোড়ালী মীযানের মধ্যে উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশী ভারী হবে।

ষষ্ট বিষয়ঃ শাফা'আত, তার সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও দলীল-প্রমাণাদি

শাফা'আত শব্দের আভিধানিক অর্থঃ অসীলা ও চাওয়া।
প্রচলিত অর্থঃ অপরের কল্যাণ চাওয়া।

আল্লাহর নিকট শাফা'আত হলোঃ আল্লাহর কাছে অন্যের জন্য গোনাহ ও পাপ ক্ষমা করে দেয়ার প্রার্থনা করা।

শাফা'আতের হাকীকত হলোঃ আল্লাহ তা'আলা তাঁর আপন দয়া ও মেহেরবাণীতে কিয়ামতের দিন তাঁর সৃষ্টিকুলের কোন কোন নেক বান্দা তথা ফিরিস্তা, নবী-রাসূল এবং মু'মিনদেরকে তাঁর তাওহীদ বাস্তবায়ন করেছে এমন কোন কোন গুনাহগারদের জন্য সুপারিশ করার অনুমতি প্রদান করবেন সুপারিশকারীর সম্মান প্রকাশ আর সুপারিশকৃতদের জন্য তাঁর রহমতের প্রতিফলন স্বরূপ।

দু'টি শর্ত পূরণ না করলে মহান আল্লাহর কাছে সুপারিশ করা যাবে না

প্রথম শর্তঃ সুপারিশকারীকে আল্লাহ তা'আলা সুপারিশ করার অনুমতি প্রদান করতে হবে। এর প্রমাণ আল্লাহর বাণীঃ
مَّن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ﴾ (البقرة: ٢٥٥)
“কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?”। [সূরা আল- বাকারাহঃ ২৫৫]

মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ ﴾ (سبا:۲۳)
“যাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে সে ব্যতীত আল্লাহর নিকট কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না”। [সূরা সাবাঃ ২৩]

দ্বিতীয় শর্তঃ যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়ে সুপারিশ করতে দেয়া। এ শর্তের স্বপক্ষে প্রমাণ, মহান আল্লাহর বাণীঃ
وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى ﴾ (الأنبياء : ۲۸)
“তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট”। [সূরা আল- আম্বিয়াঃ ২৮]

কুরআন ও হাদীস থেকে এ কথা প্রমাণিত যে, তাওহীদ তথা (আল্লাহর প্রভুত্বে, নাম ও গুণে এবং তাঁর ইবাদাতে) একত্ববাদ প্রতিষ্ঠাকারীদের জন্য শাফা'আত করতেই শুধু আল্লাহ রাজী হবেন। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(لكل نبي دعوة مستجابة فتعجل كل نبي دعوته وإني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي يوم القيامة فهي نائلة إن شاء الله من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئاً)¹
“প্রত্যেক নবীর একটি মাকবুল বা গ্রহণীয় দো'আ আছে, নবীরা প্রত্যেকেই তাদের সে দো'আ তাড়াতাড়ি করে ফেলেছেন, কিন্তু আমি আমার দো'আ ক্বিয়ামতের দিন আমার উম্মাতের জন্য শাফা'আত হিসাবে গোপন করে রেখেছি। আল্লাহ চাহেত আমার উম্মাতের মধ্যে আল্লাহর সাথে শরীক না করা অবস্থায় যারাই মারা যাবে, তারাই এ দো'আর ভাগী হবে”।

আর আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের সম্পর্কে বলেছেনঃ
﴿فَمَا تَنْفَعُهُمْ شَفَاعَةُ الشَّفِعِينَ ﴾ (المدثر : ٤٨)
"ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন কাজে আসবে না”। [সূরা আল-মুদ্দাছছিরঃ ৪৮]

ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে শাফা'আত সাব্যস্ত করার ব্যাপারটি কুরআন ও সুন্নার বিভিন্ন দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। তম্মধ্যে কুরআন থেকে কিছু দলীল-প্রমাণ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলের সুন্নার মধ্যে শাফা'আতের স্বপক্ষে অনেক হাদীস এসেছে। তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

আবু সা'ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(... فيقول الله تبارك وتعالى شفعت الملائكة وشفع النبيون وشفع المؤمنون ولم يبق إلا أرحم الراحمين فيقبض قبضة من النار فيخرج منها قوماً لم يعملوا خيراً قط)¹
"... তারপর মহান ও বরকতময় আল্লাহ বলবেনঃ ফেরেশতাগণ সুপারিশ করেছে, নবীরা সুপারিশ করেছে, মু'মিনগণও সুপারিশ করেছে, সমস্ত দয়াশীলের থেকে যিনি বেশী দয়াবান তিনিই শুধু বাকী আছেন। তারপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুষ্টি পরিমাণ এমন লোকদের বের করে আনবেন যারা সামান্যতম ভাল কাজও করেনি”।

শাফা'আতের স্বপক্ষে হাদীসের সংখ্যা অনেক বেশী। অভিজ্ঞ আলেমগণ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এগুলো মুতাওয়াতির ও মাশহুর হাদীস বলে সহীহ (তথা বিশুদ্ধ হাদীস সঙ্কলনের গ্রন্থসমূহে) এবং মাসানীদ (তথা প্রত্যেক বর্ণনাকারীর বর্ণনাকৃত হাদীসসমূহ যে সব গ্রন্থে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে সে সব হাদীসের) গ্রন্থে স্বীকৃত।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে এসেছেঃ
يُخرج من النار من كان في قلبه حبة من خردل من إيمان)¹
“যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও অবশিষ্ট থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে”।

শাফা'আতের প্রকারভেদঃ

গ্রহণ হওয়া না হওয়ার দিক থেকে শাফা'আত দু'ভাগে বিভক্তঃ

অগ্রহণযোগ্য শাফা'আতঃ আর তা' হলোঃ যাতে পূর্ব বর্ণিত শাফা'আতের শর্তদ্বয়ের কোন একটি থাকবেনা।

গ্রহণযোগ্য শাফা'আতঃ আর তা'হলো যাতে পূর্বে বর্ণিত শাফা'আত কবুল হওয়ার শর্তসমূহ পাওয়া যাবে।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য আট প্রকার শাফা'আত সাব্যস্ত। তা' হলোঃ

১. মহাশাফা'আত বা সবচেয়ে বড় সুপারিশ। আর তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করবেন হাশরের মাঠে অবস্থানকারীদের জন্য, যাতে করে আল্লাহ তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করে দেন। আর এরই নাম "মাকামে মাহমুদ” তথা প্রশংসনীয় স্থান। এ শাফা'আত সমস্ত নবী রাসূলদের মধ্য থেকে কেবলমাত্র আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছে।

২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে জান্নাত দেয়ার জন্য শাফা'আত করবেন যাদের সৎকর্ম ও অসৎকর্ম সমান সমান হয়ে গেছে।

৩. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোক যারা জাহান্নামে যাবার উপযুক্ত হয়ে গেছে তাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য শাফা'আত করবেন।

৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতবাসীদের জান্নাতের মধ্যে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও শাফা'আত করবেন।

৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে দেয়ার জন্য শাফা'আত করবেন।

৬. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামের কোন কোন জাহান্নামীর শাস্তি হাল্কা করার জন্য শাফা'আত করবেন, যেমন তার চাচা আবু তালেবের জন্য তিনি শাফা'আত করলে তার শাস্তি হাল্কা হবে।

৭. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেয়ার জন্যও শাফা'আত করবেন।

৮. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার উম্মাতের মধ্যে কবীরা গুনাহ করার কারণে যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে আনার জন্য শাফা'আত করবেন।

উপরোক্ত প্রকারসমূহের সমর্থনে কুরআন ও সুন্নায় বহু দলীল-প্রমাণাদি এসেছে, সুন্নার গ্রন্থসমূহ এবং আক্বীদার বইসমূহে সেগুলোর বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। শাফা'আতের উপরোক্ত প্রকারসমূহের কোন কোনটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সুনির্দিষ্ট যেমনঃ বড় শাফা'আত, তার চাচার জন্য শাফা'আত, জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশের জন্য শাফা'আত। আবার এ শাফা'আতগুলোর কোন কোনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অন্যান্য নবী ও নেক বান্দাও শরীক হবেন, যেমনঃ কবীরা গুনাহ করার কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে এমন লোকদের জন্য সুপারিশ। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকারসমূহ কি রাসূলের সাথে সুনির্দিষ্ট না তা সবার জন্য উন্মুক্ত, এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ আছে। আল্লাহ সবচেয়ে বেশী জানেন।

টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭৫৬৩), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৬৯৪)。
¹ মুসনাদ ইমাম আহমাদ (১/৪২০-৪২১), মুস্তাদরাক (৩/৩১৭)。
¹হাদীসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে সঙ্কলন করেছেন, (২/২১৩), হাদীসে উল্লেখিত 'বিসমিল্লাহ' দ্বারা উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছেঃ 'আল্লাহর নামের সাথে'। অনুরূপভাবে হাদীসটি ইমাম তিরমিযীও সঙ্কলন করেছেন, (৫/২৪-২৫) (হাদীস নং ২৬৩৯), আরো সঙ্কলন করেছেন হাকিম তার মুস্তাদরাকে (১/৬, ৫২৯), এবং তিনি বিশুদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন, আর ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন。
¹ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৯৯)。
¹ ইমাম আহমাদ এ হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসনাদে (৩/৯৪), আব্দুর রায্যাক মুসান্নাফে (১১/৪১০, হাদীস নং ২০৮৫৭)。
¹সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭৪৩৯), এক দীর্ঘ হাদীসের অংশ। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (১৮৪)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00