📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 মুনকার ও নাকীর দু'জন ফিরিশতার উপর ঈমান

📄 মুনকার ও নাকীর দু'জন ফিরিশতার উপর ঈমান


ফিরিস্তাদের আলোচনায় মুনকার ও নাকীরের কথা আলোচনা হয়েছিল। ফিরিস্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করার সময় এও বলা হয়েছিল যে, তারা দু'জন কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করার জন্য নিয়োজিত। এখানে তাদের উপর বিস্তারিত ঈমান আনয়ন, এবং তাদের দ্বারা কবরবাসীদের যে পরীক্ষা সংঘটিত হবে, তা আলোচনা করাই উদ্দেশ্য; কেননা সার্বিকভাবে এ বিষয়টি কবরের শান্তি ও শাস্তির উপর ঈমান আনার অঙ্গ।

বহু সহীহ হাদীসে এ দু'জন ফিরিস্তার গুণাগুণ, তাদের দ্বারা দাফনের পর কবরবাসীদেরকে প্রশ্ন করা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(إذا قبر الميت أو قال أحدكم أتاه ملكان أسودان أزرقان يقال لأحدهما المنكر والآخر النكير، فيقولان ما كنت تقول في هذا الرجل، فيقول: ما كان يقول هو عبد الله ورسوله، أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، فيقولان: قد كنا نعلم أنك تقول هذا ثم يفسح له في قبره سبعون ذراعاً في سبعين... وإن كان منافقاً قال: سمعت الناس يقولون فقلت مثله لا أدري: فيقولان : قد كنا نعلم أنك تقول ذلك، فيقال للأرض التنمي عليه فتلتئم عليه فتختلف أضلاعه فلا يزال فيها معذباً حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك)¹
"যখন মৃত ব্যক্তিকে অথবা বলেছেন: তোমাদের কাউকে কবরস্থ করা হয় তখন তার কাছে দু'জন জমকালো গাড় নীল ফিরিশতা আসে তাদের একজনকে বলা হয় মুনকার, অপরজনকে নাকীর, তারপর তারা বলে: 'এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? উত্তরে সে যা বলত তা বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তারা দু'জন বলবে: আমরা ভালভাবেই জানতাম যে, তুমি এটা বলবে, তারপর তার কবরে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সত্তর হাত পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে...। আর যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক হয় সে বলবে: মানুষকে বলতে শুনেছি আমিও অনুরূপ বলেছি, আমি কিছু জানিনা। তখন তারা দু'জন বলবে: আমরা ভাল করেই জানতাম যে, তুমি এটা বলবে। তারপর যমীনকে বলা হবে যে, তার উপর দু'দিক থেকে মিশে যাও, তখন যমীন দু'দিক থেকে তার উপর মিশে যাবে যাতে তার পাঁজর ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তাকে তার এ শোয়ার স্থান থেকে পুনরুত্থান করা পর্যন্ত এভাবেই সে শাস্তি পেতে থাকবে”।

পূর্বের আলোচনায় উল্লেখিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস দ্বারাও ফিরিস্তাদ্বয়ের প্রশ্নের কথা প্রমাণিত হয়েছে।

সুতরাং হাদীসসমূহে যে সমস্ত বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে যেমন ফিরিস্তাদ্বয়ের নাম, তাদের গুণাগুণ, কবরবাসীদের প্রতি তাদের প্রশ্ন, তার ধরন, মু'মিন তার কি উত্তর দিবে, মুনাফিক তার কি উত্তর দিবে, আর এর ফলে তাদের উপর যে নেয়ামত বা আযাব আসবে যার বিস্তারিত বিবরণ হাদীসসমূহে এসেছে তার উপর ঈমান আনয়ন করা ওয়াজিব।

কবরের প্রশ্নোত্তর কি এ নবীর উম্মাতের জন্য সুনির্দিষ্ট যেমনটি কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন নাকি তা প্রত্যেক নবীর উম্মাতের জন্যই যেমনটি অন্য একদল আলেমের মত? এ ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে কুরআন ও হাদীসের দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বুঝা যায় যে, তা এ উম্মাতের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং প্রত্যেক উম্মাতের জন্যই। আর অধিকাংশ অভিজ্ঞ আলেম এ মতের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা সবচেয়ে বেশী জানেন।

টিকাঃ
¹সুনান তিরমিযী, (৩/৩৮৩, হাদীস নং ১০৭১), এবং হাসান গরীব বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে হাদীসটি আল-ইহসান ফি তাকরীবে সহীহ ইবনে হিব্বান গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে (৭/৩৮৬, হাদীস নং ৩১১৭)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00