📄 কবরের নেয়ামত ও আযাবের উপর ঈমান আনা ও তার প্রমাণাদি
ঈমানের যে সমস্ত মুলনীতি কুরআন ও সুন্নাহর দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: নেককারদের কবরে নেয়ামত আর গুনাহগার-পাপী বদকারদের মধ্যে যারা শাস্তির যোগ্য তাদের কবরে আযাব ভোগ করার উপর ঈমান।
কবরের নেয়ামতের উপর কুরআন থেকে দলীল: মহান আল্লাহর বাণী:
يُثبت اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيا وفي الآخرة (إبراهيم: ۲۷).
"যারা শাশ্বত বাণী (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তে বিশ্বাসী তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”। [সূরা ইব্রাহীম: ২৭]
এ আয়াত প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তা'আলা মু'মিনদেরকে কবরে প্রশ্নের সময় সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন। এর পর সে অনুসারে নেয়ামত প্রদান করবেন।
ইমাম বুখারী বারা ইবনে 'আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
إذا أقعد المؤمن في قبره أتي ثم شهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله فذلك قوله : ويُثبت اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ ﴾
"যখন মু'মিনকে কবরে বসানো হবে তখন নিয়ে আসা হবে তারপর সে সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ব্যতীত হজ্ব কোন মা'বুদ নেই, আর অবশ্যই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর এটাই হলো আল্লাহর বাণীঃ "যারা শাশ্বত বাণী (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) তে বিশ্বাসী। তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন"¹。
কুরআন থেকে কবরের শাস্তির প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী:
وَحَاقَ بِالِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ * النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ (غافر : ٤٥ ، ٤٦).
"আর ফির'আউনের সম্প্রদায়কে কঠোর শাস্তি বেষ্টন করল। তাদেরকে সকাল ও সন্ধ্যায় আগুনের সম্মুখে পেশ করা হয়, আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন (বলা হবে) ফির'আউনের সম্প্রদায়কে কঠোর শাস্তিতে নিক্ষেপ কর"। [সূরা গাফির: ৪৫-৪৬]
কুরতুবী বলেন: 'অধিকাংশের মতে এ পেশ কবরে করা হবে, যা কবরের আযাবের বাস্তবতার উপর দলীল'।
হাফেয ইবনে কাসীর বলেন: 'কবর সমূহে বরযখ তথা মধ্যবর্তী কালের শাস্তি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে সুন্নাতের অনুসারীদের জন্য এ আয়াত একটি বিরাট মূলনীতি'।
অনুরূপভাবে কুরআন থেকে কবরের আযাবের উপর আরেকটি দলীল: আল্লাহ তা'আলার বাণী:
سَنُعَذِّبُهُم مَّرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلى عَذَابِ عَظِيمٍ (التوبة : ١٠١).
"আমরা তাদেরকে দু'বার শাস্তি দেব তারপর তারা মহা শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে”। [সূরা আত তাওবাহ: ১০১]
সালফে সালেহীন তথা উম্মাতের পূর্বেকার গ্রহণযোগ্য মনিষীগণের অনেকেই এ আয়াত দ্বারা কবরের আযাবের উপর দলীল নিয়েছেন। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি এ আয়াতের তাফসীরে বলেন: 'ক্ষুধা ও কবরের আযাব', বললেন: 'তারপর তারা মহা শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে' ক্বিয়ামতের দিন। ক্বাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'দুনিয়ার শাস্তি ও কবরের শাস্তি, তারপর তারা মহা শাস্তির দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে'। ইমাম বুখারীও কবরের আযাব সংক্রান্ত হাদীস উল্লেখ করার আগে পূর্বভাষ্য হিসাবে এ আয়াত ও তার পূর্বোল্লেখিত আয়াত দ্বারা কবরের আযাবের উপর দলীল গ্রহণ করছেন¹。
তবে কবরের নেয়ামত ও তার আযাবের উপর রাসূলের সুন্নায় যে সমস্ত দলীল এসেছে তার সংখ্যা অনেক। তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ
বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(إن أحدكم إذا مات عرض عليه مقعده بالغداة والعشي إن كان من أهل الجنة فمن أهل الجنة وإن كان من أهل النار فمن أهل النار فيقال هذا مقعدك حتى يبعثك الله يوم القيامة)
"তোমাদের কেউ যখন মারা যায় তখন তার কাছে সকাল সন্ধ্যা তার বসার স্থান পেশ করা হয়। যদি জান্নাতবাসী হয় তাহলে জান্নাতীদের স্থান, আর যদি জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের স্থান। তারপর বলা হয়ঃ ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত এটা তোমার বসার স্থান"¹。
সহীহ মুসলিমে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(لولا أن لا تدافنوا لدعوت الله أن يسمعكم من عذاب القبر)
"যদি এ ভয় না থাকত যে, তোমরা দাফন করা ত্যাগ করবে তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দো'আ করতাম তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শোনান”²。
কুরআন ও সুন্নায় এর উপর অনেক দলীল-প্রমাণাদি এসেছে, এখানে এমন কিছু উল্লেখ করা হয়েছে যা দ্বারা কবরের নেয়ামত ও আযাব সাব্যস্ত হয়। আল্লাহ সবচেয়ে বেশী জানেন।
টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ১৩৬৯)。
¹ সহীহ বোখারী, বিষয়ঃ কবরের শাস্তির ক্ষেত্রে যে বর্ণনা এসেছে, ফাতহুল বারী (৩/২৩১)。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ১৩৭৯) ও সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৮৬৬)。
² সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৮৬৮)。
📄 কবরের নেয়ামত ও আযাব রূহ ও শরীর উভয়ের উপর হওয়ার বর্ণনা
কবরের শান্তি বা শাস্তি শরীর ও আত্মা উভয়ের উপর হয়। সুতরাং আত্মা দেহের সাথে মিলিত হয়ে প্রশান্তি লাভ করে অথবা শাস্তি ভোগ করে। তাই শান্তি বা শাস্তি এ দু’য়ের উপরই হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও রূহ শরীর থেকে আলাদাভাবে শান্তি বা শাস্তি ভোগ করে থাকে। তখন শরীর থেকে রূহকে ভিন্ন করে শান্তি বা শাস্তি দেয়া হয়।
কুরআন ও সুন্নার দলীল প্রমাণাদি তা সাব্যস্ত করছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতও এ ব্যাপারে একমত হয়েছে, ঐ সমস্ত লোকদের মতের বিপরীতে, যারা ধারণা করে যে, কবরের আযাব ও নেয়ামত সর্বাবস্থায় শুধুমাত্র রূহের উপর হবে, দেহের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
এর উপর প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে ইমাম বুখারী কর্তৃক সঙ্কলিত আনাস ইবনে মালিকের হাদীস, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(إن العبد إذا وضع في قبره وتولى عنه أصحابه وإنه ليسمع قرع نعالهم أتاه ملكان فيقعدانه فيقولان ما كنت تقول في هذا الرجل لمحمد ) فأما المؤمن فيقول: أشهد أنه عبد الله ورسوله فيقال له انظر إلى مقعدك من النار قد أبدلك الله به مقعداً من الجنة فيراهما جميعاً. وأما المنافق والكافر فيقال له ما كنت تقول في هذا الرجل؟ فيقول: لا أدري كنت أقول ما يقول الناس، فيقال: لا دريت ولا تليت، ويضرب بمطارق من حديد ضربة فيصيح صيحة يسمعها من يليه غير الثقلين)¹
"বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়, আর তার সাথীরা তাকে রেখে ফিরে আসে, সে তাদের জুতার খটখট শব্দ শুনতে পায় এমতাবস্থায় তার কাছে দু' ফিরিস্তা আসে তারা তাকে বসানোর পর জিজ্ঞাসা করে: 'এ লোক (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে তুমি কি বলতে'? তখন মু'মিন বলে: আমি সাক্ষ্য দেই যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তাকে বলা হবেঃ 'জাহান্নামে তোমার আসনের দিকে তাকাও, আল্লাহ তোমার সে আসনের বদলে জান্নাতে তোমার আসন করে দিয়েছেন, তারপর সে দু'টি আসনই দেখতে পাবে'। আর মুনাফিক ও কাফিরকে যখন জিজ্ঞাসা করা হবেঃ 'এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বলতে'? সে বলবে: 'আমি জানিনা, মানুষ যা বলত আমিও তা বলতাম'। তারপর তাকে বলা হবে : 'তুমি জানওনি, আর পড়ওনি'। তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে এমনভাবে আঘাত করা হবে যার ফলে সে এমন জোরে চিৎকার করবে যা মানুষ ও জ্বিন ব্যতীত তার কাছে যারা থাকবে তারা সবাই শুনতে পাবে'।
অনুরূপভাবে আহমাদ, আবুদাউদ ও হাকিম প্রমুখ কর্তৃক সঙ্কলিত বারা ইবনে 'আযিব হতে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসে রূহ বের হওয়ার পর মু'মিনের রূহ আসমানে উঠার কথা উল্লেখ করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(فتعاد روحه في جسده فيأتيه ملكان فيجلسانه فيقولان له من ربك)¹
"তারপর তার রূহ তার শরীরে ফেরৎ পাঠানো হবে, তখন তার কাছে দু'জন ফিরিস্তা আসবে, তারা তাকে বসাবে, তারপর তারা তাকে বলবে: তোমার রব তথা প্রতিপালক কে?"... আল হাদীস'।
এ হাদীসটি হাকিম ও অন্যান্যগণ বিশুদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন।
এ হাদীস দু'টি প্রমাণ করছে যে, কবরের নেয়ামত বা আযাব দেহ ও রূহ উভয়ের উপরই হবে; কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয়" এর মধ্যে এ বিষয়ের উপর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। কারণ বান্দা শব্দটি রূহ ও দেহ দু'টোরই নাম। অনুরূপভাবে বারা ইবনে 'আযিবের হাদীসে প্রশ্ন করার সময় পূনরায় রূহ দেহে পাঠানো হবে বলে যে সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে তাতেও বুঝা যাচ্ছে যে, কবরের শান্তি বা শাস্তি দেহ ও রূহ উভয়টিতেই হবে। তদুপরি এ দু' হাদীসে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যা শুধুমাত্র দেহের গুণাবলীরই অন্তর্গত। যেমন: বলা হয়েছে: 'সে তাদের জুতার খটখট শব্দ শুনতে পায়', 'তারা দু'জন তাকে বসায়', 'তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হবে', 'সে ভীষণ জোরে চীৎকার করবে'। এ সমস্ত শব্দ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, কবরে যে শান্তি বা শাস্তি হবে তা দেহ ও রূহ উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত হবে।
তবে কোন কোন দলীল-প্রমাণাদি থেকে বুঝা যায় যে, কোন কোন অবস্থায় শান্তি কিংবা শাস্তি ভিন্নভাবে রূহের উপর হবে। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
(لما أصيب إخوانكم يعني يوم أحد - جعل الله أرواحهم في أجواف طير خضر ترد أنهار الجنة وتأكل من ثمارها وتأوي إلى قناديل من ذهب في ظل العرش¹
“যখন তোমাদের ভাইগণ নিহত হলো অর্থাৎ উহুদের যুদ্ধে, আল্লাহ তা'আলা তাদের আত্মাকে সবুজ পাখীর পেটে দিয়ে দিলেন, যাতে তারা জান্নাতের নহর সমূহে বিচরণ করতে পারে, জান্নাতের ফলসমূহ থেকে খেতে পারে আর আরশের ছায়ায় স্বর্ণের ঝাড়বাতির মধ্যে এসে আশ্রয় নিতে পারে"।
তাই সংক্ষেপে এ কথা বলা যায় যে, কবরের নেয়ামত ও আযাব দেহ ও রূহ একত্রে উভয়ের উপর হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও শুধু রূহের উপরও হয়ে থাকে।
সুন্নার উপর অভিজ্ঞ কোন এক ইমাম এ বিষয়টি সাব্যস্ত করতে গিয়ে বলেছেনঃ 'আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আতের ঐক্যমতে শাস্তি ও শান্তি রূহ ও দেহ উভয়ের উপরই হবে। রূহ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শাস্তি ও শান্তি ভোগ করবে। আর আত্মা দেহের সাথে এবং দেহ আত্মার সাথে মিলিত অবস্থায়ও আত্মা শান্তি ভোগ করবে। অতএব এমতাবস্থায় শান্তি ও শাস্তি উভয়ের উপরই হবে। আবার শরীর থেকে ভিন্ন ভাবে শুধু রূহের উপরও হবে'।
টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ১৩৩৮)。
¹ হাদীসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে সংকলন করেন (৪/২৮৭), আবু দাউদ তার সুনান (৫/৭৫, হাদীস নং ৪৭৫৩), হাকিম তার মুস্তাদরাক (১/৩৭-৩৮)。
¹ হাদীসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে সঙ্কলন করেন, (১/২৬৬), হাকিম তার মুস্তাদরাক (২/৮৮, ২৯৭), বর্ণনা করে বিশুদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন আর ইমাম যাহাবী তার মত সমর্থন করেছেন。
📄 মুনকার ও নাকীর দু'জন ফিরিশতার উপর ঈমান
ফিরিস্তাদের আলোচনায় মুনকার ও নাকীরের কথা আলোচনা হয়েছিল। ফিরিস্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করার সময় এও বলা হয়েছিল যে, তারা দু'জন কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করার জন্য নিয়োজিত। এখানে তাদের উপর বিস্তারিত ঈমান আনয়ন, এবং তাদের দ্বারা কবরবাসীদের যে পরীক্ষা সংঘটিত হবে, তা আলোচনা করাই উদ্দেশ্য; কেননা সার্বিকভাবে এ বিষয়টি কবরের শান্তি ও শাস্তির উপর ঈমান আনার অঙ্গ।
বহু সহীহ হাদীসে এ দু'জন ফিরিস্তার গুণাগুণ, তাদের দ্বারা দাফনের পর কবরবাসীদেরকে প্রশ্ন করা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন তিরমিযী ও ইবনে হিব্বান কর্তৃক আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(إذا قبر الميت أو قال أحدكم أتاه ملكان أسودان أزرقان يقال لأحدهما المنكر والآخر النكير، فيقولان ما كنت تقول في هذا الرجل، فيقول: ما كان يقول هو عبد الله ورسوله، أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، فيقولان: قد كنا نعلم أنك تقول هذا ثم يفسح له في قبره سبعون ذراعاً في سبعين... وإن كان منافقاً قال: سمعت الناس يقولون فقلت مثله لا أدري: فيقولان : قد كنا نعلم أنك تقول ذلك، فيقال للأرض التنمي عليه فتلتئم عليه فتختلف أضلاعه فلا يزال فيها معذباً حتى يبعثه الله من مضجعه ذلك)¹
"যখন মৃত ব্যক্তিকে অথবা বলেছেন: তোমাদের কাউকে কবরস্থ করা হয় তখন তার কাছে দু'জন জমকালো গাড় নীল ফিরিশতা আসে তাদের একজনকে বলা হয় মুনকার, অপরজনকে নাকীর, তারপর তারা বলে: 'এ লোকটি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? উত্তরে সে যা বলত তা বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন প্রকৃত ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তখন তারা দু'জন বলবে: আমরা ভালভাবেই জানতাম যে, তুমি এটা বলবে, তারপর তার কবরে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সত্তর হাত পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে...। আর যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক হয় সে বলবে: মানুষকে বলতে শুনেছি আমিও অনুরূপ বলেছি, আমি কিছু জানিনা। তখন তারা দু'জন বলবে: আমরা ভাল করেই জানতাম যে, তুমি এটা বলবে। তারপর যমীনকে বলা হবে যে, তার উপর দু'দিক থেকে মিশে যাও, তখন যমীন দু'দিক থেকে তার উপর মিশে যাবে যাতে তার পাঁজর ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাবে। তারপর আল্লাহ তাকে তার এ শোয়ার স্থান থেকে পুনরুত্থান করা পর্যন্ত এভাবেই সে শাস্তি পেতে থাকবে”।
পূর্বের আলোচনায় উল্লেখিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস দ্বারাও ফিরিস্তাদ্বয়ের প্রশ্নের কথা প্রমাণিত হয়েছে।
সুতরাং হাদীসসমূহে যে সমস্ত বিষয় সাব্যস্ত হয়েছে যেমন ফিরিস্তাদ্বয়ের নাম, তাদের গুণাগুণ, কবরবাসীদের প্রতি তাদের প্রশ্ন, তার ধরন, মু'মিন তার কি উত্তর দিবে, মুনাফিক তার কি উত্তর দিবে, আর এর ফলে তাদের উপর যে নেয়ামত বা আযাব আসবে যার বিস্তারিত বিবরণ হাদীসসমূহে এসেছে তার উপর ঈমান আনয়ন করা ওয়াজিব।
কবরের প্রশ্নোত্তর কি এ নবীর উম্মাতের জন্য সুনির্দিষ্ট যেমনটি কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন নাকি তা প্রত্যেক নবীর উম্মাতের জন্যই যেমনটি অন্য একদল আলেমের মত? এ ব্যাপারে আলেমগণ বিভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে কুরআন ও হাদীসের দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা বুঝা যায় যে, তা এ উম্মাতের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং প্রত্যেক উম্মাতের জন্যই। আর অধিকাংশ অভিজ্ঞ আলেম এ মতের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা সবচেয়ে বেশী জানেন।
টিকাঃ
¹সুনান তিরমিযী, (৩/৩৮৩, হাদীস নং ১০৭১), এবং হাসান গরীব বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে হাদীসটি আল-ইহসান ফি তাকরীবে সহীহ ইবনে হিব্বান গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে (৭/৩৮৬, হাদীস নং ৩১১৭)。