📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 কিয়ামতের আলামত ও তার প্রকারভেদ

📄 কিয়ামতের আলামত ও তার প্রকারভেদ


"আশরাতুস্ সা'আ” বা ক্বিয়ামতের আলামতের সংজ্ঞা:
أشراط 'আশরাত্ব' শব্দটি شرط শারাত্ব এর বহুবচন। যার অর্থ: আলামত বা চিহ্ন। কেউ কেউ বলেন: কোন বস্তুর আশরাত্ব বলতে তার প্রারম্ভিক বিষয়সমূহ বুঝায়।

লিসানুল আ'রব নামক অভিধানে এসেছে যে, এ দু'অর্থ খুবই নিকটবর্তী; কেননা কোন বস্তুর আলামত তার প্রারম্ভ।

আর আস্সাআ' অর্থ : সময়ের কিছু অংশ। এর দ্বারা ক্বিয়ামত বুঝানো হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন :
﴾ وَعِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ ﴿ (الزخرف: ٨٥)
“তাঁর কাছেই রয়েছে ক্বিয়ামতের জ্ঞান”। [সূরা আয-যুখরুফ: ৮৫]

শরীয়তের বিভিন্ন দলীল প্রমাণাদি ও মানুষের কথাবার্তায় ক্বিয়ামতের অন্যতম প্রসিদ্ধ নাম হচ্ছে আস্সা'আ। ঐ দিনকে আস্সা'আ নামকরণ করা হয়েছে কারণ; তা হঠাৎ করে আসবে ফলে ক্ষণিকের মধ্যে মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে।

'আশরাতুস্ সা'আ' অর্থাৎ : ক্বিয়ামতের আলামত ও চিহ্নসমূহ যা ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে ঘটবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿ فَهَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا السَّاعَةَ أَنْ تَأْتِيَهُمْ بَغْتَةً فَقَدْ جَاءَ أَشْرَاطُهَا ﴾ (محمد : ۱۸)
"তারা কি কেবল এ জন্য অপেক্ষা করছে যে, ক্বিয়ামত তাদের নিকট এসে পড়বে আকস্মিকভাবে? ক্বিয়ামতের লক্ষণসমূহ তো এসে পড়েছেই”। [সূরা মুহাম্মাদ: ১৮]

কিয়ামতের আলামতের প্রকারভেদ:

কিয়ামতের আলামত ও নিদর্শনাবলী তিন ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ : দূরবর্তী আلامতসমূহঃ যে গুলো পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে এবং চলে গেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ। বুখারী ও মুসলিমে আনাস ইবনে মালিক বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ
(بعثت أنا والساعة كهاتين. وضم السبابة والوسطى)
“আমার প্রেরণ এবং ক্বিয়ামত এ দু'টোর মত”, 'তিনি তার তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলি মিলিয়ে দেখালেন'¹。

চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া, যার ঘোষণা আল্লাহ তার কুরআনে দিয়েছেন, মহান আল্লাহ বলেন:
﴿ اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ ﴾ (القمر: ١)
"কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে আর চাঁদ ফেটে গেছে”। [সূরা আল- কামার:১]

হিজাযের ভূমি থেকে একটি আগুন বের হওয়া যার আলোতে বুসরা নগরীতে উটের ঘাড় আলোকিত হবে। বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تضيء أعناق الإبل ببصرى)
“যতক্ষণ পর্যন্ত হিজাযের ভূমিতে এমন একটি আগুন বের না হবে যার আলোতে বুসরা নগরীতে উটের ঘাড় আলোকিত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না'²。

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলনে ছয়শত চুয়ান্ন হিজরীর জামাদাল আখিরা মাসের শুরুতে এ আগুন বের হয়েছিল, যা নবীর মদীনা নগরীর পূর্বপাশ্ব থেকে বের হয়েছিল। এর কারণে আগুনের উপত্যকা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ তাতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। সিরিয়াবাসীগণ এর আলো দেখতে পেয়েছিলেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে বুসরা যা দামেশকের একটি জনপদের নাম- তার অধিবাসীরা এর আলোতে উটের ঘাড় দেখতে পেয়েছিল।

দ্বিতীয় ভাগ : মাঝারী ধরণের আলামতসমূহ: যে গুলো পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি বরং তা বর্ধিত ও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ধরণের নিদর্শনাবলীর সংখ্যা অনেক বেশী। তম্মধ্যে নিম্নলিখিতগুলো অন্যতম।

দাসী কর্তৃক তার মনিবকে প্রসব করা¹ এবং খালি পা, নগ্ন, ছাগলের রাখালগণ অট্টালিকা বানানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া। জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীস যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন আর যার আলোচনা এ অংশের প্রথম অধ্যায়ে করা হয়েছে তাতে এসেছে:
قال فأخبرني عن الساعة؟ قال: ما المسئول عنها بأعلم من السائل. قال: فأخبرني عن أماراتها، قال: أن تلد الأمة ربتها، وأن ترى الحفاة العراة العالة رعاء الشاء يتطاولون في البنيان²
"তিনি (জিবরীল) বললেন : 'তারপর আপনি আমাকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে বলুন', তিনি (রাসূল) বললেনঃ 'যার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছে সে প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশী জানে না'। তিনি বললেন : 'তাহলে আমাকে তার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে জানান'। তিনি বললেন : 'দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, আর আপনি খালি পা, নগ্ন, দরিদ্র, ছাগলের রাখালদেরকে অট্টালিকা বানানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত দেখতে পাবেন”।

ত্রিশজন মিথ্যাবাদী ধড়িবাজ নবুওয়াতের দাবীদারের আবির্ভাব হওয়া। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
(لا تقوم الساعة حتى يبعث دجالون كذابون قريباً من ثلاثين كلهم يزعم أنه رسول الله)¹
"যতক্ষণ পর্যন্ত ত্রিশের কাছাকাছি সংখ্যক মিথ্যাবাদী ধড়িবাজ যাদের প্রত্যেকে ধারণা করবে সে আল্লাহর রাসূল, তাদের আবির্ভাব না হবে ততক্ষণ ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না"¹。

আবুদাউদ ও তিরমিযী তাদের সুনান গ্রন্থে সাওবানের হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
(وإنه سيكون في أمتي ثلاثون كذابون كلهم يزعم أنه نبي، وأنا خاتم النبيين لا نبي بعدي)
"আর অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে যাদের প্রত্যেকেই মনে করবে যে সে নবী, অথচ আমি শেষ নবী আমার পরে কোন নবী নেই”²。

ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের এক পাহাড় প্রকাশিত হবে, যার জন্য মানুষের মাঝে ভীষণ যুদ্ধ হবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
(لا تقوم الساعة حتى يحسر الفرات عن جبل من ذهب يقتل الناس عليه، فيقتل من كل مائة تسعة وتسعون ويقول كل رجل منهم لعلي أكون أنا الذي أنجو)
"ক্বিয়ামত ঐ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত ফোরাত নদী থেকে স্বর্ণের এক পাহাড় বের না হবে। যার জন্য মানুষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। যে যুদ্ধে শতকরা নিরানব্বই জন মারা যাবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবে হয়ত : আমিই বেঁচে যাব”³。

এ আলামত এখনো প্রকাশ পায়নি।

তৃতীয় ভাগ : বড় আলামতসমূহ: যে আলামতসমূহ প্রকাশিত হবার পরপরই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। সে আلامতগুলোর সংখ্যা দশ। যেগুলো এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সহীহ মুসলিমে হুযাইফা ইবনে আসীদের হাদীসে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
(اطلع النبي ﷺ علينا ونحن نتذاكر، فقال: ما تذاكرون؟ قالوا: نذكر الساعة. قال: إنها لن تقوم حتى تروا قبلها عشر آيات فذكر الدخان والدجال والدابة، وطلوع الشمس من مغربها، ونزول عيسى ابن مريم ، ويأجوج ومأجوج وثلاثة خسوف خسف بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب، وآخر ذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم)¹
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন, আমরা পরস্পর আলোচনা করছিলাম, তিনি বললেন: 'তোমরা কি আলোচনা করছিলে'? আমরা বললামঃ 'আমরা কিয়ামতের কথা আলোচনা করছিলাম'। তিনি বললেনঃ 'যতক্ষণ পর্যন্ত দশটি বৃহৎ আلامত বা নিদর্শন না দেখবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না'। তারপর তিনি ধোঁয়া, দাজ্জাল, বিশেষ ধরনের প্রাণী, পশ্চিমে সূর্য উদিত হওয়া, 'ঈসা ইবনে মারইয়াম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবতরণ, ইয়া'জুজ মা'জুজ, তিনটি ভূমি ধস যার একটি প্রাচ্যে, আরেকটি প্রাশ্চাত্যে, অন্যটি আরব উপদ্বীপে হবে, আর এ আলামাত গুলোর সবশেষে ইয়ামেন থেকে একটি আগুন বের হবে যা মানুষকে তাদের একত্রিত হওয়ার স্থানের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে”।

কোন কোন হাদীসে মাহদী, ক্বাবার ধ্বংস ও যমীন থেকে কুরআন উঠে যাওয়ার কথা এসেছে। অচিরেই এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসসমূহ উল্লেখ করা হবে।

অধিকাংশ সত্যনিষ্ঠ আলেমের মতে, দশটি বড় আলামত হলো এ তিনটি এবং হুযাইফা ইবনে আসীদের হাদীসে বর্ণিত ভূমি ধসের বিষয় ছাড়া বাকী বিষয়গুলো।

ভূমি ধ্বস হওয়া যদিও হাদীসের বর্ণনা অনুসারে সন্দেহাতীতভাবে কিয়ামতের আলামতের মধ্যে গণ্য কিন্তু তা বড় দশটি আলামতের পূর্বেই ঘটবে, এগুলো বড় আলামত সমূহের সূচনা করবে। এর প্রমাণ হিসাবে আমরা হুযাইফা ইবনে আসীদ বর্ণিত হাদীসের অন্যান্য বর্ণনার শব্দের প্রতি লক্ষ্য করতে পারি, সেখানে ভূমি ধসের কথা অন্যান্য আলামত বর্ণনার পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম শরীফেই তা বর্ণিত হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
(إن الساعة لا تكون حتى تكون عشر آيات خسف بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف في جزيرة العرب والدخان والدجال ...)
"তোমরা দশটি আلامত না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে না, পূর্বদেশে এক ভূমি ধস, পশ্চিমের দেশে অন্য ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে আরেকটি ভূমি ধস, দাজ্জাল, ধোঁয়া ..."¹。

তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাকী আলামত সমূহের উল্লেখ করেছেন।

কুরতুবী বলেন: 'এ বর্ণনা অনুসারে প্রথম আলামত হচ্ছে তিনটি ভূমি ধস, যার কোন কোনটি ইবনে ওয়াহাব এর বর্ণনা অনুসারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে ঘটেছিল...'।

নিম্নে দলীল-প্রমাণাদি সহ এ দশটি বড় আলামতের বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছেঃ

প্রথম আلامত: মাহদীর আবির্ভাব

তিনি রাসূলের আহলে বাইত তথা পরিবারভুক্ত হিসাবে স্বীকৃত হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমার বংশের একজন লোক। এমন এক সময় তিনি আবির্ভূত হবেন যখন যমীন অত্যাচার অনাচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তারপর তিনি যমীনকে ইনসাফ ও সাম্যে ভরপুর করে দিবেন। তার নাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম অনুযায়ী হবে, তার পিতার নাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতার নামানুসারে হবে। আবু দাউদ ও তিরমিযী 'আব্দুল্লাহ ইবনে মাস'উদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
(لا تذهب الدنيا حتى يملك العرب رجل من أهل بيتي يواطئ اسمه اسمي واسم أبيه اسم أبي، يملأ الأرض عدلاً وقسطاً كما ملئت جوراً وظلماً)¹
"যতক্ষণ পর্যন্ত আমার আহলে বাইতের এক লোক আরবদের রাজা হবে না যার নাম আমার নামের মত হবে, আর তার পিতার নাম আমার পিতার নামের মত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়া ধ্বংস হবে না। সে যমীনকে ইনসাফ ও সাম্যে ভরপুর করে দেবে, যেমনিভাবে তা (তার আবির্ভাবের পূর্বে) অত্যাচার-অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল”।

দ্বিতীয় আلامত: মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব

শেষ যামানায় আদম সন্তানদের থেকে এক লোক বের হবে যার কারণে অনেকেই বিভ্রান্ত হবে। আল্লাহ তার হাতে কিছু অস্বাভাবিক কর্মকান্ড ঘটাবেন, সে নিজে প্রভুত্ব তথা নিজেই সবার মালিক ও প্রভু হওয়ার দাবী করবে, মু'মিনের উপর তার বাতিল কর্মকান্ড চলবে না, সে মক্কা ও মদীনা ছাড়া সমস্ত শহরে প্রবেশ করবে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে, মূলত: তার জাহান্নাম হবে জান্নাত আর জান্নাত হবে জাহান্নাম।

বহু সহীহ হাদীসে তার বের হওয়া প্রমাণিত। তম্মধ্যে অন্যতম হচ্ছেঃ

সহীহ মুসলিমে 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর ইবনুল 'আস বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
يخرج الدجال في أمتي فيمكث أربعين لا أدري أربعين يوماً أو أربعين شهراً أو أربعين عاماً فيبعث الله عيسى ابن مريم كأنه عروة بن مسعود فيطلبه فيهلكه ....¹
"আমার উম্মাতের মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আমি জানিনা চল্লিশ দিন নাকি চল্লিশ মাস নাকি চল্লিশ বছর। তারপর আল্লাহ 'ঈসা ইবনে মারইয়ামকে পাঠাবেন, তিনি দেখতে উরওয়া ইবনে মাস'উদ এর মত। তারপর তিনি তাকে খুঁজবেন এবং ধ্বংস করবেন..."।

অনুরূপভাবে বুখারী ও মুসলিমে عبدالله ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে আল্লাহর উপযুক্ত প্রশংসা করলেন তারপর দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেনঃ
(إني أنذركموه وما من نبي إلا قد أنذره قومه لقد أنذره نوح قومه ولكن سأقول لكم فيه قولاً لم يقله نبي لقومه تعلمون أنه أعور، وأن الله ليس بأعور)²
"আমি তোমাদেরকে তার (দাজ্জাল) সম্পর্কে সাবধান করছি, প্রত্যেক নবীই তার জাতিকে তার সম্পর্কে সাবধান করেছিল। নূহও তার জাতিকে তার সম্পর্কে সাবধান করেছিল। তবে আমি তোমাদেরকে এমন একটি কথা বলে দিচ্ছি যা কোন নবী তার জাতিকে বলেনি, আর তা হচ্ছে: তোমরা জান যে সে কানা, অথচ আল্লাহ কানা নন”।

তৃতীয় আলামত: 'ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম এর অবতরণ

তিনি আসমান থেকে যমীনে শাসক ও ইনসাফকারী হিসাবে অবতীর্ণ হবেন, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর মেরে ফেলবেন এবং দাজ্জালকে শেষ করবেন। কুরআন ও সুন্নায় এ ব্যাপারে অনেক দলীল-প্রমাণাদি রয়েছে।

কুরআন থেকে প্রমাণ:

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَإِنَّهُ لَعِلم السَّاعَةِ (الزخرف : ٦١).
"অবশ্যই তিনি ক্বিয়ামতের নিশ্চিত নিদর্শন”। [সূরা আয্যুখরুফ: ৬১]

অনেক মুফাস্সির এ আয়াত দ্বারা 'ঈসা আলাইহিস সালাম এর অবতীর্ণ হবার দলীল গ্রহণ করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকেও তা বর্ণিত হয়েছে। আহমাদ তার মুসনাদে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এ আয়াতের তাফসীরে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ 'এটা হচ্ছে ক্বিয়ামতের পূর্বে 'ঈসা আলাইহিস সালাম এর আবির্ভাব'¹。

অনুরূপভাবে বহু সহীহ হাদীসেও 'ঈসা আলাইহিস সালাম এর অবতীর্ণ হওয়ার কথা এসেছে। বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل فيكم ابن مريم حكماً عدلاً فيكسر الصليب ويقتل الخنزير، ويضع الجزية ويفيض المال حتى لا يقبله أحد، حتى تكون السجدة الواحدة خيراً من الدنيا وما فيها)²
"যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি, অচিরেই তোমাদের মাঝে মরিয়মের পুত্র শাসক, ইনসাফকারী হিসাবে আবির্ভূত হবেন, তারপর ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিযিয়া তথা প্রাণ রক্ষা কর রহিত করবেন আর সম্পদ এমনভাবে বেড়ে যাবে যে, তা কেউ গ্রহণ করবে না, শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা হবে যে, একটি সাজদা দুনিয়া ও তাতে যা আছে তার থেকেও বেশী উত্তম হবে”।

চতুর্থ আلامত: ইয়া'জুজ মা'জুজ বের হওয়া

তাদের সংখ্যা অনেক, তাদের সাথে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো থাকবে না, বলা হয়ে থাকে তারা নূহ আলাইহিস সালাম এর সন্তান ইয়াফিছ এর বংশধর। তাদের বের হওয়া কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

মহান আল্লাহ বলেনঃ
حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَا جُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُم مِّنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ * وَاقْتَرَبَ الْوَعْدُ الْحَقُّ فَإِذَا هِيَ شَاخِصَةُ أَبْصَارُ الَّذِينَ كَفَرُوا ﴾ (الأنبياء: ٩٦-٩٧)
"এমনকি যখন ইয়া'জুজ ও মা'জুজকে মুক্তি দেয়া হবে এবং তারা প্রতি উচ্চ ভূমি হতে ছুটে আসবে। আর অমোঘ প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হবে, আকস্মাৎ কাফিরদের চক্ষু স্থির হয়ে যাবে”। [সূরা আল-আম্বিয়া: ৯৬-৯৭]

বুখারী ও মুসলিম যায়নাব বিনতে জাহাশ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন তার কাছে ভীত-বিহবল অবস্থায় প্রবেশ করে বললেনঃ
(لا إله إلا الله ويل للعرب من شر قد اقترب فتح من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذه وحلق بأصبعه الإبهام والتي تليها ...)¹
"আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মা'বুদ নেই, আরবদের জন্য ধ্বংস অপেক্ষা করছে, এমন এক বিপদ হতে যা নিকটবর্তী হয়েছে। ইয়া'জুজ ও মা'জুজের প্রাচীরের এতটুকু খুলে গেছে” '(তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার সাথের আঙ্গুলি দিয়ে গোল বৃত্ত বানিয়ে দেখালেন)..."।

পঞ্চম আলামত: কা'বার ধ্বংস ও তার মধ্যস্থিত অলংকারসমূহ লুট হওয়া

সহীহ হাদীসে প্রমাণিত যে, হাবশা তথা আবিসিনিয়ার ছোট (হাল্কা) পিন্ডলী বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে ক্বা'বা ধ্বংস হবে ও তার অলংকার লুট হবে। বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
يخرب الكعبة ذو السويقتين من الحبشة²
"আবিসিনিয়ার ছোট (হাল্কা) পিন্ডলী বিশিষ্ট ব্যক্তি কা'বা ধ্বংস করবে”²。

অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ বিশুদ্ধ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে 'আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
يخرب الكعبة ذو السويقتين من الحبشة، ويسلبها حليها ويجردها من كسوتها، ولكأني أنظر إليه أصيلع أفيدع يضرب عليها بمسحاته ومعوله)¹
“আবিসিনিয়ার ছোট (হাল্কা) পিন্ডলী বিশিষ্ট ব্যক্তি ক্বা'বা ধ্বংস করবে, তার অলংকারসমূহ লুট করবে, তাকে গিলাফ মুক্ত করবে, আমার মনে হচ্ছে আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি, তার মাথায় টাক, পা ও পিন্ডলীর মাঝের অংশ এবং হাত ও কনুর মাঝের অংশ বাঁকা, সে তার কুঠার ও কোদাল দিয়ে কা'বা ঘরে আঘাত করছে”¹。

ষষ্ট আলামত: ধোঁয়া

আকাশ থেকে এক বৃহদাকারের ধোঁয়া বের হয়ে মানুষকে ঢেকে ফেলবে এবং তা তাদের সকলকে পাবে। কুরআন ও সুন্নায় এর দলীল বিদ্যমান।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿ فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُّبِينٍ * يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابُ أَلِيم ﴾ (الدخان: ۱۰-۱۱)
"অতএব, আপনি অপেক্ষা করুন সে দিনের যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ, আর তা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে, তা হবে কষ্টদায়ক শাস্তি”। [সূরা আদ-দুখান: ১০-১১]

সুন্নাহ থেকে দলীল: হুযাইফা ইবনে আসীদ কর্তৃক পূর্বে বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
إنها لن تقوم حتى تروا قبلها عشر آيات فذكر الدخان والدجال والدابة
"কিয়ামত ঐ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত তার পূর্বে তোমরা দশটি নিদর্শন দেখতে না পাবে", "তারপর তিনি ধোঁয়া, দাজ্জাল, আদ্দাব্বাহ তথা অদ্ভূত প্রাণীর কথা উল্লেখ করলেন”। আলহাদীস।

সপ্তম আلامত : কুরআন যমীন থেকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া

লিখিত বা মুখস্তকৃত যাবতীয় আয়াত উঠিয়ে নেয়া হবে। রাসূলের সুন্নায় এর দলীল বিদ্যমান। ইবনে মাজাহ এবং হাকিম হুযাইফা বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
يـدرس الإسلام كما يدرس وشي الثوب حتى لا يدرى ما صيام ولا صلاة ولا نسك، وليُسْرَى على كتاب الله عز وجل في ليلة فلا يبقى في الأرض منه آية ....¹
"ইসলাম মিটে যাবে যেমন করে কাপড়ের নকশা মিটে যায়, শেষ পর্যন্ত রোযা, নামায ও হজ্ব-কুরবানী কি তাও জানবে না, আর মহান আল্লাহর কিতাব এক রাত্রিতে উঠে চলে যাবে। ফলে জমীনের বুকে তা থেকে একটি আয়াতও অবশিষ্ট থাকবে না”।

অষ্টম আলামত: পশ্চিম দিক হতে সূর্য উঠা

কুরআন ও সুন্নায় এ আلامতের সমর্থনে অনেক দলীল প্রমাণাদি এসেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ ايْتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ أَمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا . (الأنعام: ١٥٨)
“যেদিন আপনার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন আসবে সেদিন তার ঈমান কোন কাজে আসবেনা যে পূর্বে ঈমান আনেনি অথবা যে ব্যক্তি ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ করেনি”। [সূরা আল-আন'আম :১৫৮]

এক বিরাট সংখ্যক মুফাস্স্সির এ মত পোষণ করেছেন যে, "যেদিন আপনার প্রতিপালকের কোন নিদর্শন” দ্বারা পশ্চিম দিক হতে সূর্য উঠা বুঝানো হয়েছে। ত্বাবারী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরীনদের মতামত উল্লেখ করে সবশেষে মন্ত ব্য করেন: 'এ ব্যাপারে সবচেয়ে সঠিক মত হওয়ার উপযুক্ত হলো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তিনি বলেছেন: এটা ঐ সময় যখন পশ্চিম দিকে সূর্য উঠবে¹。

অনুরূপভাবে বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
(لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها فإذا طلعت فرآها الناس آمنوا أجمعون فذاك حين لا ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيراً)¹
"পশ্চিম দিকে সূর্য না উঠা পর্যন্ত ক্বিয়ামত ঘটবে না, যখন পশ্চিম দিকে সূর্য উঠবে তখন মানুষ তা দেখা মাত্র সবাই একত্রে ঈমান আনবে, আর সেটাই হলো ঐ সময় যখন কোন মানুষের ঈমান কাজে আসবে না যদি এর পূর্বে ঈমান না এনে থাকে, অথবা তার ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণ লাভ না করে থাকে"¹。

নবম আلامত: দাব্বাহ বা বিচিত্র এক প্রাণী বের হওয়া

আর তা' হলো এমন এক বিরাট সৃষ্টি যার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে তার দৈর্ঘ্য হবে ষাট হাত, চার পা এবং পশম বিশিষ্ট। কেউ কেউ বলেন: তার সৃষ্টি বেশ কয়েক প্রকার জন্তুর মত বিভিন্ন ধরণের।

কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত যে, ক্বিয়ামতের পূর্বে তার আবির্ভাব হবে, মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِذَا وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَيْهِمْ أَخْرَجْنَا لَهُمْ دَابَّةً مِّنَ الْأَرْضِ تُكَلِّمُهُمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا بِآيَاتِنَا لَا يُوقِنُونَ ﴾ (النمل: ۸۲) .
"আর যখন তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি আসবে তখন আমরা তাদের জন্য যমীন থেকে এক জীব বের করব, যা তাদের সাথে কথা বলবে, এ জন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শন সমূহে বিশ্বাস করতনা”। [সূরা আন নামল ৪৮২]

ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
ثلاث إذا خرجن لا ينفع نفساً إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إِيمَانُهَا خَيْرًا، طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الْأَرْضِ)¹
“তিনটি বস্তু যখন বের হবে তখন কোন আত্মার ঈমান গ্রহণ করা তার কোন উপকারে আসবে না যদি তার আগে ঈমান না এনে থাকে বা তার ঈমানের মাধ্যমে কল্যাণকর কিছু অর্জন না করে থাকে। পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদয় হওয়া, দাজ্জাল এবং দাব্বাতুল আরদ বা যমীন থেকে উত্থিত জীব”।

অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেনঃ
تَخْرُجُ الدَّابَّةُ فَتَسِمُ النَّاسَ عَلَى خَرَاطِيمِهِمْ ثُمَّ يَغْمُرُونَ فِيكُمْ حَتَّى يَشْتَرِي الرَّجُلُ الْبَعِيرَ فَيَقُولُ مِمَّنْ اشْتَرَيْتَهُ فَيَقُولُ: مِنْ أَحَدِ الْمَخْطِمِينَ)²
“দাব্বাহ বের হয়ে মানুষের নাকের উপর দাগ দিয়ে দিবে, তারপর তোমাদের মধ্যে বিচরণ করবে, এমনকি কোন লোক উট খরিদ করার পর কেউ জিজ্ঞাসা করবে কার থেকে খরিদ করেছ? বলবে: একজন নাকের উপর দাগ বিশিষ্ট লোক থেকে”। হাইছামী সহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এ হাদীসের সনদকে বিশুদ্ধ বলে মত প্রকাশ করেছেন।

দশম আلامত : বিশাল এক আগুন বের হওয়া

যা এডেন থেকে বের হয়ে মানুষদেরকে তাদের হাশর ভূমি তথা একত্রিত হওয়ার স্থানে জমা করবে। এ আلامত হচ্ছে সর্বশেষ বড় আلامত। রাসূলের সুন্নাহ দ্বারা এ আলামত প্রমাণিত; যা পূর্বে বর্ণিত ইমাম মুসলিম সংকলিত হুযাইফা ইবনে আসীদের হাদীসে এসেছে, যাতে বলা হয়েছেঃ
وآخر ذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم)¹
"আর এ গুলোর শেষ আلامত হচ্ছে: এমন এক আগুন যা ইয়েমেন থেকে বের হয়ে মানুষকে তাদের হাশরের মাঠ তথা একত্রিত হওয়ার স্থানের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে”।

হুযাইফার হাদীসের অপর বর্ণনায় এসেছেঃ
(ونار تخرج من قعرة عدن ترحل الناس)
“আর এক আগুন যা এডেনের গভীর থেকে বের হয়ে মানুষকে চলতে বাধ্য করবে”।

এ আলামতগুলোই বড় আলামত যা ক্বিয়ামত হবার পূর্বে ঘটবে। যখন এগুলো ফুরিয়ে যাবে তখনই মহান আল্লাহর নির্দেশে ক্বিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। বর্ণনায় এসেছে যে, সুতার মধ্যে যেমন মালা গাঁথা থাকে এ আলামতগুলো তেমনিভাবে একটার পর একটা ক্রমান্বয়ে গ্রথিত, যার একটা প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে আরেকটা তার পশ্চাতে আসবে।

ত্বাবরানী তার আওসাত্ব গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
(خروج الآيات بعضها على إثر بعض، يتتابعن كما تتابع الخرز في النظام)
“আلامতসমূহের একটার পর পরই আরেকটার আবির্ভাব হবে, মালাতে যেমন দানা একটির পর একটা ক্রমান্বয়ে সাজানো থাকে তেমনিভাবে তাও একটার পর একটা ক্রমান্বয়ে সাজানো”²。

টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৬৫০৪), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯৫১)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৭১১৮), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯০২)。
¹দাসী মনিবকে প্রসব করা, দাসী হলো ঐ মহিলা যে কারো মালিকানাধীন আর তার মালিকের পক্ষ থেকে তার গর্ভের সন্তান তার মালিকের পর্যায়ে; কেননা মানুষের সম্পদ তার সন্তানের হাতে যায়。
² সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ৮)。
¹ হাদীসটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ৩৬০৯)。
² সুনান আবু দাউদ (হাদীস নং ৪২৫২), সুনান তিরমিযী (হাদীস নং ২২১৯), ইমাম তিরমিযী বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ。
³ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৮৯৪), অনুরূপভাবে বুখারীও, হাদীস নং (৭১১৯), আর আহমাদ তার মুসনাদ (২/২৬১)。
¹সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯০১)。
¹ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯০১)。
¹ সুনানে আবু দাউদ, (৪/৩০৬, হাদীস নং ৪২৮২), শব্দ চয়ন আবু দাউদের, সুনান তিরমিযী, (৪/২২৩০), তিনি হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন。
¹ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯৪০)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৩০৫৭), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৬৯), শব্দচয়ন ইমাম বুখারী。
¹ মুসনাদ (১/৩১৮)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ২২২২), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৫৫), এখানে ইমাম মুসলিমের শব্দ নেয়া হয়েছে。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৩৩৪৬), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৮৮০)。
² সহীহ বুখারী (হাদীস নং ১৫৯১), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯০৯)。
¹ মুসনাদে ইমাম আহমাদ (২/২২০)。
¹ সুনান ইবনে মাজাহ (২/১৩৪৪, হাদীস নং ৪০৪৯), মুসতাদরাক হাকিম (৪/৪৭৩) আর তিনি ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুসারে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন, ইমাম যাহাবীও তা সমর্থন করেছেন。
¹ তাফসীর ইবনে জারীর (৮/৯৭)。
¹ সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৪৬৩৬) সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১৫৭)。
¹সহীহ মুসলিম, (হাদীস নং ১৫৮)。
² মুসনাদে আহমাদ (৫/২৬৮)。
¹ সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৯০১)。
² মু'জামুল আওসাত্ব (৫/১৪৮, হাদীস নং ৪২৮৩)。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00