📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 উপক্রমনিকা

📄 উপক্রমনিকা


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

মাননীয় শাইখ সালেহ ইবনে আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ আল শাইখ ওয়াক্ফ্ফ, প্রচার, দিক-নির্দেশনা ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী মহাতত্বাবধায়ক বাদশাহ ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স

সমস্ত প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রভু আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় মহান গ্রন্থে বলেছেন:
﴿اُدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ﴾ (النحل : ١٢٥)
"আপনার প্রভুর পথের দিকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন”। [সূরা আন-নাহল : ১২৫]

আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূলের উপর, যিনি বলেছেনঃ
«بلغوا عني ولو آية»
"আমার পক্ষ হতে একটি আয়াত হলেও পৌঁছিয়ে দাও" [বুখারী: হাদীস নং ৩৪৬১]।

পৃথিবীর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল মুসলমানের কাছে কল্যাণের বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ ইবনে আবদুল আযীয আল সউদ -"আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন"- এর নির্দেশ বাস্তবায়ন স্বরূপ প্রথমেই সার্বিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে- আল্লাহর গ্রন্থ আল-কুরআনের প্রতি এবং এর প্রচারকার্য সহজসাধ্য করে ও এর অর্থের অনুবাদকাজ সম্পন্ন করে মুসলিম ও পঠনে আগ্রহী অমুসলিমদের মধ্যে এ গ্রন্থ বিতরণ করার প্রতি। এরপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সে সকল বিষয়ের প্রচারকার্যের প্রতি যা মুসলমানদের ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাদের উপকারে আসবে।

মদীনা মুনাওওয়ারায় অবস্থিত বাদশাহ ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের প্রতিনিধি হিসাবে ওয়াক্‌ফ, দাওয়াত, দিক-নির্দেশনা ও ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আল্লাহ তা'আলার দিকে জেনে-বুঝে আহ্বানের গুরুত্বের প্রতি গভীর বিশ্বাস পোষণ করে। তাই এ মন্ত্রণালয় “কুরআন ও সুন্নার আলোকে ঈমানের মৌলিক বিষয়সমূহ” গ্রন্থটি পেশ করতে পেরে আনন্দবোধ করছে।

এ বইটি পেশের উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদেরকে আক্বীদার সেই বিষয়সমূহে বিচক্ষণ করে গড়ে তোলা, যা ঈমানের মূল ভিত্তি। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
«إن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله»
“নিশ্চয়ই শরীরে এমন একটি রক্তপিন্ড রয়েছে যা বিশুদ্ধ হলে পুরো শরীর বিশুদ্ধ হয়ে যায়”। [বুখারী: ৫২]

আল্লাহ চাহেত অচিরেই এ গ্রন্থের অনুকরণে হাদীস, ফিকহ, যিকর ও দো'আর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হবে। সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর কাছে আশা করি - তিনি এ সকল গ্রন্থ দ্বারা মুসলমানদের উপকার সাধন করবেন।

এ উপলক্ষ্যে আমি আনন্দের সাথে সে সব ভাইদের শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি যারা সংকলন, সম্পাদনা ও বিন্যস্তকরণ এবং অনুবাদের কাজ করে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বইটিকে প্রস্তুত করেছেন। আর কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের সচিবালয়েরও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি একে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত তদারক করার জন্য।

আল্লাহর কাছে দো'আ করছি তিনি যেন এ দেশটিকে দ্বীনের তদারককারীরূপে এবং বিশুদ্ধ আক্বীদার সংরক্ষকরূপে হেফাযত করেন খাদেমুল হারামাইন আশ-শরীফাইন, তাঁর বিশ্বস্ত যুবরাজ ও দ্বিতীয় উপপ্রধানের নেতৃত্বের ছায়াতলে। আল্লাহ তাদের সকলকেও হেফাযত করুন। আর আমাদের দো'আর সমাপ্তি হল "সমগ্র জাহানের রব আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা”।

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 ভূমিকা

📄 ভূমিকা


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি দ্বীনকে আমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করেছেন। আর আমাদের জাতি তথা মুসলিম উম্মাহকে সর্বোত্তম জাতিতে পরিণত করেছেন। তিনি আমাদের মাঝে আমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি আমাদের কাছে তাঁর আয়াত সমূহ তেলাওয়াত করেছেন, আমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেছেন ও আমাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ্ শিক্ষা দিয়েছেন।

সালাত ও সালাম পেশ করছি আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর, যাকে আল্লাহ সারা জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, আরও পেশ করছি তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের উপর।

মানুষ ও জ্বিন সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ﴾ (الذاريات : ٥٦)
"আর আমি জ্বিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি”। [সূরা আয-যারিয়াতঃ ৫৬]

আর এ জন্যই তাওহীদ ও বিশুদ্ধ আক্বীদাই হচ্ছে উক্ত ইবাদাত বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য - যে আক্বীদা তার মুল উৎস ও বরকতময় উৎপত্তিস্থল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ্ হতে গৃহীত। এটাই হচ্ছে এ জগত আবাদের ভিত্তি, আর তার অনুপস্থিতিতে জগতের বিপর্যয়, ধ্বংস ও ত্রুটি অনিবার্য। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ﴾ (الأنبياء: ٢٢)
"যদি এতদুভয়ের (আসমান ও যমীনের) মধ্যে আল্লাহ ব্যতীত আরো অনেক ইলাহ থাকত তাহলে উভয়ই বিপর্যস্ত হতো, অতএব তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ কতই না পবিত্র”। [সূরা আল-আম্বিয়াঃ২২]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
اللهُ الَّذِي خَلَقَ سَيْعَ سَمُوتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْ قَدِيرُ وَ أَنَّ اللهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَى عِلْمًا ﴾ (الطلاق: ۱۲)
"আল্লাহ, যিনি সাত আসমান আর সে পরিমাণ যমীন সৃষ্টি করেছেন, এ সবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ সবকিছুকে তাঁর জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন”। [সূরা আত-ত্বালাকঃ১২]

অনুরূপ আরো অনেক আয়াত রয়েছে।

আর যেহেতু শুধু বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা এগুলোর বিস্তারিত জ্ঞান লাভ সম্ভব নয় তাই তা মানুষের জন্য স্পষ্ট করে বিস্তারিতভাবে বর্ণনার জন্য আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে পাঠান এবং গ্রন্থসমূহ অবতীর্ণ করেন, যেন তারা জেনে, দেখে-শুনে, সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় মূলনীতির ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদাত করতে পারেন। ফলে আল্লাহর রাসূলগণ তাঁর বাণী প্রচার ও প্রসারে ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকেন, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
وَإِنْ مِنْ أُمَّةِ الأَخَلَا فِيهَا نَذِيرُ ) (فاطر: ٢٤)
"আর প্রত্যেক জাতিতেই সতর্ককারী এসেছেন”। [সূরা ফাতিরঃ২৪]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنا ترا (المؤمنون: ٤٤)
“এরপর আমরা একের পর এক আমাদের রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি”। [সূরা আল-মু'মিনূনঃ ৪৪]

অর্থাৎ তাদের নেতা, ইমাম ও সর্বোত্তম ব্যক্তি তথা আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের মাধ্যমে তাদের ধারা শেষ করে দেয়া পর্যন্ত তারা একের পর এক আগমন করতে থাকেন। তিনি রিসালাতের বাণী প্রচার করেন এবং তার উপর অর্পিত আমানত আদায় করেন, উম্মাতকে উপদেশ প্রদান করেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেন, এবং তাঁর দিকে গোপনে ও প্রকাশ্যে আহবান করেন। তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেন। আর আল্লাহর পথে তাকে ভয়ানক কষ্ট দেয়া হয়েছে। এতে তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন যেভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ ধৈর্যধারণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর দিকে আহবান করতে থাকেন, তাঁর সরল পথের দিশা দিতে থাকেন। অবশেষে আল্লাহ তার দ্বারা দ্বীনকে বিজয়ী করেন ও নেয়ামত পরিপূর্ণ করেন। আর তার আহবানে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে দলে দলে প্রবেশ করতে থাকে। আল্লাহ তার দ্বারা দ্বীন এবং নেয়ামতকে পরিপূর্ণ না করা পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়নি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিম্নোক্ত বাণী অবতীর্ণ করেনঃ
﴾(المائدة: ٣)الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَةً وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম”। [সূরা আল-মায়িদাহঃ৩]

সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের সকল মৌলিক ও সাধারণ বিধানসমূহ বর্ণনা করেছেন। যেমনটি দারুল হিজরা (মদীনা)র ইমাম মালেক ইবনে আনাস রাহেমাহুল্লাহ বলেছেনঃ 'নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এ ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তার উম্মাতকে মল-মূত্র হতে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দিয়েছেন অথচ তাওহীদ শিক্ষা দেননি'।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল রাসূলদের মতই আল্লাহর তাওহীদ ও দ্বীনকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার প্রতি এবং ছোট বড় সকল শির্ক বর্জনের প্রতি আহবান করতে থাকেন; কেননা সমস্ত রাসূল এ বিষয়ে একমত ছিলেন, এদিকে আহবানের কাজেই তারা নিয়োজিত ছিলেন। বরং এ ছিলো তাদের দাওয়াতী কাজের সূচনা, তাদের রিসালাতের নির্যাস, এবং তাদেরকে প্রেরণের মূলভিত্তি। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُونَ فَمِنْهُم مِّنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُم مِّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ ۚ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ ﴾ (النحل : ٣٦)
"আর আমরা প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাগুতকে পরিহার কর, অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়াত দিলেন, আর কিছু সংখ্যকের জন্য পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়ে গেল, সুতরাং তোমরা যমীনে বিচরণ কর অতঃপর দেখ, মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের পরিণতি কেমন ছিল”। [সূরা আন-নাহলঃ৩৬]

তিনি আরো বলেনঃ
﴿وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولِ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ ﴾ (الأنبياء : ٢٥)
"আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ছাড়া অন্য কোন হকু মা'বুদ নেই সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদাত কর”। [সূরা আল-আম্বিয়াঃ২৫]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
﴿وَسْـَٔلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَٰنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ ﴾ (الزخرف : ٤٥)
"আর আপনার পূর্বে যে সব রাসূল আমরা প্রেরণ করেছি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুনঃ দয়াময় (আল্লাহ) ছাড়া আমরা কি এমন সব মা'বুদ স্থির করেছি যাদের ইবাদত করা হয়?”। [সূরা আয-যুখরুফঃ৪৫]

আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰ أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ ﴾ (الشورى : ١٣)
"তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই সব হুকুম প্রণয়ন করেছেন যার নির্দেশ দিয়েছেন নূহকে, আর যা আপনার প্রতি আমরা ওহী হিসাবে প্রেরণ করেছি, এবং যার নির্দেশ আমরা ইব্রাহীম, মুসা ও 'ঈসাকে দিয়েছিলাম এ মর্মে যে, তোমরা দ্বীন (তথা যাবতীয় আক্বীদা ও আহকাম) প্রতিষ্ঠা কর এবং এতে বিচ্ছিন্ন হয়োনা”। [সূরা আশ-শুরাঃ১৩]

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ
«الْأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ لِعَلَّاتِ، أُمَّهَاتُهُمْ شَتَّى وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ»
“নবীগণ বৈমাত্রেয় ভাই, তাদের মাতাগণ বিভিন্ন, তবে দ্বীন এক”'।

সুতরাং তাদের দ্বীন এক, আক্বীদাও এক। শুধুমাত্র শরীয়তের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বিভিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ
لِكُلِّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا (المائدة : ٤٨)
"আমরা তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটা করে শরীয়ত ও চলার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি”। [সূরা আল-মায়িদাহঃ৪৮]

অতএব প্রত্যেক মু'মিন-মুসলিমের কাছে এটা স্থির ও স্পষ্ট হওয়া উচিৎ যে, আক্বীদার ব্যাপারে ইচ্ছামত মতামত দেয়া ও নেয়ার কোন সুযোগ নেই। বরং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মুসলিমের উপর ওয়াজিব হলো তারা নবী - রাসূলগণের আক্বীদা পোষণ করবে এবং যে সব মূলনীতির প্রতি তারা ঈমান এনেছিলেন ও আহবান করেছিলেন, কোন প্রকার সন্দেহ ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই সেগুলোর প্রতি ঈমান আনবে।
اَمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَآ اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلٰٓئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَاِلَيْكَ الْمَصِيْرُ (البقرة : ٢٨٥)
“রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে অবতীর্ণ করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন, আর মু'মিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিস্তাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি, আর তাঁর রাসূলদের প্রতি। আমরা তাঁর কোন রাসূলের মধ্যে তারতম্য করিনা। আর তারা বলেঃ আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তন স্থল”। [সূরা আল-বাকারাহঃ২৮৫]

এ হলো মু'মিনদের বৈশিষ্ট্য, আর এটাই তাদের পথঃ ঈমান আনা ও মেনে নেয়া, শুনা ও কবুল করা। আর মুমিন যখন এরকম গুণে গুণান্বিত হয় তখন সে নির্বিঘ্ন থাকে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা লাভে সমর্থ হয়, তার আত্মা পবিত্র হয় এবং হৃদয় প্রশান্ত হয়। আর পথভ্রষ্ট মানুষেরা তাদের বাতিল আক্বীদার কারণে যে স্ববিরোধিতা, দ্বিধা, সন্দেহ, সংশয়, অস্থিরতা ও চিত্তচাঞ্চল্যের মধ্যে পতিত হয়, তা থেকে সে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকে।

স্থায়ী মূলনীতি, সঠিক ভিত্তি, ও সুদৃঢ় নিয়ম-নীতি সম্বলিত বিশুদ্ধ ইসলামী আক্বীদাই পারে মানুষের সুখ-শান্তি, মান মর্যাদা ও দুনিয়া-আখিরাতে তাদের সফলতা নিশ্চিত করতে, অন্য কোন আক্বীদা নয়। কেননা এ আক্বীদার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট, দলীলগুলো বিশুদ্ধ ও প্রমাণাদি ত্রুটিমুক্ত এবং তা বিশুদ্ধ ফিতরাত, সঠিক বিবেক ও সুস্থ হৃদয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর এ জন্যই সমস্ত মুসলিম বিশ্ব এ বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন আক্বীদা জানার সবচেয়ে বেশী মুখাপেক্ষী। কেননা এ হচ্ছে তাদের সৌভাগ্যের চাবিকাঠি, আর মুক্তির স্থায়ী উপায়।

এ সংক্ষিপ্ত সংকলনে মুসলিম ব্যক্তি ইসলামী আক্বীদার এমন মূলনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা এবং বিশেষ নিয়মনীতি খুঁজে পাবে যা থেকে কোন মুসলিম ব্যক্তিই অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে না। আর সে দেখতে পাবে যে, এ সবকিছুই দলীল ও প্রমাণের আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অতএব এটি কুরআন ও সুন্নার আলোকে ঈমানের মৌলিক বিষয়সমূহ সম্বলিত একটি গ্রন্থ। আর এ মৌলিক বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, রাসূলগণ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত, অত্যন্ত সুস্পষ্ট যা ছোট বড় প্রত্যেকের জন্যই স্বল্প ও সংক্ষিপ্ত সময়ে অনুধাবন করা সম্ভব। এ ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার হাতেই রয়েছে তাওফীক।

এ প্রসঙ্গে যারা এ গ্রন্থ প্রণয়নে অংশগ্রহণ করেছেন আমরা বিশেষভাবে তাদের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা পেশ করছি। তারা হলেনঃ ড. সালেহ ইবনে সা'দ আসুহাইমী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ইবনে আব্দুল মুহসিন আল্আব্বাদ, ড. ইব্রাহীম ইবনে আমের আরুহাইলী। অনুরূপভাবে তাদেরকেও আমরা শুকরিয়া জানাই যারা এ বইয়ের সম্পাদনা ও শব্দ বিন্যাসের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা হলেনঃ ড. আলী ইবনে নাসের ফাক্বীহী, এবং ড. আহমাদ ইবনে আতিয়‍্যাহ আল গামেদী। আরো শুকরিয়া জানাচ্ছি তাদের প্রতি যারা বইটির অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করেছেন। তারা হলেনঃ ড. মুহাম্মাদ মানজুরে ইলাহী ও শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। অনুরূপভাবে যারা অনুবাদ সম্পাদনা ও মুল্যায়ন করেছেন। তারা হলেনঃ শাইখ মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ ইবনে আহমাদ কারীম ও শাইখ ইব্রাহীম আব্দুল হালীম।

আমরা মহান আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি সকল মুসলিমকে এ গ্রন্থ দ্বারা উপকৃত করবেন। আর 'সারা জাহানের প্রভু আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা' একথার মাধ্যমে আমরা আমাদের আহবানের সমাপ্তি টানছি।

মহাসচিব
বাদশাহ ফাহদ কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স।

টিকাঃ
*. সহীহ বুখারী (হাদীস নং ৩৪৪৩), সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ২৩৬৫)।

📘 উসূলুল ঈমান (ঈমানের মৌলিক নীতিমালা) > 📄 প্রাথমিক কথা

📄 প্রাথমিক কথা


প্রত্যেক মুসলিমের কাছেই ঈমানের গুরুত্ব ও মর্যাদা, এবং দুনিয়া ও আখেরাতে মু'মিন ব্যক্তির উপর এর বহু উপকারিতা ও সুফল কি তা গোপন নয়। বরং দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণ ঈমান বিশুদ্ধ হওয়ার উপর নির্ভরশীল। এটাই হল সবচেয়ে মহান ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ লক্ষ্য। আর এর দ্বারাই বান্দা পবিত্র ও সুখী জীবন লাভ করবে, কষ্টদায়ক বস্তু, অনিষ্টতা ও যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নাজাত পাবে এবং আখিরাতে সওয়াব, চিরস্থায়ী সুখ-শান্তি ও অনন্ত কল্যাণ লাভ করবে- যা কখনো বাধাগ্রস্ত হবেনা এবং দূরীভূত হবে না।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
﴿مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ ﴾ (النحل : ٩٧)
"নর ও নারী যে কেউই ঈমানদার হয়ে সৎকাজ করে তাকে আমরা অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং তাদের উত্তম কাজ সমূহের বিনিময়ে তাদেরকে তাদের প্রতিদান দিব”। [সূরা আন-নাহলঃ৯৭]

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেনঃ
﴿وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُم مَّشْكُورًا ﴾ (الإسراء: ١٩)
"আর যারা ঈমানদার হয়ে আখিরাত চায় এবং তার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টাই সাদরে স্বীকৃত হবে"। [সূরা আল-ইস্রাঃ১৯]

তিনি আরো বলেনঃ
﴿وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَى (طه: ٧٥).
"আর নিশ্চয়ই যারা তাঁর কাছে সৎকর্ম করে মু'মিন অবস্থায় আসে তাদের জন্যই রয়েছে উচ্চতম মর্যাদা”। [সূরা ত্বা-হাঃ৭৫]

আল্লাহ আরো বলেনঃ
﴿إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا * خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَعْبُون عَنْهَا حِوَلًا (الكهف : ١٠٧-١٠٨)
“নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না”। [সূরা আল-কাহাফঃ ১০৭-১০৮]

এ অর্থে পবিত্র কুরআনে আরো বহু আয়াত রয়েছে।

কুরআন ও হাদীসের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত যে, ঈমান ছয়টি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। সে গুলো হচ্ছেঃ আল্লাহর উপর ঈমান, তাঁর ফিরিস্তাদের উপর ঈমান, তাঁর গ্রন্থসমূহের উপর ঈমান, তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান, আখিরাতের উপর ঈমান ও তাকদীরের ভাল মন্দের উপর ঈমান। কুরআন কারীম ও সুন্নাতে নববীর বহু স্থানে এ মূলনীতিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, তম্মধ্যেঃ

আল্লাহ তা'আলার বাণী:
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا (النساء: ١٣٦)
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, এবং সে গ্রন্থের প্রতি যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছেন ও সে গ্রন্থের প্রতিও যা তার পূর্বে তিনি নাযিল করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, তাঁর গ্রন্থসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও শেষ দিবসের প্রতি কুফরী করে সে সুদূর বিভ্রান্তিতে পতিত হলো”। [সূরা আন-নিসাঃ ১৩৬]

আল্লাহর বাণীঃ
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَ الْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ (البقرة : ١٧٧)
“সৎকর্ম শুধু এ নয় যে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তোমরা তোমাদের মুখ ফিরাবে, বরং প্রকৃত সৎকাজ হলো ঐ ব্যক্তির কাজ যে আল্লাহর প্রতি, শেষ দিবসের প্রতি, ফিরিস্তাগণের প্রতি এবং কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি ঈমান এনেছে”। [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৭৭]

আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ
﴿آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلُّ أَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ﴾ (البقرة : ٢٨٥)
"রাসূল ঈমান এনেছেন ঐ জিনিসের প্রতি যা তাঁর প্রভুর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ করা হয়েছে আর মু'মিনগণও, সবাই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিস্তাগণের প্রতি, এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি, (তারা বলে) আমরা তাঁর কোন রাসূলের মধ্যে তারতম্য করিনা। আর তারা বলেঃ আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি, হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার কাছেই প্রত্যাবর্তন স্থল”। [সূরা আল-বাকারাহঃ২৮৫]

আল্লাহর বাণীঃ
﴿إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَهُ بِقَدَرٍ﴾ (القمر: ٤٩)
"নিশ্চয়ই আমরা প্রতিটি বস্তুকেই নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি করেছি”। [সূরা আল-কামারঃ৪৯]

সহীহ মুসলিমে উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, যা 'হাদীসে জিবরীল' নামে বিখ্যাত, তাতে রয়েছেঃ জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জানতে চেয়ে বলেন যে, আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবহিত করুন, তিনি বললেনঃ
«أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّه»
"আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা, আর তাকদীরের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা"।

ঈমান এ মহান ছয়টি মূলনীতির উপর স্থাপিত। বরং এগুলোর প্রতি ঈমান আনয়ন করা ছাড়া কারো ঈমানের অস্তিত্বই থাকতে পারে না। এগুলো এমন মূলনীতি যা পরস্পর ওৎপ্রোতভাবে জড়িত ও একটির জন্য অন্যটি অপরিহার্য, একটি থেকে অন্যটি কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। সুতরাং এগুলোর কোন একটির প্রতি ঈমান আনয়ন করা অন্য মূলনীতিগুলোর উপর ঈমান আনাকে অপরিহার্য করে। আর এগুলোর কোন একটি অস্বীকার করা অন্যগুলোকে অস্বীকার করার শামিল।

আর এজন্যই প্রত্যেক মুসলিমের উপর এ মূলনীতিগুলো শেখা, শিক্ষা দেয়া এবং বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা জরুরী।

নীচে এ মূলনীতিগুলো থেকে প্রথম মূলনীতি তথা আল্লাহর উপর ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বর্ণনা করা হলো।

টিকাঃ
'সহীহ মুসলিম (হাদীস নং ১)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00