📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 প্রথম পর্যায়- বিদ্রোহীদের মদিনায় উপস্থিতি

📄 প্রথম পর্যায়- বিদ্রোহীদের মদিনায় উপস্থিতি


হিজরি ৩৫ সনে সাধু আবুজর-এই নামেই তিনি সুপরিচিত ছিলেন, নেজদের মরুভূমিতে রেবজা নামক পল্লীতে নির্বাসিত অবস্থায় প্রাণত্যাগ করেন, ইহা পূর্বে বলিয়াছি। পুণ্যশীল আবু মাসুদ তাঁর দাফনকার্য সম্পাদন করেন। নির্বাসনের দুইটি বৎসর তাঁর জীবন দারুণ কষ্টের ভিতর দিয়া অতিবাহিত হয়। মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী-পুত্রের জন্য কিছু রাখিয়া যাওয়া দূরের কথা, তাঁর দাফনের বস্ত্রও চাঁদা করিয়া সংগ্রহ করিতে হয়েছিল।
তাঁর এই দুঃখের কাহিনি যখন আবু মাসুদের মারফত কুফায় প্রচারিত হইল, জনগণ আবার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠিল। তাদের নেতৃবর্গের তো ইহাতেই আনন্দ। ফরাসি-বিপ্লবের নায়করা দেশে তাণ্ডব সৃষ্টিতে যে উল্লাস বোধ করেছিল, সকল দেখে সকল বিপ্লবের নায়কগণই সেই প্রকার উল্লাসের আস্বাদ চাহিদা থাকে, ইহা ইতিহাসের কথা। তারা চুপ করিয়া থাকিতে পারে না। ইতোমধ্যে জনশ্রুতির পথে সংবাদ আসিল, মিসরে এক ব্যক্তি গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় ঔদ্ধত্য গভর্নর আবদুল্লাহ্ ইবনে আবি সাবাহ্ তাহার শিরচ্ছেদন করিয়াছেন। শুনা গেল, সারা মিসর চঞ্চল হয়ে উঠিয়াছে এবং মিসরের বিরোধী দল আইন ও শৃঙ্খলার বাঁধ ভাঙিয়া ফেলিয়াছে। বিস্তীর্ণ হিজাজ দেশের পূর্ব-প্রান্তে ইরাক, পশ্চিম-প্রান্তে মিসর। কিন্তু উন্মত্ত জনতা কর্তৃক দুই দেশের ভিতর যোগাযোগ স্থাপনে বেশি সময় লাগিল না। উভয় দিকে বিদ্রোহের দাবানল সমানে জ্বলিয়া উঠিল।
খলিফার আহ্বানে প্রাদেশিক গভর্নররা যখন মদিনায় সমবেত হন এবং রাষ্ট্রের শান্তি রক্ষার সমস্যা লইয়া আলোচনায় নিয়ত, সেই অবকাশে কুফা এবং মিসরের প্রধান বিদ্রোহ-কেন্দ্র ফাস্তাতের বিদ্রোহী পরস্পর যোগাযোগ স্থাপন করে এবং স্থির করে তারা বিভিন্ন কেন্দ্র হইতে একই সময় নির্গত হয়ে মদিনায় সমবেত হইবে এবং তথায় এমন এক শক্তিশালী দল গঠন করিবে যাহা মদিনাবাসীদের পক্ষে তাসের কারণ হইবে। তাদের প্ল্যান ছিল, তারা একযোগে খলিফার প্রাসাদের দিকে অগ্রসর হইতে থাকিতে এবং খলিফা যখন তাহাদের বারণ করিতে চেষ্টা করিবেন, সেই সুযোগে তাদের অভিযোগ সমূহের সুদীর্ঘ তালিকা তাঁর সামনে পেশ করা হইবে। যাহাতে উহা মারয়ানের হস্তে গিয়া না পড়ে। তারপর উচ্চস্বরে দাবি করা হইবে নেই সব অভিযোগের প্রতিকার এবং শান-ব্যবস্থার সংস্কার ও গভর্নরের অপসারণের জন্য। খলিফা যদি তাতে রাজি না হন, তবে তাঁকে গদী ত্যাগ করিতে বলা হইবে। তাতেও যদি তিনি অস্বীকৃত থাকেন, তবে শেষ পর্যন্ত তরবারির সাহায্যে নিজেদের দাবি পূরণের ব্যবস্থা করা হইবে।
কিন্তু যদি শেষ পর্যায় পর্যন্তই ঘটনাপ্রবাহ অগ্রসর হয়, তবে পরবর্তী খলিফা কে হইবেন, ইহা লইয়া তারা একমত হইতে পারিল না। কুফার লোকেরা চাহিল যুবায়েরকে, বসরার লোকেরা চাহিল তালহাকে, আর মিসরবাসীরা ছিল হজরত আলির পক্ষে।
বিদ্রোহীরা তাদের শেষ-মীমাংসায় উপনীত হইবার পূর্বেই গভর্নরগণ মদিনার সভা শেষ করিয়া যে যাঁহার স্থানে পৌছিয়া গেলেন। কাজেই বিদ্রোহীদের প্ল্যান পাকা হইতে পারিল না; তখনকার মতো ষড়যন্ত্র স্থগিত রহিয়া গেল। কিন্তু ভিতরে ভিতরে বিদ্রোহী জন-নায়কগণ তাদের মতলব সিদ্ধির উপায় চিন্তা করিতে থাকিল। এইভাবে বৎসর শেষ হয়ে গেল।
ইহার পর আরব ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা মর্মান্তিক বৎসর হিজরি ৩৬ সন পৃথিবীর বুকে ছায়াপাত করিল। এই মাঝামাঝি সময়ে যড়যন্ত্র পুনরায় জোরদার হওয়ার সুযোগ উপস্থিত হইলঅ হজের মৌসুম তখন আগত প্রায়। হজের নাম করিলে সকলে বিা বাধায় একত্রিত হইতে পারিবে এই আশায় বিদ্রোহীরা ষড়যন্ত্র সাথকভাবে কার্যকরী করার পক্ষে আবশকীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করিল এবং জিলহজের প্রায় তিন মাস পূর্বে ওমরা হজ (অসাময়িক হজ)-এর ভান করিয়া কুফা, বসরা ও মিসরের বিভিন্ন কেন্দ্র হইতে হাজির ছদ্মবেশে তারা মদিনার পথে রওয়ানা হয়ে গেল।
মিসরের গভর্নর আবু সারাহ্ বিদ্রোহীদের এই গোপন ষড়যন্ত্র দেশ ত্যাগের কথা জানিতে পারিয়া ত্বরায় খলিফাকে পত্রযোগে ইহা জানাইয়া দিলেন। রাজধানী হইতে তাঁর পত্রের উত্তরে হুকুম গেল, বিদ্রোহীদের অনুসরণ ও ধৃত করিতে। তিনি চেষ্টা করিলেন করিলেন খলিফার আদেশ তামিল করার জন্য, কিন্তু ইতোমধ্যে তারা গভর্নরের নাগালের বাহিরে চলিয়া গেল। গভর্নর যখন বিফল মনোরথ হয়ে নিজ রাজধানীতে ফিরিলেন, তখন দেখিলেন, মিসর বিদ্রোহী দলপতি মুহম্মদ ইবনে আবু হুযায়ফার হাতে চলিয়া গিয়াছে। আর অগ্রগামী বিদ্রোহী জনতার পরিচালকবর্গের ভিতর ছিল হজরত আবু বকর পুত্র মুহম্মদ। আবু সরাহ্ বুঝিতে পারিলেন না, কত লোক তাঁর পক্ষে আর কত লোক বিপক্ষে। তিনি নিজ জীবনের নিরাপত্তার জন্য অগত্যা প্যালেস্টাইনে গিয়া আশ্রয় লইলেন।
হজরত ওসমান বিদ্রোহীদের মদিনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সংবাদ গোপনে অবগত হয়ে মসজিদে নববীতে গেলেন এবং মিম্বরে উঠিয়া উপস্থিত মুসলিমদের আহ্বান করিয়া জানাইয়া দিলেন, বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যের কথা তিনি বলিলেন, 'তাদের অভিযোগ আমারই বিরুদ্ধে এবং শিগগিরই তোমরা দেখিতে পাইবে, আমার ওপর কি দুর্ভোগ নামিয়া আসে। তোমরা নিশ্চয়ই আশা করিবে, যাহাতে এই আক্রমণ বিলম্বিত হয়। কেননা, ইহার পরিণাম যে ভয়াবহ হইবে তাহা তোমরা নিশ্চয়ই অনুধাবন করিতে পারিতেছ। ইহার ফলে, শহরে হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা চলিবে, পবিত্র ভূমিতে রক্তস্রোত বহিবে, শাসনব্যবস্থাও বিলুপ্ত হইবে সেই বিপ্লবের মুখে। আর আল্লাহর হুকুমের বিরোধী যে সব অধর্মমূলক কার্যকলাম চলিতে থাকিবে, তার স্রোত সমগ্র দেশকে প্লাবিত করিবে। কিন্তু খলিফার এই বিবৃতিতে উপস্থিত জনগণের ভিতর কোনো সাড়া জাগিল না। হয়ত তারা হঠাৎ কিছু স্থির করিতে পারে নাই, এই পরিস্থিতিতে তাদের কি করা কর্তব্য।
ইহার পর বিদ্রোহীদের মদিনায় উপনীত হইতে বেশি সময় লাগিল না। তারা মদিনার উপকণ্ঠে তিন স্থানে শিবির স্থাপন করিল। একটি কুফার বিদ্রোহীদের একটি বসরার বিদ্রোহীদের এবং অপরটি ছিল মিসরিয়দের। প্রত্যেক দল পৃথক পৃথক শিবিরে অবস্থান করিতে থাকিল। অবস্থা দৃষ্টে শহরবাসীরা শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে অস্ত্র-সজ্জিত হইল। বিশ বৎসর পূর্বে হজরত আবু বকরের শাসন আমলে বিভিন্ন দল যখন ইসলামের বিরুদ্ধে মস্তক উত্তোলন করেছিল, তারপর হইতে এ যাবৎ মদিনায় এইভাবে নাগরিকদের অস্ত্র-সজ্জার প্রয়োজন আর কখনও দেখা দেয় নাই। কাজেই ইহা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল মদিনাবাসীরা বিদ্রোহীদের নগর-প্রবেশ হইতে প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত হইল।
বিদ্রোহীরা এই অবস্থা দেখিয়া সরাসরি নগরে প্রবেশের প্ল্যান পরিত্যাগ করিয়া চতুরীর আশ্রয় লইল। তারা নবীর বিধবা পত্নীদের নিকট এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট প্রতিনিধি পাঠাইতে লাগিল এই বলিতে, 'আমরা নবীর পবিত্র আবাস-গৃহ এবং রওযা জিয়ারত করিতে আসিয়াছি এবং গভর্নরদের ভিতর কেহ কেহকে পদচ্যুত করার জন্য খলিফার নিকট আবেদন জানাইতে আসিয়াছি। আমাদের শহরে প্রবেশ করিতে দেওয়া হউক!' কিন্তু অনুমতি দেওয়া হইল না। তবে খলিফার পক্ষ হইতে তাহাদের আশ্বাস দেওয়া হইল যে, তাদের অভিযোগসমূহ মনোযোগের সহিত বিবেচনা করা হইবে।
এদিকে বিদ্রোহী দলগুলোর ভিতর গোপনে পরামর্শ চলিতে লাগিল এবং তারা খিলাফতের জন্য নিজ নিজ মনোনীত ব্যক্তিদের নিকট প্রতিনিধি পাঠাইল। যাহারা হজরত আলির নিকট আসিল তাহাদের তিনি আসা মাত্র হাঁফাইয়া দিলেন এই বলিয়া, 'তোমরা রাজদ্রোহী এবং নবীর অভিশপ্ত।' অন্য দলগুলোও যুবায়ের ও তালহার নিকট অনুরূপ ব্যবহার পাইল। কোথাও কোনও সুবিধা তারা করিয়া উঠিতে পারিল না।
এই পন্থায় সুবিধা করিতে না পারিয়া এবং নগরবাসীদের আক্রমণ এড়াইতে না পারিলে তাদের উদ্দেশ্যে সিদ্ধি সম্ভবপর নয় জানিয়া বিদ্রোহীদের নেতারা প্রকাশ করিল, তারা খলিফার নিকট হইতে শাসনের সংস্কার করা হইবে বলিয়া যে আশ্বাস পাইয়াছে, তাতেই তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। এই কথা রাষ্ট্র করিয়া তারা তাঁবু উঠাইয়া লইল এবং প্রত্যেক দল স্ব স্ব দেশের পথে পদক্ষেপ করিল। তারা এমন ভাব দেখাইল, যেন সত্য সত্য তারা দেশে ফিরিয়া যাইতেছে। কিন্তু তাদের ভিতরে ভিতরে যুক্তি ছিল; কিছুদূর গিয়া তারা থাকিবে এবং ইতোমধ্যে মদিনার অধিবাসীরা তাদের অস্ত্র সজ্জা ও প্রতিরোধের প্রস্তুতি শিথিল করিবে। তখন তারা আবার একযোগে মদিনায় ফিরিয়া আসিবে।
মদিনার লোকেরা মনে করিল, উপস্থিত ভয়াবহ বিপদ কাটিয়া গিয়াছে। তারা খুশিতে অস্ত্রশস্ত্র তুলিয়া রাখিল। মদিনায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়া আসিল। খলিফাও পূর্বের মতো নিশ্চিন্ত মনে মসজিদে যাইতে ও নামাজের জমায়েতে নেতৃত্ব করিতে থাকিলেন।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 দ্বিতীয় পর্যায়- খলিফার সকাশে বিদ্রোহী দল

📄 দ্বিতীয় পর্যায়- খলিফার সকাশে বিদ্রোহী দল


বিদ্রোহীদের মদিনা ত্যাগের পর কয়েক দিন যাইতে না যাইতে সহসা দেখা গেল, তাদের তিনটি দলই পুনরায় মদিনার উপকণ্ঠে ফিরিয়া আসিয়াছে। নাগরিকদের একটি দল হজরত আলিকে পুরোভাগে রাখিয়া বিদ্রোহীদের নিকট গেল এবং ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিল। তারা তখন একখানি দলিল দেখাইল। একখানি চিঠি, গভর্নরের বরাবর লিখা। ইহাতে খলিফার সীলমোহর অঙ্কিত ছিল এবং লিখা ছিল, 'বিদ্রোহীরা ফিরিয়া গেলে তাহাদের ধৃত করিবে, পীড়ন করিবে, কতককে কারাগারে নিক্ষেপ করিবে এবং অবশিষ্টগুলোকে কতল করিবে।' তারা বলিল, এই দলিল তারা পথে খলিফার একজন ভৃত্যের নিকট হইতে উদ্ধার করিয়াছে। ভৃত্যটি ইহা লইয়া মিসরের পথে যাইতেছিল।
হজরত আলি ইহাকে বিদ্রোহীদের একটি যড়যন্ত্র বলিয়া সন্দেহ করিয়া প্রশ্ন করিলেন, 'সে লোক যদি মিসর যাইতেছিল এবং ফাস্তাতের পথে মিসরীয় প্রত্যাবর্তনকারী দল কর্তৃক ধৃত হয়ে থাকে, তবে এত তাড়াতাড়ি সে খবর কি করিয়া সম্পূর্ণ বিপরীত পথের যাত্রী অর্থাৎ কুফা ও বসরাগামী দুইটি দলের নিকট পৌঁছিল এবং কি করিয়াই বা তিনটি দল এর ভিতর পুনরায় ফিরিয়া আসিয়া একত্রিত হইল।'
উত্তরে তারা বলিল, 'আপনি যাই বলুন, উক্ত চিঠি আমাদের কাছে বিদ্যমান আছে এবং উহাতে খলিফার নামাঙ্কিক সীলমোহর রহিয়াছে।'
হজরত আলি খলিফার নিকট আসিয়া সকল কথা বিবৃত করিলেন। খলিফা বলিলেন, এমন কোনও চিঠি লেখা হয়েছে বলিয়া তিনি কিছু অবগত নহেন। কিন্তু তথাপি তিনি উক্ত অভিযোগের কিনারা করিবার জন্য বিদ্রোহীদের নেতৃবর্গের ভিতর কতিপয় প্রতিনিধিকে সাক্ষাৎ দান করিতে রাজি হইলেন। তারা নির্ধারিত সময়ে খলিফার সমীপে উপস্থিত হইলে হজরত আলি তাদের পরিচয় প্রদান করিলেন। কিন্তু তারা কেহ মাথা নোয়াইল না, বা অভিবাদন করিল না। পরন্তু উদ্ধতভাবে খলিফার সামনে আসিল এবং তাদের অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করিল। তারা বলিল, 'আমরা খলিফার ওয়াদা পাইয়াছিলাম, আমাদের অসন্তোষের প্রতিকার করা হইবে এবং সেই বিশ্বাস লইয়া আমরা স্বদেশে যাইতেছিলাম; কিন্তু প্রতিকারের পরিবর্তে এ কি কাণ্ড? খলিফার এই সেই নিজস্ব ভৃত্য যাকে আমরা ধরিয়া আনিয়াছি এবং খলিফার এই সেই বিশ্বাস ভঙ্গকারী পত্র যাহা লইয়া সে মিসর যাইতে ছিল' তারা উক্ত পত্র ও খলিফার সেই ভৃত্যকে সভাস্থলে হাযীর করিল।
হজরত ওসমান কসম করিয়া বলিলেন, 'আমি এ সমস্তের কিছুই অবগত নহি।' ইহাতে বিদ্রোহী প্রতিনিধিরা দাবি করিল, 'তবে বলুন, কে সেই ব্যক্তি যে এই পত্র লিখিয়াছে।' খলিফা বলিলেন, 'আমি তাহা জানি না।' তারা বলিল, 'কিন্তু এ চিঠি আপনার চিঠি হিসেবে প্রেরিত হয়েছিল এবং আপনারই একজন ভৃত্য ইহা বহন করিতেছিল। এই দেখুন ইহাতে আপনার নামের সীলও অঙ্কিত রহিয়াছে। তথাপি আপনি বলিবেন, আপনি ইহার বিন্দুবিসর্গ কিছুই জানেন না?' ইহার পরও খলিফা বলিলেন, সত্যই তিনি এ ব্যাপার অবগত নহেন।
বিদ্রোহী নেতৃবৃন্দ ক্রুদ্ধ হয়ে উত্তেজিত স্বরে চেঁচাইয়া বলিল, 'হয় আপনি সত্য কথা বলিতেছেন, অথবা আপনি যাহা বলিতেছেন তাহা মিথ্যা। ইহার যে কোনও অবস্থায় আপনি যে খলিফা থাকার অনুপযুক্ত, তাহাই প্রমাণ হইতেছে। আমরা এক ব্যক্তির হাতে শাসনদণ্ড রাখিতে প্রস্তুত নহি, যিনি হয় অপদার্থ না হয় নির্বোধ এবং এত দুর্বল, অন্যকে শাসন করার ক্ষমতা তাঁর নাই। আপনি অবিলম্বে খিলাফৎ ত্যাগ করুন, কেননা আল্লাহ্ উহা আপনার হাত হইতে উঠাইয়া লইয়াছেন।'
হজরত ওসমান বলিলেন, 'আল্লাহ্ যে শাসনভার আমার উপর ন্যস্ত করিয়াছেন, আমি তাহা কোনও ক্রমেই ত্যাগ করিতে পারি না। তবে যে কোনও অন্যায়-অত্যাচার সম্বন্ধে আপনারা অভিযোগ করিবেন, আমি তাহা দূর করিতে প্রস্তুত আছি।'
তারা বলিল, 'এখন আর তাহা বলিলে কি হইবে? সে সময় পার হয়েছে। আপনি বহুবার প্রতিকারের ওয়াদা করিয়াছেন এবং সে সমস্তই খেলাফ করিয়াছেন। ইহার পর আপনার কোনও ওয়াদার ওপর আর আস্থা স্থাপন করা চলে না।' তারা খলিফাকে ইহাও জানাইয়া দিলেন, অতএব তারা তাঁর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিতে থাকিবে, যে পর্যন্ত না তিনি গদী ত্যাগ করেন অথবা নিহত হন।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 তৃতীয় পর্যায়- খলিফার উপর আক্রমণ ও গৃহ অবরোধ

📄 তৃতীয় পর্যায়- খলিফার উপর আক্রমণ ও গৃহ অবরোধ


আহত অভিমানে খলিফার ভিতরকার সুপ্ত ব্যক্তিত্ব জাগিয়া উঠিল। তিনি তাঁর পদোচিত মর্যাদা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখিয়া দৃঢ়তার সহিত উত্তর করিলেন, 'মৃত্যুই আমি শ্রেয় মনে করি, ভয়ে পদত্যাগ অপেক্ষা। যুদ্ধের কথা বলিতেছেন, আমি তো পূর্বেই বলিয়াছি, আমার রোকেয়া আমার গদীরক্ষার জন্য যুদ্ধ বা রক্তপাত করিবে না। সেরূপ অভিপ্রায় আমার থাকিলে আমি বহু সৈন্য-সামন্ত আমার পাশে মোহায়েন রাখিতাম।'
এইভাবে তর্ক ক্রমে কোলাহলে পরিণত হইল এবং উগ্র হয়ে উঠিল। কিন্তু মীমাংসা কিছুই হইল না দেখিয়া হজরত আলি বিরক্ত হয়ে সভাস্থল হইতে উঠিয়া গেলেন এবং ঘরে ফিরিয়া গেলেন। বিদ্রোহী নেতারাও যে যাহার দলে ফরিয়া গেল। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্যে রাজধানীতে আসিয়াছিল তাহা অনেকটা সফল হইল। তারা চাহিয়াছিল রাজধানীতে প্রবেশের সুযোগ ও একটু দাঁড়াইবার স্থান। সে সুযোগ তারা লাভ করিল। নাগরিকদেরও অনেককে তারা দলে ভিড়াইতে পারিবে বলিয়া আশা করিত, আর এই সুযোগের জন্যই তারা শহরে প্রবেশ লাভ করেছিল। মসজিদে নববীর রোজা নামাজে তারা মুসল্লিদের সহিত জামায়াতে শামিল হইতে লাগিল। হজরত ওসমান ইমামতি করার সময় তারা সুযোগ বুঝিয়া তাঁর মুখে ধূলি নিক্ষেপ করিত। তারা নাগরিকদের শাসাইত, তারা যেন খলিফার ব্যাপারে আগাইয়া না আসে এবং বলিত, এক ভয়াবহ দুর্যোগ অতি নিকটবর্তী। রাজধানীর ভিতরে বাহিরে সব মিলাইয়া তারা সংখ্যায় ছিল চারি সহস্র। কাজেই নাগরিকরা ভয় পাইয়া ছিল। সশস্ত্র বিরোধ ও রক্তপাতের পরিবর্তে তারা কামনা করিতেছিল খলিফা ও বিদ্রোহী দলের ভিতর একটা শান্তিপূর্ণ মীমাংসা।
খলিফার সহিত বিদ্রোহী নেতাদের সরাসরি বিতর্কের পর শুক্রবার আসিলে খলিফা যথারীতি জুমা'র নামায পরিচালিত করিলেন। নামাজ শেষে তিনি মিম্বরে বক্তৃতা দিতে উঠিলেন। তিনি প্রথমে নিয়মানুবর্তী নাগরিকদের প্রশংসা করিলেন। নামাজ শেষে তিনি মিম্বরে বক্তৃতা দিতে উঠিলেন। তিনি প্রথমে নিয়মানুবর্তী নাগরিকদের প্রশংসা করিলেন। কারণ তিনি জানিতেন, তারা বিদ্রোহীদের দ্বারা যতই ভীতিপ্রাপ্ত হউক, তারা বিরোধীদের আচরণ সমর্থন করেনা, বরং গর্হিত বলিয়া জানে। ঐ জামায়াতে বিদ্রোহী পক্ষের লোকেরাও ছিল। তাদের ভিতর হইতে এক ব্যক্তি উঠিয়া চিৎকার করিয়া বলিল, 'ওসমান, কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তোমার জীবনযাপন কর।' হজরত ওসমান ধৈর্য ধারণ করিয়া তাহাকে বসিতে বলিলেন। লোকটি বসিল, কিন্তু কিছুকাল পরে আবার দাঁড়াইয়া তাঁর উক্তির পুনরাবৃত্তি করিল। খলিফা অতঃপর বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করিয়া বলিলেন: 'তোমরা কি জান না, মদিনাবাসীরা তোমাদের নবীর অভিশপ্ত বলিয়া জানে? কেননা, তোমরা নবীর খলিফা ও প্রতিনিধির বিরুদ্ধে উত্থান করিয়াছ। এক্ষণে তোমরা তোমাদের এই আচরণের জন্য অনুতাপ করো, আর সুকার্য দ্বারা দুষ্কার্যের প্রায়শ্চিত্ত সম্পাদন করো।'
খলিফার বক্তৃতায় রাজভক্ত নাগরিকদের মধ্যে সাড়া জাগিল। তাদের ভিতর হইতে নবীর প্রিয় ও বিশ্বস্ত সাহাবা মুহম্মদ ইবনে আসলাম ও কুরআন সঙ্কলনকারী সাহাবা সায়েদ ইবনে সাবিত একে একে খলিফার বাক্যের সমর্থনে বক্তৃতা করিতে চেষ্টা করিলেন, কিন্তু কুফার হাকিম বিন জাবালা, মুহম্মদ ইবনে কোতাইবা প্রমুখ বিদ্রোহী নেতারা তাহাদের ঔদ্ধত্যভাবে বাধা দিয়া থামাইয়া দিল। মুসল্লিদের ভিতর মহা শোরগোলের সৃষ্টি হইল। মদিনার নিরীহ নাগরিকদের বিদ্রোহীরা প্রস্তর নিক্ষেপ করিতে করিতে মসজিদ ও আঙ্গিনা হইতে বাহির করিয়া দিল। একটি প্রস্তর হজরত ওসমানের মাথায় লাগায় তিনি মাটিতে পড়িয়া গেলেন এবং অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে মসজিদের পার্শ্ববর্তী তাঁর নিজ গৃহে বহিয়া নেওয়া হইল। আঘাত গুরুতর ছিল না। তিনি শিগগিরই জ্ঞানলাভ করিলেন এবং ইহার পর কিছুদিন মসজিদে পূর্ববৎ ইমামতি করিতে সমর্থ হইলেন। কিন্তু ক্রমেই বিদ্রোহীদের ঔদ্ধত্য ও দুর্বলতার মাত্রা ছাড়াইয়া উঠিতে লাগিল এবং অবশেষে তিনি নিজ গৃহেই সব সময় থাকিতে বাধ্য হইলেন। ফলে ইহা প্রকারান্তরে অন্তরীণ অবস্থায় পরিণত হইল। তাঁর নিরাপত্তার জন্য তাঁর আত্মীয়স্বজন ও কতিপয় সহৃদয় প্রতিবেশী অস্ত্রশস্ত্র লইয়া দেহরক্ষীরূপে তাঁর গৃহ পাহারা দিতে লাগিল। বাড়ির লোকজন যাহাতে নিরাপদে বাহিরে যাওয়া আসা করিতে পারে, তারা সেই দিকে লক্ষ্য রাখিল।
খলিফার গৃহরক্ষী এই বিশ্বস্ত বাহিনীতে হজরত আলি, জুবায়ের ও তাল্হা প্রত্যেকে একটি করিয়া পুত্র পাঠাইয়াছিলেন গোড়া হইতেই। কিন্তু তাঁরা নিজেরা কেহ অস্ত্র ধারণ করেন নাই। বস্তুত এই দুঃসময় পরিস্থিতির আরম্ভ হইতেই তাঁরা এই ব্যাপারে নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করিতেছিলেন বলিয়া একশ্রেণীর রাবী আক্ষেপ করিয়াছেন। মসজিদের গণ্ডগোলের পর এবং খলিফা অজ্ঞান অবস্থায় গৃহে আনীত হইবার পর তাঁরা অন্যান্য নাগরিকদের সহিত খলিফার গৃহে গেলেন, তিনি কেমন আছেন জানার জন্য। কিন্তু তাঁরা প্রবেশ মাত্র মারওয়ান ও খলিফার অন্যান্য নিকট আত্মীয়রা, যাঁরা খলিফার শুশ্রূষা করিতেছিলেন, তাঁরা ক্রুদ্ধভাবে চীৎকার করিয়া উঠিলেন। হজরত আলির প্রতি এবং তিনি এই বিপদে মূল স্রষ্টা বলিয়া দোষারোপ করিলেন। এই বিপদ একদিন তাঁর নিজের উপরও আবর্তিত হইবে, এই বলিয়া তাঁরা অভিসম্পাত করিলেন।
এই দুর্ব্যবহারের পর হজরত আলি ক্রুদ্ধ হয়ে সেখান হইতে প্রস্থান করিলেন। তাঁর সঙ্গের লোকেরাও চলিয়া গেল। খলিফাকে এই সময় এইরূপে ত্যাগ করিয়া যাওয়া ছিল তাদের পক্ষে চরম নিষ্ঠুরতা ও ভীরুতা এবং ইহার বিষময় ফল শুধু একা ভোগ করেন নাই, তাঁহাদের প্রত্যেককেই ভূগিতে হয়েছিল। ইহা শুধু নৈতিক হিসাবেই অন্যায় কার্য ছিল না, রাজনীতির দিক দিয়াও একটা মারাত্মক ভুল ছিল। সম্পূর্ণ নিয়মানুগভাবে যে ব্যক্তিকে শাসনক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে, আনুগত্যের প্রকাশ্য খেলাফে, এই উচ্ছৃঙ্খল গণ-উত্থান কোন মতেই সমর্থনযোগ্য ছিল না এবং সাহসের সহিত ও কঠোর হস্তে উহা দমন করার প্রয়োজন ছিল। এই সহজ সত্যটি তদানীন্তন একজন সাহাবির মুখে এইভাবে ব্যক্ত হয়েছিল- 'হে কোরাইশ, তোমাদের উপর অপর আরবদের হামলা আসিবে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত প্রবেশ-দরওয়াজা দৃঢ়ভাবে অর্গল বন্ধ রহিয়াছে; তোমরা কেন সেই দরওয়াজা ইচ্ছা করিয়া ভাঙ্গিয়া ফেলিতেছ?'
খলিফা যখন নিজ গৃহে অন্তরীণাবদ্ধ, সেই সুযোগে বিদ্রোহীরা মসজিদে নববী ও খলিফার প্রাসাদের দ্বার সম্পূর্ণ নিজেদের অধিকারে লইয়া লয়। তাদের ঔদ্ধত্য এতটা চরমে উঠে যে তাদের দলপতি অল্ গাফিকী (যাহাকে তারা আমির বা সর্বাধিনায়ক বলিত) মসজিদে নববীতে, যে আসনে দাঁড়াইয়া খলিফা নামাজের ইমামতি করিতেন, সেই আসন গ্রহণ করে।
দুর্ভাগ্যবশত মদিনায় কোনও সৈন্যবাহিনী ছিল না। সৈন্যরা রাজ্যের চতুর্দিকে যুদ্ধব্যপদেশে বিক্ষিপ্ত ছিল। যে সামান্য কয়েকজন যোদ্ধা খলিফার প্রসাদ রক্ষাচ্ছিল, তাদের উপরই খলিফাকে নির্ভর করিতে হয়। ইহারা ছিল খলিফার আত্মীয়স্বজন, একদল গৃহ-ভৃত্য এবং হজরত আলি, যুবায়ের ও তাহার পুত্রদের লইয়া মোট আঠার কি উনিশ জন। অবস্থা যখন এমন সঙ্গীন হয়ে উঠিল যে, হজরত ওসমানের অন্তিম দিবস আর বেশি দূরে নয় বলিয়া তাঁর মনে হইল, সেই অবস্থায় তিনি একদিন হজরত আলি, যুবায়ের ও তালহাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন, আর একবার সাক্ষাৎ ইচ্ছায়। তাঁরা আসিলেন এবং প্রবেশপথ না পাইয়া প্রাসাদের বাহিরে দাঁড়াইয়া থাকিলেন, তবে এত নিকটে যে ভিতরের কথা তাঁরা শুনিতে পান। খলিফা তাঁর গৃহের ছাদে উঠিয়া তাঁহাদের দেখা দিলেন এবং বসিতে অনুরোধ করিলেন। তাঁর কিছুক্ষণের জন্য বসিলেন। কিন্তু এ বসা নিরিবিলি ছিল, শত্রুমিত্র সব ছিল একত্রে।
হজরত ওসমান শক্তি সঞ্চয় করিয়া উচ্চকণ্ঠে বলিতে লাগিলেন, 'প্রিয় নাগরিকরা, আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট মোনাযাত করিয়াছি এই বলিয়া, আমাকে যখন তিনি নিবেন, তারপর খিলাফৎ যাতে ঠিকভাবে চলে, তিনি যেন সেই ব্যবস্থা করেন। অতঃপর তিনি জনগণের খিদমতে পূর্বে যাহা যাহা করিয়াছেন, তৎসমুদয় উল্লেখ করিলেন এবং কিভাবে আল্লাহ তাঁকে নবীর উত্তরাধিকারীরূপে খলিফা ও আমিরুল মু'মেনীন করার জন্য মঞ্জুরি প্রদান করেন, তাহা বলিলেন। সেই সঙ্গে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করিয়া তিনি বলিতে লাগিলেন, 'আল্লাহ্ যাহাতে আমিরুল মু'মেনীন হিসেবে মঞ্জুরি দিয়াছেন, এখন তোমরা আল্লাহর সেই মনোনীত ব্যক্তিকে হত্যা করিতে কোমর বাঁধিয়াছ। হে লোকগণ, হুঁশিয়ার হও! মাত্র তিন অবস্থায় মানুষের জীবন লওয়া বিধেয়- ধর্ম-বিচ্যুতি ও কুফরিতে প্রত্যাবর্তন, নরহত্যা এবং ব্যভিচার। এইসব কারণ না থাকা সত্ত্বেও আমার জীবন নাশ করায় তোমরা তোমাদের নিজেদেরই গর্দানের ওপর তলোয়ার ঝুলাইয়া দিতেছ, যাহা যে-কোনো মুহূর্তে তোমাদের গর্দানে পড়িতে পারে। ইহার পরিণাম এই হইবে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও রক্তপাত হইবার পর তোমাদের মধ্য হইতে কোনও দিন তিরোহিত হইবে না।'
খলিফার কথা এই পর্যন্ত শুনার পর বিদ্রোহীরা চীৎকার করিয়া উঠিল এবং বলিল, 'ইহা ছাড়া আরও চতুর্থ একটি কারণ আছে, যে জন্য জীবন নাশ হালাল হইতে পারে- সে হইতেছে, যখন হক বাতিল হয় বে-ইনসাফ দ্বারা এবং লোকের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয় জুলুমের দ্বারা। আল্লাহর নাফরমানি এবং স্বেচ্ছাচারিতামূলক অত্যাচারের (tyranny) জন্য আপনাকে হয় গদি ছাড়িতে হইবে, না হয়, মৃত্যু বরণ করিতে হইবে।"
হজরত ওসমান, মুহূর্তকাল চুপ করিয়া রহিলেন, তারপর শান্তভাবে উঠিয়া নাগরিকগণকে গৃহে ফিরিয়া যাইতে বলিলেন। তিনি নিজেও অবস্থার কোনও প্রকার উন্নতির আশা না দেখিয়া ছাদ হইতে অবতরণ করিলেন এবং ক্ষুণ্ণ মনে পুনঃ নিজ নিরানন্দ গৃহে প্রত্যাবর্তন করিলেন। আশ্চর্য এই, মদিনার অধিবাসীরা নীরবে সব সহ্য করিল। কোরাইশদের তো অধিকাংশ পূর্বেই সিরিয়ায় চলিয়া গেল।
খলিফা অবরুদ্ধ অবস্থায়ই কাল-যাপন করিতে লাগিলেন। কোনও কোনও বিবরণীতে দেখা যায়, তিনি প্রথম আক্রমণের পর ত্রিশদিন মসজিদে ইমামতি করেছিলেন এবং তারপর চল্লিশ দিন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় কাটাইয়া ছিলেন। আর ইহাই অধিকাংশ বর্ণনাকারীর মতো।
অবরোধের কয়েক সপ্তাহ পর সংবাদ রাষ্ট্র হইল, সিরিয়া ও বসরা হইতে খলিফার সাহায্যে সৈন্য আসিতেছে। এই সংবাদে বিদ্রোহীদল আরও দৃঢ় হইল এবং খলিফার গৃহ এমনভাবে ঘেরাও করিয়া রাখিল, অতঃপর একটি প্রাণীও আর সে গৃহে প্রবেশ করিবে বা তথা হইতে নির্গত হইবে এমন উপায় রহিল না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00