📘 হযরত ওসমান (রাঃ) 📄 মালে গণিমত বণ্টন

📄 মালে গণিমত বণ্টন


যুদ্ধলব্ধ আয়ের বণ্টন ব্যাপারেও খলিফার প্রতি সাহাবিদের ভিতর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তাঁহাদের কথা হইল, মালে গণিমত বণ্টন সম্পর্কে কুরআনে যে নির্দেশ রহিয়াছে, তার উপর খলিফার নিজেদের বিচার-বুদ্ধি খাটানো অসমীচীন। মুতাজেলিদের মতে খলিফা যদি কুরআনের মূলনীতি লঙ্ঘন না করিয়া তার আঙ্গিকের ভিতর সাময়িক প্রয়োজনে তাঁর নিজের বিবেকের অনুসরণ করেন তাতে অন্যায় কিছু নাই। রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিনায়কের এরূপ অধিকার থাকা উচিত, ইহাই তাঁহাদের অভিমত। কেননা তিনি যদি শুধু শাস্ত্রবাণীর আক্ষরিক অনুসরণ করিয়া চলেন, কোনও নতুন সমস্যা দেখা দিলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি তখন থামিয়া যাইবে।
এইরূপে বিশ্লেষণ করিলে দেখা যাইবে, সাহাবি ও ওলেমা-সম্প্রদায় হজরত ওসমানের যে সব কাজের বিরূপ সমালোচনা করিয়াছেন, সেগুলো এমন কিছু গুরুতর রকমের ছিল না, যার জন্য খলিফাকে পদচ্যুত করার বিধান বৈধ হইতে পারে। সাহাবা ও ওলেমা-সমাজ অবশ্য খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন নাই। তবে বিদ্রোহ যাহারা সৃষ্টি করেছিল তারা এই সব গণ্যমান্য ব্যক্তির মতামতের সুযোগ গ্রহণ করেছিল এবং জনগণকে উত্তেজিত করার জন্য তাঁহাদের সামান্য উক্তিরও সার্থক ব্যবহার করেছিল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px