📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 ত্রিপলি যুদ্ধ ও রোমানদের উপর বিজয়

📄 ত্রিপলি যুদ্ধ ও রোমানদের উপর বিজয়


হজরত ওসমান রাজ্যের অভ্যন্তরীণ অশান্তি দূর করার উদ্দেশ্যে কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পরিবর্তন করেন, ইহা পূর্বে বলিয়াছি। মিসর সম্পর্কেও এই প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল এবং পূর্বতন গভর্নর আমরের স্থলে আবদুল্লাহ ইবনে সারাহ্ নিযুক্তির আদেশ তথায় জারি হয়েছিল। আমরকে শুধু সেনাবাহিনীর অধিনায়করূপে তথায় থাকিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমর সে-আদেশ পালন করিতে তৎপর ছিলেন না। ফলে কিছুকাল ধরিয়া আবদুল্লাহ ও আমরের ভিতর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলিতে থাকে। উভয়েই গভর্নররূপে পরস্পর বিরোধী হুকুম জারি করিতে থাকেন। ইহাতে প্রাদেশিক শাসন-ব্যবস্থা ভাঙিয়া পড়িবার উপক্রম হয়েছিল। আর এই সুযোগে উত্তর আফ্রিকার গ্রিকগণ মুসলিম শক্তির উপর চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত হইতেছিল। উত্তর-আফ্রিকায় তাদের প্রধান সামরিক কেন্দ্র ছিল ত্রিপলী। এইখানে তারা বিপুল সৈন্য সমাবেশ করে। উত্তর আফ্রিকায় তাদের অন্যান্য এলাকায়ও তারা শক্তি বৃদ্ধি করিতে থাকে।
মিসরের নবনিযুক্ত গভর্নর আবদুল্লাহ যথাসময়ে এই সংবাদ অবগত হন এবং গ্রিকদের মোকাবিলা করার জন্য খলিফার অনুমতি লইয়া চল্লিশ হাজার আরব সৈন্যসহ ত্রিপলীর দিকে অগ্রসর হন। সমগ্র মিসর ও উত্তর-আফ্রিকা তখন আমরের সামরিক খ্যাতিতে ভরপুর। আবদুল্লাহর সেই খ্যাতি ছিলনা। তখন আমরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাঁর সেই যশোরাশি স্নান করিয়া দিয়া আবদুল্লাহ নিজেকে সামরিক বিজয়ের গৌরবমণ্ডিত অভিলাষী ছিলেন। তাঁর সেরূপ যোগ্যতাও যে ছিল পরবর্তী ঘটনাবলি তাহা সম্যক প্রতিপন্ন করিয়াছে। আমর শুধু মিসর জয় করেছিল। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ ভূভাগ আবদুল্লাহর সম্মুখে প্রসারিত ছিল। তিনি সেইসব ভূভাগ জয় করিতে মনস্থ করিলেন। তাঁর এই সংকল্প সিদ্ধ হয়েছিল এবং তার ফলে তিনি অসামান্য খ্যাতির অধিকারী হন।
হিজরি ২৫ সনেই আবদুল্লাহ ত্রিপলী জয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য তাঁর সে পরিকল্পনা কার্যে পরিণত করার তিনি সুযোগ পান নাই। এক্ষণে গ্রিকদের বিপুল সমরায়োজন তাঁকে ক্ষিপ্রগতিতে রণক্ষেত্রে ধাবিত হইতে বাধ্য করে। ঝটিকার বেগে আরববাহিনী তাঁর নেতৃত্বাধীনে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হইতে থাকে এবং পথে একরূপ বিনা বাধায় বার্কা অধিকার করিয়া ত্রিপলীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
ত্রিপলীর গভর্নর গ্রিগোরিয়াস আরবদের যুদ্ধযাত্রার সংবাদ অবগত হয়ে বাইজেনটাইন সম্রাটের নিকট আরও নতুন সৈন্য চাহিয়া পাঠাইলেন। অবিলম্বে সমুদ্রপথে নতুন গ্রিকবাহিনী ত্রিপলীতে আসিয়া উপনীত হইল। এইভাবে এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্যের এক বিরাট বাহিনী লইয়া গ্রিগোরিয়াস আবদুল্লাহর গতিরোধ করিয়া দাঁড়াইলেন। হজরত ওসমানও গ্রিকদের এই অদ্ভূতপূর্ব সমরায়োজনের সংবাদ অবগত হয়ে অবিলম্বে নতুন একজন আরব সৈন্য মদিনা হইতে আবদুল্লাহর সাহায্যে প্রেরণ করেন। মদিনার বহুতনামা যোদ্ধা এই বাহিনীতে যোগদান করেন। তাঁহাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন হজরত আবু বকর, আব্বাস ও যুবায়েরের পুত্ররা। এই যুদ্ধ ছিল দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ। আরব জাতির যুদ্ধ ইতিহাসে ইহার তুলনা বিরল। কয়েক মাস যুদ্ধ চলার পরেও যখন জয় পরাজয়ের কোনো নিশ্চয়তা দৃষ্ট হইল না। তখন অস্থিরমতি গ্রিক সেনাপতি গ্রিগোরিয়াস এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করিলেন। তিনি ঘোষণা করিলেন, যে ব্যক্তি আরব সেনাপতির মাথা কাটিয়া আনিতে পারিবে তাহাকে তিনি নিজের সুন্দরী কন্যাসহ একলক্ষ স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দিবেন। ইহাতে মুসলিম শিবিরে ত্রাসের সঞ্চার হইল; কেননা পূর্ব হইতেই সেখানে দলাদলি ছিল। আবু সারাহ বন্ধুবর্গের পরামর্শ অনুসারে যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া বন্ধ করে যাওয়া বন্ধ করিয়া দিলেন তাঁর অধীনস্থ সেনাপতিরা যুদ্ধ পরিচালনা করিতে থাকিলেন। কিন্তু ইহাতে সৈন্যদের উৎসাহ কমিয়া আসিল। কিছুদিন ধরে যুদ্ধে আরবদের কোনও অগ্রগতি লক্ষিত হইল না। ভাগ্যক্রমে এই সময় মদিনা হইতে যুবায়ের নামক এক তেজস্বী কোরায়েশ যোদ্ধা কিছু নতুন সৈন্য লইয়া যুদ্ধক্ষেত্রে উপনীত হইলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাপতিকে না দেখিয়া সৈন্যদের জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমাদের সেনাপতি কোথায়? তিনি শিবিরে আছেন শুনিয়া যুবায়ের বিদ্রুপ করিয়া বলিলেন, শিবির কি মুসলিম সেনাপতির যুদ্ধক্ষেত্র? অতঃপর আবু সারাহ্ যুবুয়েরকে সমস্ত ঘটনা বিবৃত করিলেন। শুনিয়া যুবায়ের কহিলেন, তুমিও অনুরূপ ঘোষণা করিয়া সৈন্যদলকে জানাইয়া দাও না কেন যে, গ্রিক সেনাপতি গ্রিগোরিয়াসের মাথা যে কাটিয়া আনিতে পারিবে তাহার হস্তে তুমি একলক্ষ স্বর্ণমুদ্রা ও গ্রিগোরিয়াসের সুন্দরী কন্যাকে অর্পণ করিবে। সেনাপতি আবু সারাহ্ তাহাই করিলেন এবং নিজেও অতঃপর যুদ্ধক্ষেত্রে যাইতে লাগিলেন। ইহার কয়েক দিন পর, এক ভয়াবহ সংঘর্ষের অবসানে, গ্রিগোরিয়াসের ছিন্ন মস্তক মুসলিম শিবিরে আনীত হইল, আর সেই সঙ্গে বন্দিনী অবস্থায় আনীত হইল গ্রিগোরিয়াসের সেই অনিন্দ্য সুন্দরী যুবতী কন্যা। এই কন্যাটি যুদ্ধবিদ্যায় পারদর্শিনী ছিল এবং যুদ্ধের সময় রণরঙ্গিনী বেশে সর্বদা পিতার পার্শ্বে উপস্থিত থাকিয়া সৈন্যদের উৎসাহিত করিত। তাহার অনুপম রূপরাশি ও তেজর্ভ উৎসাহ বাক্য যুদ্ধরত গ্রিক সৈন্যদের ভিতর উদ্দীপনা আনিত। সেনাপতি গ্রিগোরিয়াসের মৃত্যুতে গ্রিক শিবিরে নৈরাশ্য নামিয়া আসিল। তারা জয়ের আশা না দেখিয়া পলায়নপর এবং পশ্চাৎগামী হয়ে সফেতুল্লাহ নামক শহরে আশ্রয় লইল। মুসলিম বাহিনী তাদের অনুসরণ করিয়া উক্ত শহর দখল করিয়া লইল। তখন গ্রিক সৈন্যগণ আত্মরক্ষার উপায়ান্তর না দেখিয়া সন্ধি প্রার্থী হইল এবং উত্তর আফ্রিকার এক বিস্তীর্ণ এলাকা মুসলিম অধিকারে ছাড়িয়া দিয়া শান্তি স্থাপন করিল (৬২৫ খ্রি.)।
এদিকে গ্রিগোরিয়াস-কন্যাকে লইয়া সেনাপতি আবদুল্লাহ মহা সমস্যায় পড়িলেন। কেননা তাঁর বিঘোষিত পুরস্কার আশায় অথবা এই বন্দিনীর পাণি প্রার্থী হয়ে কেহই তাঁর সমীপবর্তী হইল না। তখন আবদুল্লাহ তাঁর পরামর্শদাতা যুবায়েরকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যুবায়ের সেনাপতির সম্মুখে আসামাত্র তাঁর পার্শ্বে অবস্থানকারিণী গ্রিগোরিয়াস-কন্যা চিৎকার করিয়া উঠিল এবং তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন সেনাপতির বুঝিতে বাকি রহিল না যে, এই য়্যায়েরই উক্ত যুবতীর পিতৃহন্তা। কিন্তু যুবায়ের উক্ত রমণীকে গ্রহণ করিতে সম্মত হইলেন না। তিনি বলিলেন, আমার তরবারি ইসলামের খিদমতে কোষমুক্ত করিয়াছি, কোনও পার্থিব ধনরত্ন বা সুন্দরী ললনার আশায় নয়। আপনি এই পুরস্কার অন্য কোনও যোগ্য ব্যক্তিকে অর্পণ করুন।
কথিত আছে সেনাপতি আবদুল্লাহ যখন যুবায়েরকে কোনও মতেই পুরষ্কার গ্রহণে রাজি করিতে পারিলেন না তখন তিনি অগত্যা ত্রিপলী যুদ্ধের বিজয় সংবাদ মদিনায় পৌছাইবার ভার দিয়া গৌরবান্বিত করেন। অতঃপর গ্রিগোরিয়াস-কন্যার কি হইল, তাহা লইয়া ঐতিহাসিকদের বর্ণনার ভিতর অনৈক্য রহিয়াছে। বিজয়ী আবদুল্লাহ যে এই বন্দিনী লইয়া বিব্রত বোধ করেছিলেন, তাতে সন্দেহ নাই। কোনও কোনও ঐতিহাসিকের মতে তিনি বন্দিনীর প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাহাকে পুনরায় গ্রিক শিবিরে ফিরিয়া যাইতে অনুমতি দিয়াছিলেন। ইংরেজ ঐতিহাসিক মু'য়র লিখিয়াছেন, 'আবদুল্লাহ্ নিরূপায় হয়ে পরিশেষে আরব বীরগণের ভিতর হইতে এক যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করিয়া তাহার হস্তে এই সুন্দরীকে অর্পণ করেন। কিন্তু পিতৃশোকসন্তপ্তা যুবতী তাঁর এই ব্যবস্থা প্রসন্ন চিত্তে গ্রহণ করিতে পারে নাই। তাহার পাণিপ্রার্থী যুবক যখন তাহাকে নিজের উষ্ট্রপৃষ্ঠে আরোহণ করাইয়া মদিনা অভিমুখে যাত্রা করেন, যুবতী তখন পলায়নের উপায় খুঁজিতে থাকে এবং পথিমধ্যে যুবকের এক অসতর্ক মুহূর্তে কোনক্রমে তাহার আলিঙ্গন পাশ হইতে নিজেকে মুক্ত করিয়া চলন্ত উষ্ট্র হইতে ঝম্প প্রদান করেন এবং এইভাবে মৃত্যুবরণ করে।' মু'য়রের বর্ণনা অধিকতর নির্ভরযোগ্য এই কারণে যে, গ্রিগোরিয়াস-কন্যাকে বক্ষে ধারণ করিয়া উষ্ট্রপৃষ্ঠে যাইতে যাইতে আনন্দ বিহ্বল যুবক যে রণসঙ্গীত গাহিয়াছিল, আরব জাতি সেগুলো তাদের যুদ্ধপাথার অন্তর্ভুক্ত করিয়া সযত্নে করিয়াছ।
ত্রিপলীতে গ্রিকদের শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণের পর উত্তর-আফ্রিকায় আরব বাহিনীর গতিরোধ করার আর কেহ থাকিল না। আবদুল্লাহ তাঁর সেনাবাহিনীকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত করিয়া ত্রিপলীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গ সহজেই তাদের বশ্যতা স্বীকার করিল। ত্রিপলীর আমিরও উপায়ন্তর না দেখিয়া এবং গ্রিকদের শোচনীয় পতন লক্ষ্য করিয়া মুসলিম খলিফার অধীনতা স্বীকার করিলেন এবং ২৫ লক্ষ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান করিয়া আবদুল্লাহর সহিত সন্ধিপত্র স্বাক্ষর করিলেন।
ইহার পর আলজিরিয়া ও মরক্কো মুসলিম অধিকারে চলিয়া আসে। মরক্কোর উত্তরে সমুদ্রের অপর পারে শস্যশ্যামলা ও তরুবীথি আচ্ছাদিত স্পেন দেশ। মরক্কো জয়ের পরই আরবদের সম্মুখে স্পেন জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠে। দূর-দেশে বসিয়া তারা স্পেন অধিকারের স্বপ্ন দেখিতে থাকে। খলিফাও স্পেন অভিযানের জন্য সম্মতি-প্রদান করেছিলেন এবং মদিনা হইতে আবদুল্লাহ্ বিন নাফে বিন হাসিন এবং আবদুল্লাহ্ বিন নাফে বিন আব্‌দে কায়েস নামক দুজন পরাক্রান্ত যোদ্ধাকে এই অভিযানে আরব বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করার জন্য মরক্কো প্রেরণ করেন। তাঁদের নেতৃত্বে আরব বাহিনী পশ্চিম দিকে অগ্রসর হইতে থাকে এবং মরক্কোর পশ্চিমে আরও কিছু নতুন এলাকা অধিকার করে। কিন্তু কোনও স্থান হইতেই সমুদ্র পারের সুযোগ না পাইয়া তারা স্পেন অভিযান স্থগিত রাখিতে বাধ্য হয়। স্পেন অভিযান পরিত্যক্ত হওয়ার পর আবদুল্লাহ বিন আবি সারাহ্ নব বিজিত দেশগুলোর জন্য আবদুল্লাহ্ বিন নাফে ইবনে আব্‌দ কায়েসকে গভর্নর নিযুক্ত করিয়া নিজে সসৈন্যে মিসরে ফিরিয়া আসেন।
ত্রিপলী যুদ্ধ ছিল নানা দিক দিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরব জাতির যুদ্ধ-ইতিহাসে সত্যই ইহার তুলনা বিরল। এই যুদ্ধে বিপুল ধনরত্নে বিজয়ীদের হস্তগত হয়। খলিফা এই যুগান্তকারী যুদ্ধের বিজয়ী বীররূপে আবদুল্লাহকে আশাতীতভাবে পুরস্কার প্রদান করিয়া সম্মানিত করেন। প্রচলিত রীতি অনুসারে যুদ্ধলব্ধ সম্পত্তির এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মাল অর্থাৎ সরকারি তহবিলে যাইবার কথা। খলিফা এই সরকারি অংশের এক-পঞ্চমাংশ আবদুল্লাহকে প্রদান করেন। অবশিষ্ট অংশও নাকি, বিরোধী দলের মতে, মারওয়ানকে নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করিতে দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলের এই অভিযোগের মূলে যাহাই থাকুক, একথা সত্য যে, এই ধন-বণ্টনে মুসলিম জনসাধারণের ভিতর তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল এবং সে কথা খলিফার কর্ণগোচর হয়েছিল। কথিত আছে, জনসাধারণের অসন্তোষ দূর করার জন্য খলিফা পরে আবদুল্লাহকে দিয়া উক্ত পুরস্কার ফেরৎ দেওয়াইয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, সত্যই আমি তাহাকে এইরূপ পুরস্কার দেওয়ার ওয়াদা করেছিলাম, কিন্তু যেহেতু মুসলিমগণ ইহা না-পছন্দ করিয়াছে, সেজন্য আমি এই পুরস্কার বাতিল করিতে বাধ্য হইলাম। যাহা হউক ত্রিপলী যুদ্ধে আবদুল্লাহ্ যে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন তার ফলে সমগ্র উত্তর আফ্রিকার তাঁর সামরিক খ্যাতি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু আরব-ইতিহাসে তিনি প্রথম মুসলিম নৌ-সেনাপতিরূপেই বিশেষভাবে পরিচিত। ভূমধ্যসাগরের জলযুদ্ধে তিনি যে অসামান্য নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তার ফলে সাগর এলাকায় মুসলিম অধিকার আশাতীতরূপে বিস্তৃতি লাভ করে। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এইসব সাফল্য দ্বারা একদিকে যেমন খলিফার সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তার লাভ করেছিল, অপর দিকে তেমনি খলিফার উপর আরোপিত দূরপনের কলঙ্কেরও তিনি অন্যতম কারণ হয়েছিল।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 মুসলিম নৌবাহিনী গঠন ও সাইপ্রাস অধিকার (২৮ হি.)

📄 মুসলিম নৌবাহিনী গঠন ও সাইপ্রাস অধিকার (২৮ হি.)


উত্তর-আফ্রিকায় গ্রিক অর্থাৎ পূর্ব-রোমক উদ্ধত শক্তি প্রতিহত হইলেও সমগ্র ভূমধ্যসাগর তাদের করতলগত থাকায় মুসলিম সাম্রাজ্যের বিপদাশঙ্কা দূরীভূত হয় নাই। এই বিশাল সাগর পূর্বে এশিয়ার এবং দক্ষিণে আফ্রিকার উপকূলভাগ বিধৌত করায় এখান হইতে এই উভয় মহাদেশের উপকূলবর্তী জনপদসমূহের উপর হামলা চালাইবার সুযোগ ছিল। ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত দ্বীপসমূহের ভিতর গ্রিক অধিকৃত সাইপ্রাস ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাইপ্রাসের পার্শ্ববর্তী রোডস দ্বীপও গ্রিকদের অধিকারে ছিল। সাইপ্রাস ছিল পূর্বাঞ্চলে তাদের রণতরীসমূহের বৃহত্তম ঘাঁটি।
সাইপ্রাসকে আরবেরা করস বলিত। এই করস ছিল তাদের নিকট এক বিরাট রহস্যঘেরা দেশ। এই অজানা দেশকে আশ্রয় করিয়া কত না কল্পনা তাদের চিত্তে অহর্নিশ দোলা দিত। এই দ্বীপের গ্রিকনাম কাইপ্রস (Kypros) এবং এই কাইপ্রসই আরবি 'কবরস'। উহা পূর্ব মেডিটারেনীয়ান এলাকায় অবস্থিত। সিরিয়া হইতে তার দূরত্ব প্রায় ৬০ মাইল।
এখানে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার ছিল না। শুধু বাণিজ্যিক আদান-প্রদান ছাড়া এই বৃহৎ লোকালয়ের সহিত তাদের কোনও প্রকার সম্পর্ক ছিল না। পক্ষান্তরে এখানকার গ্রিক নৌবহর আরব জাতির পক্ষে বরাবরই ত্রাসের কারণ ছিল।
সিরিয়া প্রদেশের দূরদর্শী গভর্নর আমির মু'য়াবিয়া নামক অনেক দিন হইতে ভূমধ্যসাগরে মুসলিম অধিকার স্থাপন করিয়া গ্রিকদের আক্রমণ হইতে মুসলিম দেশগুলোকে নিরাপদ করার বাসনা পোষণ করিতেছিলেন। কিন্তু এ কাজের জন্য জলযুদ্ধে অবতরণ করার প্রয়োজন। অথচ আরবদের তখন রণতরী বা নৌবাহিনী গড়িয়া ওঠে নাই। স্থলযুদ্ধে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন রণাঙ্গনে অজেয় প্রতিপন্ন হইলেও জলযুদ্ধে এ যাবৎ তারা শক্তি পরীক্ষার সুযোগ পায় নাই। ইতোপূর্বে হজরত উমরের আমলে মু'য়াবিয়া একবার লেভান্ট দ্বীপে অভিযান প্রেরণের উদ্দেশ্যে একটি নৌবাহিনী গঠনের অনুমতি চাহিয়া ছিলেন। লেভান্ট সিরিয়া দেশের পশ্চিম-উপকূলের সন্নিকটে অবস্থিত।
এশিয়া মাইনরের দক্ষিণ-উপকূল হইতেও তা দূরে নয়। এই দ্বীপ হইতে গ্রিকরা যুগপৎ সিরিয়ার পশ্চিম-উপকূল ও এশিয়া মাইনরের দক্ষিণ-উপকূল শাসন করত। সিরিয়ার পশ্চিম-উপকূলে অবস্থিত লেভান্ট শহর। তার সহিত লেভান্ট দ্বীপের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। লেভান্ট শহর ছিল গ্রিকদের স্থলসৈন্যের অন্যতম সেনানিবাস; আর লেভান্ট দ্বীপে থাকিত তাদের শক্তিশালী নৌবহর। হজরত ওসমানের রাজত্বের দ্বিতীয় বর্ষে সিরীয় সৈন্যগণ যখন এশিয়া মাইনরে অভিযান পরিচালনা করে ঐ সময় তারা লেভান্ট শহর অধিকার করিয়া লয়, একথা পূর্বে বলিয়াছি। কিন্তু তার বহুপূর্বে হজরত উমরের আমলে আমির মু'য়াবিয়া লেভান্ট দ্বীপ অধিকারে অনুমতি চাহিয়া ছিলেন। হজরত উমর তখন তাঁকে অনুমতি দেন নাই। মু'য়াবিয়া খলিফাকে লিখিয়াছিলেন, এই দ্বীপটি আমাদের সীমান্তের এত নিকটবর্তী যে সেখানকার ভোরের মোরগ ডাকা এবং কুকুরের ঘেউ ঘেউ আমরা এপারে বসিয়া শুনিতে পাই। এমন একটি স্থান শত্রুর অধিকারে থাকা মুসলিম সাম্রাজ্যের পক্ষে কিরূপ বিপজ্জনক আমিরুল মু'মিনীন নিজেই তাহা বুঝিতে পারেন, আমার বুঝাইয়া বলা আবশ্যক করে না। পার্শ্বেই বিশাল সাগরবক্ষ উন্মুক্ত রহিয়াছে অথচ মুসলিমদের সেখানে স্থান নাই। এই দ্বীপ গ্রিক হস্তে থাকিলে সাগরে কোনও দিন মুসলমানগণ নিরাপত্তা লাভ করিতে পারিবে না। কথিত আছে, হজরত উমর ইহার পর মিসরের গভর্নর কূটনীতিবিশারদ আমর বিন আল আসের পরামর্শ চাহিয়া পাঠান।
আমর উত্তরে লিখেন-ইয়া আমীরুল মু'মিনীন, সমুদ্র এমন একটি স্থান যাকে কোনও মতেই বিশ্বাস করা যায় না। মানুষ যতবড় বুদ্ধিমান ও ক্ষমতাশালী হউক, সেখানে সে নিতান্তই অসহায়। তাদের রণতরীগুলো যতই বৃহৎ আর দৃঢ় হউক, সমুদ্রে যখন ঝড়-তুফানের তাণ্ডব চলিতে থাকে তখন সেগুলো কোনই কাজে আসে না। সাগর বুকে যখন তরঙ্গগুলো গর্জিয়া উঠে এবং পর্বতাকার ঢেউগুলো একের উপর অন্য ঝাঁপাইয়া পড়িতে থাকে সেখানে তারা ঐ রণতরীগুলো লইয়া কাগজের নৌকার মতো লুফালুফি খেলিতে থাকে এবং পরিশেষে আরোহীসহ সেগুলোকে গ্রাস করিয়া ফেলে। মানুষকে তখন একান্তভাবে প্রকৃতির দয়ার উপর নির্ভর করিতে হয়। তাহার তেজ, বীর্য, বুদ্ধি, বল ও রণ-কৌশলের কোনও কিছুই তখন কাজে লাগে না। এমন একটা অসহায় ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে আমাদের বীর সন্তানগণের মূল্যবান জীবনকে ঠেলিয়া দিতে আমি কোনও ক্রমেই আপনাকে পরামর্শ দিতে পারিনা। স্থলভাগে আমরা শক্তিশালী থাকিলে সমুদ্র হইতে শত্রুরা আমাদের কিছুই করিতে পারিবে না। হজরত উমর আমরের এই যুক্তির সারবত্তা অনুধাবন করিয়া মু'য়াবিয়াকে জলযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা হইতে নিবৃত্ত করেন।
কিন্তু আমির মু'য়াবিয়া যাহা সঙ্কল্প করিতেন তাহা হইতে বিচ্যুত হইবার পাত্র ছিলেন না। ২৭ হিজরিতে হজরত ওসমানের রাজত্বকালে তিনি পুনর্বার তাঁর আর্জি পেশ করেন। লেভান্ট শহর ইতোপূর্বেই মুসলিমদের শাসনাধীনে আসিয়াছিল। এবার তিনি সাইপ্রাস দ্বীপ আক্রমণের অনুমতি চাহিয়া পাঠান। তিনি খলিফাকে বুঝাইয়া বলেন, জলযুদ্ধকে যতটা ভয় করা হয়, আসলে উহা ততটা ভয়ের বস্তু নয়। হজরত ওসমান সাইপ্রাস দ্বীপের অবস্থিতি ও গুরুত্ব অনুধাবন করিয়া মু'য়াবিয়াকে লিখেন, 'তোমার বর্ণনা যদি সত্য হয়, তবে সাইপ্রাস অভিযানে আমার আপত্তি নাই। তবে শর্ত এই, যে সকল লোক স্বেচ্ছায় জলযুদ্ধে যোগদান করিতে চাহিবে, শুধু তাহাদেরই সৈন্য দলে গ্রহণ করিবে। জবরদস্তি করিয়া কাহাকেও এই যুদ্ধে যোগদান করিতে বাধ্য করিবে না।'
মু'য়াবিয়া ইহাতে খুশি হইলেন। মুসলিম নৌ-বাহিনী গঠনের জন্য রাজধানীতে তোড়জোড় পড়িয়া গেল। বলা বাহুল্য, বীরপ্রসূ আরবে স্বেচ্ছাসেবকের অভাব ঘটিল না। দলে দলে যুবকেরা নৌবাহিনীতে নাম লেখাইতে লাগিল। অল্প দিনের ভিতর আবদুল্লাহ্ বিন কায়েস আল হারেসীর নেতৃত্বে এক শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়িয়া উঠিল। বহু বাণিজ্য-তরীকে রণ-তরীতে পরিণত করা হইল। এইভাবে উপযুক্ত নৌবহর গড়িয়া উঠার পর তারা 'আল্লাহ্ আকবর ধ্বনি তুলিয়া প্রথম সামুদ্রিক অভিযানে যাত্রা করিল (হিজরি ২৮ সন)
ঐতিহাসিকদের মতে ৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম নৌবাহিনী নিরাপদে করাস পৌছে। দ্বীপ হইতে অল্প দূরে তাদের রণতরীগুলো লঙ্গর করে। কব্রাসে উপস্থিত গ্রিক নৌবাহিনী তাদের অগ্রগতি রোধ করিয়া দাঁড়ায়। পরদিন উভয়পক্ষে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আরব সেনারা সুপ্রশস্ত স্থলভাগে যুদ্ধ করিয়া অভ্যস্ত, অপরিসর ডেকে দাঁড়াইয়া অস্ত্রচালনা ও রণকৌশল প্রদর্শন তাদের পক্ষে অসুবিধাজনক ছিল। পক্ষান্তরে গ্রিকগণ এই প্রকার যুদ্ধে পূর্ব হইতে অভ্যস্ত ছিল। যুদ্ধের প্রারম্ভেই সেনাপতি কায়েস শত্রুর আঘাতে গুরুতর রূপে আহত হন। তখন সুষ্ঠুয়ান বিন আউফ নামক অপর এক সেনাপতি আরববাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তারা কোনও মতে গ্রিক আক্রমণের সম্মুখে আত্মরক্ষা করিতে থাকিল। ইতোমধ্যে খলিফার নির্দেশক্রমে আবদুল্লাহ্ ইবনে আবি সারাহ্ একদল আরব সৈন্যসহ মিসর হইতে আসিয়া তাদের সঙ্গে মিলিত হইলেন।
এই সম্মিলিত বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণে গ্রিকগণ পরাজিত হইল এবং বিজয়ী আরব-বাহিনী সাইপ্রাসে অবতরণ করিল। বহু গ্রিকসৈন্য এবং সাইপ্রাসের নৌযুদ্ধে যোগদানকারী অনেক নাগরিক আরবদের হস্তে বন্দি হয়েছিল। সাইপ্রাসের অধিবাসীরা মুসলিমদের নিকট আত্মসমর্পণ করিল এবং সন্ধিপ্রার্থী হইল। অতঃপর আমির মু'য়াবিয়ার নির্দেশক্রমে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে এক সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হইল। স্থির হইল, দ্বীপবাসীগণ খলিফাকে বার্ষিক ৭০ হাজার দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) কর দিবে, কিন্তু তাদের শাসন-সংরক্ষণ তারা নিজেরাই চালাইবে, খলিফা তাতে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করিবেন না। শুধু পররাষ্ট্রীয় ব্যাপারে তাদের উপর এই দায়িত্ব থাকিবে যে, তাদের পার্শ্ববর্তী সাগর এলাকায় মুসলমানদের দুশমনের আগমন সংবাদ জানিতে পারিলে তারা তাহা মুসলমানদের গোচরে আনিবে। জিজিয়া কর তাহাদের দিতে হইবে না, কারণ, খলিফা তাহাদের শত্রুর আক্রমণ হইতে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করিবেন না।
এই যুদ্ধের প্রথম সেনাপতি কায়েস জলযোদ্ধা হিসেবে আরব-ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। নৌ-বাহিনীর গঠন তাঁরই কৃতিত্ব। জলে-স্থলে অন্যূন পঞ্চাশটি যুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব করেন। গ্রিক অধিকৃত একটি দ্বীপে অভিযান চালাইতে গিয়া তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আবদুল্লাহ্ বিন আবি সারাহ্ ও এই জলযুদ্ধে প্রথম বিজয়ী সেনাপতি রূপে অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন। আরব ইতিহাসে তিনি নৌসেনাপতি রূপেই অধিক পরিচিত, যদিও স্থলযুদ্ধেও তাঁর ক্ষমতা কম ছিল না। এই যুদ্ধের ফলে আরবজাতি জলযুদ্ধের কলাকৌশল আয়ত্ত করিয়া ফেলে এবং নৌযোদ্ধা রূপে তাদের কৃতিত্ব উত্তরোত্তর বর্ধিত হইতে থাকে। ইহার পর সমগ্র ভূমধ্যসাগরে আরব রণতরী ও বাণিজ্য তরীসমূহ সগর্বে বিহার করিতে থাকে।

টিকাঃ
১. বর্তমানে এই দ্বীপের অধিবাসী সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লক্ষের ওপর। তাদের অধিকাংশ গ্রিক। মুসলিম অধিবাসীর সংখ্যা ৮০ হাজারের উর্ধে। তারা তুর্কি জাতীয়। মাউন্ট ওলিমপাস এখানকার প্রসিদ্ধ পর্বত। এখানকার খনিজ দ্রব্যসমূহের ভিতর তামা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 'কাইপ্রস' শব্দ হইতে নাকি কপার (Copper) নামের উৎপত্তি। সাইপ্রাসের সভ্যতা সুপ্রাচীন। খনন-কার্যের ফলে ইহার ভূগর্ভ হইতে যে-সব পুরাতন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তাহা হইতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনুমান করেন খ্রিস্ট-পূর্ব তিন হাজার হইতে চার হাজার বৎসরের ভিতর এখানে নিওলিথিক জাতীয় লোকদের বসতি ছিল। খ্রিস্টের জন্মের দেড় হাজার বৎসর পূর্বে এই দ্বীপ গ্রিকদের অধিকারে আসে এবং গ্রিক সভ্যতা দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবান্বিত হয়। খ্রিস্ট-পূর্ব অষ্টম শতকে ফিনিশীয় জাতি এখানে বসতী স্থাপন করে। ইহার পর এই দ্বীপ যথাক্রমে এশিরীয়, মিসর ও পারসিক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন বরাবর স্থানীয় রাজাগণই চালাইয়া আসিয়াছেন। খ্রিস্ট-পূর্ব ৩৩৩ সনে উহা কিছু কালের জন্য গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডারের অধিকারে চলিয়া যায়। তারপর পুনরায় উহা মিসরের অধীনতা স্বীকার করে। খ্রিস্টপূর্ব ৫৮ সনে রোমান জাতি এখানে উপনিবেশ স্থাপন করে। সেই হইতে দীর্ঘকাল উহা রোমকদের শাসনাধীনে ছিল। ৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মুসরিমগণ যখন এই দ্বীপ জয় করে তখনও উহা পূর্ব রোমক (বাইজেনটাইন) সম্রাটের শাসনাধীন ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00