📄 মসজিদে নববির সম্প্রসারণ
মদিনার মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ তাঁর এক স্মরণীয় কীর্তি। তিনি নিজ তত্ত্বাবধানে উক্ত মসজিদ সম্প্রসারণ করান। দশ মাস ধরিয়া চলে এই ভাঙা-গড়ার কাজ, আর এই দীর্ঘকাল খলিফা তাঁর শত কাজের ভিতরও নিজে এই কার্যের তত্ত্বাবধান করিতেন। তিনি অত্যন্ত রুচিবান লোক ছিলেন। ফলে তাঁর ঐকান্তিক যত্নে মসজিদটি শুধু আয়তনে বৃহৎ হয় না, উহা এক সুদৃশ্য মনোরম রূপ ধারণ করে।
মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ ব্যাপারেও হজরত ওসমানকে কম বেগ পাইতে হয় নাই। কারণ, মসজিদের আশপাশে খালি জায়গার একান্ত অভাব ছিল। মু'মিনদের সকলেরই আকাঙ্খা ছিল, মসজিদের যতটা সম্ভব সন্নিকটে বাস করা। তাই তাঁরা যেমন পারিয়াছেন, মসজিদের চতুষ্পার্শে গৃহ নির্মাণ করিয়া বসত করিতেছিলেন। জমির প্রয়োজনে হজরত ওসমানকে লোকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরিতে হয়েছিল। কেহ কেহ তাঁর অনুরোধে রাজি হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁহাদের জমি ছাড়িয়া দিলেন। কিন্তু অন্যদের জমি হুকুম দখল করিতে হয়েছিল। ইহাতে তাঁরা খলিফার শত্রু হয়ে পড়িয়াছিলেন। আবার গৃহ ভাঙিয়া ফেলিলে কাহার না প্রাণে লাগে। কিন্তু হজরত ওসমান আল্লাহর কাজে বরাবরই নির্ভীক ছিলেন। কোনো বাধা-বিঘ্নই তিনি গ্রাহ্য করেন নাই। ফলে মসজিদের কাজ দ্রুত আগাইয়া চলে এবং যথাসময়ে উহা মুসলিম জাহানের এক পরম বিস্ময়রূপে প্রমূর্ত হয়ে উঠে। ইহার পর বহুবার মসজিদে নববীর সংস্কার হয়েছে। কিন্তু প্রথম সঙ্কটের জ্বালা হজরত ওসমানকেই পোহাইতে হয়েছে। এজন্য মুসলিম সমাজ তাঁর নিকট ঋণী।
📄 বায়তুল মাল থেকে ঋণ দান
খলিফা শুধু দুঃস্থদের জন্য বায়তুল মাল হইতে মুক্ত হস্তে দান করিতেন না, অনেক লোককে তিনি ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুবিধার জন্যও বায়তুল মালের তহবিল হইতে মোটা অর্থ ঋণ দান করিতেন। জনসাধারণ ইহা পছন্দ করিত না। তাদের বিবেচনায়, সরকারি অর্থের যে উদ্দেশ্যে ব্যয়ের বিধান রহিয়াছে, এই ধরনের ঋণদান তাহার অন্তর্ভুক্ত নহে।
কিন্তু হজরত ওসমানের দৃষ্টি ছিল সুদূরপ্রসারী। আরব জাতি তখন আর ক্ষুদ্রব্যবসায়ী মাত্র নহে। বৃহত্তর পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। তাদের বাণিজ্যের ক্ষেত্রও পূর্বাপেক্ষা অনেক প্রসারিত হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের মোটা মূলধনের প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য। অন্যথা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-ক্ষেত্রে তারা প্রতিযোগিতা করিতে সমর্থ হইত না। ইহা উল্লেখযোগ্য, আরব উপদ্বীপের দুই পার্শ্ব দিয়া দুইটি সুদীর্ঘ বাণিজ্য পথ অতি প্রাচীন কাল হইতে প্রচলিত ছিল। একটি ছিল। এডেন হইতে লোহিত সাগর হয়ে সরু এক নদী পথে নীলের উত্তর-মোহনা পর্যন্ত। অপরটি ছিল পারস্য উপসাগর হইতে ফোরাতের পথে উত্তর সিরিয়া হইতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল পর্যন্ত। ত্রিপলী, বার্কা ইত্যাদি বন্দরগুলো এই উপকূলে অবস্থিত। উভয় পথেরই শেষ প্রান্তে ভিড়িত ইউরোপীয় বাণিজ্য জাহাজসমূহ। এই দুই পথে ভারত, সিন্ধু, সিংহল, জাভা, বর্নিও সুমাত্রা প্রভৃতি স্থানের উৎপন্ন দ্রব্য ইউরোপে যাইত। আর এই উভয় পথেরই মধ্যবর্তী অংশে সংযোগ রক্ষাকারী ছিল আরব-বণিকরা। কাজেই হজরত ওসমানের ব্যবসায়ীসুলভ দৃষ্টি এই দিকে আকৃষ্ট হয়েছিল। বায়তুল মালে তখন অর্থের অভাব ছিল না। মানুষের প্রয়োজনে উহা ব্যয়িত হওয়া উচিত, ইহাই ছিল হজরত ওসমানের যুক্তি।
📄 কুরআন সংকলন
হজরত ওসমান সম্পর্কে সুনাম ও দুর্নাম উভয়ই প্রচুর থাকিলেও ধর্মীয় ইতিহাসে অন্তত একটি কারণে তিনি অমর হয়ে আছেন। তিনি বিশুদ্ধ কুরআনের সাতখানি নকল প্রস্তুত করাইয়া বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করেছিলেন এবং অসংশোধিত কুরআনগুলো পোড়াইয়া দিয়াছিলেন। এইভাবে তিনি পবিত্র ঐশীবাণীর একত্ব রক্ষা করেছিলেন। অন্যথা হয়ত খ্রিস্টান ও ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থের ন্যায় আল কুরআনেও বিভিন্ন সংস্করণ দেখা দিত এবং তাহার ফলে মুসলিম জাহানে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হইত। ইহা সত্য, কুরআনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছিল। নবীর ওফাতের পর সেগুলো একত্র সন্নিবেশের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই কাজ সুসম্পন্ন করা হজরত ওসমানের শাসন আমলের আর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। একদা হজরত ওসমানের এক সেনাপতি আসিয়া বলেন, আর্মেনিয়া ও আজরবাইজান প্রদেশে তিনি কুরআন পাঠে বিভিন্নতা লক্ষ্য করিয়াছেন এবং এরূপ অবস্থা বেশি দিন চলিলে বিভিন্ন অঞ্চলে কুরআনের বিভিন্ন পাঠ প্রচলিত হইতে পারে এবং তাতে নিঃসন্দেহে তওরাত ও বাইবেলের মতো কুরআনেরও বিকৃতি দেখা দিতে পারে। হজরত ওসমান এই সংবাদে চিন্তিত হয়ে পড়েন। যদিও কুরআনের প্রত্যেক আয়াত ও প্রত্যেক সূরা অবতীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লিপিবদ্ধ করা হইত, নবীর জীবদ্দশায় গোটা কুরআন একত্রে সজ্জিত ও সঙ্কলিত করা সম্ভবপর হয় নাই, কেননা তিনি আমরণ ওহি লাভ করিয়াছেন এবং অনেক নতুন ওহি কোন না কোনো পূর্বতন সুরার অঙ্গীভূত হইত তার বিষয়বস্তুর ঐক্য ও সামঞ্জস্য হিসাবে।
যায়েদ বিন সাবিদ ছিলেন বিশিষ্ট ওহি লেখক। তিনি প্রায়ই নবীর নিকট থাকতেন এবং নবীর আদেশে ওহিগুলো আসা মাত্র লিখিয়া লইতেন। উক্ত যায়েদ সম্বন্ধে ছহি বোখারিতে উল্লেখ আছে, তিনি বলিয়াছেন, 'হজরত রাসুলের ওফাতের অল্পকাল পরেই মুসায়লামা নামক এক ভণ্ড নবীর বিরুদ্ধে হজরত আবু বকরকে এক অভিযান প্রেরণ করিতে হয়। ইমামা নামক স্থানে উভয় পক্ষের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে মুসলিম পক্ষের বহু কা'রী মৃত্যুমুখে পতিত হয়। যেহেতু তখন পর্যন্ত সমগ্র কুরআন কা'রীদের কণ্ঠে ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে লিখিত অংশগুলো গ্রন্থাকারে সঙ্কলিত হয় নাই, সেই কারণে হজরত উমরের মনে আশঙ্কার উদ্রেক হয় যে, ভবিষ্যতে এই ভাবে বহু কা'রি যুদ্ধে প্রাণ হারাইতে পারে এবং তাতে একটা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হইতে পারে। তিনি তখন সোজা খলিফা হজরত আবু বকরের নিকট চলিয়া গেলেন এবং তাঁকে তৎক্ষণাৎ হুকুম প্রদান করিতে অনুরোধ করিলেন, কুরআনের ইতস্তত বিক্ষিপ্ত লিখিত অংশসমূহকে সংগৃহীত করিয়া একত্র করিতে এবং একখণ্ডে গ্রথিত করিতে। হজরত আবু বকর প্রথমে কিঞ্চিত ইতস্তত করেন এই কারণে যে, নবী স্বয়ং এ কাজ করিয়া যান নাই। কিন্তু পরে তিনি হজরত উমরের সঙ্গে আরও আলোচনার পর জায়েদ বিন সাবিদকে ডাকিয়া পাঠান এবং কুরআনের লিখিত অংশসমূহের অনুসন্ধান করিতে ও একত্র করিতে আদেশ দেন। জায়েদ এই আদেশে অত্যন্ত শংকিত হন এবং বলেন, 'এর পরিবর্তে আমাকে যদি একটা পাহাড় সরাইতে বলা হইত, সে কাজ আমি এর চাইতে কঠিন মনে করিতাম না।' কিন্তু পরে তিনি খলিফার অনুরোধে সম্মত হন। ফতহুল বারি গ্রন্থে (৯ম খণ্ড, ১২শ পৃ:) লিখিত আছে, অতঃপর হযর উমর এই মর্মে আদেশ প্রচার করেন যে, যাহারা হজরত রাসুলে করীম হইতে সাক্ষাৎভাবে কোনও ওহি লাভ করিয়াছেন, তাঁরা যেন সেগুলো অবিলম্বে জায়েদের নিকট উপস্থিত করে। নবীর জীবদ্দশায় এইসব ওহি সাধারণত কাগজ, খেজুর পাতা অথবা পাথরের টুকরায় (tablet) লিখিত হইত। হজরত উমর শর্ত করিয়া যেন যে, এরূপ কোন দলিলই গৃহীত হইবে না, যে পর্যন্ত দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী তার সত্যতা প্রমাণিত করে। ফলে জায়েদকে মূল দলিল সংগৃহীত করিতে হয়েছে। সেই জন্যই জায়েদের নিকট এ কাজ পাহাড় সরানোর চাইতেও কঠিন মনে হয়েছিল। আল-কুরআনের এক বিস্তৃত অংশ মক্কায় অবতীর্ণ হয়। তাহা ছাড়া মদিনায় যত ওহি অবতীর্ণ হয় তারও সবগুলো জায়েদের কাছে ছিল না। শুধু লিখিত-সুরা হইলেই চলিবে না। সেগুলো নবীর সম্মুখে লিখিত হয়েছিল এরূপ প্রমাণিত হওয়া চাই। তাহাছাড়া সুরাগুলোকে মুখস্থ কুরআনের ভিতর যথাস্থানে বসানও ছিল জায়েদের দায়িত্বের মধ্যে। মুখস্থ কুরআনের সূরাগুলো নবীর নির্দেশক্রমেই পূর্বাপর সাজান ছিল। কাজেই তার ভিতর কোন অতিরিক্ত অংশ এইক্ষণ অনুপ্রবিষ্ট করান যে অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল, তাহা সহজেই অনুমেয়।
যাহা হউক, সমগ্র কুরআন একত্রে সঙ্কলিত হওয়ার পর উহা প্রথমত খলিফা হজরত আবুবকরের নিকট গচ্ছিত থাকে। তারপর উহা হজরত উমরের নিকট এবং আরও পরে নবী পত্নী (উমর কন্যা) বিবি হাফসার নিকট রক্ষিত থাকে। হজরত ওসমানের আমল পর্যন্ত উহা বিবি হাফসার তত্ত্বাবধানেই ছিল। সম্ভবত তখন এইখান হইতে আবশ্যকমতো কুরআনের নকল প্রণয়ন করা হইত এবং প্রার্থীদের নিকট বিতরণ করা হইত। কিন্তু ইহার পর যে অবস্থায় হজরত ওসমান সরকারি তত্ত্বাবধানে নকল প্রস্তুত করাইয়া বিতরণ করিতে এবং বেসরকারি নকলকারীদের কর্তৃক প্রস্তুত নকলাসমূহ ধ্বংস করিতে বাধ্য হন, ছহি বুখারিতে তাহা এইভাবে উল্লেখিত হয়েছে:
আনাস বিন মালিক বর্ণনা করিয়াছেন, 'হুযাইয়া নামক এক ব্যক্তি হজরত ওসমানের নিকট আসিল। সে সিরিয়াবাসীদের আর্মেনিয়া জয়ের সময় তাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিল এবং ইরাকিদের সঙ্গে আজরবাইজান যুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল। সে এইসব প্রান্তিক অঞ্চলে লোকদের বিভিন্ন প্রকার কুরআন পাঠ করিতে দেখিয়া শঙ্কিত হয়েছিল। সে খলিফাকে বলিল, 'হে আমিরুল মু'মিনীন, এইসব লোকদের এইভাবে পবিত্র গ্রন্থ পাঠের বিভিন্নতা সৃষ্টি করা বন্ধ করুন, যাতে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অবস্থা মুসলমানদের ভিতর না ঘটে।' তখন বিবি হাস্সার নিকট হইতে খলিফা পূর্ব সঙ্কলিত কুরআন চাহিয়া পাঠান এই বলিয়া যে, উহা হইতে কতকগুলো নকল প্রস্তুত করাইয়া পুনরায় উহা তাঁকে ফিরাইয়া দেওয়া হইবে। বিবি হাস্সা খলিফার আদেশ অনুযায়ী কুরআন দিয়া দেন। খলিফা তখন জায়েদ বিন সাবিদ, আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের, সাদ ইবনুল আ'স এবং আবদুর রহমান দিন হারিস ইবনে হিসামকে কতিপয় নকল প্রস্তুত করিতে আদেশ দেন। তাঁরাও এই আদেশ প্রতিপালন করেন। তাদের ভিতর জায়েদ ছিলেন মদিনার অধিবাসী। হজরত ওসমান অপর তিন সদস্যকে বলিয়া দেন, যখন তারা কুরআনের ভাষা সম্পর্কে জায়েদের সঙ্গে একমত হইতে না পারিবে, তখন কুরাইশদের রীতি অনুসরণ করিবে। কেননা, কুরআন কুরাইশদের জবানে অবতীর্ণ হয়েছিল। তারা খলিফার এই উপদেশ অনুসরণ করেছিলেন। উপস্থিত প্রয়োজন মিটাইবার জন্য হজরত ওসমান সাতখানি নকল প্রস্তুত করাইয়া মূল কুরআন বিবি হাস্সাকে ফিরাইয়া দেন। নকলগুলো পরে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয় এবং ঐ সব এলাকায় প্রচলিত অন্যান্য কুরআন এবং কুরআনের খণ্ড অথবা অংশ বা পৃষ্ঠাগুলো সমস্ত পোড়াইয়া ফেলিতে হুকুম দেন। কিন্তু খলিফার দুর্ভাগ্যবশত তাঁর সদুদ্দেশ্যে প্রচারিত এই আদেশও পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের একটি মুখ্য কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ হজরত ওসমান এককভাবে এই আদেশ প্রচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন নাই। তিনি হজরত রাসুলের সাহাবাগণের সহিত পরামর্শ করিয়াই এই আদেশ প্রচার করেন। এই সম্পর্কে ইবনে আবি দাউদ হইতে রাবি-পরম্পরায় আগত হজরত আলির একটি উক্তি যাহা, 'ফতহুল বারি' গ্রন্থের ৯ম অধ্যায়ের ১৬শ পৃষ্ঠায় নির্ভরযোগ্য বলিয়া উদ্ধৃত হয়েছে, তাই এই:
'তোমরা ওসমানের প্রশংসা ব্যতীত নিন্দাসূচক কোনো কথা আমাকে বলিওনা' কেননা তিনি কুরআনের ঘরোয়া কপিগুলোর ধ্বংসের আদেশ আমাদের সহিত পরামর্শ না করিয়া দেন নাই।'
কুরআনের নকলগুলো প্রস্তুত করানোর ব্যাপারে বারো সদস্য বিশিষ্ট একটি কার্যকরী সংসদ গঠিত হয়েছিল, যাদের কাজ ছিল কুরআনের নকল কার্য নির্ভুলভাবে হইতেছে কি না-তাহা পর্যবেক্ষণ করা। ইহাদের ভিতর জায়েদ, সাঈদ, উবে, আনাস বিন মালিক এবং আব্বাস ছিলেন। দেখা যাইতেছে, গোড়ায় চারিজন সদস্য এই কার্যে নিয়োজিত হয়েছিল, কিন্তু পরে পূর্ব অনুমানের চাইতে বেশি কপির প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় সদস্য সংখ্যা বাড়ান হয়।
হজরত ওসমানের নির্দেশে কোনো প্রকার পরিবর্তনই পূর্ব-সংকলিত কুরআনে সাধিত হয় নাই। হজরত আবুবকর যে ব্যক্তিকে নকলকারী নিয়োজিত করেছিলেন এবং যে ব্যক্তি নবীর জীবদ্দশাতেও সূরা লিখিয়া লইতেন, সেই জায়েদকেই হজরত ওসমান নকলকার্যে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি অন্যান্য নকলকারীদেরও সাহাবিদের মতো লইয়াই নির্বাচিত করেছিলেন। যাহারা তাঁর মাথা কাটিয়াছিল, তাদেরও অভিযোগে এমন কথা ছিল না, হজরত ওসমান কুরআনে নিজে কোনও পরিবর্তন ঘটাইয়াছিলেন। তাদের আপত্তি ছিল, দেশের অভ্যন্তরে প্রচলিত যাবতীয় পুরাতন কুরআনগুলোর ধ্বংস সম্বন্ধে। কারণ, তাদের মতে যে কাগজে কুরআনের কোনও আয়াত লিখিত থাকে, তাহা পোড়ান গোনাহ।