📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 বাঁধ নির্মাণ

📄 বাঁধ নির্মাণ


বহুদিন হইতে মদিনা-অঞ্চলের কৃষকদের এক মহা অসুবিধা ছিল; খয়বরের দিক হইতে মাঝে মাঝে বন্যার স্রোত দোয়াব বহিয়া মদিনা পর্যন্ত আসিত এবং তাদের মাঠের শস্য বিনষ্ট করিত। আরবের কৃষকরা সাধারণত এইসব দোয়াব বা নিম্নস্থানে গম, ফুটি, তরমুজ ও মসলাদির আবাদ করিয়া থাকে। দোয়াবগুলো নদীর শুষ্ক তলার মতো দীর্ঘ এবং সরু। তার দুই পার্শ্বে খাকিত উচ্চ বালুকার প্রান্তর। অধিক বৃষ্টি হইলে এই দোয়াবগুলো দিয়া স্রোত বহিত এবং সে-বন্যা দীর্ঘস্থায়ী না হইলেও তাতে শস্যের হানি হইত। হজরত ওসমান এই প্রাকৃতিক দুর্ভোগ হইতে চাষিদের শস্য রক্ষার উদ্দেশ্যে মদিনা হইতে কিঞ্চিৎ দূরে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন, যাহাতে বন্যার প্লাবন মদিনার মাঠে না আসিতে পারে। ইহার উপকারিতা সুদূর প্রসারী হয়েছিল।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 চারণভূমি সংরক্ষণ

📄 চারণভূমি সংরক্ষণ


মরুভূমির দেশে মানুষের খাদ্য-পানীয়ের ন্যায় গৃহপালিত পশুগুলোরও খাদ্য-পানীয়ের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুম্বা, মেঘ ও উটের প্রচুর চারণভূমির দরকার। হজরত ওসমান সরকারি পশুগুলোর এই প্রয়োজন মিটানোর জন্য বাকি নামক ময়দানে 'সংরক্ষিত' চারণভূমির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আশ্চর্য এই, খলিফা এ-কার্যও পরে বিদ্রোহীদের অভিযোগের তালিকাভুক্ত হয়েছিল। চারণভূমি যখন নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হয়, তখনই কতক লোক খলিফার দুর্নাম করে এই বলিয়া, তিনি নিজের বিরাট পশুপালের জন্য সাধারণের অধিকার খর্ব করিয়া এই সব চারণভূমি রক্ষিত করছেন। খলিফা তার উত্তরে বলেন, তাঁর নিজের প্রয়োজনে তিনি এ-কাজ করছেন না, সাদদার উটগুলো যাহাতে খাদ্যের অভাবে মরিয়া না যায় সেই জন্যই তিনি চারণভূমি চিহ্নিত করিয়া দিতেছেন।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 রিলিফ-ব্যবস্থা

📄 রিলিফ-ব্যবস্থা


হজরত ওসমান খলিফা হওয়ার পূর্বে যেমন মুসলমানদের দুঃখ মোচন এবং নবীন মুসলিম রাষ্ট্রের বিপদ মুক্তির উদ্দেশ্যে অকাতরে অর্থদান করিতেন, খলিফা হওয়ার পরও তাঁর সেই দানের হস্ত সঙ্কুচিত হয় নাই। তাঁর খিলাফৎ আমলে মদিনা অঞ্চলে একবার দুর্ভিক্ষ ঘটে। তখন মানুষ যাহাতে অনাহারে মৃত্যুমুখে পতিত না হয়, এই উদ্দেশ্যে তিনি সর্বস্ব দান করিয়া কপর্দকশূন্য হয়ে পড়িয়াছিলেন। কিন্তু সে অবস্থায়ও তিনি কখনও অনুতাপ প্রকাশ করেন নাই। নবীর নিকট তিনি শিক্ষা পাইয়াছিলেন, আল্লাহই মানুষের ধন দৌলত রিজেক দানের মালিক। নবীর সেই মহাশিক্ষার সার্থক রূপায়ন হয় হজরত ওসমানের জীবনে কল্যাণব্রতে।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 মসজিদে নববির সম্প্রসারণ

📄 মসজিদে নববির সম্প্রসারণ


মদিনার মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ তাঁর এক স্মরণীয় কীর্তি। তিনি নিজ তত্ত্বাবধানে উক্ত মসজিদ সম্প্রসারণ করান। দশ মাস ধরিয়া চলে এই ভাঙা-গড়ার কাজ, আর এই দীর্ঘকাল খলিফা তাঁর শত কাজের ভিতরও নিজে এই কার্যের তত্ত্বাবধান করিতেন। তিনি অত্যন্ত রুচিবান লোক ছিলেন। ফলে তাঁর ঐকান্তিক যত্নে মসজিদটি শুধু আয়তনে বৃহৎ হয় না, উহা এক সুদৃশ্য মনোরম রূপ ধারণ করে।
মসজিদে নববীর সম্প্রসারণ ব্যাপারেও হজরত ওসমানকে কম বেগ পাইতে হয় নাই। কারণ, মসজিদের আশপাশে খালি জায়গার একান্ত অভাব ছিল। মু'মিনদের সকলেরই আকাঙ্খা ছিল, মসজিদের যতটা সম্ভব সন্নিকটে বাস করা। তাই তাঁরা যেমন পারিয়াছেন, মসজিদের চতুষ্পার্শে গৃহ নির্মাণ করিয়া বসত করিতেছিলেন। জমির প্রয়োজনে হজরত ওসমানকে লোকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরিতে হয়েছিল। কেহ কেহ তাঁর অনুরোধে রাজি হয়েছিলেন। তাঁরা তাঁহাদের জমি ছাড়িয়া দিলেন। কিন্তু অন্যদের জমি হুকুম দখল করিতে হয়েছিল। ইহাতে তাঁরা খলিফার শত্রু হয়ে পড়িয়াছিলেন। আবার গৃহ ভাঙিয়া ফেলিলে কাহার না প্রাণে লাগে। কিন্তু হজরত ওসমান আল্লাহর কাজে বরাবরই নির্ভীক ছিলেন। কোনো বাধা-বিঘ্নই তিনি গ্রাহ্য করেন নাই। ফলে মসজিদের কাজ দ্রুত আগাইয়া চলে এবং যথাসময়ে উহা মুসলিম জাহানের এক পরম বিস্ময়রূপে প্রমূর্ত হয়ে উঠে। ইহার পর বহুবার মসজিদে নববীর সংস্কার হয়েছে। কিন্তু প্রথম সঙ্কটের জ্বালা হজরত ওসমানকেই পোহাইতে হয়েছে। এজন্য মুসলিম সমাজ তাঁর নিকট ঋণী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00