📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 রাস্তা নির্মাণ ও সরাই প্রতিষ্ঠা

📄 রাস্তা নির্মাণ ও সরাই প্রতিষ্ঠা


হজরত ওসমানের আমলে মুসলিম-সাম্রাজ্যের সীমানা অনেক প্রসারিত হয়। নতুন নতুন দেশ জয়ের ফলে রাষ্ট্রের আয়তন বাড়িয়া যায়। খলিফা এই বর্ধিত আয় জনহিতকর কার্যে ব্যয় করিতেন। লোকের চলাচলের সুবিধার জন্য তিনি অনেক সড়ক-নির্মাণ করান এবং সড়কের পাশে পাশে সরাইখানা প্রতিষ্ঠিত করান। এই সব সরাইতে পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকিত। পথিকরা দূর-দূরান্তরে যাইতেও পথে আশ্রয়, খাদ্য ও পানীয়ের অভাব অনুভব করিত না। মদিনা শহর তখন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সাম্রাজ্যের রাজধানী হওয়ায় সুদূর প্রদেশসমূহ হইতেও লোকজন ও সরকারি কর্মচারীদের মদিনায় আসিতে হইত। এরূপ পরিস্থিতিতে উপযুক্ত রাস্তা-ঘাটের ব্যবস্থা যে খলিফার দূরদর্শিতার পরিচায়ক ছিল তাতে সন্দেহ নাই। অধিকন্তু এই ব্যবস্থার ফলে দেশের অভ্যন্তরে মাল চলাচল ও বাণিজ্যিক সুবিধা যে বৃদ্ধি পাইয়াছিল তাহা বলাই বাহুল্য।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 কূপ খনন

📄 কূপ খনন


মরুভূমির দেশ আরবে পানির প্রশ্নের মতো জরুরি প্রশ্ন আর নাই। হজরত ওসমান এ-সম্বন্ধে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তিনি মদিনায় বসতি স্থাপনের পরই তত্রত্য মুসলিমদের জলকষ্ট লাঘব করিবার জন্য ইহুদিদের এক কূপ ক্রয় করিয়া জনগণের হস্তে উহা ছাড়িয়া দিয়াছিলেন, এ-কথা পূর্বে বলিয়াছি। খলিফা হয়ে সরকারি অর্থে তিনি রাজধানী শহরে অনেকগুলো কূপ খনন করান এবং মদিনার বাহিরেও স্থানে স্থানে কূপ খনন করাইয়া সাধারণ অধিবাসীদের জল-কষ্টের লাঘব করেন।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 বাঁধ নির্মাণ

📄 বাঁধ নির্মাণ


বহুদিন হইতে মদিনা-অঞ্চলের কৃষকদের এক মহা অসুবিধা ছিল; খয়বরের দিক হইতে মাঝে মাঝে বন্যার স্রোত দোয়াব বহিয়া মদিনা পর্যন্ত আসিত এবং তাদের মাঠের শস্য বিনষ্ট করিত। আরবের কৃষকরা সাধারণত এইসব দোয়াব বা নিম্নস্থানে গম, ফুটি, তরমুজ ও মসলাদির আবাদ করিয়া থাকে। দোয়াবগুলো নদীর শুষ্ক তলার মতো দীর্ঘ এবং সরু। তার দুই পার্শ্বে খাকিত উচ্চ বালুকার প্রান্তর। অধিক বৃষ্টি হইলে এই দোয়াবগুলো দিয়া স্রোত বহিত এবং সে-বন্যা দীর্ঘস্থায়ী না হইলেও তাতে শস্যের হানি হইত। হজরত ওসমান এই প্রাকৃতিক দুর্ভোগ হইতে চাষিদের শস্য রক্ষার উদ্দেশ্যে মদিনা হইতে কিঞ্চিৎ দূরে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন, যাহাতে বন্যার প্লাবন মদিনার মাঠে না আসিতে পারে। ইহার উপকারিতা সুদূর প্রসারী হয়েছিল।

📘 হযরত ওসমান (রাঃ) > 📄 চারণভূমি সংরক্ষণ

📄 চারণভূমি সংরক্ষণ


মরুভূমির দেশে মানুষের খাদ্য-পানীয়ের ন্যায় গৃহপালিত পশুগুলোরও খাদ্য-পানীয়ের প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুম্বা, মেঘ ও উটের প্রচুর চারণভূমির দরকার। হজরত ওসমান সরকারি পশুগুলোর এই প্রয়োজন মিটানোর জন্য বাকি নামক ময়দানে 'সংরক্ষিত' চারণভূমির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু আশ্চর্য এই, খলিফা এ-কার্যও পরে বিদ্রোহীদের অভিযোগের তালিকাভুক্ত হয়েছিল। চারণভূমি যখন নির্দিষ্ট করিয়া দেওয়া হয়, তখনই কতক লোক খলিফার দুর্নাম করে এই বলিয়া, তিনি নিজের বিরাট পশুপালের জন্য সাধারণের অধিকার খর্ব করিয়া এই সব চারণভূমি রক্ষিত করছেন। খলিফা তার উত্তরে বলেন, তাঁর নিজের প্রয়োজনে তিনি এ-কাজ করছেন না, সাদদার উটগুলো যাহাতে খাদ্যের অভাবে মরিয়া না যায় সেই জন্যই তিনি চারণভূমি চিহ্নিত করিয়া দিতেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00