📄 রাসূল সা.-কে হত্যার চেষ্টা
একদিন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কুরাইশেরা আলোচনায় বসল। তারা জানতে চাইল, 'মুহাম্মাদকে কে হত্যা করতে পারবে?' উমর ইবনুল খাত্তাব বললেন, 'আমি পারব।' তারা উৎসাহ দিয়ে বলল, 'তুমিই পারবে, উমর!' গ্রীষ্মের ভরদুপুরে খোলা তরবারিহাতে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সাহাবীদের খোঁজে বের হলেন। তখন আবু বকর, আলী এবং হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথেই চলাফেরা করতেন। তারা অন্যদের সাথে আবিসিনয়ায় চলে যাননি। তিনি খবর পেলেন যে তারা সবাই সাফা পাহাড়ের পাদদেশে দারুল আরকামে একত্র হয়েছেন। পথে নুআইম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নাহহামের সাথে দেখা হলো। সে জানতে চাইল, 'কোথায় চললে, উমর?' তিনি বললেন, 'আমি সাবিকে (যে ধর্ম পরিবর্তন করেছে) খুঁজছি। সে কুরাইশদের বিভক্ত করেছে, তাদের জ্ঞানকে হেয় করেছে, ধর্মকে তাচ্ছিল্য করেছে আর দেবতাদের নিন্দা করেছে। আমি তাকে হত্যা করব।' নুআইম তাকে বলল, 'উমর, ভুল পথ ধরলে! আল্লাহর কসম, তুমি বোকা বনে গেছ, বিপদগ্রস্ত হয়ে আছ। তুমি কিন্তু বনু আদিয়ি্যর ধ্বংসের কারণ হবে। তুমি কি মনে কর, মুহাম্মাদকে হত্যার পর বনু আব্দ মানাফ তোমাকে দুনিয়ার মাটিতে হাঁটার জন্য ছেড়ে দেবে?' তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাদের কণ্ঠ চড়ে গেল। তখন উমর বললেন, 'আমার মনে হয় তুমি তোমার ধর্ম পরিবর্তন (মুসলিম হওয়া) করেছ। আমি যদি এর সত্যতা পাই আমি তোমাকে দিয়েই শুরু করব।' আল নাহহাম যখন বুঝতে পারল, তাকে কোনোভাবেই থামানো যাবে না। তখন সে বলল, 'তবে শোনো, তোমার এবং তোমার ভগ্নিপতির পরিবার মুসলিম হয়ে গেছে। তারা তোমাকে এবং তোমার ভুল পথ ত্যাগ করেছে।' এ কথা শুনে উমর জানতে চাইলেন, 'কে কে এ কাজ করেছে?' সে বলল, 'তোমার ভগ্নিপতি, বোন আর তোমার চাচাত ভাই।
📄 ইসলাম গ্রহণ
উমর ইবনুল খাত্তাব আর তার মতো লোকেদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এক কুরাইশ নারী মাতৃভূমি ছেড়ে দূরদেশে পাড়ি জমাচ্ছিল। এই দৃশ্য প্রথমবারের মতো তার অন্তরে ঈমানের নূর ছড়ায়। সেদিন তার বিবেকে প্রচণ্ড নাড়া লেগেছিল। তিনি ভীষণ অনুতপ্ত হয়ে ওঠেন। দেশান্তরি মানুষের জন্য কষ্ট লাগতে থাকে। এক পর্যায়ে সকলকে অবাক করে দিয়ে তিনি তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলতে লাগলেন।
উম্মে আব্দুল্লাহ বিনতে হানতামা থেকে বর্ণিত, 'আমরা আবিসিনিয়ায় চলে যাচ্ছিলাম। আমার সামনে উমর এসে হাজির হলো। কী নির্দয়ভাবে যে অত্যাচার করত! তিনি বললেন, 'হে উম্মে আব্দুল্লাহ! তোমরা চলে যাচ্ছ?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ। আপনি যুলুম করেছেন, নির্যাতন করেছেন। আল্লাহর কসম, আমরা এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর দেশ ছেড়ে দূরেই থাকবো। উমর বললেন, 'আল্লাহ তোমাদের সহায় হোন।' আমি কখনো তাকে এত নম্র হতে দেখিনি। আমির ইবনে রাবীয়া কাজ থেকে ফিরে এলে তাকে ঘটনাটি বললাম। সে জানতে চাইল, 'তোমার কি মনে হয় উমর ইসলাম গ্রহণ করবে?' আমি বললাম, 'হ্যাঁ।' তখন সে বলে উঠল, 'আল-খাত্তাবের গাধাগুলো যেদিন মুসলিম হবে, সেদিন সেও হবে।'
সেই নারীর কথা শুনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বিচলিত হয়ে পড়েন। তার খুব কষ্ট লাগছিল। কঠিন অত্যাচার সত্ত্বেও নতুন ধর্মের অনুসারীরা ভেঙে পড়েনি। এই অবিশ্বাস্য দৃঢ়তার কী রহস্য? তার খুব কষ্ট লাগল, মন ব্যথায় ভরে গেল।
এই ঘটনার পরেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর বরকতে তিনি মুসলিম হয়ে গেলেন। তিনি এই বলে দোয়া করেছিলেন, 'হে আল্লাহ, আবু জাহেল ইবনে হিশাম নয়তো উমর ইবনুল খাত্তাব, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যাকে আপনার বেশি পছন্দ তার মাধ্যমে ইসলামকে সাহায্য করুন।' আর এই দু-জনের মধ্যে আল্লাহ তালার কাছে উমর বেশি পছন্দনীয় ছিলেন। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেন যা উমরকে ইসলামের দিকে নিয়ে গেল।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: উমর কোনোকিছু নিয়ে এরকম এরকম হবে বলে ভেবেছেন, আর তা সেভাবে হয়নি- আমার অভিজ্ঞতায় তা কখনও ঘটেনি। একদিন উমর বসে ছিলেন আর তার পাশ দিয়ে একজন সুদর্শন লোক হেঁটে গেল। উমর বললেন, 'আমি যদি ভুল না করে থাকি, লোকটি এখনো জাহেলী ধর্মের অনুসারী নয়তো তাদের গণক। লোকটাকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো।' তাকে ডেকে আনার পরে তিনি যা ভাবছিলেন তা বললেন। লোকটা বলল, 'আমার জীবনে এমন দিন কখনো আসেনি। একজন মুসলিমকে এভাবে অভিযুক্ত করা হলো।' উমর বললেন, 'আমি তোমার কাছে সত্যটা শুনতে চাচ্ছি।' সে জবাব দিল, 'আমি জাহেলী যুগে গণক ছিলাম।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার নারী জ্বীনটা তোমাকে যা যা বলত তার মধ্যে কোনটা সবচেয়ে অদ্ভূত ছিল?' সে বলতে শুরু করল, 'একদিন আমি বাজারে গিয়েছিলাম। সেই নারী জ্বীন ভীতভাবে আমার কাছে এসে বলল, 'তুমি জ্বীনদের দুর্দশার খবর পাওনি? তারা পরাজিত হয়েছে, তারপরে তাদেরকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে (ঊর্ধ্বাকাশের সংবাদ শোনা থেকে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে)। এখন তারা (আর ঊর্ধ্বাকাশে গমন করতে পারছে না) তাই উষ্ট্রারোহীদের (আরব) অনুসরণ করে যাচ্ছে।'
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'সে সত্য বলছে। একদিন আমি তাদের (আরবদের) দেব-দেবীর মূর্তির কাছে ঘুমাচ্ছিলাম। একটা লোক একটা বাছুর উৎসর্গ করল (দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে)। একটা অদৃশ্য জিনিস তার উদ্দেশে চিৎকার করে উঠল। আমি এমন ভয়ানক রুক্ষ কণ্ঠস্বর আর কখনো শুনিনি। সে বলতে লাগল, 'হে বেহায়া পাপাচারী! খুব সাফল্য দেখালে!' এক বাক্যবাগীশ বলে উঠলো, 'আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই।' বলা হয় এর কিছুদিন পরেই একজন নবীর আবির্ভাব ঘটল।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুসলিম হওয়ার কারণ নিয়ে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। এই সনদগুলোকে হাদীস শাস্ত্রের মাপকাঠি দিয়ে পরখ করলে কোনোটিকে সঠিক মনে হয় না। সীরাত ও ইতিহাসের কিতাবাদি থেকে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের এবং তার প্রকাশ্যে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘোষণার ঘটনা নিয়ে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায় সেগুলোকে দু-ভাগে ভাগ করা যায় :
📄 বোনের বাড়িতে উমরের হামলা এবং ভাইয়ের সামনে ফাতিমা বিনতে আল-খাত্তাবের দৃঢ়তা
উমর যখন শুনলেন তার বোন এবং ভগ্নিপতি মুসলিম হয়ে গেছেন তিনি রাগে ফেটে পড়েন। তাদের বাড়িতে চলে যান। দরজায় করাঘাত শুনে তারা জানতে চাইলেন, 'কে?' তিনি বললেন, 'আল-খাত্তাবের পুত্র।' তারা একটা কাগজ হাতে নিয়ে পড়ছিলেন। তারা যখন বুঝতে পারলেন যে, উমর এসে গেছেন, তখন তাড়াতাড়ি কাগজটিকে লুকাতে চাইলেন। ঘরে ঢোকামাত্রই তার চেহারা দেখে তার বোন বুঝতে পারলেন যে তার মধ্যে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য কাজ করছে। তিনি কাগজটাকে দুই পায়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কী নিয়ে বিড়বিড় করছিলে? ফিসফিস করে কী পড়ছিলে তোমরা? আমি তোমাদের বাড়িতে ঢোকার সময় শুনতে পেয়েছি?' তারা তখন সুরা ত-হা পড়ছিলেন। তারা উত্তর দিলেন, 'আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম।' উমর বললেন, 'সম্ভবত তোমরা ধর্ম পরিবর্তন করেছ?' তার ভগ্নিপতি বললেন, 'হে উমর, যদি আপনার ধর্ম ছাড়া অন্যকিছুর মধ্যে সত্য থেকে থাকে তাহলে কী হবে?' উমর তখনই তার ভগ্নিপতি সাঈদকে আক্রমণ করে বসেন। তিনি তার দাড়ি ধরে টান দিলে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। উমর ছিলেন প্রচণ্ড শক্তিশালী। তিনি সাঈদকে ধরাশায়ী করে তার বুকে চেপে বসলেন। তার বোন স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলেন। উমর তাকে দূরে ছুঁড়ে ফেললেন। তার মুখ ফেটে রক্ত পড়তে লাগল। ফাতিমা রেগে চিৎকার করতে লাগলেন, 'ও আল্লাহর শত্রু, আমি একমাত্র আল্লাহর ওপরে ঈমান এনেছি বলে কি এভাবে আঘাত করছ?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' তার বোন বললেন, 'তবে তোমার যা ইচ্ছা কর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। আমরা মুসলিম হয়ে গেছি। তোমার ভালো লাগুক আর নাই লাগুক।'
এ কথা শুনে উমর হঠাৎ করে কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে লাগলেন। ফলে ভগ্নিপতির উপর থেকে সরে বসেন। অতঃপর বললেন, 'তোমাদের কাগজটি আমাকে দাও।' তার বোন বললেন, 'দেব না।' তিনি বললেন, 'অভিশাপ তোমাকে! তোমার কথা আমাকে নাড়া দিয়েছে। ওটা আমাকে দেখতে দাও। কথা দিচ্ছি, আমি তোমার সাথে প্রতারণা করব না। তোমাকে ওটা ফিরিয়ে দেব, তুমি যেখানে খুশি রেখে দিও। সেখানে রাখতে পারবে ওটাকে।' ফাতিমা বললেন, 'তুমি নাপাক হয়ে আছ, আর : 'যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।' ওঠ, পাক হয়ে এসো।' উমর বাইরে গেলেন, হাত-পা ধুয়ে আসলেন। তারপরে বোনের কাছ থেকে কাগজটি নিলেন। সেখানে সূরা ত-হাসহ বেশ কয়েকটি সূরা লেখা ছিল। কাগজে-বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম (পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)-লেখা ছিল। আর-রাহমান এবং আর-রাহীম শব্দ দুটি পড়ে তিনি একেবারে অস্থির হয়ে পড়লেন। কাগজটি ফেলে দিলেন। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে কাগজটা আবার তুলে নিয়ে পড়তে লাগলেন,
طهُ مَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَى إِلَّا تَذْكِرَةً لِمَنْ يَخْشُونَ تَنْزِيلًا مِمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَ السَّمَوَاتِ الْعُلَى الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى لَهُ
مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَ مَا تَحْتَ الثَّرَى وَإِنْ تَجْهَرُ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَ اَخْفَى اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى
ত্ব-হা। আপনাকে ক্লেশ দেবার জন্য আমি আপনার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি। কিন্তু তাদেরই উপদেশের জন্য যারা ভয় করে। এটা তাঁর কাছ থেকে অবতীর্ণ, যিনি ভূমণ্ডল ও সমুচ্চ নভোমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন। তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। নভোমণ্ডলে, ভূমণ্ডলে, এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং সিক্ত ভূগর্ভে যা আছে, তা তাঁরই। যদি তুমি উচ্চকণ্ঠেও কথা বলো, তিনি তো গুপ্ত ও তদাপেক্ষাও গুপ্ত বিষয়বস্তু জানেন। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য ইলাহ নেই। সব সৌন্দর্যমণ্ডিত নাম তাঁরই।
তিনি এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা অনুভব করলেন। বললেন, 'এই জিনিস থেকেই কি কুরাইশেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে?' এরপর কাগজটা থেকে আরও একটু পড়লেন, এই শব্দগুলো তার চোখে পড়ল,
انَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُنِي وَأَقِمِ الصَّلُوةَ لِذِكْرِي إِنَّ السَّاعَةَ اتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيْهَا لِتُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَى فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَنْ لَّا يُؤْمِنُ بِهَا وَ اتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَى
আমিই আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব, আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম করো। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি কেয়ামতে বিশ্বাস রাখে না এবং নিজ খাহেশের অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে তা থেকে নিবৃত্ত না করে। নিবৃত্ত হলে তুমি ধবংস হয়ে যাবে।
উমর বললেন, 'তিনি বলেছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। মুহম্মাদ কোথায়?'
📄 উমর রা. মুহাম্মদ সা.-এর কাছে গেলেন এবং তার ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন
খাব্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু একটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন। এই ঘটনা শুনে বেরিয়ে এসে বললেন, উমর, আনন্দিত হও। সোমবার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দুআ করেছিলেন এ বুঝি সেই দুআর ফল। তিনি বলেছিলেন, 'হে আল্লাহ, আবু জাহেল ইবনে হিশাম আর উমর ইবনুল খাত্তাব, এই দুই ব্যক্তির মধ্যে যাকে তোমার বেশি পছন্দ তার মাধ্যমে ইসলামকে সাহায্য করো।
উমর জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ এখন কোথায়?' উমরের এ জিজ্ঞাসার মধ্যে কোনো কপটতা ছিল না। তারা এটা বুঝতে পেরে বলে দিলেন, 'তিনি সাফা পাহাড়ের পাদদেশে আছেন।' উমর তরবারি হাতে রওনা দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সাহাবীরা যেখানে ছিলেন, সেখানে পৌঁছে দরজায় করাঘাত করলেন। উমরের কণ্ঠ শুনে ভয়ে কেউ দরজা খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তার বিরূপ মনোভাবের কথা সবার জানা ছিল। সবাইকে ভয় পেতে দেখে হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'তোমাদের কী হয়েছে?' তারা জবাব দিলেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব এসেছে।' হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব? দরজা খুলে দাও। আল্লাহ তার ভালো চাইলে সে মুসলিম হবে। আর যদি তিনি অন্যকিছু চান, তাহলে আমরা তাকে সহজেই হত্যা করতে পারব।' তারা দরজা খুলে দিলেন। হামযা রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং আরেকজন উমরের বাহু ধরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাজির করলেন। তিনি বললেন, 'তাকে ছেড়ে দাও। তিনি উমরের তার কাপড়ের গিঁট জোরে টান দিয়ে বললেন, 'হে আল-খাত্তাবের পুত্র, কোন জিনিস তোমাকে এখানে টেনে আনল? আল্লাহর কসম, তোমার ওপর আল্লাহর গজব না নামা পর্যন্ত মনে হয় থামবে না।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহ আর তার রাসূলের প্রতি এবং আপনি আল্লাহর কাছ থেকে যা পেয়েছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'আল্লাহু আকবর' বলে উঠলেন। সাহাবা রাযিয়াল্লাহু আনহুমের বুঝতে বাকি রইল না যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মুসলিম হয়ে গেছেন। হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মতো উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মুসলিম হয়ে গেলেন বলে সাহাবায়ে কেরামের আনন্দের সীমা ছিল না। কারণ, এই দুজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেফাযতের পাশাপাশি শত্রুদের সাথে বোঝাপড়া করতে পারবেন।