📄 উপসংহার
উপসংহার
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর সাথে ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো। ইতিহাসে তিনি জ্ঞান ও দূরদর্শিতায় একজন একক ব্যক্তিত্ব হিসাবেই পরিচিত। সম্পদ সঞ্চয় কিংবা দুনিয়ার ক্ষমতা অর্জন তার জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল না; তার পদমর্যাদা তাকে সত্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি এবং তিনি তার ছেলে বা নিকটাত্মীয়দের কোনো অন্যায় কাজে প্রশ্রয় দেননি; বরং তার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামকে সাহায্য করা। আর তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ছিল দুনিয়ার বুকে শরয়ী আইনকে প্রতিষ্ঠিত করা। তিনি তার অধীন সকল মানুষের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। একটি জাতির সুদীর্ঘকালের তুলনায় তার শাসনামল ছিল অতি সামান্য। এর মধ্যেই তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে এসব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তার জীবনী অধ্যয়নে নতুন প্রজন্ম ইসলামের প্রথম যুগের গৌরব ও ঐতিহ্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত খুঁজে পাবে। আর এটি তাদের এ শিক্ষা দেবে যে, সর্বশেষ প্রজন্মের হেদায়েত লাভে এমন নীতির অনুসরণই প্রয়োজন, যা প্রথম প্রজন্ম অনুসরণ করেছিলেন। খুলাফায়ে রাশেদীনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ, তাদের সময়কে যথাযথ অনুধাবন এবং ওই সময়কার মানুষজন যেভাবে দ্বীনের দিকে অগ্রসর হয়েছিল—তা অনুসরণ করেই দাঈ এবং উলামায়ে কেরামকে বিশ্বমানবতাকে সর্বোতভাবে সাহায্য করতে পারবে। ইসলামের সভ্যতা-সংস্কৃতির অতীত গৌরব ও মর্যাদায় আসীন হওয়ার জন্য এর বিকল্প কিছু নেই।
আল্লাহ এ কাজকে কবুল করুন, এতে বরকত দেন এবং মানুষের উপকারে নিয়োজিত করুন। আল্লাহ বলেন,
مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَّحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَ مَا يُمْسِكُ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন তা আটকে রাখার কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তারপর তা ছাড়াবার কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আমি আশা করি, এ বইয়ের পাঠকগণ লেখকের জন্য দুআ করতে ভুলবেন না যে আপনাদের দুআ এবং আল্লাহর রহমতের খুবই মুহতাজ। মহান আল্লাহ বলেন,
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَى وَ عَلَى وَالِدَيَّ وَ أَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضُهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّلِحِينَ
হে আমার রব, তুমি আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছ তার জন্য আমাকে তোমার শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দাও। আর আমি যাতে এমন সৎকাজ করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আর তোমার অনুগ্রহে তুমি আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করো।
কতই-না পরিপূর্ণ তুমি, হে আল্লাহ, সব প্রশংসা কেবল তোমার জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমি ছাড়া আর কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই। আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং সব গোনাহ থেকে তোমার কাছে তওবা করছি।
وَآخِرُ دَعْوَاهُمْ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
তাদের শেষ কথা হবে, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য)।
একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ক্ষমা এবং সন্তুষ্টির ভিখারি আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী