📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 পরবর্তী খলীফার প্রতি উমর রা.-এর উপদেশ

📄 পরবর্তী খলীফার প্রতি উমর রা.-এর উপদেশ


৫.৩। পরবর্তী খলীফার প্রতি উমর রা.-এর উপদেশ
পরবর্তী খলীফার প্রতি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন। তিনি বলেন,
আমি আপনাকে এক আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি, যার কোনো শরীক নেই। মুহাজিরদের প্রতি সদাচরণ করবেন এবং তাদের অগ্রগামিতাকে প্রাধান্য দেবেন। আনসারদের সঙ্গেও সদাচরণ করবেন। তাদের মধ্যে যারা ভালো করবে, তাদের মূল্যায়ন করবেন এবং যারা ভুল করবে, তাদের ক্ষমা করবেন। রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত লোকজনের সঙ্গেও ভালো আচরণ করবেন। কারণ, শত্রুর বিরুদ্ধে ঢালস্বরূপ এবং গনীমতের উৎস। তাদের নিকট থেকে তাদের প্রয়োজন না মেটা পর্যন্ত কোনো কিছু গ্রহণ করবেন না। গ্রামবাসীদের প্রতিও ভালো আচরণ করবেন। কারণ, তারাই আদি আরব এবং ইসলামের রক্ষক। তাদের সম্পদ থেকে অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করবেন এবং সেগুলো গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেবেন। আমি আপনাকে মুসলমানদের অধীনে বসবাসরত ইহুদী-খ্রিস্টানদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করার উপদেশ দিচ্ছি। তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন এবং তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাবেন না যদি তারা মুসলমানদের প্রতি তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো আদায় করে অথবা স্বেচ্ছায় জিযিয়া প্রদান করে এবং নিজেদের পদানত মনে করে।
আমি আপনাকে আল্লাহ এবং তার শাস্তিকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি যেন আপনি আবার অবিশ্বস্ত না হয়ে ওঠেন। আমি আপনাকে মানুষের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি। কিন্তু আল্লাহর ব্যাপারে মানুষকে ভয় করতে নিষেধ করছি। আমি মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। গরিবদের ওপর ধনীদের প্রাধান্য দেবেন না। এটা আপনার আত্মিক প্রশান্তির পথ সুগম করবে এবং আপনার গোনাহর সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে। আর এটা আখেরাতের জন্য মঙ্গলময় হবে যতক্ষণ না আপনি ওই সত্তার মুখোমুখি হন, যে আপনার হৃদয়ের কথা জানেন। আল্লাহর আদেশ, আত্মীয়-অনাত্মীয়সহ সকল মানুষের আচরণের নির্ধারিত সীমা এবং তাদের অবাধ্যতার ব্যাপারে দৃঢ় থাকবেন। কারও অবাধ্যতার মাত্রা নির্ধারণ না করে তার প্রতি কোনো রকম দয়া প্রদর্শন করবেন না। সব মানুষকে সমানভাবে বিবেচনা করবেন। দোষী ব্যক্তির মর্যাদা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না অথবা সমালোচকদের সমালোচনার ভয় পাবেন না। আপনার দায়িত্বে থাকা গনীমতের মালের ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব করবেন না, যা কিনা আপনাকে অন্যায়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটা থেকে দূরে থাকবেন।
আপনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যা এই দুনিয়া এবং আখেরাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনি যদি দুনিয়াবি ব্যাপারাদিতে ন্যায়সংগত আচরণ করেন এবং পক্ষপাতিত্ব থেকে মুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে সেটা আপনার ঈমান বৃদ্ধি ও আখেরাতে আনন্দের কারণ হবে। আর যদি নফসের তাড়নায় পড়ে যান, তাহলে আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হবেন।
আমি আপনাকেসহ সবাইকে আহলে যিম্মি (মুসলমানদের অধীনে বসবাসরত ইহুদী-খ্রিস্টান)-দের সঙ্গে মন্দ আচরণ করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছি।
আমি আপনাকে নিষ্ঠার সঙ্গে সৎ উপদেশ দিচ্ছি। সুতরাং এটা গ্রহণ করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখেরাতের সফলতা তালাশ করুন। আমি আপনাকে যে উপদেশ দিচ্ছি তা আমার এবং আমার সন্তানদের বেলায়ও প্রযোজ্য। আপনাকে যা বলেছি, আপনি যদি তা পালন করেন এবং আমার নসীহত অনুসরণ করেন, তাহলে আপনি অনেক লাভবান হবেন। আর যদি এসব নসীহত গ্রহণ না করেন অথবা গুরুত্ব না দেন এবং আল্লাহ সন্তুষ্টিকে সামনে রেখে যাবতীয় কাজ-কারবার না করেন, তাহলে সেটা আপনার দুর্বলতা এবং আপনি নিষ্ঠাবান হতে ব্যর্থ হবেন। কারণ, স্বেচ্ছাচার এবং কামনা-বাসনা একই। আর শয়তানই মানুষকে গোনাহে লিপ্ত করে। সে তাদের ধ্বংসের দিকেই আহ্বান করে। আপনার আগে অনেক জাতিকে সে ধ্বংস করেছে এবং তাদের জাহান্নামে নিয়ে গেছে। আর জাহান্নাম কী ভয়াবহ আবাসস্থল! আল্লাহর শত্রুকে বন্ধু হিসাবে নেওয়া কতই-না মন্দ কাজ, যে কিনা আল্লাহর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করে। সত্যকে আঁকড়ে থাকবেন এবং তা প্রতিষ্ঠায় প্রাণপণ চেষ্টা করবেন। নিজেকে নিজে তিরস্কার করবেন।
আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি মুসলমানদের প্রতি দয়ার্দ্র হবেন, বড়দের সম্মান করবেন, ছোটদের স্নেহ করবেন এবং আলেমদের মূল্যায়ন করবেন। তাদের কোনো ক্ষতি করবেন না অথবা অসম্মান করবেন না এবং গনীমতের মাল কুক্ষিগত করবেন না, যা তাদের উত্তেজিত করবে। তারা ভাতা প্রাপ্য হলে তাদের বঞ্চিত করবেন না, যাতে তারা দরিদ্র হয়ে পড়ে। তাদের এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযানে ব্যস্ত রাখবেন না, যাতে তারা সন্তানশূন্য হয়ে যায়। কেবল ধনীদের মধ্যেই সম্পদের প্রসার ঘটাবেন না। আপনার দরজা যেন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং অসহায়দের ওপর ক্ষমতাশীলদের চড়াও হতে দেবেন না। এগুলো আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য উপদেশ। আল্লাহ আমার সাক্ষী। মাআসসালাম।

ওপরের উপদেশ-বাণী থেকে শাসনকার্য এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়। এখানে তার রাষ্ট্র পরিচালনায় যুগপৎভাবে একটি নির্দিষ্ট ক্রমঃপদ্ধতি ও ধারার সমন্বয় ঘটেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি এতে স্থান পেয়েছে। এটাকে একটি দুর্লভ নথি হিসাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কারণ, এর মাধ্যমে শাসনকার্যের মূলনীতি জানা সম্ভব, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

৫.৩.১। ধর্মীয় দিক
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু পরবর্তী খলীফাকে কথায় ও কাজে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে পূর্ণ ভয় করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহই তাকে হেফাজত করবেন। তিনি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বলেন, 'আমি আপনাকে এক আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি, যার কোনো শরীক নেই।' 'আমি আপনাকে আল্লাহকে এবং তার শাস্তিকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি।'

■ পরিচিত-অপরিচিত সকলের ওপর আল্লাহর বিধান সমভাবে কার্যকর করার জন্য অসীয়ত করেন: 'দোষী ব্যক্তির মর্যাদা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না অথবা সমালোচকদের সমালোচনার ভয় পাবেন না।' কেননা, এ সকল বিধি-বিধান শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত এবং তা আমাদের দ্বীনেরই অংশ। মানুষের জন্য এগুলো মেনে নেওয়া আবশ্যক। তাদের সকল কাজকর্মের মাপকাঠি হলো শরীয়ত। এ ক্ষেত্রে শিথিলতা দ্বীন ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর।

দৃঢ়ভাবে ইসলাম আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে বলেন, فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ অতএব তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ, দৃঢ় থাকো।
দৃঢ়তা দ্বীন ও দুনিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রত্যেক নেতা ও সাধারণের জন্য কথায় ও কাজে আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, 'নিজেকে নিজে তিরস্কার করবেন।' 'আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখেরাতের সফলতা তালাশ করুন।'

৫.৩.২। রাজনৈতিক দিক
তিনি সুষ্ঠু রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ করে বলেন, 'আমি মানুষের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।' 'সব মানুষকে সমানভাবে বিবেচনা করবেন।' কেননা, ন্যায়-পরায়ণতাই হলো সুষ্ঠু বিচার-ব্যবস্থাপনার মূলমন্ত্র। এর মাধ্যমে নেতার প্রতি জনসাধারণের ভক্তি-শ্রদ্ধা বাড়ে এবং তার স্থায়িত্ব সুদৃঢ় হয়।

ইসলামের প্রথম সারির মুসলমানদের প্রতি বিশেষ লক্ষ রাখার অসীয়ত করেন। কেননা, ইসলামী রাজনীতি তাদের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা এ জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'মুহাজিরদের প্রতি সদাচরণ করবেন এবং তাদের অগ্রগামিতাকে প্রাধান্য দেবেন। আনসারদের সঙ্গেও সদাচরণ করবেন। তাদের মধ্যে যারা ভালো করবে, তাদের মূল্যায়ন করবেন এবং যারা ভুল করবে, তাদের ক্ষমা করবেন।'

৫.৩.৩। সামরিক দিক
সামরিক বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উপদেশ দেন। কারণ, তাদের ওপরই ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠিন দায়িত্ব। তিনি সামরিক সদস্যদের সকল প্রয়োজন পূরণ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। সৈন্যদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে সীমান্ত প্রহরায় দীর্ঘদিন না রাখা তার বিশেষ নির্দেশনা ছিল। কারণ, এতে তাদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে অনীহা সৃষ্টি হতে পারে। তাই তাদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছুটি দেওয়ার আদেশ দেন যাতে তারা নতুন উদ্যম নিয়ে কাজে ফিরে আসতে পারে। আর এতে তাদের বংশক্রমও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, 'তাদের এত দীর্ঘ সময় ধরে অভিযানে ব্যস্ত রাখবেন না যাতে তারা সন্তানশূন্য হয়ে যায়।' 'রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত লোকজনের সঙ্গেও ভালো আচরণ করবেন। কারণ, তারা শত্রুর বিরুদ্ধে ঢালস্বরূপ এবং গনীমতের উৎস।'

সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে তার প্রাপ্য বেতন-ভাতা বুঝিয়ে দিতে আদেশ করেন যাতে তারা সর্বাবস্থায় যুদ্ধে গমন করার জন্য প্রস্তুত থাকেন এবং পরিবার-পরিজনের আর্থিক অসচ্ছলতা তার জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এ সম্পর্কে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'গনীমতের মাল কুক্ষিগত করবেন না, যা তাদের উত্তেজিত করবে। তারা ভাতা প্রাপ্য হলে তাদের বঞ্চিত করবেন না, যাতে তারা দরিদ্র হয়ে পড়ে।'

৫.৩.৪। অর্থনৈতিক দিক
তিনি ন্যায় ও সুষ্ঠুভাবে সম্পদ বণ্টন করার আদেশ দেন এবং এক শ্রেণিকে বঞ্চিত করে আরেক শ্রেণির ধন-সম্পদ কুক্ষিগত করার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, 'কেবল ধনীদের মধ্যেই সম্পদের প্রসার ঘটাবেন না।'

■ রাষ্ট্রের নির্ধারিত কর আদায় করলে যিম্মিদের ওপর অতিরিক্ত কোনো বোঝা চাপানো যাবে না, যা তারা বহনে অক্ষম। তিনি বলেন, 'তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপাবেন না, যদি তারা মুসলমানদের প্রতি তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো আদায় করে।'

■ জনসাধারণের আর্থিক সুবিধার প্রতি লক্ষ রাখা এবং তাতে অবহেলা না করা; সাধ্যের অতীত কোনো বোঝা না চাপানো। তিনি বলেন, 'তাদের নিকট থেকে তাদের প্রয়োজন না মেটা পর্যন্ত কোনো কিছু গ্রহণ করবেন না।' 'তাদের সম্পদ থেকে অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করবেন এবং সেগুলো গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেবেন।'

৫.৩.৫। সামাজিক দিক
■ জনগণের প্রতি লক্ষ রাখা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, 'তারা ভাতা প্রাপ্য হলে তাদের বঞ্চিত করবেন না।'

■ স্বার্থপরতা, স্বজনপ্রীতি এবং নফসের অনুসরণ থেকে বিরত থাকা; কারণ, এগুলো নেতাকে বিপথে নিয়ে যায়, সমাজে দুর্নীতি সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্কে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, 'আপনার দায়িত্বে থাকা গনীমতের মালের ব্যাপারে মুসলমানদের মধ্যে কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব করবেন না।' 'গরিবদের ওপর ধনীদের প্রাধান্য দেবেন না।'

■ সর্বসাধারণকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এতে সামাজিক বন্ধন অটুট থাকবে এবং নেতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জন্মাবে। এ ক্ষেত্রে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহর ওয়াস্তে আপনি মুসলমানদের প্রতি দয়ার্দ্র হবেন, বড়দের সম্মান করবেন, ছোটদের স্নেহ করবেন এবং আলেমদের মূল্যায়ন করবেন।'

■ মানুষের কাছাকাছি পৌঁছার চেষ্টা করা, তাদের অভিযোগ শোনা, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে তাদের মনোবল বৃদ্ধি করা; আর তা না হলে জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং সামাজিক অবক্ষয় দেখা দেবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'আপনার দরজা যেন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং অসহায়দের ওপর ক্ষমতাশীলদের চড়াও হতে দেবেন না।'

■ সত্য অনুসরণ এবং তা যেকোনো পরিস্থিতিতে সমাজের সর্বত্র বাস্তবায়ন করার জন্য সচেষ্ট থাকা; কারণ, তা আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সত্যকে আঁকড়ে থাকবেন এবং তা প্রতিষ্ঠায় প্রাণপণ চেষ্টা করবেন।' 'সব মানুষকে সমানভাবে বিবেচনা করবেন। দোষী ব্যক্তির মর্যাদা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না।'

■ অন্যায়-অবিচার থেকে বেঁচে থাকা, বিশেষ করে যিম্মিদের থেকে; কেননা, ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসরত সকল নাগরিকের সঙ্গেই ন্যায় বিচার করা আবশ্যক এবং এর মাধ্যমে সবাই ইসলামের সৌন্দর্য বুঝতে পারবে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমি আপনাকেসহ সবাইকে আহলে যিম্মি (মুসলমানদের অধীনে বসবাসরত ইহুদী-খ্রিস্টান)-দের সঙ্গে মন্দ আচরণ করা থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছি।'

■ গ্রামবাসীদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা এবং তাদের খোঁজখবর নেওয়া। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, 'গ্রামবাসীদের প্রতিও ভালো আচরণ করবেন। কারণ, তারাই আদি আরব এবং ইসলামের রক্ষক।'

উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু অসীয়ত করতে গিয়ে আরও বলেন, আমি যাদের নিয়োগ দিয়েছি, তাদের কাউকে এক বছরের বেশি বহাল রাখবেন না। তবে আশআরীকে চার বছরের জন্য বহাল রাখবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00