📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন

📄 আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন


৫.১.৪। উমর রা.-এর মৃত্যু সম্পর্কে আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন
আবু মূসা আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম অনেকগুলো দ্রুতগামী ঘোড়া এবং সেগুলো এক এক করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে আমি একটি ঘোড়ায় চড়ে যালাক পাহাড়ে পৌঁছি। সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পাশে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে পাই। তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আসার অপেক্ষায় ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনি কেন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট চিঠি প্রেরণ করছেন না?' তিনি বললেন, 'আমি তাকে তার মৃত্যুর সংবাদ বলতে চাচ্ছি না।'

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মদীনায় উমর রা.-এর শেষ খুতবা

📄 মদীনায় উমর রা.-এর শেষ খুতবা


৫.১.৪। মদীনায় উমর রা.-এর শেষ খুতবা
২১ যিলহজ, ২৩ হি.। শুক্রবার। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এদিন জুমুআর শেষ খুতবা প্রদান করেন। এ খুতবার কিছু অংশ আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, যা আমি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর জীবনীতে উল্লেখ করেছি। এ খুতবায় উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার নিজের দেখা একটি স্বপ্নের কথা বলেন এবং সেটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, 'আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি। আমি মনে করি তা ছিল আমার মৃত্যুর সংবাদ। আমি দেখেছি, একটি মোরগ আমাকে দু-বার ঠোকর মেরেছে এবং লোকে আমাকে আমার পরবর্তী খলীফা নির্বাচন করার জন্য তাগিদ দিচ্ছে। আল্লাহ তার এই দ্বীন অথবা খেলাফতের ধারাকে কখনো ধ্বংস করবেন না অথবা আল্লাহ তার রাসূলকে যে সত্যসহ প্রেরণ করেছিলেন, তা হারিয়ে যেতে দেবেন না। আমি যদি মৃত্যুবরণ করি, তাহলে ছয় সদস্য-বিশিষ্ট একটি শূরা কমিটি আমার পরবর্তী খলীফা নির্বাচিত করবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমৃত্যু এই ছয় সদস্যের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 ছুরিকাহত হওয়ার পূর্বে হুযাইফার সঙ্গে সাক্ষাৎ

📄 ছুরিকাহত হওয়ার পূর্বে হুযাইফার সঙ্গে সাক্ষাৎ


৫.১.৬। ছুরিকাহত হওয়ার পূর্বে উমর রা.-এর হুযাইফাহ রা.-এরসঙ্গে সাক্ষাৎ
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হওয়ার চার দিন পূর্বে ২৩ যিলহজ ২৩ হি. রোজ রবিবার হুযাইফাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং সাহল বিন হুনাইফ রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি হুযাইফাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দাজলা নদীর পানি দ্বারা সিঞ্চিত যমীনের খারায নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আর সাহল বিন হুরাইফ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ফোরাত নদীর পানির দ্বারা সিঞ্চিত যমীনের খারায নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি তাদের বলেন, 'তোমরা কীভাবে কাজ করছ? আমার তো ভয় হয়, তোমরা কৃষকদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবে যা বহন করার সাধ্য তাদের নেই।' তারা দুজনেই বললেন, 'আমরা সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দিইনি।' তারপর উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'যদি আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে আমি ইরাকের বিধবাদের ডেকে তাদের প্রয়োজন পূরণ করব এবং তারপর তাদের আর কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না।' কিন্তু এ কথা বলার চার দিন পরেই তিনি শহীদ হয়ে যান।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 খলীফাদের মদীনায় বসবাসের নিষেধাজ্ঞা

📄 খলীফাদের মদীনায় বসবাসের নিষেধাজ্ঞা


৫.১.৭। বন্দীদের মদীনায় বসবাসের নিষেধাজ্ঞা
মুসলমানদের বিজিত এলকায় যেসব বন্দী বসবাস করত, তাদের তিনি ইসলামী খেলাফতের রাজধানী মদীনায় প্রবেশের অনুমতি দেননি। তিনি ইরাক ও পারস্যের অগ্নিপূজকদের এবং সিরিয়া ও মিসরের খ্রিস্টানদের মদীনায় বসবাসে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তবে তারা মুসলমান হলে অনুমতি দিতেন। এ সিদ্ধান্ত থেকে তার প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া যায়। কেননা, তারা ছিল ইসলামের চরম দুশমন। সর্বদা মুসলমানদের মধ্যে ফেতনা সৃষ্টির পাঁয়তারা করত। এ কারণে তাদের অনিষ্ট থেকে মুসলিম জাতিকে বাঁচানোর লক্ষ্যে মদীনায় তাদের থাকার অনুমতি দেননি। কিন্তু কতক সাহাবীদের সাবায়ী গোলাম থাকায় তারা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট তাদের থাকার ব্যাপারে সুপারিশ করেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু অনিচ্ছা সত্ত্বেও এর অনুমতি প্রদান করেন। ফলে তা-ই ঘটে, যার আশঙ্কা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু করেছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00