📄 শেষ হজ্জ উমর রা.-এর দুআ (২৩ হি.)
৫.১.১। শেষ হজে উমর রা.-এর দুআ (২৩ হি.)
সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব থেকে বর্ণিত, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মিনা থেকে ফেরার পথে আবতাহ নামক স্থানে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে সমতলভূমিতে একটি বালুর একটি স্তূপ তৈরি করেন এবং তার ওপর কাপড় বিছিয়ে হেলান দিয়ে বসেন। তারপর দু-হাত তুলে এই দুআ করেন : ‘হে আল্লাহ, আমি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার শক্তি-সামর্থ্য দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমার অধীন প্রজারা বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছে। আমাকে এমতাবস্থায় আপনার কাছে নিয়ে যান (মৃত্যুর মাধ্যমে)- কারও হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি করার আগেই।' তারপর তিনি মদীনার উদ্দেশে রওনা হন।
📄 উমর রা.-এর শাহাদাত কামনা
৫.১.২। উমর রা.-এর শাহাদাত কামনা
যায়েদ বিন আসলাম তার পিতা থেকে তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এই দুআ করতেন : হে আল্লাহ, আমাকে আপনার পথে শাহাদাতের মৃত্যু দান করুন এবং আমার মৃত্যু যেন আপনার নবীর শহরে হয়। অন্যান্য বর্ণনায় ভিন্ন শব্দে রয়েছে : হে আল্লাহ, আপনার সন্তুষ্টির পথে আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দান করুন এবং আমি যেন আপনার নবীর শহরেই মৃত্যুবরণ করি।' কেউ একজন জিজ্ঞাসা করল, 'এটা কীভাবে সম্ভব-মদীনায় অবস্থান করে আল্লাহর পথে শাহাদাতের মৃত্যু?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, 'আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব।' শায়েখ ইউসূফ বিন হাসান উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত কামনার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'শাহাদাত কামনা করা মুস্তাহাব। শাহাদাত কামনার অর্থ মৃত্যু কামনা নয়। এর মধ্যে পার্থক্য হলো, মৃত্যু কামনার অর্থ নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মৃত্যু চাওয়া, অথচ মানুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নেক আমলও বাড়তে থাকে। আর শাহাদাত কামনা মানে শহীদ অবস্থায় নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু কামনা করা; এটা নির্ধারিত সময়ের আগে মৃত্যু চাওয়া নয়; বরং গৌরবময় মৃত্যুর আশা করা।
৫.১.৩। আউফ ইবনে মালিক আল-আশাযির স্বপ্ন
আউf ইবনে মালিক বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আকাশ থেকে একটি রশি ঝুলে আছে এবং মানুষ সেটি ধরার জন্য চেষ্টা করছে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখা গেল তিনি অন্যান্যদের চেয়ে তিন হাত পরিমাণ উঁচু। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ রকম কেন? তিনি বললেন, তিনি যমীনে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং কোনো নিন্দুকের পরোয়া করবেন না। আর তাকে শহীদ করা হবে।' পরদিন সকালে আমি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গিয়ে স্বপ্নের কথা জানালাম এবং তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর বান্দা, আবু হাফসকে ডেকে আনো।' যখন তিনি এলেন, তখন বললেন, 'হে আউফ, স্বপ্নে যা দেখেছ, তা তাকে বলো।' আমি যখন তাকে বললাম যে, তিনি আল্লাহর খলীফাদের একজন হবেন, তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'এসবই কি একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি দেখেছে?' তারপর তাকে পুরো স্বপ্ন শোনানো হয়।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হওয়ার পর একবার জাবিয়া নামক স্থানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন আমাকে ডেকে কাছে বসতে বলেন। তিনি খুতবা শেষ করে বললেন, 'আমাকে তোমার স্বপ্নের কথা বলো।' আমি বললাম, 'আপনি কি আমাকে তা বলতে নিষেধ করেননি?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি তা বোঝাইনি।' আরেক বর্ণনামতে, তিনি বলেন, 'আপনি কি এগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেননি?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'আমি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সম্মুখে নিজের প্রশংসা শুনে লজ্জা পাচ্ছিলাম। তারপর যখন আমি তাকে আমার পুরো স্বপ্নের কথা বললাম, তখন তিনি বললেন, 'আমার খলীফা হওয়ার কথা ছিল, খলীফা হয়েছি। আর কোনো নিন্দুকের পরোয়া করার ব্যাপারে কথা হলো, আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি। কোনো নিন্দুকের পরোয়া করি না। আমি আশা করি এটিও সত্য। কিন্তু আমার শাহাদাতের ব্যাপারে যা দেখেছ, তা কী করে সম্ভব, যেখানে আমি আরবেই বসবাস করছি (মানে এখানে তো কোনো জিহাদ করার সুযোগ নেই)?'
৫.১.৪। উমর রা.-এর মৃত্যু সম্পর্কে আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন
আবু মূসা আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম অনেকগুলো দ্রুতগামী ঘোড়া এবং সেগুলো এক এক করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে আমি একটি ঘোড়ায় চড়ে যালাক পাহাড়ে পৌঁছি। সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পাশে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে পাই। তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আসার অপেক্ষায় ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনি কেন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট চিঠি প্রেরণ করছেন না?' তিনি বললেন, 'আমি তাকে তার মৃত্যুর সংবাদ বলতে চাচ্ছি না।'
📄 আউফ ইবনে মালিক আল-আশযাহির স্বপ্ন
৫.১.৩। আউফ ইবনে মালিক আল-আশাযির স্বপ্ন
আউf ইবনে মালিক বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম, আকাশ থেকে একটি রশি ঝুলে আছে এবং মানুষ সেটি ধরার জন্য চেষ্টা করছে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখা গেল তিনি অন্যান্যদের চেয়ে তিন হাত পরিমাণ উঁচু। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ রকম কেন? তিনি বললেন, তিনি যমীনে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং কোনো নিন্দুকের পরোয়া করবেন না। আর তাকে শহীদ করা হবে।' পরদিন সকালে আমি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট গিয়ে স্বপ্নের কথা জানালাম এবং তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর বান্দা, আবু হাফসকে ডেকে আনো।' যখন তিনি এলেন, তখন বললেন, 'হে আউফ, স্বপ্নে যা দেখেছ, তা তাকে বলো।' আমি যখন তাকে বললাম যে, তিনি আল্লাহর খলীফাদের একজন হবেন, তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'এসবই কি একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি দেখেছে?' তারপর তাকে পুরো স্বপ্ন শোনানো হয়।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খলীফা হওয়ার পর একবার জাবিয়া নামক স্থানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি যখন খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন আমাকে ডেকে কাছে বসতে বলেন। তিনি খুতবা শেষ করে বললেন, 'আমাকে তোমার স্বপ্নের কথা বলো।' আমি বললাম, 'আপনি কি আমাকে তা বলতে নিষেধ করেননি?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি তা বোঝাইনি।' আরেক বর্ণনামতে, তিনি বলেন, 'আপনি কি এগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেননি?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'আমি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সম্মুখে নিজের প্রশংসা শুনে লজ্জা পাচ্ছিলাম। তারপর যখন আমি তাকে আমার পুরো স্বপ্নের কথা বললাম, তখন তিনি বললেন, 'আমার খলীফা হওয়ার কথা ছিল, খলীফা হয়েছি। আর কোনো নিন্দুকের পরোয়া করার ব্যাপারে কথা হলো, আমি কেবল আল্লাহকে ভয় করি। কোনো নিন্দুকের পরোয়া করি না। আমি আশা করি এটিও সত্য। কিন্তু আমার শাহাদাতের ব্যাপারে যা দেখেছ, তা কী করে সম্ভব, যেখানে আমি আরবেই বসবাস করছি (মানে এখানে তো কোনো জিহাদ করার সুযোগ নেই)?'
📄 আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন
৫.১.৪। উমর রা.-এর মৃত্যু সম্পর্কে আবু মুসা আশআরী রা.-এর স্বপ্ন
আবু মূসা আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম অনেকগুলো দ্রুতগামী ঘোড়া এবং সেগুলো এক এক করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। অবশেষে আমি একটি ঘোড়ায় চড়ে যালাক পাহাড়ে পৌঁছি। সেখানে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার পাশে আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখতে পাই। তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আসার অপেক্ষায় ছিলেন। আমি বললাম, 'আপনি কেন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট চিঠি প্রেরণ করছেন না?' তিনি বললেন, 'আমি তাকে তার মৃত্যুর সংবাদ বলতে চাচ্ছি না।'