📄 দোষত্রুটির প্রয়োজনীয়তা এবং গভর্নরদের কর্মপন্থা
২.৫.১। প্রদেশে দোভাষীর প্রয়োজনীয়তা
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে গভর্নরদের সাহায্য করার একটি প্রক্রিয়া ছিল তাদের জন্য দোভাষী নিযুক্ত করা। অনেক ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থেই এটি খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ত। একবার উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ইরাকের গভর্নরকে কয়েকজন পার্সিয়ান গোত্রপ্রধানকে মদীনা পাঠাতে বলেন, যাতে তাদের সঙ্গে খারাজের ব্যাপারে আলোচনা করা সম্ভব হয়। ইরাক থেকে এসব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একজন দোভাষীও প্রেরণ করা হয়। ১৭৯ বর্ণিত আছে, আল-মুগিরা ইবনে শু'বাহ সামান্য একটু পার্সিয়ান ভাষা রপ্ত করেছিলেন এবং তিনিই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ও হরমুযের মধ্যে কথোপকথন ভাষান্তরে সাহায্য করেন। ১৮০
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে এবং এর পূর্বেও অনুবাদক ও দোভাষীদের খুব কদর ছিল। স্মৃতব্য যে, খারাজের নথিপত্রসমূহ আরবি ভাষায় লেখা হতো না। এ থেকে বোঝা যায়, অনুবাদ সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয়তা ছিল ব্যাপক। আর প্রশাসনে খারাজের বেশিরভাগ কর্মকর্তা ছিলেন পারসিক অথবা অনারব। ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে নওমুসলিমদের বিস্তৃতির কারণে বিচারকার্য ও অন্যান্য বিষয়ে দোভাষীদের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে। অনুরূপভাবে মুসলিম সেনাপতিদের—যারা বেশিরভাগ গভর্নর ছিলেন—বিজিত অঞ্চলে লোকজনের সঙ্গে কথোপকথনে দোভাষী ছিল প্রধান মাধ্যম। ১৮১
২.৫.২। গভর্নরদের কর্মঘণ্টা
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কর্মঘণ্টা নির্ধারিত ছিল না। খলীফা এবং গভর্নরগণ দিন-রাত কাজ করতেন এবং তাদের বাড়ির দরজায় কোনো প্রহরী নিযুক্ত ছিল না। তাদের কেউ রাতে শহরে টহল দিতেন এবং এ ব্যাপারে তাদের জন্য নমুনা ছিলেন স্বয়ং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নিজেই। তিনি মদীনায় রাতে হেঁটে হেঁটে টহল দেওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। লোকেরা বিভিন্ন সময় গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে আসত, তাকে তাদের প্রয়োজন মেটাতে অনুরোধ করত এবং অসময়েও তারা এ কাজে কোনো বাধার সম্মুখীন হতো না। গভর্নররা যেকোনো কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে খুবই পরিচিত ছিলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এ ব্যাপারে আবু মূসা আল-আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে এক চিঠিতে লেখেন, ‘আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রেখো না। এতে কাজ জমে যাবে এবং তুমি তোমার লক্ষ্যে উপনীত হতে ব্যর্থ হবে।’ ১৮২
টিকাঃ
১৭৯ আল-খারাজ, আবু ইউসুফ, পৃ. ৪০-৪১; আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ২/১০৫।
১৮০ প্রাগুক্ত।
১৮১ আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ২/১০৪।
১৮২ মানাকিবু আমীরুল মুমিনিন, ইবনে আল-জাওযি, পৃ. ১২৯।