📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মক্কা

📄 মক্কা


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতের অধীনে মক্কার প্রথম গভর্নর ছিলেন মুহরিয ইবনে হারিসা ইবনে রাবিয়া ইবনে আবদে শামস রাযিয়াল্লাহু আনহু। তারই খেলাফতকালে মক্কার পরবর্তী গভর্নর নিযুক্ত হন কুনফুজ ইবনে উমাইর ইবনে জুদআন তামিমী রাযিয়াল্লাহু আনহু। তিনি তার পূর্ববর্তী গভর্নরদের মতোই ছিলেন।
মুহরিয ইবনে হারিসা ও কুনফুজ ইবনে উমাইরের মক্কার গভর্নর থাকাকালীন অবস্থাদি সম্পর্কে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। এবং এ-ব্যাপারেও কোনো তথ্য পাওয়া যায় না যে এ পদে তারা কতদিন বহাল ছিলেন। অতঃপর নাফে ইবনে হারিস আলখুজায়ী রাযিয়াল্লাহু আনহু উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে মক্কার গভর্নর নিযুক্ত হন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ পদে নিয়োজিত ছিলেন। ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলিতে তার গভর্নর থাকাকালে সংঘটিত দু-একটি ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন: তারই সময়কালে জেলখানা প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর বাড়িটি ক্রয় করে নিয়েছিলেন।¹
তার সময়কার আরেকটি ঘটনা। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন, তখন উসফান নামক স্থানে নাফে রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'মক্কায় কাকে তোমার নায়েব নিযুক্ত করে এসেছ?' নাফে রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'ইবনে আব্যাকে।' তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, 'কে এই ইবনে আবযা?' নাফে রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমাদেরই একজন ক্রীতদাসের নাম ইবনে আবযা।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'মক্কাবাসীদের জন্য একজন ক্রীতদাসকে হাকিম নিযুক্ত করেছ?' নাফে রাযিয়াল্লাহু আনহু জবাব দিলেন, 'ইবনে আবযা একজন হাফিযুল কুরআন এবং আমিল। তা ছাড়া তিনি ফারায়েয বিষয়ে বেশ অভিজ্ঞ।' তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন,
শোনো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন,
إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ
নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা এই কিতাব-এর মাধ্যমে বহু সম্প্রদায়কে মর্যাদাশালী বানিয়েছেন। আবার বহু সম্প্রদায়কে করেছেন অপদস্থ।²
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে মক্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো হারাম শরিফ সম্প্রসারণ করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি কাবার চারপাশের বাড়িগুলো ক্রয় করে নিশ্চিহ্ন করে ফেলেন। তারপর সেগুলো হারাম শরিফে অন্তর্ভুক্ত করে চারদিক থেকে সামান্য উঁচু দেয়াল নির্মাণ করে দেন। হজের মৌসুমে মক্কা মুকাররমায় বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশ থেকে আগত গভর্নর ও আমিরগণ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য এক জায়গায় সমবেত হতেন। এভাবে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইসলামী রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হিসাবে মক্কা মুকাররামা বিশাল ভূমিকা রাখে।

টিকাঃ
¹ সহীহ বুখারী (৩/২৫); মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৩২; আলমাওসুআতুল হাদিসিয়্যাহ। এ হাদিসের সনদ সহীস। আর সহীহ বুখারীর রেওয়ায়েতে ঘটনাটি এভাবেই বর্ণিত আছে।
² আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, আবদুল আযিয আল-উমারী, (১/৬৭)।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মদীনা

📄 মদীনা


ইসলামী রাষ্ট্রের যিনি খলিফা মনোনীত হতেন, তিনি মদীনার গভর্নরের দায়িত্বও পালন করতেন। কেননা, খলিফা মদীনাতেই অবস্থান করতেন। তিনিই এখানকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখভাল করতেন। প্রয়োজনমাফিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন। খলিফা থাকাকালে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন মদীনায় উপস্থিত না থাকতেন, উপযুক্ত কাউকে তার নায়েব নিযুক্ত করে যেতেন। নবনিযুক্ত নায়েবই মদীনার বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতি দেখাশোনা করতেন। হজ কিংবা অন্যান্য সফরে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যায়েদ ইবনে সাবেত রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মদীনার ভারপ্রাপ্ত হাকিম নিযুক্ত করতেন। এমনিভাবে কখনো তিনি তার অনুপস্থিতিতে আলি ইবনে আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মদীনায় নিজের নায়েব নিযুক্ত করে যেতেন।
এভাবে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় তার অনুপস্থিতিতে অন্যদের নায়েব নিযুক্ত করার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আদর্শের অনুকরণ করেছেন।
সেকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কারণে অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে মদীনার এক বিশেষ রাজনৈতিক অবস্থান ছিল। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো, মদীনা ছিল খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর বাসস্থান। বিভিন্ন ইসলামী অঞ্চলের বিধিবিধান এখান থেকে জারি করা হতো এবং এখান থেকেই ইসলামের মুজাহিদদের কাফেলা রওনা হতো। অধিকন্তু মদীনা ছিল বহু প্রবীণ ও বিখ্যাত সাহাবীর বাসস্থান, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যাদের অন্যত্র নিবাস গ্রহণ করতে নিষেধ করতেন। আর এই কারণেই বড় বড় সাহাবীদের থেকে সরাসরি কুরআন-সুন্নাহর ইলম অর্জন করতে তালিবানে ইলমে নবুওয়াতের কাফেলা মদীনায় আসতে একপ্রকার বাধ্য হতো।

টিকাঃ
• আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ১/৬৮।
৪ তারিখ আল-ইয়াকুবি, ২/১৪৭।
৫ প্রাগুক্ত, ২/১৫৭।
৬ আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ১/৬৮।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 তায়েফ

📄 তায়েফ


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে তায়েফ গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শহর হিসাবে গণ্য হতো। এখান থেকে জিহাদী কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী মুজাহিদদের প্রেরণ করা হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে উসমান ইবনে আবুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু এখানকার ওয়ালি (গভর্নর) ছিলেন। আবু বকর সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু তার খেলাফতকালে উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুকে একই পদে বহাল রাখেন। উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালেও তিনি দুই বছর পর্যন্ত এখানকার গভর্নর ছিলেন। কিন্তু সব সময় তার অন্তর জিহাদের জজবায় ব্যাকুল থাকত। এ-সময় তিনি জিহাদে অংশগ্রহণ করার অনুমতি চেয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট পত্র লিখলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এই পদ থেকে আমি আপনাকে অব্যাহতি দিতে পারি না। তাই আপনি তায়েফবাসীদের মধ্য থেকে আপনার পছন্দসই একজনকে নায়েব বা সহকারী নিযুক্ত করুন। পরবর্তী সময়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু উসমান ইবনে আবুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে আম্মান ও বাহরাইনের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন।
ঐতিহাসিক বর্ণনায় এই তথ্য পাওয়া যায় যে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন ইনতিকাল করেন, তখন তায়েফের গভর্নর ছিলেন সুফিয়ান ইবনে আবদুল্লাহ সাকাফি রাযিয়াল্লাহু আনহু। এ-সময় তার ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে মধু, ফল, সবজি ইত্যাদির যাকাত আদায়প্রসঙ্গে চিঠিপত্রের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা চলছিল। আর এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে তায়েফ ছিল কৃষিকাজে সমৃদ্ধ ও উর্বর শহর। তার খেলাফতের সময়ে তায়েফ এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের লোকজন বেশ সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করত। মক্কার লোকেরা গ্রীষ্মকালীন উত্তাপ থেকে বাঁচার জন্য তায়েফের সুন্দর মনোরোম পরিবেশে আসত। এভাবে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে তায়েফ হয়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শহর।

টিকাঃ
* তারিখু খালিফাতি ইবনি খাইয়াত, ১৩৪।
* তারিখ আত-তাবারি, ৫/২৩৯।
* নাদিয়া হুসাইন সাকারকৃত আততায়িফ ফিল আসরিল জাহিলি ওয়াসাদরিল ইসলাম, ১৯।
১০ নাদিয়া হুসাইন সাকারকৃত আততায়িফ ফিল আসরিল জাহিলি ওয়াসাদরিল ইসলাম, ১৯।
১১ আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ১:৬৯।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 ইয়ামান

📄 ইয়ামান


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন খেলাফতের মসনদে অধিষ্ঠিত হন, তখন ইয়ামান অত্যন্ত নিরাপদ ও স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। ইয়ামান ও তার আশপাশ এলাকার আমির, অফিসার ও দায়িত্বশীলদের উন্নত নৈতিকতার কারণে সেখানকার সার্বিক অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা বেশ ভালো ছিল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার খেলাফতকালে ইয়ামানেও আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিয়োগকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ পদে বহাল রাখেন।১২
ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিয়োগকৃত ইয়ামানের গভর্নর। তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালেও ইয়ামানের গভর্নর ছিলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিলেন। ইতিহাসবিদরা লেখেন, ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহুর সুনাম-সুখ্যাতির কারণে লোকজনের মাঝে এমনও ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল যে ইয়ামানের গভর্নরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর তিনিই হবেন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নায়েব। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর ইনতিকাল পর্যন্ত বিষয়টি মানুষের মাঝে এভাবেই চর্চিত হয়ে আসছিল।১৩
ঐতিহাসিকসূত্রে ইয়ামানের গভর্নর ইয়ালা ইবনে উমাইয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে এমন কিছু ঘটনা পাওয়া যায়, যার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, কোনো কোনো ইয়ামানির সঙ্গে কিছু বিষয়ে তার মতানৈক্যও ছিল। এমনকি কিছু কিছু বিষয়ে কোনো কোনো ইয়ামানি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট হাজির হতো। তাদের দায়েরকৃত অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং বিবাদ মীমাংসার জন্য উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কয়েকবারই ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে মদীনায় তলব করেন। ফলে তাকে বাধ্য হয়ে মদীনায় আসতে হতো।১৪
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহুর অনুপস্থিতিতে কখনো কখনো অন্যকাউকে তার নায়েব নিযুক্ত করতেন। যাকাতসংক্রান্ত কিছু বিষয়ে ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহু ও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাঝে চিঠিপত্রের মাধ্যমে মতোবিনিময়ও হয়েছিল।১৫
ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি সেসব গভর্নরের একজন, যাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি স্বাভাবিক আয়-রোজগারের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের শেষ দিনগুলোতে লোকজনের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছিলেন।১৬
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালীন ইয়ামানের গভর্নরদের নামের তালিকায় আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়া মাখযুমি রাযিয়াল্লাহু আনহুকেও পাওয়া যায়। তবে সম্ভবত তিনি ইয়ামানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের হাকিম ছিলেন। সেই অঞ্চলটির নাম জুনদ। ইমাম তাবারি উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগের শেষ সময়কার গভর্নরদের নাম উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি ইয়ালা রাযিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানের গভর্নর লিখেছেন। সেখানে তিনি এ কথাও স্পষ্ট করেছেন যে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়া মাখযুমি রাযিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামানের জুনদ অঞ্চলের হাকিম নিযুক্ত হয়েছিলেন।১৭
উমর ইবনে খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ইসলামী বিজয়সমূহে ইয়ামানের অধিবাসীদের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তারা শাম, ইরাক ও মিসর বিজয়ের ক্ষেত্রে বরাবর অংশগ্রহণ করেন।১৮ এবং তারপর যখন ইরাকের বিভিন্ন এলাকা বাসযোগ্য করে কুফা ও বসরার মতো নতুন নতুন শহরের গোড়াপত্তন করা হয়, তখন বহু ইয়ামানি কবিলা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় কবিলার নাম ছিল কিনদা। তারা ব্যাপকভাবে কুফায় নিবাস স্থাপন করেছিল।১৯ এমনিভাবে বহু ইয়ামানি কবিলা শামে বসবাস শুরু করে। তা ছাড়া শাম বিজয়ে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। যখন মিসরের রাজধানী ফুসতাত আবাদ করার হয়, তখনও সেখানে কিছু ইয়ামানি কবিলা স্থানান্তরিত হয়ে যায়।
মোটকথা, উমর ফারুক রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে হিজরতের জন্য কিছু কিছু ইয়ামানি কবিলার তালিকা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল। কোন শহরে কোন কবিলা যাবে, তার তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে ইয়ামানের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এভাবেই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইয়ামান হয়ে উঠতে পেরেছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী প্রদেশ। এবং দেশীয় রাজনীতিতে অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় ইয়ামানের প্রভাব এবং রাজনৈতিকভাবে এখানকার সরকারি কর্মকর্তাদের অবদান বেশ গুরুত্বের দাবি রাখে।

টিকাঃ
১২ ইয়াহয়া আলহুসাইনকৃত গায়াতুল আমানি ফি আখবারিল কাতরিল ইয়ামানি, ১:৮৩
১৩ তারিখ আত-তাবারি, ২/১৫৭১।
১৪ গায়াতুল আমানি, ১/৮৩।
১৫ কাসেম ইবনে সালামকৃত আলআমওয়াল, ৪৩৬।
১৬ তারিখ আল-ইয়াকুবি, ৯/৮৩।
১৭ তারিখ আত-তাবারি, ৫/২৩৯।
১৮ আল-বিলায়াতু আলাল বুলদান, ১/৭১।
১৯ ড. ইসামুদ্দীনকৃত আলইয়ামান ফি যিললিল ইসলাম, ৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00