📄 গর্ভধারণের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সামনে এমন এক নারীকে হাজির করা হয়েছিল যার গর্ভকাল ছিল মাত্র ছয় মাস। খলীফা তাকে প্রস্তারাঘাত করতে উদ্যত হন। এমন সময় তার বোন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর শরণাপন্ন হয়ে বলল, 'উমর আমার বোনকে প্রস্তারাঘাত করতে চাচ্ছেন। আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তা, তাকে রক্ষার কোনো উপায় থাকলে বলুন।' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'একটি উপায় আছে।' ওই নারী এত জোরে তাকবীর বলে উঠল যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুসহ উপস্থিত সবাই তা শুনতে পেয়েছে। সে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে বলল, 'আলী বলেছেন, আমার বোনকে রক্ষার একটি উপায় আছে।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জানতে চাইলেন, 'কী উপায়?' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন : আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর দুধ খাওয়াবে। ১৪৬৯ তিনি আরও বলেছেন: তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। ১৪৭০ সুতরাং ছয় মাসের গর্ভধারণ এবং স্তন্য ছাড়াতে চব্বিশমাস।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নারীকে মুক্তি দেন。
নয় মাসের অধিককালও সন্তান তার মায়ের গর্ভে থাকতে পারে। এক নারীর স্বামী দুই বছর যাবত দূরে ছিল। সে ফিরে এসে স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় দেখতে পায়। তাকেও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রস্তারাঘাত করতে উদ্যত হয়েছিলেন; কিন্তু মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু তাতে বাধা দেন। তিনি বলেছিলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তার সন্তানকে নিয়ে নয়।' সুতরাং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত অব্যাহতি দিলেন। ওই নারীর একটি পুত্র সন্তান হলো। শিশুটি সবকটি দাঁতসহ জন্মগ্রহণ করে। তাছাড়া তার স্বামীর কাছে মনে হলো শিশুটি দেখতে তার মতো। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আর কোনো নারীর গর্ভে মুআযের মতো সন্তান আসবে না। আজ মুআয না থাকলে মারাত্মক ভুল হয়ে যেত। ১৪৭১
পরে অবশ্য দেখা গেছে যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়সীমা ছিল চার বছর। কারণ, তিনি ফাতওয়া দিয়েছিলেন, কেউ হারিয়ে গেলে তার স্ত্রীকে চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপরে তাকে বিধবাদের মতো ইদ্দত পালন করতে হবে। ইবনে কুদামা বলেছেন, 'উমর মনে করতেন চার বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ করা সম্ভব। তাই চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তারপরে তাকে বিধবাদের মতো চার মাস দশ দিনের ইদ্দত পালন করতে বলেছেন। এরপরে বিয়ে করা জায়েয। ১৪৭২
টিকাঃ
১৪৬৯ সূরা বাকারা, ২: ২৩৩।
১৪৭০ সূরা আল-আহকফ, ৪৬: ১৫।
১৪৭১ মাউসূআত ফিকহ উমর ইবনুল খাত্তাব, পৃ. ৩৭১।
১৪৭২ প্রাগুক্ত।