📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মদ পরিবেশন করা হলে পানশালা পুড়িয়ে দিতে

📄 মদ পরিবেশন করা হলে পানশালা পুড়িয়ে দিতে


নাফি থেকে উবায়দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ থেকে ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন যে ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, উমর এক সাকীফবাসীর বাড়িতে পানীয় দেখতে পেয়ে তা পুড়িয়ে দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। লোকটির নাম ছিল রুয়ায়শিদ (জ্ঞানী)। উমর তাকে বললেন, 'তুমি ফুয়ায়সিক (পাপী)। ১১৪৬৫
ইবনুল জাউযী বলেছেন, 'এখানে পুড়িয়ে দিলেন বলতে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রুয়ায়শিদ আস-সাকাফীর পুরো বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, সে কথা বলা হয়েছে। বাড়িটি মূলত একটা পানশালা ছিল। ইবনুল কয়্যিম বলেছেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব সবকিছুসমেত পানশালা পুড়িয়ে দিতেন। মদ বিক্রি করা হতো বলে তিনি একবার পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেন। ১১৪৬৬

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 ‘তাকে সাক্ষী মুসলিম নারী হিসেবে দিয়ে দিন’

📄 ‘তাকে সাক্ষী মুসলিম নারী হিসেবে দিয়ে দিন’


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক লোক এসে বলল, 'জাহেলী যুগে আমি আমার কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলাম। অবশ্য মারা যাওয়ার আগেই আমরা কবর খুঁড়ে তাকে বের করে আনি। সে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে এবং ইসলাম গ্রহণ করে। তবে সে হাদ্দ-শাস্তি পাওয়ার মতো একটি কাজ করে ফেলেছে। পরে সে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। হাতের কয়েকটি শিরা কেটে ফেলার পর আমরা তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হই। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তার দেখাশোনা করেছি। সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। এখন লোকজন তাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। এখন আমার কি সবকিছু জানানো উচিত?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ তা'আলা যা গোপন করে রেখেছেন আপনি কি জেনেশুনে তা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন? আল্লাহর কসম, আপনি কারও কাছে যদি তার কোনো কথা প্রকাশ করেছেন তো আমি আপনাকে সব ধর্মের লোকের জন্য নযীর করে রাখব। তাকে সাধ্বী মুসলিম নারী হিসেবে বিয়ে দিন। ১১৪৬৭

টিকাঃ
১১৪৬৭ মাহদুস সাওয়াব, ২/৭০৯; আশ-শাবি পর্যন্ত এর সনদ সহীহ, তবে আশ-শাবি এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে কেউ তার

📄 উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে কেউ তার


সালিম তার পিতার সূত্রে বলেন, গায়লان আস-সাকাফী মুসলিম হয়েছিলেন এবং একাধারে তার দশজন স্ত্রী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'চারজন বেছে নাও।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খলীফা থাকাকালীন গায়লان তার স্ত্রীদের তালাক দিয়ে ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দেন। এই খবর পেয়ে উমর রাযিয়াল্লাহu আনহু তাকে ডেকে পাঠান। তিনি খলীফার দরবারে হাজির হলে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, 'আমার ধারণা, শয়তান আপনার ইন্তেকাল সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছে এবং আপনাকে আপনার মৃত্যুসংবাদ শুনিয়েছে। এ কারণেই আপনি এমন কাণ্ড করেছেন। আল্লাহর কসম, স্ত্রীদের ফিরিয়ে নেবার আগেই যদি আপনার মৃত্যু হয়, তবে আমি তাদের মধ্যে আপনার সম্পত্তি ভাগ করে দেব এবং আবু রাগগালের কবরের মতো আপনার কবর বাঁধাই করে রাখব।' এই কথা শুনে তিনি স্ত্রীদের ফিরিয়ে নিলেন। তিনি কাউকেই তিন তালাক দেননি এবং ছেলেদের মধ্যে যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছিলেন তা ফেরত নেন। এর কিছুদিন পরেই তার ইন্তেকাল হয়। ১১৪৬৮

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 গর্ভধারণের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা

📄 গর্ভধারণের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সামনে এমন এক নারীকে হাজির করা হয়েছিল যার গর্ভকাল ছিল মাত্র ছয় মাস। খলীফা তাকে প্রস্তারাঘাত করতে উদ্যত হন। এমন সময় তার বোন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর শরণাপন্ন হয়ে বলল, 'উমর আমার বোনকে প্রস্তারাঘাত করতে চাচ্ছেন। আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তা, তাকে রক্ষার কোনো উপায় থাকলে বলুন।' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'একটি উপায় আছে।' ওই নারী এত জোরে তাকবীর বলে উঠল যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুসহ উপস্থিত সবাই তা শুনতে পেয়েছে। সে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে বলল, 'আলী বলেছেন, আমার বোনকে রক্ষার একটি উপায় আছে।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জানতে চাইলেন, 'কী উপায়?' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন : আর সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর দুধ খাওয়াবে। ১৪৬৯ তিনি আরও বলেছেন: তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। ১৪৭০ সুতরাং ছয় মাসের গর্ভধারণ এবং স্তন্য ছাড়াতে চব্বিশমাস।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নারীকে মুক্তি দেন。
নয় মাসের অধিককালও সন্তান তার মায়ের গর্ভে থাকতে পারে। এক নারীর স্বামী দুই বছর যাবত দূরে ছিল। সে ফিরে এসে স্ত্রীকে গর্ভাবস্থায় দেখতে পায়। তাকেও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রস্তারাঘাত করতে উদ্যত হয়েছিলেন; কিন্তু মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু তাতে বাধা দেন। তিনি বলেছিলেন, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তার সন্তানকে নিয়ে নয়।' সুতরাং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে সন্তান জন্মদান পর্যন্ত অব্যাহতি দিলেন। ওই নারীর একটি পুত্র সন্তান হলো। শিশুটি সবকটি দাঁতসহ জন্মগ্রহণ করে। তাছাড়া তার স্বামীর কাছে মনে হলো শিশুটি দেখতে তার মতো। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আর কোনো নারীর গর্ভে মুআযের মতো সন্তান আসবে না। আজ মুআয না থাকলে মারাত্মক ভুল হয়ে যেত। ১৪৭১
পরে অবশ্য দেখা গেছে যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়সীমা ছিল চার বছর। কারণ, তিনি ফাতওয়া দিয়েছিলেন, কেউ হারিয়ে গেলে তার স্ত্রীকে চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপরে তাকে বিধবাদের মতো ইদ্দত পালন করতে হবে। ইবনে কুদামা বলেছেন, 'উমর মনে করতেন চার বছর পর্যন্ত গর্ভধারণ করা সম্ভব। তাই চার বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। তারপরে তাকে বিধবাদের মতো চার মাস দশ দিনের ইদ্দত পালন করতে বলেছেন। এরপরে বিয়ে করা জায়েয। ১৪৭২

টিকাঃ
১৪৬৯ সূরা বাকারা, ২: ২৩৩।
১৪৭০ সূরা আল-আহকফ, ৪৬: ১৫।
১৪৭১ মাউসূআত ফিকহ উমর ইবনুল খাত্তাব, পৃ. ৩৭১।
১৪৭২ প্রাগুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00