📄 মদ্যপানের হদ্দ-দণ্ড ছিল আশি বেত্রাঘাত
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ইসলামের প্রসার ঘটেছে এবং মুসলিমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নও-মুসলিমদের মধ্যে পরিপূর্ণ ইলমের ঘাটতি এবং অজ্ঞতা ছিল। যা পূর্ববর্তীদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং লোকজনের মধ্যে মদপান ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তাই বুযুর্গ সাহাবায়ে কেরামের সাথে আলোচনায় বসলেন। সবার পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এর হাদ্দ হিসেবে আশিবার বেত্রাঘাত করা হবে। হাদ্দের মধ্যে এটাই ছিল লঘুতম শাস্তি। তিনি তার শাসনামল জুড়ে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে গেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধিতা করেননি। ১৪৬২ ইবনুল কায়্যিম উল্লেখ করেছেন, খালিদ উইবনুল ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ওয়াবারা আস- সালীতীকে পাঠান। তিনি বলেছেন, 'আমি যখন তার কাছে গেলাম তখন মসজিদে তালহা, আয-যুবায়র ইবনুল আওয়াম এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ উপস্থিত ছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, 'খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, মানুষ মদে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তারা শাস্তির তোয়াক্কা করছে না। আপনার কী মত?' তিনি বললেন, 'এই যে এরা আছেন (যারা আপনার জবাব দিতে পারবেন)।' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'মাতাল ব্যক্তি নিজেই জানে না সে কী বলছে। সে মিথ্যা বলবে, এবং মিথ্যাবাদীর শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত।' তারা সবাই একমত প্রকাশ করলেন এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আপনার সাথীকে তাদের বক্তব্য জানান।' সুতরাং খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুম আশিটি করে বেত্রাঘাত করতেন। ১৪৬৩
📄 মদ পরিবেশন করা হলে পানশালা পুড়িয়ে দিতে
নাফি থেকে উবায়দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ থেকে ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন যে ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, উমর এক সাকীফবাসীর বাড়িতে পানীয় দেখতে পেয়ে তা পুড়িয়ে দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। লোকটির নাম ছিল রুয়ায়শিদ (জ্ঞানী)। উমর তাকে বললেন, 'তুমি ফুয়ায়সিক (পাপী)। ১১৪৬৫
ইবনুল জাউযী বলেছেন, 'এখানে পুড়িয়ে দিলেন বলতে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রুয়ায়শিদ আস-সাকাফীর পুরো বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, সে কথা বলা হয়েছে। বাড়িটি মূলত একটা পানশালা ছিল। ইবনুল কয়্যিম বলেছেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব সবকিছুসমেত পানশালা পুড়িয়ে দিতেন। মদ বিক্রি করা হতো বলে তিনি একবার পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেন। ১১৪৬৬
📄 ‘তাকে সাক্ষী মুসলিম নারী হিসেবে দিয়ে দিন’
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এক লোক এসে বলল, 'জাহেলী যুগে আমি আমার কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলাম। অবশ্য মারা যাওয়ার আগেই আমরা কবর খুঁড়ে তাকে বের করে আনি। সে ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারে এবং ইসলাম গ্রহণ করে। তবে সে হাদ্দ-শাস্তি পাওয়ার মতো একটি কাজ করে ফেলেছে। পরে সে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। হাতের কয়েকটি শিরা কেটে ফেলার পর আমরা তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হই। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমরা তার দেখাশোনা করেছি। সে তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। এখন লোকজন তাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। এখন আমার কি সবকিছু জানানো উচিত?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ তা'আলা যা গোপন করে রেখেছেন আপনি কি জেনেশুনে তা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন? আল্লাহর কসম, আপনি কারও কাছে যদি তার কোনো কথা প্রকাশ করেছেন তো আমি আপনাকে সব ধর্মের লোকের জন্য নযীর করে রাখব। তাকে সাধ্বী মুসলিম নারী হিসেবে বিয়ে দিন। ১১৪৬৭
টিকাঃ
১১৪৬৭ মাহদুস সাওয়াব, ২/৭০৯; আশ-শাবি পর্যন্ত এর সনদ সহীহ, তবে আশ-শাবি এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মধ্যে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
📄 উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে কেউ তার
সালিম তার পিতার সূত্রে বলেন, গায়লان আস-সাকাফী মুসলিম হয়েছিলেন এবং একাধারে তার দশজন স্ত্রী ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'চারজন বেছে নাও।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খলীফা থাকাকালীন গায়লان তার স্ত্রীদের তালাক দিয়ে ছেলেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দেন। এই খবর পেয়ে উমর রাযিয়াল্লাহu আনহু তাকে ডেকে পাঠান। তিনি খলীফার দরবারে হাজির হলে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, 'আমার ধারণা, শয়তান আপনার ইন্তেকাল সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছে এবং আপনাকে আপনার মৃত্যুসংবাদ শুনিয়েছে। এ কারণেই আপনি এমন কাণ্ড করেছেন। আল্লাহর কসম, স্ত্রীদের ফিরিয়ে নেবার আগেই যদি আপনার মৃত্যু হয়, তবে আমি তাদের মধ্যে আপনার সম্পত্তি ভাগ করে দেব এবং আবু রাগগালের কবরের মতো আপনার কবর বাঁধাই করে রাখব।' এই কথা শুনে তিনি স্ত্রীদের ফিরিয়ে নিলেন। তিনি কাউকেই তিন তালাক দেননি এবং ছেলেদের মধ্যে যে সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছিলেন তা ফেরত নেন। এর কিছুদিন পরেই তার ইন্তেকাল হয়। ১১৪৬৮