📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 দিয়ত এবং কাসামাহ মেলবন্ধন

📄 দিয়ত এবং কাসামাহ মেলবন্ধন


বাদী কিংবা বিবাদীর উত্তরাধিকার যখন শপথকে কসামা বলা হয়। ১৪৫৮ ইমাম আশ-শা'বীর বরাত দিয়ে এই ঘটনার বর্ণনা করেছেন আবদুর রাযযাক, ইবনে আবি শায়বা এবং আল-বায়হাকী। ওয়াদিয়া এবং শাকিরের মাঝে একটি লাশ পড়ে ছিল। ১৪৫৯ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঘটনাস্থল থেকে দুই জায়গার দূরত্ব পরিমাপের নির্দেশ দেন। দেখা গেল ওখান থেকে ওয়াদিয়া বরং কাছে। সুতরাং তিনি ওই জায়গার প্রত্যেক লোককে এই বলে পঞ্চাশবার করে শপথ করান, 'আমি তাকে হত্যা করিনি এবং কে তার হত্যাকারী আমি জানি না।' অতঃপর সবার ওপরে দিয়াত ধার্য করে দিলেন। তারা বলতে লাগল, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আমাদের শপথ আমদের সম্পদ রক্ষা করতে পারেনি এবং আমাদের সম্পদ আমাদের শপথ রক্ষা করতে পারেনি।' তিনি বললেন, 'এমনই হওয়ার কথা। ১৪৬০

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 ‘হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না,

📄 ‘হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না,


তস্তর বিজয়ের খবর পেয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতে চেয়েছিলেন, 'সেখানে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি?' তারা বললেন, 'জী। একজন ইসলাম ত্যাগ করেছে।' তিনি বললেন, 'তার সাথে আপনারা কী আচরণ করেছেন?' তারা বললেন, 'আমরা তাকে হত্যা করেছি।' তিনি বললেন, 'আপনারা তাকে গৃহবন্দী করে রাখেননি কেন? রোজ এক টুকরো রুটি খেতে দিয়ে তওবা করতে বলতেন; সে তওবা করলে তো ভালোই হতো। আর তা না করলে, পরে হত্যা করতেন।' অতঃপর তিনি দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, কোনো নির্দেশও দিইনি, কোনো অনুমোদনও দিইনি, এবং এই খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। ১৪৬১

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মদ্যপানের হদ্দ-দণ্ড ছিল আশি বেত্রাঘাত

📄 মদ্যপানের হদ্দ-দণ্ড ছিল আশি বেত্রাঘাত


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ইসলামের প্রসার ঘটেছে এবং মুসলিমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নও-মুসলিমদের মধ্যে পরিপূর্ণ ইলমের ঘাটতি এবং অজ্ঞতা ছিল। যা পূর্ববর্তীদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং লোকজনের মধ্যে মদপান ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তাই বুযুর্গ সাহাবায়ে কেরামের সাথে আলোচনায় বসলেন। সবার পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এর হাদ্দ হিসেবে আশিবার বেত্রাঘাত করা হবে। হাদ্দের মধ্যে এটাই ছিল লঘুতম শাস্তি। তিনি তার শাসনামল জুড়ে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে গেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধিতা করেননি। ১৪৬২ ইবনুল কায়্যিম উল্লেখ করেছেন, খালিদ উইবনুল ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ওয়াবারা আস- সালীতীকে পাঠান। তিনি বলেছেন, 'আমি যখন তার কাছে গেলাম তখন মসজিদে তালহা, আয-যুবায়র ইবনুল আওয়াম এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ উপস্থিত ছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, 'খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, মানুষ মদে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তারা শাস্তির তোয়াক্কা করছে না। আপনার কী মত?' তিনি বললেন, 'এই যে এরা আছেন (যারা আপনার জবাব দিতে পারবেন)।' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'মাতাল ব্যক্তি নিজেই জানে না সে কী বলছে। সে মিথ্যা বলবে, এবং মিথ্যাবাদীর শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত।' তারা সবাই একমত প্রকাশ করলেন এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আপনার সাথীকে তাদের বক্তব্য জানান।' সুতরাং খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুম আশিটি করে বেত্রাঘাত করতেন। ১৪৬৩

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মদ পরিবেশন করা হলে পানশালা পুড়িয়ে দিতে

📄 মদ পরিবেশন করা হলে পানশালা পুড়িয়ে দিতে


নাফি থেকে উবায়দুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ থেকে ইয়াহিয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন যে ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, উমর এক সাকীফবাসীর বাড়িতে পানীয় দেখতে পেয়ে তা পুড়িয়ে দেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন। লোকটির নাম ছিল রুয়ায়শিদ (জ্ঞানী)। উমর তাকে বললেন, 'তুমি ফুয়ায়সিক (পাপী)। ১১৪৬৫
ইবনুল জাউযী বলেছেন, 'এখানে পুড়িয়ে দিলেন বলতে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রুয়ায়শিদ আস-সাকাফীর পুরো বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলেন, সে কথা বলা হয়েছে। বাড়িটি মূলত একটা পানশালা ছিল। ইবনুল কয়্যিম বলেছেন, 'উমর ইবনুল খাত্তাব সবকিছুসমেত পানশালা পুড়িয়ে দিতেন। মদ বিক্রি করা হতো বলে তিনি একবার পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দেন। ১১৪৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00