📄 যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সন্তান হত্যা করে
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ফাতওয়া দিয়েছিলেন, কেউ স্বেচ্ছায় নিজ সন্তানকে হত্যা করলে তাকে দিয়াত প্রদান করতে হবে। ১৪৫৬ আর মুসলমানের হাতে কোনো যিম্মি নিহত হলে এর শাস্তি হিসেবে তাকেও হত্যা (কিসাস) করা হবে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে এক মুসলিম কোনো এক যিম্মিকে হত্যা করেছিল বলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪৫৭
📄 দিয়ত এবং কাসামাহ মেলবন্ধন
বাদী কিংবা বিবাদীর উত্তরাধিকার যখন শপথকে কসামা বলা হয়। ১৪৫৮ ইমাম আশ-শা'বীর বরাত দিয়ে এই ঘটনার বর্ণনা করেছেন আবদুর রাযযাক, ইবনে আবি শায়বা এবং আল-বায়হাকী। ওয়াদিয়া এবং শাকিরের মাঝে একটি লাশ পড়ে ছিল। ১৪৫৯ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঘটনাস্থল থেকে দুই জায়গার দূরত্ব পরিমাপের নির্দেশ দেন। দেখা গেল ওখান থেকে ওয়াদিয়া বরং কাছে। সুতরাং তিনি ওই জায়গার প্রত্যেক লোককে এই বলে পঞ্চাশবার করে শপথ করান, 'আমি তাকে হত্যা করিনি এবং কে তার হত্যাকারী আমি জানি না।' অতঃপর সবার ওপরে দিয়াত ধার্য করে দিলেন। তারা বলতে লাগল, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আমাদের শপথ আমদের সম্পদ রক্ষা করতে পারেনি এবং আমাদের সম্পদ আমাদের শপথ রক্ষা করতে পারেনি।' তিনি বললেন, 'এমনই হওয়ার কথা। ১৪৬০
📄 ‘হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না,
তস্তর বিজয়ের খবর পেয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতে চেয়েছিলেন, 'সেখানে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি?' তারা বললেন, 'জী। একজন ইসলাম ত্যাগ করেছে।' তিনি বললেন, 'তার সাথে আপনারা কী আচরণ করেছেন?' তারা বললেন, 'আমরা তাকে হত্যা করেছি।' তিনি বললেন, 'আপনারা তাকে গৃহবন্দী করে রাখেননি কেন? রোজ এক টুকরো রুটি খেতে দিয়ে তওবা করতে বলতেন; সে তওবা করলে তো ভালোই হতো। আর তা না করলে, পরে হত্যা করতেন।' অতঃপর তিনি দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, কোনো নির্দেশও দিইনি, কোনো অনুমোদনও দিইনি, এবং এই খবরে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি। ১৪৬১
📄 মদ্যপানের হদ্দ-দণ্ড ছিল আশি বেত্রাঘাত
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ইসলামের প্রসার ঘটেছে এবং মুসলিমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নও-মুসলিমদের মধ্যে পরিপূর্ণ ইলমের ঘাটতি এবং অজ্ঞতা ছিল। যা পূর্ববর্তীদের মধ্যে অনুপস্থিত ছিল। সুতরাং লোকজনের মধ্যে মদপান ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তাই বুযুর্গ সাহাবায়ে কেরামের সাথে আলোচনায় বসলেন। সবার পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, এর হাদ্দ হিসেবে আশিবার বেত্রাঘাত করা হবে। হাদ্দের মধ্যে এটাই ছিল লঘুতম শাস্তি। তিনি তার শাসনামল জুড়ে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে গেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধিতা করেননি। ১৪৬২ ইবনুল কায়্যিম উল্লেখ করেছেন, খালিদ উইবনুল ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহু উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ওয়াবারা আস- সালীতীকে পাঠান। তিনি বলেছেন, 'আমি যখন তার কাছে গেলাম তখন মসজিদে তালহা, আয-যুবায়র ইবনুল আওয়াম এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ উপস্থিত ছিলেন। আমি জানতে চাইলাম, 'খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আপনাকে সালাম পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, মানুষ মদে আসক্ত হয়ে পড়ছে, তারা শাস্তির তোয়াক্কা করছে না। আপনার কী মত?' তিনি বললেন, 'এই যে এরা আছেন (যারা আপনার জবাব দিতে পারবেন)।' আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'মাতাল ব্যক্তি নিজেই জানে না সে কী বলছে। সে মিথ্যা বলবে, এবং মিথ্যাবাদীর শাস্তি আশিটি বেত্রাঘাত।' তারা সবাই একমত প্রকাশ করলেন এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আপনার সাথীকে তাদের বক্তব্য জানান।' সুতরাং খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুম আশিটি করে বেত্রাঘাত করতেন। ১৪৬৩