📄 সানাবাসীরা সবাই যদি এই হত্যাকাণ্ড শামীল
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, এক বালক নিহত হয়েছিল। তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'সানাবাসীরা সবাই যদি এই হত্যাকাণ্ডে শামিল থাকত, তবে সবাইকে আমি মৃত্যুদণ্ড দিতাম।' আরেকটি বর্ণনামতে, চারজন মিলে তাকে হত্যা করেছিল, এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'সানার সবাই যদি হত্যা করত, তবে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিতাম। ১৪৫১ কুরআন বা সুন্নাতে এ সংক্রান্ত কিছু পাওয়া যায়নি, আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুও এর ফাতওয়া দেননি। তাই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু শরীয়তের লক্ষ্য অনুসরণ করে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন এবং এই ফাতওয়া দিয়েছেন। তিনি সমাজে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই ফাতওয়া দেন। হত্যা কোনো সামান্য বিষয় নয়। তাই যদি প্রমাণ পাওয়া যেত যে সবাই মিলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তবে উম্মতের স্বার্থ রক্ষা এবং শরীয়তের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিশোধ (কিসাস) নেওয়া হতো। সাঈদ ইবনুল মায়্যিব, হাসান, আবু সালামা, আতা, কতাদা, আস-সাওরীসহ চার ইমাম এবং অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এই ফাতওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৪৫২ শক্ত প্রমাণের ভরসায়, যেমন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পদক্ষেপ এবং সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে চিন্তা করলেও দেখা যায় যে, এই ফাতওয়া সঠিক ছিল। কারণ, তা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে এবং সমাজে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ১৪৫৩
📄 যাদুচর্চার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নর এবং প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যারা যাদুটোনা করবে, পুরুষ হোক বা নারী, তাকে যেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪৫৪ এই নির্দেশ যথার্থভাবে পালিত হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরামও এ বিষয়ে একমত ছিলেন। ১৪৫৫
📄 যে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সন্তান হত্যা করে
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ফাতওয়া দিয়েছিলেন, কেউ স্বেচ্ছায় নিজ সন্তানকে হত্যা করলে তাকে দিয়াত প্রদান করতে হবে। ১৪৫৬ আর মুসলমানের হাতে কোনো যিম্মি নিহত হলে এর শাস্তি হিসেবে তাকেও হত্যা (কিসাস) করা হবে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে এক মুসলিম কোনো এক যিম্মিকে হত্যা করেছিল বলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪৫৭
📄 দিয়ত এবং কাসামাহ মেলবন্ধন
বাদী কিংবা বিবাদীর উত্তরাধিকার যখন শপথকে কসামা বলা হয়। ১৪৫৮ ইমাম আশ-শা'বীর বরাত দিয়ে এই ঘটনার বর্ণনা করেছেন আবদুর রাযযাক, ইবনে আবি শায়বা এবং আল-বায়হাকী। ওয়াদিয়া এবং শাকিরের মাঝে একটি লাশ পড়ে ছিল। ১৪৫৯ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঘটনাস্থল থেকে দুই জায়গার দূরত্ব পরিমাপের নির্দেশ দেন। দেখা গেল ওখান থেকে ওয়াদিয়া বরং কাছে। সুতরাং তিনি ওই জায়গার প্রত্যেক লোককে এই বলে পঞ্চাশবার করে শপথ করান, 'আমি তাকে হত্যা করিনি এবং কে তার হত্যাকারী আমি জানি না।' অতঃপর সবার ওপরে দিয়াত ধার্য করে দিলেন। তারা বলতে লাগল, 'হে আমীরুল মুমিনীন, আমাদের শপথ আমদের সম্পদ রক্ষা করতে পারেনি এবং আমাদের সম্পদ আমাদের শপথ রক্ষা করতে পারেনি।' তিনি বললেন, 'এমনই হওয়ার কথা। ১৪৬০