📄 মানুষের সম্ভ্রম বিনষ্টকারী, ইহুদির রক্তের মত ঘৃণ্য
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে দুজন ধর্মনিষ্ঠ লোক ছিলেন। তাদের সম্পর্ক ছিল আপন ভাইয়ের মতো। তাদের একজন জিহাদে যাওয়ার সময় আরেকজনের হাতে পরিবারের দায়িত্ব দিয়ে যান। এক রাতে তিনি সেই ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে গেলেন। তার ঘরে আলো জ্বলছিল। তিনি ভাইয়ের স্ত্রীর পাশে এক ইহুদিকে প্ররোচনামূলক কবিতা আবৃত্তি করতে দেখেন。
তরুণ লোকটি তার বাড়ি থেকে তরবারি নিয়ে এলেন। ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে ইহুদিকে হত্যা করলেন এবং তার ক্ষতবিক্ষত শরীর রাস্তায় ছুঁড়ে ফেললেন। পরেরদিন লাশ দেখে কেউ বুঝতে পারল না, কাজটি কে করেছে। তারা উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে এই ঘটনা জানাল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সবার উদ্দেশ্যে ঘোষণা করলেন, 'আস-সালাতু জামিয়াহ (নামায শুরু হতে যাচ্ছে)।' সবাই জড়ো হলো। তিনি মিম্বরে উঠে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করে বলতে শুরু করলেন, 'আমি আল্লাহর ওয়াস্তা দিচ্ছি। এই ঘটনা সম্পর্কে কারও কিছু জানা থাকলে আমাকে যেন বলে।' তরুণ লোকটি দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা বলতে লাগল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ তা'আলা আপনার হাত দুটোকে সুরক্ষিত রাখুন।' তিনি এ ধরনের হত্যাকে জায়েয বললেন। ১৪৫০
📄 আল্লাহ কাউকে হত্যা করলে তার জন্য দিয়ত
আব্দুর রাযযাক তার মুসান্নাফ এবং আল-বায়হাকী তার সুনানে এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। এক ব্যক্তি হুযায়লবাসীদের আতিথেয়তা করেছিলেন। তারা খাদেমাকে জ্বালানিকাঠ আনতে পাঠায়। তখন মেজবান লোকটি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে অনুসরণ করতে থাকে। সে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানালে খাদেমা রাজি হয়নি। ফলে লোকটি তার সাথে জোর খাটাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ওই নারী তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং পালানোর চেষ্টা করে। সে লোকটির দিকে পাথর ছুঁড়ে মারলে, সে মারা যায়। খাদেমা তার মালিকদের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা জানাল। তারা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে পুরো ঘটনা জানায়। তিনি ঘটনা তদন্তের জন্য লোক পাঠিয়ে দিলেন। ঘটনাস্থলে যে পায়ের ছাপ ছিল তারা তা খুঁজে পায়। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আল্লাহ যাকে হত্যা করেছেন তার জন্য দিয়াত প্রযোজ্য নয়।' যুলুমকারীকে এভাবে হত্যা করা হলে তার জন্য কিসাস বা দিয়াত প্রদান করতে হবে না। এমনকি প্রায়শ্চিত্তও করতে হবে না।
📄 সানাবাসীরা সবাই যদি এই হত্যাকাণ্ড শামীল
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, এক বালক নিহত হয়েছিল। তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'সানাবাসীরা সবাই যদি এই হত্যাকাণ্ডে শামিল থাকত, তবে সবাইকে আমি মৃত্যুদণ্ড দিতাম।' আরেকটি বর্ণনামতে, চারজন মিলে তাকে হত্যা করেছিল, এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, 'সানার সবাই যদি হত্যা করত, তবে সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিতাম। ১৪৫১ কুরআন বা সুন্নাতে এ সংক্রান্ত কিছু পাওয়া যায়নি, আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুও এর ফাতওয়া দেননি। তাই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু শরীয়তের লক্ষ্য অনুসরণ করে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছেন এবং এই ফাতওয়া দিয়েছেন। তিনি সমাজে নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই ফাতওয়া দেন। হত্যা কোনো সামান্য বিষয় নয়। তাই যদি প্রমাণ পাওয়া যেত যে সবাই মিলে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তবে উম্মতের স্বার্থ রক্ষা এবং শরীয়তের লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রতিশোধ (কিসাস) নেওয়া হতো। সাঈদ ইবনুল মায়্যিব, হাসান, আবু সালামা, আতা, কতাদা, আস-সাওরীসহ চার ইমাম এবং অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম এই ফাতওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৪৫২ শক্ত প্রমাণের ভরসায়, যেমন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পদক্ষেপ এবং সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতে চিন্তা করলেও দেখা যায় যে, এই ফাতওয়া সঠিক ছিল। কারণ, তা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে এবং সমাজে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ১৪৫৩
📄 যাদুচর্চার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নর এবং প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যারা যাদুটোনা করবে, পুরুষ হোক বা নারী, তাকে যেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ১৪৫৪ এই নির্দেশ যথার্থভাবে পালিত হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরামও এ বিষয়ে একমত ছিলেন। ১৪৫৫