📄 আল-মুগিরা ইবনে শুবাহ বিরুদ্ধে যিনা
তিনজন তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং চতুর্থজন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, কারণ, তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীর বিরুদ্ধে শয়তানকে জয়ী করেননি।’ [cite: ১৪৪৩] মিথ্যা অপবাদের দায়ে তিনি লোক তিনটিকে হাদ্দ শাস্তি দেন। কারণ, তিনজনের সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়। [cite: ১৪৪৪]
টিকাঃ
১৪৪৩. আল-মুগনি, ২/২৪৫।
১৪৪৪. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৯।
📄 গোলামের সঙ্গে যিনা করায় এক নারীর বিরুদ্ধে
এক নারী তার গোলামের সঙ্গে যেনা করে ফেলে। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ওই নারী জবাবে বলে : আল্লাহ তা'আলা কি বলেননি- ওইসকল লোক (দাস-দাসী) যারা তোমার অধীনস্থ-এবং সে আমার অধীনস্থ।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এ কথা তোলার পরে তিনি ওই নারীকে বললেন, 'এই গোলাম-যদিও সে তোমার অধীনস্থ-তোমার জন্য হালাল নয়। ১১৪৪৫ ভিন্ন বর্ণনামতে, তিনি তাদের আলাদা করে দেন এবং ওই নারীকে একশ বেত্রাঘাত করে তাযীর কার্যকর করেন। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সে জানত না বলে তার হাদ্দ মওকুফ করা হয়েছিল। ১৪৪৬
📄 এক নারী তার খাদেমার সাথে স্বামীর সহবাসের
তবে ওই নারী স্বীকার করেছিল যে, সে নিজে তার খাদেমাকে স্বামীর কাছে দিয়েছিল। মিথ্যা অপবাদের অভিযোগে সেই নারীকে আশি বার বেত্রাঘাত করে হাদ্দ কার্যকরের ফাতওয়া দেন। ১৪৪৭
📄 পরোক্ষভাবে অপবাদ দেবার জন্য হদ্দ কার্যকর
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে, এক ব্যক্তি ইশারায় আরেকজনকে অপবাদ দিযেছিল। সে বলছিল, 'আমার বাবা ব্যভিচারী নন, আমার মা-ও ব্যভিচারিনী নন' (অর্থাৎ, অন্য লোকের বাবা-মা অমন)। অন্যেরা বলতে লাগল, 'সে তার বাবা-মার প্রশংসা অন্যভাবেও করতে পারত। আমাদের মতে, তাকে হাদ্দ শাস্তি দিতে হবে।' সুতরাং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে আশি বার বেত্রাঘাতের শাস্তি দেন। ১৪৪৮ কারণ, তার অপবাদ খুব স্পষ্ট ছিল। সে তার বিপক্ষের কোনো একজনের দিকে পরোক্ষভাবে ইশারা করেছিল। তর্ক-বিতর্কের পরে তারা পরস্পরকে অপমান করছিল। এর এক পর্যায়ে সে এমন কথা বলে ফেলে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বোকা লোকটিকে একটা শিক্ষা দিতে চাচ্ছিলেন এবং নিরীহ লোকের সম্মান রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। তার বুদ্ধিদীপ্ত নীতি কিন্তু কুরআন বা সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক ছিল না, আবার শরীয়তের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। ১৪৪৯