📄 দুর্ভিক্ষের বছরে চুরি
দুর্ভিক্ষের বছর হাতিব ইবনে আবি বালতাআর খাদেমেরা মিলে এক মুযানী লোকের উট চুরি করে এবং জবাই করে খেয়ে ফেলে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে তাদের নামে অভিযোগ করার পরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে যান। তারা সুস্থ-মস্তিষ্কের পূর্ণবয়স্ক লোক ছিল। তাছাড়া চুরি করার মতো অভাবও ছিল না। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কাসীর ইবনুস সালতকে তাদের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তবে যেহেতু সেটা ছিল আর-রমাদার বছর, এজন্য তিনি চারপাশের অবস্থা বিবেচনা করে তাদের অব্যাহতি দিতে চাইলেন। তিনি তাদের মালিককে বললেন, ‘আমার ধারণা, আপনি তাদের ক্ষুধার্ত রাখেন।’ ব্যস এতটুকুই করলেন। অঙ্গচ্ছেদের বদলে উটের দ্বিগুণ মূল্য [cite: ১৪৩২] (৮০০ দিরহাম) পরিশোধ করতে বললেন। প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তারা হাদ্দ শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। [cite: ১৪৩৩]
টিকাঃ
১৪৩২. আল-মুস্তাক শারহ আল-মুআত্তা, আল-বাজি, ৬/৬৩।
১৪৩৩. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৮।
📄 উন্মাদ নারী কর্তৃক যিনা
এক নারীকে যিনার দায়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আনা হয়েছিল। সে উন্মাদ ছিল। সবার সাথে আলোচনাসাপেক্ষে তিনি পাথর মারার সিদ্ধান্ত দেন। আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘একে ফিরিয়ে নাও!’ অতঃপর তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে বললেন, ‘আপনি কী জানেন কলম তুলে নেওয়া হয়েছে?’ তিনি একটি হাদীস শোনালেন। এরপরে তিনি বললেন, ‘জী।’ আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তাহলে তাকে কেন পাথর মারতে হবে? ছেড়ে দিন।’ [cite: ১৪৩৪] উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকবীর বলতে লাগলেন। [cite: ১৪৩৫]
টিকাঃ
১৪৩৪. আল-খিলাফা আর-রাশিদা, ড. ইয়াহিয়া আল ইয়াহিয়া, পৃ ৩৫১; আসর আল-খিলাফা আর- রাশিদা, পৃ ১৪৮।
১৪৩৫. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৮।
📄 এক যিম্মি একজন মুসলিম নারীকে যিনা করতে বাধ্য
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে ওই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি চুক্তিভঙ্গের দায়ে লোকটিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। [cite: ১৪৩৬]
টিকাঃ
১৪৩৬. আল-মুআত্তা, ২/৮২৭; আল-মুগনি, ১২/২১৭; বুখারী, হাদীস নং. ২৫৪৮।
📄 নারীকে যিনা করতে বাধ্য করা হলে
কয়েকজন ক্রীতদাস মিলে ক্রীতদাসীদের যিনা করতে বাধ্য করেছিল। এই অপরাধের কারণে তাদের উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সামনে উপস্থিত করা হয়। তিনি লোকগুলোকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। নারীদের কোনো শাস্তি দেননি। [cite: ১৪৩৭]
যিনার দায়ে এক নারীকে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সামনে হাজির করা হলে সে বলল, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। উঠে দেখি এক লোক আমার ওপরে।’ তিনি শাস্তি না দিয়েই ওই নারীকে ছেড়ে দেন। [cite: ১৪৩৮]
তবে এ ধরনের অভিযোগে কোনো রকম সন্দেহের অবকাশ থাকলে হাদ্দ শাস্তি রদ করা হতো। শারিরীক নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করা হতো না। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে এক নারী কোনো এক রাখালের কাছে পানি চাইতে যায়। রাখাল তা দিতে চাচ্ছিল না। পরে ইচ্ছা চরিতার্থ করতে দেওয়ার বিনিময়ে লোকটি পানি দিতে রাজি হয়েছিল। ওই নারী তার কথামতো কাজ করে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার পরে তিনি আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে জানতে চাইলেন, ‘তার (ওই নারীর) ব্যাপারে আপনার কী মত?’ তিনি বললেন, ‘তাকে বাধ্য করা হয়েছে।’ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে সামান্য কিছু দিয়ে ছেড়ে দেন।