📄 রাষ্ট্রীয় সীমানোয় জাল করা
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে নযীরবিহীন বহু গুরুতর ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। মান ইবনে যাদিয়া নামে এক ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সীলমোহর নকল করেছিল। এই সীল ব্যবহার করে সে মুসলিমদের বায়তুল মাল থেকে অর্থকড়ি হাতিয়ে নিচ্ছিল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে তার অপরাধ ধরা পড়ার পরে তিনি তাকে একশ বেত্রাঘাত করেন এবং হাজতে পুরে দেন। কেউ একজন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল বলে তাকে আরও একশ বেত্রাঘাত করেন। এরপরে আরও একজন বাঁচাতে আসল বলে তিনি আরও একশ বেত্রাঘাত করে তাকে দেশছাড়া করে দেন। [cite: ১৪২৯]
টিকাঃ
১৪২৯. আওয়ালিয়াত আল-ফারুক, পৃ. ৪৫৩।
📄 কৃষ্ণার বায়তুল মাল থেকে যে লোক চুরি করেছিল
বায়তুল মাল থেকে চুরি করার পরেও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু লোকটির হাত কাটেননি। তার ব্যাপারে যখন ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতে চাইলেন, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, ‘তাকে ছেড়ে দাও। কারণ, এই সম্পদের ওপরে সবার হক আছে। [cite: ১৪৩০] তবে তাকে তাযীর শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল। [cite: ১৪৩১]
টিকাঃ
১৪৩০. আল-মুগনি, ১২/৩৮৬; আল-ইরওয়া, ২৪২২, এর সনদ যয়ীফ।
১৪৩১. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ. ১৪৮।
📄 দুর্ভিক্ষের বছরে চুরি
দুর্ভিক্ষের বছর হাতিব ইবনে আবি বালতাআর খাদেমেরা মিলে এক মুযানী লোকের উট চুরি করে এবং জবাই করে খেয়ে ফেলে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে তাদের নামে অভিযোগ করার পরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে যান। তারা সুস্থ-মস্তিষ্কের পূর্ণবয়স্ক লোক ছিল। তাছাড়া চুরি করার মতো অভাবও ছিল না। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কাসীর ইবনুস সালতকে তাদের হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তবে যেহেতু সেটা ছিল আর-রমাদার বছর, এজন্য তিনি চারপাশের অবস্থা বিবেচনা করে তাদের অব্যাহতি দিতে চাইলেন। তিনি তাদের মালিককে বললেন, ‘আমার ধারণা, আপনি তাদের ক্ষুধার্ত রাখেন।’ ব্যস এতটুকুই করলেন। অঙ্গচ্ছেদের বদলে উটের দ্বিগুণ মূল্য [cite: ১৪৩২] (৮০০ দিরহাম) পরিশোধ করতে বললেন। প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তারা হাদ্দ শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। [cite: ১৪৩৩]
টিকাঃ
১৪৩২. আল-মুস্তাক শারহ আল-মুআত্তা, আল-বাজি, ৬/৬৩।
১৪৩৩. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৮।
📄 উন্মাদ নারী কর্তৃক যিনা
এক নারীকে যিনার দায়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে আনা হয়েছিল। সে উন্মাদ ছিল। সবার সাথে আলোচনাসাপেক্ষে তিনি পাথর মারার সিদ্ধান্ত দেন। আলী ইবনে আবি তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘একে ফিরিয়ে নাও!’ অতঃপর তিনি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে বললেন, ‘আপনি কী জানেন কলম তুলে নেওয়া হয়েছে?’ তিনি একটি হাদীস শোনালেন। এরপরে তিনি বললেন, ‘জী।’ আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তাহলে তাকে কেন পাথর মারতে হবে? ছেড়ে দিন।’ [cite: ১৪৩৪] উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকবীর বলতে লাগলেন। [cite: ১৪৩৫]
টিকাঃ
১৪৩৪. আল-খিলাফা আর-রাশিদা, ড. ইয়াহিয়া আল ইয়াহিয়া, পৃ ৩৫১; আসর আল-খিলাফা আর- রাশিদা, পৃ ১৪৮।
১৪৩৫. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৮।