📄 বিচারকদের বেতন
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নরদের পছন্দসই বিচারক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিলেন। এবং তাদের উপযুক্ত বেতন দেবার নির্দেশ দেন। [cite: ১৩৬৫] তিনি আবু উবায়দা এবং মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহুমকে লিখেছিলেন: ‘যোগ্য ব্যক্তিকে গভর্নর নিযুক্ত করবেন এবং তাদের বেতন দেবেন। [cite: ১৩৬৬]
ড. আল-উমারী উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালীন বিচারকদের বেতন উল্লেখ করেছেন : সালমান ইবনে রাবীয়া আল-বাহিলি (কুফা), মাস প্রতি ৫০০ দিরহাম; শুরায়হ আল-কাদি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম; আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম এবং প্রতিদিন একটি ভেড়ার এ চতুর্থাংশ; উসমান ইবনে কায়স ইবনে আবি আল-আস (মিসর), মাসপ্রতি ২০০ দিনার; কায়স ইবনে আবি আল-আস আস-সুহামি (মিসর), ২০০ দিনার পেতেন। [cite: ১৩৬৭]
📄 বিচারব্যবস্থার বিশেষত্ব
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে বিচারকেরা অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক সমস্যা, হুদূদ শাস্তি ও কিসাস-সহ যে কোনো ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার করতেন। বর্তমান যুগে বিচারিক বিশেষত্ব বলতে যা বোঝায় এর কোনোকিছুই সে যুগে ছিল না। তবে একটি বর্ণনায় দেখা গেছে, আস-সাইব ইবনে উখত নিমারকে নিয়োগের সময় উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, ‘যাবেন এবং ছোটখাটো অর্থনৈতিক বিবাদের মামলা বিচার করবেন। [cite: ১৩৬৮]
বিচারকেরা ব্যক্তিগত এবং নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত সব রকম মামলার বিচার করতেন। তবে হুদূদ এবং কিসাসের মামলা খলীফা এবং গভর্নর বরাবর পাঠানো হতো। মৃত্যুদণ্ড দেবার এখতিয়ার ছিল কেবল খলীফার। তবে মৃত্যুদণ্ড বাদে কিসাসের মামলাগুলো গভর্নরেরাও বিচার করতে পারতেন। [cite: ১৩৬৯]
বিচারকাজ পরিচালনার জন্য তখন নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। বিচারকেরা তাদের বাড়ি এবং মসজিদ থেকেও কাজ করতে পারতেন। তবে মসজিদেই সাধারণত বিচারে করা হতো। [cite: ১৩৬৯] তখন মামলা-মোকাদ্দমার সংখ্যা খুব কম ছিল বলে সেগুলোর তথ্য লিখে রাখা হয়নি। বিষয়গুলো সবার মনে থাকত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারকেরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসিয়ে দিলেই মামলা চুকে গেছে। মানুষের অধিকার রক্ষার করতে এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। উমর, উসমান এবং আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুম এমন করতেন। কারাগার ছিল নগরের কেন্দ্রবিন্দুতে। আর মসজিদের বাইরে কিসাসের শাস্তি কার্যকর করা হতো। [cite: ১৩৭০]
টিকাঃ
১৩৬৮. আন-নিযাম আল-কাদাই, পৃ. ৭৪; আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৪।
১৩৬৯. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৫।
১৩৭০. প্রাগুক্ত।