📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 বিচারকদের নিয়োগ

📄 বিচারকদের নিয়োগ


খলীফা সরাসরি নিজে বিচারকদের নিয়োগ দিতেন, যেমন শুরায়হকে কুফার বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। আবার গভর্নরেরাও বিচারক নিয়োগ করতে পারতেন। আমর ইবনুল আস রাযিয়াল্লাহু আনহু মিসরের গভর্নর থাকাকালীন উসমান ইবনে কায়স ইবনে আবি আল-আসকে মিসরের বিচারক নিয়োগ করেছিলেন। খলীফা বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। তিনি চাইলে নিজে নিয়োগ দিতে পারতেন, চাইলে অন্য কাউকে এর অনুমতি দিতেন। তিনি বিচারকদের নিয়োগ দিতেন এর অর্থ এই নয় যে, এ পর্যন্তই তার কাজ সীমাবদ্ধ ছিল, খলীফা যে কোনো মামলা তদন্ত করার এবং ফাতওয়া দেবার অধিকার রাখতেন। অন্যদিকে খলীফা কিংবা গভর্নর কাউকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেবার পরেই কেবল কোনো ব্যক্তি এই দায়িত্ব পেতেন। [cite: ১৩৬২] বিচারক যদি বিচারকাজে ব্যর্থ কিংবা অযোগ্য হয়ে পড়েন, খলীফা বিচারককে বরখাস্ত করার অধিকার রাখেন। তাকে বরখাস্তের দরকার না পড়লে তো ভালো। কারণ, মুসলিমদের স্বার্থরক্ষার জন্যই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তিনি যতদিন তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন ততদিন এই পদে বহাল থাকবেন। [cite: ১৩৬৩] উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বিচারকদের বরখাস্ত করে নতুন বিচারক নিয়োগ করেছিলেন বলে জানা যায়। কিছু দুর্বলতা থাকার কারণে তিনি আবু মারিয়াম আল-হানাফীকে [cite: ১৩৬৪] বরখাস্ত করেছিলেন।
২.২.২। বিচারকদের বেতন
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নরদের পছন্দসই বিচারক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিলেন। এবং তাদের উপযুক্ত বেতন দেবার নির্দেশ দেন। [cite: ১৩৬৫] তিনি আবু উবায়দা এবং মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহুমকে লিখেছিলেন: ‘যোগ্য ব্যক্তিকে গভর্নর নিযুক্ত করবেন এবং তাদের বেতন দেবেন। [cite: ১৩৬৬]
ড. আল-উমারী উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালীন বিচারকদের বেতন উল্লেখ করেছেন : সালমান ইবনে রাবীয়া আল-বাহিলি (কুফা), মাস প্রতি ৫০০ দিরহাম; শুরায়হ আল-কাদি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম; আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম এবং প্রতিদিন একটি ভেড়ার এ চতুর্থাংশ; উসমান ইবনে কায়স ইবনে আবি আল-আস (মিসর), মাসপ্রতি ২০০ দিনার; কায়স ইবনে আবি আল-আস আস-সুহামি (মিসর), ২০০ দিনার পেতেন। [cite: ১৩৬৭]

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 বিচারকদের বেতন

📄 বিচারকদের বেতন


উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার গভর্নরদের পছন্দসই বিচারক নিয়োগের অনুমতি দিয়েছিলেন। এবং তাদের উপযুক্ত বেতন দেবার নির্দেশ দেন। [cite: ১৩৬৫] তিনি আবু উবায়দা এবং মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহুমকে লিখেছিলেন: ‘যোগ্য ব্যক্তিকে গভর্নর নিযুক্ত করবেন এবং তাদের বেতন দেবেন। [cite: ১৩৬৬]
ড. আল-উমারী উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালীন বিচারকদের বেতন উল্লেখ করেছেন : সালমান ইবনে রাবীয়া আল-বাহিলি (কুফা), মাস প্রতি ৫০০ দিরহাম; শুরায়হ আল-কাদি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম; আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-হুযালি (কূফা), মাসপ্রতি ১০০ দিরহাম এবং প্রতিদিন একটি ভেড়ার এ চতুর্থাংশ; উসমান ইবনে কায়স ইবনে আবি আল-আস (মিসর), মাসপ্রতি ২০০ দিনার; কায়স ইবনে আবি আল-আস আস-সুহামি (মিসর), ২০০ দিনার পেতেন। [cite: ১৩৬৭]

📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 বিচারব্যবস্থার বিশেষত্ব

📄 বিচারব্যবস্থার বিশেষত্ব


খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে বিচারকেরা অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক সমস্যা, হুদূদ শাস্তি ও কিসাস-সহ যে কোনো ধরনের অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার করতেন। বর্তমান যুগে বিচারিক বিশেষত্ব বলতে যা বোঝায় এর কোনোকিছুই সে যুগে ছিল না। তবে একটি বর্ণনায় দেখা গেছে, আস-সাইব ইবনে উখত নিমারকে নিয়োগের সময় উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন, ‘যাবেন এবং ছোটখাটো অর্থনৈতিক বিবাদের মামলা বিচার করবেন। [cite: ১৩৬৮]
বিচারকেরা ব্যক্তিগত এবং নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত সব রকম মামলার বিচার করতেন। তবে হুদূদ এবং কিসাসের মামলা খলীফা এবং গভর্নর বরাবর পাঠানো হতো। মৃত্যুদণ্ড দেবার এখতিয়ার ছিল কেবল খলীফার। তবে মৃত্যুদণ্ড বাদে কিসাসের মামলাগুলো গভর্নরেরাও বিচার করতে পারতেন। [cite: ১৩৬৯]
বিচারকাজ পরিচালনার জন্য তখন নির্দিষ্ট কোনো জায়গা ছিল না। বিচারকেরা তাদের বাড়ি এবং মসজিদ থেকেও কাজ করতে পারতেন। তবে মসজিদেই সাধারণত বিচারে করা হতো। [cite: ১৩৬৯] তখন মামলা-মোকাদ্দমার সংখ্যা খুব কম ছিল বলে সেগুলোর তথ্য লিখে রাখা হয়নি। বিষয়গুলো সবার মনে থাকত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচারকেরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাসিয়ে দিলেই মামলা চুকে গেছে। মানুষের অধিকার রক্ষার করতে এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। উমর, উসমান এবং আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুম এমন করতেন। কারাগার ছিল নগরের কেন্দ্রবিন্দুতে। আর মসজিদের বাইরে কিসাসের শাস্তি কার্যকর করা হতো। [cite: ১৩৭০]

টিকাঃ
১৩৬৮. আন-নিযাম আল-কাদাই, পৃ. ৭৪; আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৪।
১৩৬৯. আসর আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ ১৪৫।
১৩৭০. প্রাগুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00