📘 উমর ইবনুল খাত্তাব রা: জীবন ও কর্ম > 📄 মুসলিমদের বাইতুল মাল এবং দাপ্তরিক নথির প্রচলন

📄 মুসলিমদের বাইতুল মাল এবং দাপ্তরিক নথির প্রচলন


বায়তুল মাল হচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগার। সেখানে রাষ্ট্রীয় আয় জমা হতো এবং সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যয়, যেমন: খলীফা, সেনাবাহিনী, বিচারক এবং প্রতিনিধিদের বেতন-ভাতাদি প্রদান করা হতো। [cite: ১২৮২]
দাপ্তরিক নথিপত্র (দাওয়াঈন, একবচনে দিওয়ান) বলতে এখানে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত দলিলাদিকে বোঝানো হয়। দিওয়ান শব্দটি পারসিক। যে জায়গায় নথিপত্র থাকত এবং নথিলেখকেরা কাজ করতো পারস্যে ওই দপ্তর দিওয়ান নামে পরিচিত ছিল। [cite: ১২৮৩]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পদ দ্রুত বিলি-বণ্টন এবং খরচ করতেন। তাই ইসলামী রাষ্ট্রের সূচনালগ্নে বায়তুল মালের অস্তিত্ব ছিল না। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করেছেন। একইভাবে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুও তার দুই সাথীকে অনুসরণ করেছেন। তবে ইসলামী রাষ্ট্র বিস্তৃত হওয়ার পরে এর প্রয়োজন দেখা যায়। গনীমত, জিযিয়া, খারাজ এবং যাকাতের আয় ও ব্যয় পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। উপরন্তু সেনাবাহিনীও বড় হচ্ছিল। তাদের দেখভাল করার জন্য নাম নথিভুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। যাতে কেউ কোনোরকম সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়।
অভিযান আর সাফল্য অব্যাহত ছিল। মুসলিমরা তাদের জীবনে এত সম্পদের ধারণা পর্যন্ত ছিল না। এই সম্পদের হিসাব রাখতে গিয়ে খলীফা এবং তার গভর্নরেরা হিমশিম খাচ্ছিলেন। হিসাবপত্র ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি গভর্নর এবং প্রতিনিধিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ছিল বোকামির নামান্তর। এমন চিন্তা-ভাবনা থেকেই অর্থনৈতিক কাজ পরিচালনার জন্য নিয়ম-নীতি প্রণীত হয়েছে। এখান থেকেই দিওয়ানের সূত্রপাত ঘটেছে। তাই বলা যায়, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ইসলামী রাষ্ট্রে সর্বপ্রথম দিওয়ান (দাপ্তরিক নথিপত্র) প্রতিষ্ঠা করেছেন। [cite: ১২৮৪]
ইতিহাসবিদেরা এভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন: আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনামতে, তিনি বাহরাইন থেকে পাঁচ লক্ষ দিরহামসহ ফিরে আসেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর দরবারে হাজির হন। তিনি বর্ণনা করেছেন, ‘তিনি আমাকে ওই জায়গার লোকদের কথা জানতে চাইলেন, আমি বললাম। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, ‘আপনি কি এনেছেন?’ আমি বললাম, ‘আমি পাঁচ লক্ষ দিরহাম এনেছি।’ তিনি বললেন, ‘অভিশাপ আপনাকে! আপনি কী বলছেন বুঝতে পারছেন?’ আমি বললাম, ‘জী, এক লক্ষ, এবং আরেক লক্ষ, এবং আরেক লক্ষ, এবং আরেক লক্ষ এবং আরেক লক্ষ।’ তিনি বললেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই খুব ক্লান্ত। বাড়িতে যাও। পরিবারের সাথে দেখা করে ঘুমাও। কাল সকালে এসো।’ পরের দিন সকালে আমি তার কাছে গেলাম। তিনি আবারও জানতে চাইলেন, ‘আপনি কী এনেছেন?’ আমি আমি বললাম, ‘আমি পাঁচ লক্ষ দিরহাম এনেছি।’ তিনি বললেন, ‘অভিশাপ আপনাকে! আপনি কী বলছেন বুঝতে পারছেন?’ আমি বললাম, ‘জী, এক লক্ষ...’ বলতে বলতে আমি পাঁচবার আঙুল গুনলাম। তিনি বললেন, ‘আপনি নিশ্চিত?’ আমি বললাম, ‘এর বাইরে কিছু জানি না।’ তিনি মিম্বরে উঠে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন, ‘হে লোকসকল, আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণে সম্পদ এসেছে। তোমরা চাইলে আমি থোক ধরে দিয়ে দিতে পারি। আর চাইলে গুনেও দিতে পারি।’ এক লোক দাঁড়িয়ে বলতে লাগল, ‘হে আমীরুল মুমিনীন, আমার মনে হয়, পারসিকেরা নিজেদের কাছে অর্থের হিসাব রাখে।’ [cite: ১২৮৫] উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর বুদ্ধিটা পছন্দ হলো। [cite: ১২৮৬] তিনি কয়েকজন মুসলমানের সাথে হিসাব রাখা নিয়ে আলোচনায় বসলেন। ওয়ালিদ ইবনে হিশাম ইবনুল মুগিরা ছাড়া বাকি সবাই মতামত দিতে লাগলেন। তিনি বললেন, ‘সিরিয়ায় দেখেছি, তাদের রাজারা সবকিছুর হিসাব রাখেন এবং সেনাবাহিনী সংগঠিত করে রেখেছেন। তাই হিসাব রাখুন এবং সেনাবাহিনী সুসংগঠিত করুন।’ কোনো কোনো বর্ণনামতে, এটা খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য ছিল। [cite: ১২৮৭]
কয়েকজন ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন যে, মদীনায় পারস্যের এক প্রাদেশিক শাসক ছিল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার কাজটা ঠিক বুঝতে পারছিলেন না। তখন তিনি খলীফাকে বলেছিলেন, ‘হে আমীরুল মুমিনীন, পারসিক শাসকেরা দিওয়ান নামে একটি দপ্তর পরিচালনা করে। তাদের আয়-ব্যয় সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং কোনো কিছুই হিসাবের বাইরে থাকে না। শ্রেণিভেদে কাকে কত ভাতা দেওয়া হয় এরও উল্লেখ বিদ্যমান। সেখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই।’ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এই পদ্ধতি বেশ ভালো লাগল। তিনি বললেন, ‘আমাকে বিস্তারিত বলুন।’ লোকটি সবকিছু বুঝিয়ে বলতে লাগলেন। এমনকি যারা ভাতা পায় এমন লোকদের একটি নথি তৈরি করে দেন। [cite: ১২৮৮]
এমন নথিপত্র রাখার পদ্ধতি উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুরও পছন্দ হলো। তিনি পরামর্শ দিলেন, ‘আমার মতে সবারই যথেষ্ট ধন-সম্পদ আছে। এখন এই অর্থ-সম্পদ কে নিচ্ছে বা না নিচ্ছে তা জানা না থাকলে অপচয়ের আশংকা থেকে যায়। [cite: ১২৮৯]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বেশিরভাগ সময় যারা থাকতেন তাদের সাথে তিনি আলোচনা করলেন। ঠিক কবে থেকে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র লেখার যাত্রা শুরু হয়েছে এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদদের মতভেদ আছে। কারও মতে ১৫ হিজরীতে এর সূচনা ঘটেছিল। এই দলে আছেন আত-তাবারী। তাকে ইবনুল আসীরসহ আরও অনেকে সমর্থন করেছেন। অন্যদের মতে ২০ হিজরীর মহররম মাসে কাজটি শুরু হয়। আল-বালাযুরী, আল-ওয়াকিদী, আল-মাউয়িরদী, ইবনে খালদুনসহ [cite: ১২৯০] বেশ কয়েকজন এই বছরের পক্ষে কথা বলেছেন। কারণ, ১৫ হিজরীতে আল-কদিসিয়ার যুদ্ধ হয়েছিল। আর এর পরে ইরাক, সিরিয়া এবং মিসর জয় করা হয়েছে। [cite: ১২৯১]
আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু যেভাবে সম্পদ বণ্টন করতেন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুও একই নীতি অনুসরণ করেছিলেন। ইসলামে জেষ্ঠ্যতা, জিহাদে অংশগ্রহণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পদ ভাগ করা হতো। [cite: ১২৯২] আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার খেলাফতের সময় যখন সবাইকে সমানভাবে সম্পদ ভাগ করে দিচ্ছিলেন তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এভাবে ভাগ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যারা দুইবার হিজরত করেছেন, যারা দুই কিবলার দিকে ফিরে নামায আদায় করেছেন এবং যারা অভিযানের সময় তরবারির ভয়ে মুসলিম হয়েছে, তাদের সবাইকে আপনি সমান সম্পদ দিচ্ছেন?’ তখন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘তারা যা করেছে, আল্লাহ তা’আলার জন্য করেছে আর আল্লাহ তা’আলার কাছেই তাদের পুরস্কার আছে। এই দুনিয়াতে চলতে গেলে একজন মুসাফিরের সমান মালামাল থাকাই যথেষ্ট।’ উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষে যে লড়েছে এবং তার বিপক্ষে যে লড়েছে তাদের এক সমান ভাববেন না। [cite: ১২৯৩]
সুতরাং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এই নিয়মে সম্পদ বণ্টনের শ্রেণিবিন্যাস করলেন:
১। যারা প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং কষ্ট করেছেন, যাদের লড়াইয়ের কারণে এই সম্পদ অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল।
২। যারা মুসলিমদের সুযোগ-সুবিধা দান করেছেন, যেমন গভর্নর এবং উলামায়ে কেরাম, তারা পার্থিব এবং রূহানী সুবিধা নিশ্চিত করেছেন।
৩। যারা মুসলিমদের জীবন থেকে বিপদ দূর করতে আপ্রাণ কষ্ট করেছেন; যেমন: আল্লাহ তা’আলার জন্য লড়াই করা মুজাহিদীন, সৈন্য, গুপ্তচর, উপদেষ্টা প্রমুখ।
৪। যারা অভাবী। [cite: ১২৯৪]
এই পদ্ধতিতে সম্পদ বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘জেষ্ঠ্যতা, অথবা যার মাধ্যমে মুসলিমরা উপকৃত হচ্ছে, অথবা যারা মুসলিমদের নিরাপদ রাখছেন অথবা যারা অভাবী তাদের চেয়ে বেশি হকদার আর কেউ নেই’। [cite: ১২৯৫]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কয়েকজন তরুণ কুরাইশকে ডাকলেন। তাদের মধ্যে আকিল ইবনে আবি তালিব, মাখরামা ইবনে নাওফাল এবং জুবায়র ইবনে মুতিম ছিলেন। তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘যোগ্যতা অনুসারে লোকজনের নাম লিখে ফেলুন’। তারা বনু হাশিম থেকে নাম লেখা শুরু করলেন। অতঃপর আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং তার লোকজন, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং তার লোকজন এভাবে সব গোত্রের নাম একে একে লেখা হলো। এই তালিকা দেখে তিনি বললেন, ‘না, আমি এভাবে চাইনি। যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ তাদের নাম আগে আসবে, তার পরে যারা ঘনিষ্ঠ তাদের নাম, তার পরে যারা ঘনিষ্ঠ এরপরে তাদের নাম, এভাবে তালিকা করুন। উমরকে আল্লাহ যেখানে রেখেছেন, সেখানে রাখুন’। বনু আদিয়্যির লোকজন খলীফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে দেখা করে বলল, ‘আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তরসূরি (খলীফা), আবু বকরের উত্তরসূরি, এবং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তরসূরি ছিলেন। তবে লোকেরা আপনাকে তালিকার যেখানে নির্ধারণ করেছেন সেখানে নাম রাখতে দিচ্ছেন না কেন’। তিনি বললেন, ‘না, না, হে বনু আদিয়্যি। তোমরা কি আমার সুবিধা নিতে চাচ্ছ? তোমরা আমার হাসানাত নিয়ে নিতে চাও? তোমাদের নাম যদি তালিকার শেষেও আসে তবে তোমরা এরই যোগ্য। আমি আমার সাথীদের পথে যদি না চলি তবে আমার গন্তব্যও ভিন্ন হয়ে যাবে। আল্লাহর কসম, পৃথিবীতে আমরা এমন কোনো উঁচু পর্যায়ে পৌঁছে যাইনি এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিলা ছাড়া আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার লাভের আশা করতে পারব না। তিনি আমাদের নেতা এবং তার লোকেরা আরবদের মধ্যে সম্ভ্রান্ততম, এরপরে এসেছে তার দ্বিতীয় নিকটমত লোকরা, তারপরের নিকটতম লোকেরা। [cite: ১২৯৬]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু দাপ্তরিক নথিতে যারা ভাতা পেতেন তাদের নাম এবং প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ লিখে রাখতেন। একে দিওয়ান আল-জুনদ (সেনাদলের নথি) বলা হতো। যে আরব সৈন্যরা আল্লাহর জন্য যুদ্ধ করতেন এখানে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। বনু হাশিমের যোদ্ধাদের নাম সবার আগে লেখা হয়েছে। কারণ, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটতম ছিলেন। অতঃপর যারা নিকটতম ছিলেন তাদের নাম লেখা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাসে এই ক্রম বজায় রাখা হয়েছে। এই বিন্যাস অনুসারে মুসলিমদের বেতন-ভাতা ধার্য করা হতো। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণ, তার নিকটাত্মীয় এবং সকল মুসলিম, নারী-পুরুষ, সদ্যজাত শিশু ও দাস-দাসী প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা করে ভাতা ধার্য করে দেন। [cite: ১২৯৭]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর জন্য জিহাদের ব্যাপারে কতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন তা নথি তৈরির পরে বোঝা গিয়েছিল। তিনি মুজাহিদদের প্রতি খুব যত্নবান ছিলেন। তাদের অধিকার-রক্ষায় সচেষ্ট থাকতেন। সেনাবাহিনীর যাবতীয় তথ্য আরবি ভাষায় মদীনায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। বিখ্যাত এবং শিক্ষিত কুরাইশেরা এই কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের বাকি ভূখণ্ডে একইভাবে তথ্য লিপিবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। প্রত্যেক অঞ্চল স্ব-স্ব ভাষায় তাদের তথ্যাদি লিখে রাখতে শুরু করে। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান এবং তার ছেলে আল-ওয়ালীদের খেলাফতের সময় সেগুলোকে আরবিতে ভাষান্তরিত করা হয়েছিল।
যাবতীয় তথ্যাদি একত্রিত করার পরে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর এক বছরের অর্থ একসাথে আদায় করা শুরু করেন এবং এগুলো বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করেন। তার মনে হতো এভাবে বরকত বেশি হয়। অর্থ সংগ্রহের জন্য বিশ্বস্ত লোকজন দরকার ছিল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে যায়দ ইবনে আরকাম বায়তুল মালের দায়িত্ব পান। [cite: ১২৯৮] আবু উবায়দ, আল-কারা গোত্রের আব্দুল কারীর সনদ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, ‘আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে বায়তুল মালের দায়িত্বে ছিলাম।’ [cite: ১২৯৯]

টিকাঃ
১২৮২. সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৫।
১২৮৩. মুকাদ্দামাত ইবন খালদুন, পৃ. ২৪৩; সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ.১৫৫।
১২৮৪. সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৭।
১২৮৫. আত-তাবাকাত, ইবনে সাদ, ৩/৩০০, ৩০২, বর্ণনা সহীহ।
১২৮৬. মুকাদ্দামাত ইবন খালদুন, পৃ. ২৪৩; আল-খারাজ, আবু ইউসূফ, পৃ. ৪৮, ৪৯।
১২৮৭. আল-আhকাম আস-সুলতানিয়া, পৃ. ২২৬, ২২৭; ফুতুহ আল-বুলদান, পৃ. ৪৩৬।
১২৮৮. আল-আহকাম আস-সুলতানিয়া, পৃ. ২২৬; তারীখ আল-ইসলামি আস-সিয়াসি, ১/৪৫৬।
১২৮৯. আল-আহকাম আস-সুলতানিয়া, পৃ. ২২৬; সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৮।
১২৯০. মুকাদ্দামাত ইবন খালদুন, পৃ. ২৪৪; সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৯।
১২৯১. সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৯।
১২৯২. সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৫৯।
১২৯৩. আল-আহকাম আস-সুলতানিয়া, আল-মাওয়ারিদি, পৃ. ২০১।
১২৯৪. আস-সিয়াসা আশ-শারিয়া, ইবনে তাইমিয়া, পৃ. ৪৮; আল-আওলাউয়িয়াত আল-ফারুক, পৃ. ৩৫৮।
১২৯৫. জামি আল-উসূল, ২/৭১; আখবার উমর, পৃ. ৯৪।
১২৯৬. ফতহে আল-বুলদান, পৃ. ৪৩৬; আল-আহকাম আস-সুলতানিয়া, পৃ. ২২৭।
১২৯৭. সিয়াসাত আল-মাল ফীল ইসলাম, পৃ. ১৬০।
১২৯৮. সুবহ আল-আশা ফী কাওয়ানীন আল-ইনশা, আল-কালকাশান্দি, ১/৮৯।
১২৯৯. ফিকহ আয-যাকাহ, ১/৩১৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00