📄 ফাই এবং গনায়ম বা যুদ্ধলব্ধ গনীমত (গনীমতের শ্রেণিবিন্যাস)
মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ ছাড়া অর্জিত সব ধরনের সম্পদ হলো ফায়। যারা খুমসের [cite: ১২৭৫] হকদার তাদেরকে ফায়ের এক-পঞ্চমাংশ (খুমস) বুঝিয়ে দেওয়া হতো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তার কিতাবে এই শ্রেণির লোক সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তার রাসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রাসূলের, আত্মীয়-স্বজনের, ইয়াতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্য। [cite: ১২৭৬] আর গানায়েম হলো আহলুল হারবের সাথে লড়াইয়ের পরে যুদ্ধলব্ধ গনীমত। [cite: ১২৭৭] আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন:
আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোনো বস্তু সামগ্রীর মদ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসেবে পাবে তার এক পঞ্চমাংশ হলো আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য, নিকটাত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং ইয়াতিম-অসহায় এবং মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর যা আমি আমার বান্দার উপর অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সবকিছুর উপরই ক্ষমতাশীল। [cite: ১২৭৮]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতের সময় বিস্তৃত অঞ্চল জয় করেছিলেন। ফলে প্রচুর গনীমতের মালামাল অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। পারসিক এবং রোমান নেতৃবৃন্দ তাদের সব অর্থবিত্ত সাথে নিয়ে যুদ্ধ করতে আসত। এগুলোই মুসলিমদের হাতে চলে আসে। এগুলোর মূল্যমান ছিল ১৫,০০০ দিরহাম থেকে শুরু করে ৩০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত। [cite: ১২৭৯]
আল-মাদাইন, জাল্লা, হামযান, আর-রায়, আস্তাখারের মতো বড় বড় নগরী থেকে মুসলিমরা অনেক মূল্যবান মালামাল পেয়েছিলেন। এর মধ্যে খসরুর কার্পেট ছিল অন্যতম। ৩৬০০ বর্গহাত সোনায় মোড়ানো কার্পেটটিতে মূল্যবান পাথর বসানো ছিল। এর ওপরে মণিমুক্তা খচিত রেশমের ফলমূল আঁকা। আর স্বর্ণে আঁকা পানির ঝর্নাধারা ছিল। এই একটি কার্পেটই বিক্রি হয়েছিল বিশ হাজার দিরহামে। তাছাড়া জাল্লা এবং নাহাওয়ান্দ থেকে সোনা-রূপা সহ মূল্যবান পাথর মুসলিমদের হাতে আসে। জাল্লার খুমস ষাট লাখ দিরহামে পৌঁছেছিল। [cite: ১২৮০]
তবে সবচেয়ে বেশি গনীমত পাওয়া গেছে আস-সাওয়াদ থেকে। এগুলোকে তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থে ওয়াকফ করে দেন। আস-সাওয়াফিরা নিহত হয়েছিল আর বাকিরা পালিয়ে গিয়েছিল বলে তাদের দেশ বিরান হয়ে পড়ে। তাদের দেশ এবং খসরু ও তার পরিবারের দেশ থেকে যে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ বায়তুল মালে উদ্বৃত্ত হিসেবে জমা থাকত। কথিত আছে, ঐ অঞ্চল থেকে সত্তর লাখ পর্যন্ত আয় হতে দেখা গেছে। [cite: ১২৮১]
সুতরাং গনীমত থেকে প্রচুর আয় হয়েছে। এই আয় থেকে মুসলিমরা ব্যক্তিগতভাবে ধনবান হতে শুরু করে এবং তাদের জীবনযাপনের মান উন্নত হচ্ছিল। উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতের সময় তাদের উন্নতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। [cite: ১২৮১]
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে এগুলোই ছিল রাষ্ট্রীয় আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।