📄 বাজারে জনসাধারণের কর্মকান্ড তদারকি
আল্লাহ তা'আলা মূলত তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামকে চারটি বিষয় প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। নামায কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, সৎ কাজের আদেশ দেওয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা। এগুলো জন্যই তারা আল্লাহর হুকুমে নিজ ভূমি ছেড়ে হিজরত করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
الَّذِيْنَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٌّ إِلَّا أَنْ يَّقُوْلُوْا رَبُّنَا اللهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلٰوتٌ وَ مَّسْجِدُ يُذْكَرُ فِيْهَا اسْمُ اللهِ كَثِيْرًا وَّلَيَنْصُرَنَّ اللهُ مَنْ يَّنْصُرُهُ إِنَّ اللهَ لَقَوِيٌّ عَزِيْزٌ الَّذِيْنَ إِنْ مَّكَّنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَآتَوُا الزَّكٰوةَ وَأَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلّٰهِ عَاقِبَةُ الْأُمُوْرِ
যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রিস্টানদের) নির্জন গির্জা, ইবাদতখানা, ইহুদিদের উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলোতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর। তারা এমন লোক যাদেরকে পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎ কাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত।
ইমাম আবু বকর জাস্সাস বলেছেন, এখানে মুহাজিরদের কথা বলা হয়েছে। কারণ, তারা তাদের বাড়িঘর থেকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হয়েছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, যদি তিনি তাদের ক্ষমতা দেন, তাহলে তারা নামায কায়েম, যাকাত আদায়, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেবেন। এখানে খুলাফায়ে রাশেদীনের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। কারণ, তারা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ক্ষমতা লাভ করেছিলেন। বলা বাহুল্য আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুম এর অন্তর্ভুক্ত।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাওয়াতুর পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে এই কাজগুলো করে গেছেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, বিচারিক, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অঙ্গসংগঠনগুলোর উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি তিনি খুব যত্নশীল ছিলেন। মানুষ যেন আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশ আঁকড়ে থাকতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞা মানতে পারে তার জন্য খলীফার জায়গা থেকে তার অবদান অসামান্য। এবং এই একই ধারায় কাজ করার জন্য মুসলিম ভূখণ্ডের গভর্নরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেওয়াই ছিল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার গভর্নরদের প্রধান কাজ।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছেন, বিদআতের বিরুদ্ধে লড়েছেন, মুসলিমসমাজে ইবাদত কায়েম করেছেন, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করতে গিয়ে কঠিন পরিশ্রম করেছেন।
৩.২.১। তাওহীদের বাণী এবং ফিতনা ও বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই
মুসলিম রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য থাকে ধর্ম রক্ষা করা। এই লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ইসলামের মূল ভিত্তি সংরক্ষণের প্রয়োজনীতা অনুভব করেন। সুতরাং মানুষ যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া সুস্থ-খাঁটি আকীদা আঁকড়ে থাকতে পারে, বিদআতের বিরুদ্ধে লড়তে পারে এবং শয়তানের ফাঁদপূর্ণ সুসজ্জিত কুসংস্কার এবং আকর্ষণীয় অন্ধ বিশ্বাসের ষড়যন্ত্র যেন নস্যাৎ করতে পারে এ জন্য তিনি ইসলামের ভিতগুলো হেফাযত করেছেন। উমর কীভাবে ফিতনা-ফ্যাসাদের জড় উপড়ে ফেলে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এখানে তার উদাহরণ দেওয়া হলো:
নীলনদের বধু
আমর উবনে আস রাযিয়াল্লাহু আনহু মিসরীয় এক প্রথার কথা জানিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে চিঠি পাঠান। মিসরীয়রা প্রতি বছর নীলনদে একজন করে কিশোরীকে ছুঁড়ে ফেলত। তাদের বক্তব্য ছিল : 'হে গভর্নর, তা না হলে যে নীলনদ আর প্রবাহিত হবে না।' তিনি এর কিছুই বুঝতে পারলেন না। জানতে চাইলেন, 'এর মানে কী?' তারা বলল, 'বছরের বারোতম মাসে আমরা বাবা-মায়ের সাথে আছে-এমন কুমারী মেয়ের খোঁজে থাকি। মেয়ে পেয়ে গেলে তার বাবা-মায়ের সাথে চুক্তি করা হয়। অতঃপর মেয়েটিকে সর্বোত্তম পোশাক আর গয়নায় সাজিয়ে আমরা তাকে নীল নদে ফেলে দিই।' আমর ইবনে আস রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'ইসলামে এগুলোর কোনো জায়গা নেই। আগের এসব প্রথা ইসলাম দূর করে দিচ্ছে।' ঘটনাক্রমে নীলনদের প্রবাহ সেবার বন্ধ হয়ে যায়। লোকজন বিপদে পড়ে দেশ ছাড়তে উদ্যত হয়। তখন আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু চিঠি পাঠিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে পুরো ঘটনা জানান। তিনি জবাবে লিখলেন, 'আপনি সঠিক কাজ করেছেন। আমি এই চিঠির সাথে একটা চিরকুট পাঠালাম। এটা নীলনদে ফেলে দেবেন। আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু চিঠির সাথে পাঠানো চিরকুটটি খুলে দেখেন তাতে লেখা: 'আল্লাহ তা'আলার বান্দা এবং আমীরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে মিসরবাসীর নীলনদের কাছে। প্রবাহিত হওয়ার সিদ্ধান্ত যদি তোমার ওপরে নির্ভর করে তবে প্রবাহিত হয়ো না, জেনে রাখো, আমাদেরও তোমাকে আর প্রয়োজন নেই। আর তোমার প্রবাহিত হওয়া না হওয়া যদি এক এবং মহাপরাক্রমশালী, আল্লাহ তা'আলা, যার নির্দেশে তুমি চলো, তার হাতে থাকে তবে আমরা আল্লাহ তা'আলার কাছে দুআ করছি তিনি যেন তোমাকে প্রবাহিত করেন।' কথামতো চিরকুটটি নীলনদে ফেলা হলো। শনিবার সকালে উঠে সবাই দেখতে পেল, আল্লাহ তা'আলার হুকুমে নীলনদ বইতে শুরু করেছে। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে তাতে ষোলো হাত পানি উঠে যায়। এভাবে আল্লাহ তা'আলা মিসরীয়দের কুসংস্কার দূর করে দেন।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার চিরকুটে তাওহীদের বাণী লিখেছিলেন। নীলনদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করেন আল্লাহ তা'আলা, সে কথাই উল্লেখ করেছেন। এভাবে মানুষের মনে গেঁথে বসা ভ্রান্ত বিশ্বাস নির্মূল করতে সক্ষম হন। তার বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপে মিসরীয়দের অন্তর থেকে অন্ধবিশ্বাস দূর হয়ে যায়।
'আমি জানি তুমি একটা পাথর ছাড়া আর কিছু নও। কারও ভালো বা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতাই তোমার নেই'
আবিস ইবনে রাবীয়া থেকে বর্ণিত, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুমু খেয়ে বলেছিলেন, 'আমি জানি তুমি একটা পাথর ছাড়া আর কিছু নও। কারও ভালো বা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতাই তোমার নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চুমু দিতে না দেখলে আমিও চুমু দিতাম না।' তারা এমনভাবে সুন্নতের অনুসরণ করতেন। ইবনে হাজার আত-তাবারীর বরাত দিয়ে বলেছেন: উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর এমন বক্তব্যের পেছনে যুক্তি ছিল। মানুষ সবেমাত্র মূর্তিপূজা থেকে সরে আসতে শুরু করেছিল। তাই পূর্বের জাহেলীযুগের মতো আরবেরা আবার অজ্ঞতাবশত ওই পাথরের প্রতি ঝুঁকে পড়তে পারে বলে তার আশংকা হচ্ছিল। তাই তিনি সবাইকে বোঝাতে চাচ্ছিলেন, তিনি কেবল সুন্নতের বশবর্তী হয়ে পাথরটিতে চুমু দিয়ে থাকেন।
ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন: এখানে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য দ্বীনি আইনপ্রণেতাদের জন্য যুক্তির উৎস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনুসরণ করতে গিয়ে কোন কাজের পেছনে কী যুক্তি কাজ করছে-তা জানা না থাকলে সমস্যা হতে পারে। সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যেকটি সুন্নত অনুসরণ করার জন্য অধীর হয়ে থাকতেন। যা তাদের অন্যতম গুণ। তারা বিশ্বাস করতেন যে সুন্নত অনুসরণ করা খুব জরুরী। আর আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে সাহায্য করবেন।
রিদওয়ান গাছ কেটে ফেলা হলো
নাফি থেকে সহীহ সনদের ভিত্তিতে ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন যে, লোকজন রিদওয়ান গাছের কাছে নামায পড়তে শুরু করেছিল। এই ঘটনা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কানে যায়। তিনি তখনই গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন।
সাহাবায়ে কেরাম করেননি-তাবেঈনেরা এমন সব কাজ করতে গেলেই বিদআত দূর করা এবং তাওহীদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সম্ভাব্য সব রকম ব্যবস্থা নিতেন। তাদের এমন আচরণের ফলে এক সময় লোকজন হয়তো ওই গাছটির উপাসনা শুরু করে দিত। তাই তিনি তা কেটে ফেলতে বলেন।
নবী দানিয়েল আ.-এর কবর
তাসতারে নবী দানিয়েল আলাইহিস সালামের কবর আবিষ্কার হওয়ার পরে আবু মূসা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে সে ঘটনা জানান। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জবাবে লিখলেন, 'দিনের বেলায় তেরটি কবর খুঁড়বেন এবং রাতের বেলায় যে কোনো একটির মধ্যে তাকে দাফন করে দেবেন। তার কবরের যেন কোনো চিহ্নও না থাকে। মানুষ যেন কবরের প্রতি আকৃষ্ট না হয়, এর অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।'
'তোমরা কি নবীর জায়গাগুলোকে তীর্থস্থান বানিয়ে ফেলতে চাও?'
সহীহ সনদ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু তার এক সফরের সময় লক্ষ্য করলেন যে, মানুষ প্রায়ই এক জায়গায় নামায আদায় করতে যায়। তিনি জানতে চাইলেন, 'এখানে কী?' তারা বলল, 'এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায আদায় করেছিলেন।' তিনি বললেন, 'তোমাদের পূর্বসূরিরা এই কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা তাদের নবীর নামাযের জায়গাকে তীর্থস্থান বানিয়ে ফেলেছিল। সফরে থাকা অবস্থায় যদি সে জায়গা পড়ে তবে সেখানে নামায পড়তে দোষ নেই। তা না হলে সফর জারি রাখবে।'
আমি তাদের জানাতে চাই যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে।
সিরিয়ায় অবস্থানকালে সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উম্মতের বৃহৎ স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মনে হচ্ছিল জনসাধারণ খালিদ বিন ওয়ালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি বেশি রকমের অনুরক্ত হয় পড়ছে। খালিদ রাযিয়াল্লাহু আনহুর সৌভাগ্য এবং যুদ্ধকৌশলের কারণে বার বার বিজয় লাভ হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করছিল। এ অবস্থা দেখে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রমাণ করতে চাইলেন যে একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই বিজয়-দানের মালিক এবং সবকিছু তার হুকুমে পরিচালিত হয়। এ কারণে তিনি তার সেনাপতিকে বরখাস্ত করেন এবং এর সত্যতা ব্যক্ত করে গভর্নরদের কাছে চিঠি পাঠান। এখানে নিখাদ তাওহীদ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ছিল। চিঠিতে তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন, 'আমি রাগ কিংবা অবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তাকে পদচ্যুত করছি না। এর একমাত্র কারণ, জনসাধারণ তাকে নিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। আমি তাদের জানাতে চাই যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে।'
তারা মাটিতে বীজ বোনে এবং আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিশ্বাস রাখে।
মুয়াবিয়া ইবনে কররা থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু কয়েকজন ইয়েমেনীকে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনারা কারা?' তারা বলল, 'আমরা মুতাওয়াক্কিলুন (যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করেন)।' তিনি বললেন, 'না, আপনারা মুত্তাক্কিলুন (যারা অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চান)। যারা আল্লাহ তা'আলাকে বিশ্বাস করেন তারা মাটিতে বীজ বোনে এবং আল্লাহ তা'আলার প্রতি বিশ্বাস রাখে।'
আমরা অনুসরণ করি এবং নতুন কোনো কিছুর প্রবর্তন করি না
একদিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতে লাগলেন, 'যারা নিজেদের মত ও পথ মেনে চলে তারা সুন্নতের শত্রু। তারা হাদীস আত্মস্থ করতে অক্ষম বলেই নিজস্ব মতামতের ওপর ভিত্তি করে ফাতওয়া দেয়। তারা নিজেরাও বিপথগামী, অন্যদেরও বিপথে নেবে। আর আমরা কেবল অনুসরণ করি, নতুন কোনো কিছুর প্রবর্তন করি না।। যতদিন আমরা সুন্নত আঁকড়ে থাকব বিপথে যাব না।'
উমর ইবনে মায়মূন থেকে বর্ণিত, তার পিতা বলেছেন: এক লোক উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে বলল, 'হে আমীরুল মুমিনীন, মাদাইন জয় করার সময় আমরা একটা বই পেয়েছি। এর কথাগুলো চমৎকার!' তিনি বললেন, 'সেগুলো কি আল্লাহর বই থেকে লেখা?' সে বলল, 'না।' তিনি তার লাঠিটি হাতে নিয়ে লোকটিকে পেটাতে পেটাতে তিলাওয়াত করলেন,
الرَّ تِلْكَ ايْتُ الْكِتَبِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنزَلْتُهُ قُرْءَنَا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هُذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَفِلِينَ
'আলিফ-লা-ম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আমি একে আরবি ভাষায় কুরআনরূপে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি তোমাদের নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি, যেমতে আমি এ কুরআন তোমার নিকট অবতীর্ণ করেছি। তুমি এর আগে অবশ্যই এ ব্যাপারে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।'
অতঃপর তিনি বললেন, 'তোমাদের পূর্বসূরিরা এভাবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তাওরাত আর ইঞ্জিল বাদ দিয়ে তারা তাদের জ্ঞানী, যাজকদের বই অনুসরণ করতে শুরু করেছিল। তারা শেষ পর্যন্ত অবহেলা করে কিতাবের বাণীগুলো ধ্বংস করে ছেড়েছে।'
বর্ণিত আছে, আসলাম বলেছেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, 'আমরা (তাওয়াফ আর সাই করার সময়) এমন তাড়াহুড়া করি কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে যেভাবে যা করেছি তা করা বাদ দেব না।'
হাসান আল-বসরী উল্লেখ করেছেন, ইমরান ইবনে হুসায়ন রাযিয়াল্লাহু আনহু বসরা থেকে ইহরাম বেঁধে আসেন এবং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে বেশ কঠোরভাবে এই কাজ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছিলেন, 'আপনি কি চান যে লোকেরা বলুক, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন সাহাবী ভিন্ন জায়গা থেকে ইহরাম করে এসেছিলেন?'
আবু ওয়াইল বলেছেন: আমি কাবাপ্রাঙ্গনে শায়বা ইবনে উসমানের চেয়ারে বসে ছিলাম। তিনি বললেন, 'উমর এখানে বসে বলে গেছেন, 'আমি ভাবছি, ভাগ-বাটোয়ারা না করে সোনারূপা রেখে যাব না।' আমি তাকে বললাম, 'আপনি তা করবেন না।' তিনি বললেন, 'কেন করব না?' বললাম, 'আপনার সাথীরা তা করেননি।' তিনি বললেন, 'এই দুজনের উদাহরণ আমাকে অনুসরণ করতে হবে।'
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অনেককে কষ্ট স্বীকার করেছেন, বিদআতের বিরুদ্ধে অনেক লড়াই করেছেন। ইসলামে ঠিক যেভাবে তাওহীদের কথা বলা হয়েছে তিনি তা পুঙ্খানুপঙ্খভাবে ধারণ করেছিলেন। এজন্যই মানুষের মন ও মনন থেকে মূর্তিপূজার নাম-গন্ধও মুছে ফেলতে সক্ষম হন। এর বদলে তাওহীদের ভিত তাদের চেতনায় গেঁথে দেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মুসলিমসমাজে ঈমানের ভিত প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। যে কোনো ধরনের শিরক দূর করার পেছনে তার চেষ্টার অন্ত ছিল না। তিনি বিদআত দূর করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা ও কাজ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেছেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু জানতেন বিজয় অর্জন করতে হলে তাওহীদের এই নীতি জানা ও বোঝা খুব প্রয়োজন।
৩.২.২। ইবাদতের ভিন্নতা নিয়ে তার সচেতনতা
আল্লাহর কিতাব এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত থেকে তিনি অতটুকু বুঝতে পেরেছিলেন যে, ধর্মীয় যে কোনো বিষয় ইবাদতের মধ্যে চলে আসে। আল্লাহপ্রদত্ত ধর্মে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু উল্লেখ করা হয়েছে। পানাহারের আদব থেকে শুরু করে, রাষ্ট্রগঠন, শাসন, অর্থনীতি পরিচালনা, পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখা, শান্তির বিধানসহ যুদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখার মতো সবকিছু বিবৃত হয়েছে। ইবাদত-পদ্ধতি যেমন : নামায, রোযা, যাকাত এবং হজের গুরুত্ব সম্পর্কে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু অবগত ছিলেন। তিনি এ-ও জানতেন যে এগুলো হলো আল্লাহ-নির্ধারিত ইবাদতের একটা অংশ, তবে ইবাদতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। ইবাদতের এই ধারণা বাস্তবায়ন করা হলো জাগতিক শক্তি লাভের শর্ত। তাছাড়া ইবাদত-বন্দেগি মানুষের বিশ্বাসে দৃঢ়তা আনে এবং নৈতিক মুল্যবোধের উন্নতি ঘটায়, যা সমাজ সংস্কারে মূল্যবান ভূমিকা রাখে। নামায, রোযা, যাকাত, হজ এবং যিকির নিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সচেতনার কয়েকটি উদাহরণ আমরা দেখব। তিনি তার নিজের মধ্যে এবং মুসলিম সমাজে ইবাদতের পূর্ণতা নিয়ে কেমন সচেতন ছিলেন তার উজ্জ্বল উদাহরণ এগুলো।
নামায
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের নামায আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর জামাতে নামায না পড়লে তিনি তার কঠিন সমালোচনা করতেন। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে একইভাবে অনুসরণ করেছেন। পরবর্তী সময়ে খলীফা উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুও এদিকে বিশেষ নজর দেন। তিনি লোকজনকে যেমন নামায পড়াতেন তেমনি নামায না পড়লে শাস্তি দিতেন। এমনকি গভর্নরদের কাছে এ বিষয়ে চিঠিও দিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, 'আমার দৃষ্টিতে নামায সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে নিয়মিত নামায পড়ছে সে কিন্তু এর সঠিক পাবন্দী করছে, তার ধর্মীয় দায়িত্বও পালন করছে। সে ঠিক কাজ করছে। আর যে তা অবহেলা করছে তার ধর্মীয় অন্যান্য দায়িত্ব-কর্তব্যেও অবহেলার প্রবণতা থাকার আশঙ্কা আছে।'
নামাযে খুশুর দিকে তার তীক্ষ্ণ নজর ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'আমি উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে নামায আদায় করতাম। তিন সারি পেছন থেকেও তার ফোঁপানোর আওয়াজ শোনা যেত।'
আরেকটি বর্ণনামতে, তিনি ফজরের নামাযে যখন এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন, ... قَالَ إِنَّمَا أَشْكُوا بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ ‘আমি তো আমার দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি...' তখন তার কান্না পেছনের সারি থেকেও শোনা যেত।
একদিন নামাযের মধ্যে এক ব্যক্তি অস্থিরভাবে হাত-পা নাড়ছিলেন। তার অবস্থা দেখে তিনি বলেছিলেন, 'মন দিয়ে নামায আদায় করলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বশে চলে আসে।' সেনাদের খবর না পেলে তিনি কুনূত পড়তেন। যোদ্ধাদের জন্য নামায আদায় করতেন, তাদের জন্যও কুনূত পড়তেন। আহলে-কিতাবীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ও তিনি ফরয নামাযের মধ্যেই তাদের প্রতিহত করার জন্য কুনূত পড়েছিলেন। তিনি নিজে যেমন খুব মন দিয়ে নামায আদায় করতেন, মানুষকেও একইভাবে নামায আদায় করা শেখাতেন। সুন্নত ধরে রাখা এবং বিদআত থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে সতর্ক করতে ভুলতেন না। ব্যস্ততার কারণে সন্ধ্যা পার হয়ে মাগরিবের নামাযে কখনো যদি দেরি হতো, তবে নামায আদায় করেই তিনি দুজন গোলাম আযাদ করে দিতেন। কারণ ছাড়া দু-ওয়াক্তের নামায এক হয়ে যাওয়া তার দৃষ্টিতে কঠিন গুনাহ ছিল। আসরের নামাযের পরে অন্য কোনো নামায আদায় করলেও তিনি তিরস্কার করতেন।
জুমআর নামাযে কেউ দেরি করে আসলে তার রক্ষা ছিল না। সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আব্দুল্লাহ আবনে উমর থেকে বর্ণিত, কোনো এক জুমআর দিনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খুতবায় ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় স্বনামধন্য একজন প্রবীণ মুহাজির হাজির হন। উল্লেখ্য, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামেরও সাহাবী ছিলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কয়টা বাজে?' তিনি বললেন, 'আযানের আগ পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলাম। আযান শোনার সাথে সাথে বাড়ি গিয়ে অযু করে এসেছি।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'শুধু অযু?' এর কারণ হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমআর আগে গোসলের নির্দেশ দিয়েছেন।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে উঁচু গলায় কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এ প্রসঙ্গে আস-সাইব ইবনে ইয়াযিদ বলেছেন, আমি মসজিদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আমার দিকে পাথর ছুঁড়তে লাগল। আমি তাকে লক্ষ্য করতে গিয়ে দেখি, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু সেখানে আছেন। তিনি বললেন, 'ওই দুটোকে ধরে আনো তো।' আমি লোক দুজনকে নিয়ে হাজির হলাম। তিনি জানতে চাইলেন, 'তোমরা কারা (কোন জায়গার)?' তারা বলল, 'তায়েফের।'
তিনি বললেন, 'তোমরা এখানকার লোক হলে এতক্ষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে দাঁড়িয়ে উঁচু গলায় কথা বলার জন্য তোমাদের কঠিন পিটুনি দিতাম।'
বলাবাহুল্য, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশাবলীর প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে কারও স্ত্রী যদি মসজিদে যেতে চায় তবে নিষেধ করো না।' উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী প্রায়ই মসজিদে নামায আদায় করতেন। তাকে তিনি বললেন, 'তুমি জান আমি কী পছন্দ করি।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আপনি নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি যাব।' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে যখন ছুরিকাহত করা হয় তখনো তার স্ত্রী মসজিদে ছিলেন। এখানেই বোঝা যাচ্ছে যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু শরীয়তের হুকুমের প্রতি কেমন শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং কুরআন ও সুন্নাহ কতটা আঁকড়ে থাকতেন। এগুলোর সামনে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকেও গুরুত্ব দেননি।
মধ্যরাতের নামায উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খুব প্রিয় ছিল। তিনি আল্লাহর হুকুমে তখন প্রচুর নামায আদায় করতেন। আর শেষ রাতে পরিবারের সবাইকে, 'নামায, নামায!' বলে জাগিয়ে দিতেন। তখন তার মুখে এই আয়াত শোনা যেত :
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْـَٔلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوٰى
আপিন আপনার পরিবারের লোকজনকে নামাযের আদেশ দিন এবং নিজেও এ ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না। আমি আপনাকে রিযিক দিই এবং আল্লাহভীরুতার পরিণাম শুভ।
এক রাতে তিনি কিয়ামের নামায আদায় করতে গিয়ে মানুষের কথা ভেবে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি নামায আদায় করতে পারছিলেন না, এমনকি ঘুমাতেও পারছিলেন না। তিনি বলতে লাগলেন, 'আমি নামায আদায় করতে পারছি না। আমার ঘুমও আসছে না। কুরআন তিলাওয়াত করতে গেলে খেই হারিয়ে ফেলছি। শুরুর অংশ পড়ছি না শেষের, মাথায় আসছে না।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'তা কেন, আমীরুল মুমিনীন?' তিনি বললেন, 'মানুষের চিন্তায়।'
কোনো রাতে তাহাজ্জুদ নামাযের কিছু রাকাত ছুটে গেলে তা পরের দিন আদায় করে নিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কেউ যদি রাতের নির্ধারিত তিলাওয়াতের কোনো অংশ পড়তে না পারে, তাহলে সে যদি পরের দিন তা ফজর এবং যোহরের নামাযের মাঝামাঝি সময়ে পড়ে নেয়, তাহলে সে যেন তা রাতেই পড়ল।'
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর খুব মুয়াযযিন হতে চাইতেন। এ প্রসঙ্গে বলতেন, 'আমি যদি খলীফা হওয়ার পাশাপাশি আযানও দিতে পারতাম! তবে তা-ই করতাম।'
তিনি আল্লাহর কাছে খুব দুআ করতেন, তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। প্রায়ই এই দুআ করতেন, 'হে আল্লাহ তা'আলা, আমার সব আমলকে আপনি সঠিক করে দিন এবং সেগুলো যেন কেবল আপনার জন্যই হয়। আর সেগুলোতে যেন আমি আপনার বাইরে অন্য কাউকে শরিক না করি।'
তাঁর আরেকটি দুআ, 'হে আল্লাহ, আপনি জন্য শাস্তি নির্ধারণ করে থাকলে আমাকে মাফ করে দিন এবং আমাকে রহম করুন। আপনি ক্ষমা এবং কবুলের মালিক।' তিনি প্রায়ই বলতেন, 'আমি আল্লাহর অনুগ্রহ নয়, বরং তাঁর কাছে দুআ করা নিয়ে ভাবি। কারণ, দুআ করতে পারলে, তা কবুল হবেই।'
তিনি অনুগত লোকজনের সান্নিধ্য লাভের জন্য সাধারণ মানুষকে খুব উৎসাহ দিতেন। তিনি বলতেন, 'যারা আল্লাহর অনুগত বান্দা তাদের সান্নিধ্যে থাকবে এবং তাদের কথা শুনবে, কারণ, যে কোনো ব্যাপারে তাদের খুব স্পষ্ট ধারণা থাকে।'
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহকে স্মরণ (যিকির) করতে ভালোবাসতেন। আবু মূসা আল-আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে দেখলে বলতেন, 'হে আবু মূসা, আপনি আমাদের রবের কথা মনে করিয়ে দিন।' তখন তিনি তিলাওয়াত শুরু করতেন। তার তিলাওয়াত শুনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যদের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত।
তিনি যিকিরের মজলিস ভালোবাসতেন। বর্ণিত আছে যে, আবু উসাইদের আযাদকৃত গোলাম, আবু সাঈদ বলেছেন, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নিয়মিত ইশার পরে মসজিদের খোঁজ নিতে যেতেন। নামায আদায় করা ছাড়া কেউ সেখানে থাকলে তিনি তাকে চলে যেতে বলতেন। এক রাতে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবায়ে কেরামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে উবাই ইবনে কাব রাযিয়াল্লাহু আনহুও উপস্থিত ছিলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'লোকগুলো কে?' তিনি বললেন, 'ইয়া আমীরাল মুমিনীন, তারা আপনার লোক।' খলীফা জানতে চাইলেন, 'নামায শেষ হয়ে গেছে। তাও এখানে বসে আছেন কেন?' তারা বললেন, 'আমরা আল্লাহকে স্মরণ (যিকির) করছি।' এ কথা শুনে তিনিও সেখানে বসে পড়লেন। বসে নিকটতম লোকটিকে বললেন, 'দুআ করা শুরু করুন।' তিনি দুআ করতে লাগলেন। ক্রমে বসে থাকা প্রত্যেককে এক এক করে দুআ করতে বললেন। এক সময় আমার পালা এলো। আমাকে তিনি বললেন, 'শুরু করুন।' কী বলব বুঝে পাচ্ছিলাম না। ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। তিনি বললেন, 'বলুন। আপনি শুধু এটুকুই বলুন, হে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ আমাদের রহমত দিন।' অতঃপর উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নিজেই দুআ করতে লাগলেন। দুআর সময় তিনি সবচেয়ে বেশি কাঁদছিলেন। দুআ শেষ হলে বললেন, 'এখন বেরিয়ে পড়ুন।'
তারাবীহ
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু জামাআতে তারাবীহ নামায আদায়ের প্রবর্তন করেন। অন্যান্য এলাকায়ও যেন একইভাবে তারাবীহ আদায় করা হয় সে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান। এর পেছনে অবশ্য কারণ আছে। কোনো এক রমাযানের রাতে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে গিয়ে দেখেন, সেখানে লোকজন বিক্ষিপ্তভাবে নামায আদায় করছেন। কেউ একা নামাযে ব্যস্ত ছিলেন, আবার কয়েকজন মিলে কোনো একজনের পেছনে নামায আদায় করছিলেন। এমন অবস্থা দেখে তিনি বললেন, 'আমার ধারণা, সবাই একজনের পেছনে নামায আদায় করতে পারলে ভালো হবে।' অতঃপর, তিনি সবাইকে নিয়ে উবাই ইবনে কাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে নামায আদায় করার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন, 'এই বিদআত (প্রবর্তন বা প্রচলন) কতই না ভালো হলো! তারপরেও ঘুমিয়ে থেকে তারা যে নামায ছেড়ে দেয় তা এর চেয়ে উত্তম।' এখানে শেষরাতের কিয়ামের নামাযের কথা বলা হয়েছে। মানুষ তখন রাতের প্রথম প্রহরেই এই নামায আদায় করে নিত।
এখানে কিন্তু কারও এ কথা মনে করার কোনো অবকাশ নেই যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তারাবীহ নামাযের প্রবর্তক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে তারাবীহর সূচনা ঘটেছে। আর উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কেবল এক ইমামের পেছনে জামাতে এই নামায আদায়ের উদ্যোগ নেন। আগে একা একা এ নামায আদায় করা হতো, পরবর্তী সময়ে একজন তিলাওয়াতকারীর পেছনে জামাতে আদায় করার প্রচলন হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার মধ্যেই এই নামাযের গুরুত্ব এবং সূচনার প্রমাণ বিদ্যমান। তিনি রমাযানে কিয়ামের নামায আদায় করার প্রতি জোর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, 'রমাযানের রাতে ঈমানের সাথে এবং পুরস্কারের আশায় নামায যে আদায় করবে তার পেছনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।'
উরওয়া ইবনে যুবায়ের থেকে বর্ণিত, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তাকে বলেছেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধ্যরাতে বেরিয়ে যান। তিনি মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করেন। তাকে অনুসরণ করে কয়েকজন লোক রাতে একইভাবে নামায আদায় করতে শুরু করে। পরেরদিন এই কথা শুনে আরও কয়েকজন জমায়েত হয়ে তার সাথে নামায আদায় করেন। পরের দিন এই কথা লোকমুখে আরও ছড়ায়। সুতরাং তৃতীয় রাতে মসজিদে অনেক মানুষ অপেক্ষা করতে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসার পরে তারা নামায আদায় করলেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে রাতে আর আসলেনই না। একেবারে ফজরের সময় তিনি উপস্থিত হন। নামায আদায় করে তিনি সবার দিকে ঘুরে বসলেন, কালেমা পড়লেন। অতঃপর বললেন, 'আপনারা যা করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য। তবে এভাবে নিয়মিত নামায আদায় করতে থাকলে তা সবার জন্য ফরয হয়ে যাবে এবং যা আদায় করা কষ্টকর হবে।' এমন অবস্থা বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল হয়।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মন্তব্য করেছিলেন, 'এই বিদআত (প্রবর্তন বা প্রচলন) কতই না ভালো হলো!' এখানে তিনি সম্পূর্ণ আক্ষরিক অর্থে বিদআত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কারণ, আগে প্রচলিত ছিল না এমন যেকোনো নতুন প্রচলন বা প্রবর্তনকে আরবি ভাষায় বিদআত বলা হয়। তিনি যেকোনো কাজ খুব গুছিয়ে করতে ভালোবাসতেন। খুব সচেতনতার সাথে তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন। এক ইমামের পেছনে সকলকে জামাতে তারাবীহ নামায আদায় করার জন্য একত্রিত করার উদ্যোগটিও তার সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ। এই বৈশিষ্ট্য থেকে তিনি অন্যান্য এলাকাতেও তিনি এক নিয়ম জারি করার জন্য উদ্যোগী হয়ে ওঠেন।
যাকাত, হজ এবং রমাযান
যাকাত এবং তা আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খুব উদ্বিগ্ন থাকতেন। যাকাত আদায় করা ফরয, তাছাড়া তা রাজস্ব আদায়ের অন্যতম উৎস ছিল। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনার সময়, ইনশাআল্লাহ, এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত বলা হবে।
এবার হজের প্রসঙ্গে আসা যাক। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু খেলাফতকালে তার লোকজন নিয়ে হজ করতেন। কথিত আছে, তিনি তার খেলাফতকালে দশ বছর, কোনো কোনো বর্ণনামতে, নয় বছর হজে অংশগ্রহণ করেছেন। খলীফা হিসেবে তিনি নিজে তো বটেই, অন্য গভর্নরদেরও এই দায়িত্বগুলো পালনের নির্দেশ দেন: হজের সময় হলে জনসাধারণকে তা মনে করিয়ে দেওয়া এবং সেখানে যাওয়া; শরীয়তের হুকুম মেনে হজপালনের সঠিক পদ্ধতি শেখানো; সঠিক পদ্ধতিতে হজে নেতৃত্ব দেওয়া; শরীয়ত মেনে নামায এবং খুতবায় ইমামতি করা।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হজে পালনের জন্য খুব উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, 'বিভিন্ন এলাকায় লোক পাঠাবো বলে ভাবছি। তাদের কাজ হবে হজ পালনের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা তাতে অংশগ্রহণ করছে না, তাদের খুঁজে বের করা এবং তাদের ওপরে জিযিয়া (কর) আরোপ করা।'
হজের মৌসুম ছাড়াও লোকজন যেন সারা বছর পবিত্র কাবা কেন্দ্র করে উপস্থিত থাকে তার জন্যও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর চেষ্টায় কোনো ত্রুটি ছিল না। তিনি আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময় থেকে লক্ষ্য করে এসেছেন, একমাত্র হজ পালন বাদে বছরের বাকি সময়টা কাবাপ্রাঙ্গন প্রায় ফাঁকা থাকে। এমনকি উমরা পালনের উদ্দেশেও অন্য কোনো এলাকা থেকে খুব একটা লোকজন আসত না। এক অর্থে কাবাপ্রাঙ্গন সারাবছর প্রায় জনশূন্য হয়ে থাকত। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সাবইকে উমরা পালনের গুরুত্ব তুলে ধরার পর থেকে বছরের বাকি সময়টাতেও মানুষ কাবা প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে। ইমাম মালিক এবং কয়েকজন আলেমের মতে ইফরাদ এবং কিরানের তুলনায় তামাত্তু হজই উত্তম। তা সত্ত্বেও উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সবার সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রতি বছর নিজের খরচে কাবা শরিফের গিলাফ (আচ্ছাদন) তৈরি করতেন এবং তা হাজিদের মধ্যে ভাগ করে দিতেন।
এখন রোযার প্রসঙ্গ। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে গেছেন। তিনি কোনো এক মেঘলা দিনে হয়তো ইফতার করে ফেলেছিলেন। মেঘ সরে গেলে দেখা গেল তখনও সূর্য ডোবেনি। তখন তিনি বলেছিলেন, 'বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। ' এক ব্যক্তি টানা রোযা রাখতে শুরু করে। তার কানে এই কথা যাওয়ামাত্র তিনি নির্দেশ দেন, 'খাও, হে যাহরি।'
তিনি ইবাদতে খুব মশগুল থাকতেন। বিশেষ করে জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি নামায এবং রোযা দুটোই অনেক বেশি পরিমাণে আদায় করতেন। দান-সাদকাও খুব করতেন। আর খলীফা পবার পর থেকে প্রতি বছর হজে যান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তার পাশে থেকে যেভাবে বড় বড় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তার ইন্তেকালের পরেও তা বহাল ছিল। তিনি তার খেলাফতকালে যেভাবে সব যুদ্ধ এবং অভিযান পরিচালনা করেছেন, তার জন্য নিশ্চয়ই উত্তম পুরস্কার পাবেন।
তিনি অন্যতম যিকিরকারী ছিলেন। বর্ণিত আছে, তিনি বলতেন, 'অবশ্যই আল্লাহকে স্মরণ করবে। কারণ, যিকির উপশমকারী। আর মানুষের অগোচরে তাকে নিয়ে কথা বলা থেকে সাবধান। কারণ, তা একটা ব্যাধি। ' তিনি আরেকটি কথা প্রায়ই বলতেন, 'একাকী সময় কাটাও।'
টিকাঃ
৭২৭. সূরা হজ, ২২: ৪০-৪১।
৭২৮. আহকাম আল-কুরআন, ৩/২৪৬।
৭২৯. আল-হিসবা ফী আল-আসর আর-রাশিদি, ড. ফযল ইলাহি, পৃ. ১৫।
৭৩০. আল-হিসবা ফী আল-ইসলাম, পৃ. ৬; আস-সুলতা আত-তানফীদিয়্যাহ, ১/৩০৯।
৭৩১. আল-বিদায়া ওয়া আন-নিহায়া, ৭/১০২. আলী আত-তানতাউয়ি উল্লেখ করেছেন, যে সহীহ হওয়ার কারণে নয় বরং বিখ্যাত হওয়ার কারণে প্রকাশ করা হয়েছে।
৭৩২. ফান আল-হুকম, পৃ. ৩৪৭।
৭৩৩. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ১৫৯৭।
৭৩৪. আসহাব আর-রাসূল, ১/১৬১।
৭৩৫. ফাতহুল বারি, ৩/৫৯০, ৫৯১।
৭৩৬. মিন আখলাকিন নাসর ফী জিল্লিস-সাহাবা, পৃ. ২৩।
৭৩৭. আত-তারীখ আল-ইসলামি, ১৯, ২০/১৬০; তাবাকাত ইবনে সাদ, ২/১০০।
৭৩৮. প্রাগুক্ত, ১৯, ২০/১৬০।
৭৩৯. আল-ফাতওয়া, ১৫/৯০।
৭৪০. তারা আল্লাহ তা'আলাকে নয়, বরং সেনাপতির ক্ষমতাকে বড় করে দেখছিল।
৭৪১. আল-বিদায়া ওয়া আন-নিহায়া, ৭/৮২।
৭৪২. আসহাব আর-রাসূল, এর সনদ সহীহ (১/১৬৪)।
৭৪৩. সূরা ইউসুফ, ১২: ১-৩।
৭৪৪. এই বর্ণনাটি দুর্বল।
৭৪৫. মাহদুস সাওয়াব, ২/৫৩২।
৭৪৬. প্রাগুক্ত।
৭৪৭. শাকীক ইবনে সালামা।
৭৪৮. শায়বা ইবনে উসমান ইবনে আবি তালহা আল-কুরেশি আল-আব্দারি ছিলেন কাবার দ্বার-রক্ষক।
৭৪৯. মাহদুস সাওয়াব, ২/৫৩৭; এর সনদ সহীহ।
৭৫০. আশহার মাশাহীর আল-ইসলাম, রফীক আল-আদহম, ২/২৫৫৬, ২৫৭।
৭৫১. ফিকহ আত-তামকীন ফী আল-কুরআন আল-কারীম, আস-সাল্লাবি, পৃ. ১৮১১।
৭৫২. আল-ফাতওয়া, ১০/২৪৯; আল-মুয়াত্তা মাআ শারহিহি আওজায আল-মাসালিক, ১/১৫৪।
৭৫৩. হিলইয়া আল-আওলিয়া, ১/৫২।
৭৫৪. সূরা ইউসুফ, ১২: ৮৬।
৭৫৫. আল-ফাতওয়া, ১০/৩৭৪।
৭৫৬. প্রাগুক্ত, ১৮/১৫৪।
৭৫৭. প্রাগুক্ত, ২৩/৬২।
৭৫৮. প্রাগুক্ত, ২১/৯১।
৭৫৯. আত-তারীখুল ইসলামী, আল-হামীদি, ১৯,২০/৪২।
৭৬০. আল-ফাতওয়া, ২১/৯৮, ২২/২৩।
৭৬১. আল-ফাস, ২/৪১৫; আল-খিলাফা আর-রাশিদা, পৃ. ২৯৪, ড. ইয়াহিয়া আল ইয়াহিয়া।
৭৬২. আল-ফাস, ১/৬৬৮।
৭৬৩. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ৮৬৫।
৭৬৪. আত-তারীখ আল-ইসলামি, ১৯, ২০/৪০১।
৭৬৫. মাহদুস সাওয়াব, ২/৬৩৫, এর সনদ যয়ীফ।
৭৬৬. সূরা ত্ব-হা, ২০: ১৩২।
৭৬৭. আল-ফারুক উমর, আশ-শারকাউয়ি, পৃ. ২১৪।
৭৬৮. সহীহ, মুসলিম, হাদীস নং ৭৪৭।
৭৬৯. আশ-শায়খান মিন রিওয়ায়াত আল-বালাযুরি, পৃ. ২২৫।
৭৭০. আল-ফাতাওয়া, ১/২৩২।
৭৭১. আল-ফাতাওয়া, ১৪/২৪৭।
৭৭২. প্রাগুক্ত, ৮/১১৮।
৭৭৩. প্রাগুক্ত, ১৫/৬০।
৭৭৪. প্রাগুক্ত, ১০/৫১।
৭৭৫. আশ-শায়খান মিন রিওয়ায়াত আল-বালাযুরি, পৃ. ২৩৬।
৭৭৬. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ২০১০।
৭৭৭. মাহদুস সাওয়াব, ১/৩৪৯।
৭৭৮. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ২০০৯।
৭৭৯. প্রাগুক্ত, হাদীস নং ২০১২। আল-ফাতাওয়া, ৩১/২৩।
৭৮০. আল-ফাতাওয়া, ৩১/২৩।
৭৮১. আস-সুলতা আত-তানফীদিয়া, ১/৩৮২।
৭৮২. প্রাগুক্ত, ১/৩৮৩।
৭৮৩. ফারাইদ আল-কালাম, পৃ. ১৭৩।
৭৮৪. আল-ফাতাওয়া, ২৬/১৪৬, ১৪৭।
৭৮৫. প্রাগুক্ত, ৩১/১৪।
৭৮৬. আল-মুয়াত্তা, ১/৩০৩।
৭৮৭. আল-ফাতহ, ৪/২৬১।
৭৮৮. মাহদুস সাওয়াব, ২/৩৬৭।
৭৮৯. তাফসীর আল-কুরতুবি, ১৬/৩৩৬; মাহদুস সাওয়াব, ২/৬৭৭।
৭৯০. আয-যুহদ, ওয়াকী, ২/৫১৭; এর সনদ সহীহ।