📄 বিদআতের বিরুদ্ধে তার সতর্কতা
আল-মিসওয়ার ইবনে মাখরামা এবং আব্দুর রাহমান ইবনে আব্দুল কারী থেকে বর্ণিত আছে, তারা উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় আমি একদিন হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযামকে সূরা আল ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছিলাম। তিনি বিভিন্নভাবে তিলাওয়াত করছিলেন, যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শেখাননি। সে নামায পড়ছিল বলে তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়িনি। আমি তার সালাম ফেরানোর অপেক্ষায় ছিলাম। সালাম ফেরাতেই আমি তার গলা চেপে ধরে বললাম, 'কে তোমাকে এভাবে সূরা তিলাওয়াত করতে শিখিয়েছে?' সে বলল, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়েছেন আমাকে।' আমি বললাম, 'তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সূরা আমাকেও শিখিয়েছেন।' আমি তাকে রাসূলের কাছে নিয়ে গেলাম। বললাম, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকেও সূরা আল- ফুরকান শিখিয়েছেন। আমি তাকে সূরা আল-ফুরকান এমনভাবে তিলাওয়াত করতে শুনেছি, যেভাবে আপনি আমাকে শেখাননি।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে হিশাম, তিলাওয়াত করো।' আমি যেভাবে শুনেছিলাম ঠিক সেভাবে সে তিলাওয়াত করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এটা এভাবেই নাযিল হয়েছে।' তারপর তিনি আমাকে বললেন তিলাওয়াত করতে। অতঃপর তিনি আমাকে যেভাবে তিলাওয়াত করতে শিখিয়েছিলেন আমি সেইভাবে তিলাওয়াত করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এটা এভাবে নাযিল হয়েছে।' এরপর তিনি বললেন, 'কুরআনের সাত রকম তিলাওয়াত নাযিল হয়েছে। সুতরাং তোমার কাছে যেভাবে সহজ লাগে সেভাবেই তিলাওয়াত করতে পারো।'
টিকাঃ
২৭২. আল-যুহরী তাকে এবং তার পিতাকে চিনতেন। তিনি ৬৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
২৭৩. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ২৪১৯।
📄 আশা করো কিংবা চাওয়া ছাড়াই যে সম্পদ তোমার কাছে আসে তা গ্রহণ করো
বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি শুনেছি, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই আমাকে কোনো উপহার দিতে চাইতেন, আমি বলতাম, 'আমার চেয়ে বেশি দরিদ্র কাউকে এটা দিয়ে দিন।' এরপর একদিন রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে কিছু টাকা দিলেন, এবং আমি যথারীতি বললাম, 'আমার থেকেও দরিদ্র কাউকে এটা দিন।' অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এটা নাও। আশা করা কিংবা চাওয়া ছাড়া যে সম্পদ আসে তা গ্রহণ করবে, আর যা পাওনি তা চাইতে যেয়ো না।'
টিকাঃ
২৭৪. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ৭১৬৪।
📄 উমর রা.-এর জন্য রাসূল সা.-এর দুআ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর গায়ে সাদা পোশাক দেখলেন। বললেন, 'তোমার পোশাকটি কি নতুন, না ধোওয়া হয়েছে?' উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'না, ধোওয়া হয়েছে।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'নতুন পোশাক পরবে, প্রশংসনীয় জীবনযাপন করবে আর শহীদের মতো মৃত্যুবরণ করবে।'
টিকাঃ
২৭৫. আস-সিলসিলাহ আস-সহীহ, শায়েখ আল-বানি, নং ৩৫২; সহীহ আল-জামি, নং ১২৩৪।
📄 আমি জানি, রাসূল সা. যখন বাগানের মধ্যে হেঁটেছেন তখন তাতে বরকত হবেই
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা থেকে বর্ণিত আছে: তার বাবা ত্রিশ ওসাক (খেজুর) ঋণ রেখে মারা যায়। এক ইহুদি এর পাওনাদার ছিল। জাবির তাকে ঋণ মওকুফের জন্য অনুরোধ করলেন। কিন্তু ইহুদি লোকটা রাজি হলো না। জাবির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলে এই ব্যাপারে তার মধ্যস্থতা চাইলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদির সাথে কথা বললেন। সে যা পাবে (ঋণ) তার পরিবর্তে গাছে যা আছে তা নিতে বললেন। তাও সে রাজি হলো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর বাগানের ভেতরে হাঁটতে লাগলেন। তারপর তিনি জাবিরকে বললেন, 'তার জন্য এখান থেকে খেজুর সংগ্রহ করো এবং তার পাওনা শোধ করে দাও।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখান থেকে চলে যাওয়ার পরে সে খেজুর সংগ্রহ করতে লাগল। তা দিয়ে তার ত্রিশ ওসাক তো শোধ হলোই, তার সাথে আরও সতেরো ওসাক থেকে গেল। জাবির এই ঘটনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে গেলেন। রাসূল তখন আসরের নামায পড়ছিলেন। তার নামায শেষ হলে তাঁকে সেই অবশিষ্টের কথা বললেন। তিনি বললেন, 'আল-খাত্তাবের পুত্রকে এ ঘটনা বলে এসো।' জাবির উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গিয়ে ঘটনা বর্ণনা করল। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'আমি জানি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বাগানের মধ্যে হেঁটেছেন, তখন তাতে বরকত হবেই।'
টিকাঃ
২৭৬. সহীহ, বুখারী, নং ২২৬৬।