📄 নবী সা. কর্তৃক পিতৃপুরুষের নামে শপথ করতে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বপুরুষের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন।' উমর বলেছেন, 'আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করার পর থেকে আমি কখনও তাদের নামে কসম করিনি। নিজের কথা অথবা অন্য কারও কথা বর্ণনার সময় আমি কখনই আর তাদের নাম নিইনি।' উমর আরও শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর প্রতি যেভাবে বিশ্বাস রাখা উচিত তোমরা যদি সেভাবে বিশ্বাস রাখ তাহলে তোমাদেরকে পাখির মতো নেয়ামত দেওয়া হবে, যেমন তারা সকালবেলা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয়ে যায় অথচ তারা সন্ধ্যায় ফিরে আসে ভরাপেটে।'
টিকাঃ
২৫৭. আল-মাওসআ আল-হাদীসিয়া, মুসনাদ, আহমাদ, হাদীস নং ১২২। এর সনদ সহীহ।
📄 আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সা.-কে নবী এবং রাসূল হিসেবে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট
বর্ণিত আছে যে, আবু মূসা বলেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপছন্দ করতেন এমন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাড়াবাড়ি হয়ে গেল এবং তিনি রেগে গেলেন। তারপর তিনি লোকদের বললেন, 'তোমাদের যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস করো।' এক লোক জিজ্ঞেস করল, 'আমার পিতা কে?' তিনি বললেন, 'তোমার বাবা হুযাফা।' আরেকজন জিজ্ঞেস করল, 'আমার বাবা কে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'তোমার বাবা হচ্ছে শায়বার এর আযাদকৃত গোলাম সালিম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিব্যক্তি দেখে উমর বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।' আরেকটি বর্ণনায়, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, 'আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।' তারপর তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন।
টিকাঃ
২৫৮. আল-মাওসূআ আল-হাদীসিয়া, মুসনাদ, আহমাদ, হাদীস নং ১২২। এর সনদ কওয়ি।
২৫৯. শায়বা ইবনে রাবীয়ার আযাদকৃত গোলাম সাদ ইবনে সালিম একজন সাহাবী ছিলেন। মাহদ আস সাওয়াব, ২/৭০০।
২৬০. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ৯২; সহীহ, মুসলিম, হাদীস নং ২৩৬০।
📄 যে সাদকা ফিরিয়ে নেয় তার ব্যাপারে ফাতওয়া
বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন : 'আল্লাহর ওয়াস্তে আমি একটি বাহন দান করেছিলাম। কিন্তু এর মালিক একে অবহেলা করত। তাই আমি তার কাছ থেকে তা আবার কিনে নিতে চাচ্ছিলাম। মনে হলো, সে হয়তো কম দামে বিক্রি করে দেবে। কিন্তু তার আগে বললাম, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস না করে কিছু করব না। তিনি (নবী) বললেন, 'যদি তুমি এক দিরহামেও পাও তবুও কিনো না। কারণ, যে লোক দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ হচ্ছে সেই কুকুরের মতো যা বমি করে নিজেই তা খেয়ে ফেলে।'
টিকাঃ
২৬৩. মুসনাদ, আহমদ, ৪/৪১, হাদীস নং ২২০৬। আহমদ শাকিরের মতে হাদীসটির সনদ সহীহ।
📄 দান এবং ওয়াকফ
ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময়ে উমর ইবনুল খাত্তাব তার সম্পত্তির কিছু অংশ দান করেছিলেন। একে সামগ বলা হয়। সেখানে অনেক খেজুরগাছ ছিল। উমর বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার কিছু জমি আছে, যা আমার কাছে খুবই প্রিয়। আমি তা আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে দিতে চাই।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমার সেই সম্পত্তি এই শর্তে ওয়াকফ করে দাও যে, এটা কখনো বিক্রি করা হবে না, দান করা হবে না, উত্তরাধিকার-সূত্রে মালিকানা পরিবর্তন করা যাবে না এবং তা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দাতব্য-কাজে ব্যয় করা হবে। সুতরাং উমর তার সেই প্রিয় জমি দান করে দিলেন। তার সেই উপহার আল্লাহর ওয়াস্তে দেওয়া হয়েছিল। দাসমুক্তির জন্য এবং দরিদ্র, অতিথি, মুসাফির এবং জ্ঞাতিদের কাজে তা থেকে ব্যয় করা হতো। এর তত্ত্বাবধায়ক যদি ধনী হওয়ার চেষ্টা না করে তবে ন্যায়সঙ্গত কারণে তা ভোগ করতে পারবে, আবার বন্ধু- বান্ধবদের আপ্যায়নও করতে পারবে। তাতে কোনো গুনাহ হবে না।'
অপর একটি বর্ণনা অনুসারে: উমর খায়বারে কিছু জমি পেলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, 'আমি খায়বারে কিছু জমি পেয়েছি। আর আমি এর মতো দামী জমি কখনও পাইনি। আপনি কী করতে বলেন?' তিনি বললেন, 'তুমি চাইলে দান করে দিতে পারো (ওয়াকফ হিসেবে)।' অতঃপর উমর এটাকে এই শর্তে দান করলেন যে, এটা কখনও বিক্রয় করা হবে না, দান করা হবে না, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তন হবে না এবং এর থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দাতব্য কাজে ব্যয় হবে, দাসমুক্তির জন্য, গরীব, অতিথি, মুসাফির এবং জ্ঞাতিদের সতকারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর তত্ত্বাবধায়ক যদি ধনী হওয়ার চেষ্টা না করে এ থেকে পরিমিত পরিমাণে ব্যয় করে অথবা তাঁর বন্ধু-বান্ধবদের আপ্যায়ন করে তাতে তার কোনো গুনাহ হবে না। এই আচরণ থেকে উমরের গুণাবলি সুস্পষ্টভাবে চিত্রিত হয়েছে। তিনি ভালো কাজের প্রতি যেমন আগ্রহী ছিলেন তেমনই এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের চেয়ে চিরস্থায়ী পরকাল তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেত।
টিকাঃ
২৬৪. মুসনাদ, আহমদ, ৪/৪১, হাদীস নং ২৮১। বুখারী এবং মুসলিমের মতে হাদীসটির সনদ সহীহ।
২৬৫. সহীহ, বুখারী, কিতাব আল-ওয়াসায়া, হাদীস নং ২৭৭৩।