📄 রাসূল সা. সৃষ্টির শুরু সম্পর্কে বয়ান করলেন
বর্ণিত আছে যে, তারিক ইবনে শিহাব বলেছেন: আমি উমরকে বলতে শুনেছি, 'নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে উঠে দাঁড়ালেন এবং সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাতীদের জান্নাতলাভ ও জাহান্নামীদের জাহান্নাম প্রাপ্তির বিষয় পর্যন্ত বয়ান করলেন। যার যতটুকু সম্ভব মুখস্থ করল আর যার যতটুকু ভোলার তা ভুলে গেল।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীস থেকেই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ধারণা পেয়েছিলেন।
টিকাঃ
২৫৬. সহীহ, বুখারী, কিতাব বাদ আল-খালক, হাদীস নং ১৯২।
📄 নবী সা. কর্তৃক পিতৃপুরুষের নামে শপথ করতে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বপুরুষের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন।' উমর বলেছেন, 'আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করার পর থেকে আমি কখনও তাদের নামে কসম করিনি। নিজের কথা অথবা অন্য কারও কথা বর্ণনার সময় আমি কখনই আর তাদের নাম নিইনি।' উমর আরও শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর প্রতি যেভাবে বিশ্বাস রাখা উচিত তোমরা যদি সেভাবে বিশ্বাস রাখ তাহলে তোমাদেরকে পাখির মতো নেয়ামত দেওয়া হবে, যেমন তারা সকালবেলা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয়ে যায় অথচ তারা সন্ধ্যায় ফিরে আসে ভরাপেটে।'
টিকাঃ
২৫৭. আল-মাওসআ আল-হাদীসিয়া, মুসনাদ, আহমাদ, হাদীস নং ১২২। এর সনদ সহীহ।
📄 আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সা.-কে নবী এবং রাসূল হিসেবে পেয়ে আমি সন্তুষ্ট
বর্ণিত আছে যে, আবু মূসা বলেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপছন্দ করতেন এমন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে বাড়াবাড়ি হয়ে গেল এবং তিনি রেগে গেলেন। তারপর তিনি লোকদের বললেন, 'তোমাদের যা ইচ্ছা জিজ্ঞেস করো।' এক লোক জিজ্ঞেস করল, 'আমার পিতা কে?' তিনি বললেন, 'তোমার বাবা হুযাফা।' আরেকজন জিজ্ঞেস করল, 'আমার বাবা কে?' তিনি উত্তর দিলেন, 'তোমার বাবা হচ্ছে শায়বার এর আযাদকৃত গোলাম সালিম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভিব্যক্তি দেখে উমর বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।' আরেকটি বর্ণনায়, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, 'আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।' তারপর তিনি নীরবতা অবলম্বন করলেন।
টিকাঃ
২৫৮. আল-মাওসূআ আল-হাদীসিয়া, মুসনাদ, আহমাদ, হাদীস নং ১২২। এর সনদ কওয়ি।
২৫৯. শায়বা ইবনে রাবীয়ার আযাদকৃত গোলাম সাদ ইবনে সালিম একজন সাহাবী ছিলেন। মাহদ আস সাওয়াব, ২/৭০০।
২৬০. সহীহ, বুখারী, হাদীস নং ৯২; সহীহ, মুসলিম, হাদীস নং ২৩৬০।
📄 যে সাদকা ফিরিয়ে নেয় তার ব্যাপারে ফাতওয়া
বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন : 'আল্লাহর ওয়াস্তে আমি একটি বাহন দান করেছিলাম। কিন্তু এর মালিক একে অবহেলা করত। তাই আমি তার কাছ থেকে তা আবার কিনে নিতে চাচ্ছিলাম। মনে হলো, সে হয়তো কম দামে বিক্রি করে দেবে। কিন্তু তার আগে বললাম, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস না করে কিছু করব না। তিনি (নবী) বললেন, 'যদি তুমি এক দিরহামেও পাও তবুও কিনো না। কারণ, যে লোক দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, তার উদাহরণ হচ্ছে সেই কুকুরের মতো যা বমি করে নিজেই তা খেয়ে ফেলে।'
টিকাঃ
২৬৩. মুসনাদ, আহমদ, ৪/৪১, হাদীস নং ২২০৬। আহমদ শাকিরের মতে হাদীসটির সনদ সহীহ।