📄 উমর রা.-এর সাথে রাসূল সা.-এর সম্মত পোষণ করা
বর্ণিত আছে যে, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘিরে বসে ছিলাম। উমর এবং আবু বকরও ছিলেন আমাদের সাথে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের রেখে উঠে গেলেন। তিনি ফিরছিলেন না বলে আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম। সবার আগে আমি তাকে খুঁজতে বের হলাম। বনু আন-নাজ্জারের এক আনসারের বাগানে এসে পড়লাম। সেখানে ঢোকার কোনো রাস্তা পাচ্ছিলাম না। তবে বাগানের ভেতরে ঝর্ণা চোখে পড়ল। অতঃপর ঝর্ণার পানি বের হওয়ার ফাঁকা স্থান দিয়ে কোনো রকমে বাগানে ঢুকেছি। সেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাওয়া গেল। তিনি বললেন, 'আবু হুরায়রা?' আমি বললাম, 'জী, রাসূলুল্লাহ।' তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'কি হয়েছে?' আমি বললাম, 'আপনি তো আমাদের সাথে ছিলেন। অনেকক্ষণ হয়ে গেল, আপনি ফিরছেন না দেখে আমরা আপনাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। আমিই প্রথমে আপনাকে খুঁজতে বের হয়েছি। এই বাগানে এসে শেয়ালের মতো গর্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। অন্যরা আমার পেছনে।' তিনি তার জুতা-জোড়া আমার হাতে দিয়ে বললেন, 'হে আবু হুরায়রা, আমার এই জুতা-জোড়া ধরো। বাগানের বাইরে যার দেখা পাবে সে যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং এই কথা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে তবে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।'
প্রথমেই উমরের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আবু হুরায়রা, এই জুতা-জোড়া কী জন্য?' আমি জবাব দিলাম, 'এগুলো রাসূলুল্লাহর জুতা। তিনি আমাকে একথা বলে পাঠিয়েছেন যে, বাগানের বাইরে যার দেখা পাবে সে যদি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং এই কথা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে তবে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবে।' উমর হাত দিয়ে আমার বুকে এত জোরে চাপড় দিলেন যে আমি উল্টে পড়ে গেলাম। তিনি বললেন, 'ফিরে যাও, আবু হুরায়রা।' আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে গিয়ে কাঁদতে লাগলাম। আমার পেছন পেছন উমরও এলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারও জিজ্ঞেস করলেন, 'কী হলো, আবু হুরায়রা?' আমি বললাম, 'উমরের সাথে আমার দেখা হয়েছে। আপনি যা করতে বলেছেন আমি তা-ই করলাম। তিনি বুকে চাপড় দিয়ে আমাকে উল্টে ফেলে দিয়েছেন। তারপরে বললেন, যেন ফিরে যাই।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হে উমর, এ কাজ করলে কেন?' উমর বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি আবু হুরায়রাকে আপনার জুতাসহ এ কথা বলে পাঠিয়েছেন যে, বাগানের বাইরে সে যার দেখা পাবে সে যদি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং এই কথা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করে তবে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবে?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'হ্যাঁ।' তিনি (উমর) বললেন, 'এ কাজ করবেন না। আমি ভয় পাচ্ছি যে, লোকজন শুধু এর উপরই নির্ভর করে থাকবে। তার চেয়ে বরং তাদের কঠোর সাধনা করতে দিন।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, '(ঠিক আছে,) তারা তা-ই করুক।'
টিকাঃ
২৫৩. মাহদুস সাওয়াব ফী ফাদাইল আমীরুল মু'মিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, ১/২৫৮।
২৫৪. সহীহ, মুসলিম, কিতাব আল-ঈশান, হাদীস নং ৩১।
📄 রাসূল সা. একটিমাত্র উরস থেকে জানাজার জন্য সাহাবীদের জোর দিলেন
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাতে তাওরাতের একটি পৃষ্ঠা দেখেন। বললেন, 'আল-খাত্তাবের পুত্র, তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? আমি তোমাদের কাছে সত্য-শুভ্র জিনিস পৌঁছাচ্ছি। মূসা বেঁচে থাকলে তিনিও আমার অনুসরণ করতেন।' আরেকটি বর্ণনামতে, 'যদি মূসা বেঁচে থাকতেন আর তুমি আমাকে ত্যাগ করে তার অনুসরণ করতে, তবে তুমি পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে।'
টিকাঃ
২৫৫. আল-ফাতওয়া, ১১/২৩২; মুসনাদ, আহমাদ, ৩/৩৮৭, জাবির থেকে বর্ণিত।
📄 রাসূল সা. সৃষ্টির শুরু সম্পর্কে বয়ান করলেন
বর্ণিত আছে যে, তারিক ইবনে শিহাব বলেছেন: আমি উমরকে বলতে শুনেছি, 'নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে উঠে দাঁড়ালেন এবং সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাতীদের জান্নাতলাভ ও জাহান্নামীদের জাহান্নাম প্রাপ্তির বিষয় পর্যন্ত বয়ান করলেন। যার যতটুকু সম্ভব মুখস্থ করল আর যার যতটুকু ভোলার তা ভুলে গেল।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীস থেকেই উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের ধারণা পেয়েছিলেন।
টিকাঃ
২৫৬. সহীহ, বুখারী, কিতাব বাদ আল-খালক, হাদীস নং ১৯২।
📄 নবী সা. কর্তৃক পিতৃপুরুষের নামে শপথ করতে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখার প্রতি জোর দিয়েছেন
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পূর্বপুরুষের নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন।' উমর বলেছেন, 'আল্লাহর কসম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করার পর থেকে আমি কখনও তাদের নামে কসম করিনি। নিজের কথা অথবা অন্য কারও কথা বর্ণনার সময় আমি কখনই আর তাদের নাম নিইনি।' উমর আরও শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহর প্রতি যেভাবে বিশ্বাস রাখা উচিত তোমরা যদি সেভাবে বিশ্বাস রাখ তাহলে তোমাদেরকে পাখির মতো নেয়ামত দেওয়া হবে, যেমন তারা সকালবেলা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয়ে যায় অথচ তারা সন্ধ্যায় ফিরে আসে ভরাপেটে।'
টিকাঃ
২৫৭. আল-মাওসআ আল-হাদীসিয়া, মুসনাদ, আহমাদ, হাদীস নং ১২২। এর সনদ সহীহ।