📄 হিজরত
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় হিজরতের সিদ্ধান্ত নেবার পর থেকে জোরেশোরে প্রকাশ্যে দ্বীন প্রচার শুরু করেন। ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আলী ইবনে আবি তালিব আমাকে বললেন, 'আমার জানামতে, একমাত্র উমর ইবনুল খাত্তাব ছাড়া বাদবাকি সব মুহাজির লুকিয়ে হিজরত করেছেন। তিনি যখন হিজরতের সিদ্ধান্ত নিলেন তখনই তরবারি তুলে, কাঁধে তীর-ধনুক আর হাতে লাঠি নিয়ে কাবার উদ্দেশে বেরিয়ে যান। কাবাপ্রাঙ্গণে কুরাইশরা ছিল। তিনি ধীরে-সুস্থে সাতবার কাবার তাওয়াফ করলেন। তারপরে মাকামে গিয়ে সময় নিয়ে নামায পড়লেন। অতঃপর একে একে সবার সামনে গিয়ে বলতে লাগলেন, 'তোমার চেহারা কুৎসিত হয়ে যাক! আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তোমাদের উন্নাসিকতাকে ধূলায় মেশাবেন। যে তার মাকে সন্তানহারা, তার সন্তান ইয়াতীম, আর তার স্ত্রীকে বিধবা দেখতে চায়—সে যেন এই উপত্যকার পেছনে আমার সাথে মোকাবেলা করতে আসে। আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, 'সেদিন দুর্বল আর মাজলুম ছাড়া অন্য কেউ তাকে অনুসরণ করেনি। তিনি তাদেরকে ইসলামের শিক্ষা দিলেন তারপর নিজের পথ ধরলেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগেই তিনি মদীনায় পৌঁছেন। পরিবারের গুটিকয় সদস্য আর কাছের লোকজন তখন তার সাথে ছিল। তার ভাই যায়েদ ইবনুল খাত্তাব: সুরাকা ইবনুল মু'তামিরের দুই ছেলে আমর এবং আব্দুল্লাহ, তারা মেয়ে হাফসার স্বামী খুনায়েস ইবনে হুযাফা আস-সাহমি; তার চাচাত ভাই সাঈদ ইবনে যায়েদ-যিনি দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন; ওয়াকিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তামীমি, তাদের একজন মিত্র; খাওলা ইবনে আবি-খাওলা এবং মালিক ইবনে আবি-খাওলা, তারা বনু আজিল এবং বনু আল-বুকায়ের গোত্রের মিত্র ছিলেন; আরও ছিলেন ইয়াস, খালিদ, আকিল ও আমির, তারা বনু সা'দ ইবনে লাইস গোত্রের মিত্র। তারা কুবায় বnu আমর ইবনে আওফের রিফা ইবনে আব্দুল মুনযিরের সাথে ছিলেন।
আল-বারা ইবনে আযিব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'মুসআব ইবনে উমাইর এবং ইবনে আবি মাকতুম সবার আগে আমাদের কাছে আসেন। তারা লোকজনকে কুরআন শেখাতেন। তারপর আসেন বিলাল, সা'দ এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির। তাদের পরে উমর ইবনুল খাত্তাব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে মদীনায় আসেন। এরপর এলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তার আগমনে মদীনাবাসী যারপরনাই খুশি হয়েছিল।'
এভাবে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু কথা ও কাজে ঈমানের দাওয়াত দিতে থাকেন। তিনি আল্লাহর কারণে কখনোই নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করেননি (সূরা মায়েদা, ৫: ৫৪)। তার আগে মক্কার যে মুসলিমরা হিজরত করেছিলেন তিনি তাদের সব-ধরনের সাহায্য- সহযোগিতা করতেন। আর তিনি নিজে আত্মীয়স্বজনসহ বন্ধু-বান্ধবের এক বিশাল কাফেলা নিয়ে হিজরত করেছেন। অনেক আত্মীয়-স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে হিজরত করেছেন। তিনি তার বহু সাথীকে হিজরতে সাহায্য করেছেন। তারা নির্যাতিত হওয়ার ভয় পেলে তিনি অভয় দিতেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিজে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন : আমরা তিনজন—আয়াশ ইবনে আবি রাবীয়া, হিশাম ইবনুল আস ইবনে ওয়াইল আস-সাহমি আর আমি- হিজরতের সিদ্ধান্ত নিলাম। ঠিক করলাম আমরা সারিফ উপত্যকার উপরে আদাআত বনি গিফারের গাছঘেরা জায়গায় একত্র হব। কেউ যদি সেখানে উপস্থিত হতে না পারে তবে ধরে নেবো সে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাকি দু-জন (তার অপেক্ষা না করে) চলে যাবে।' আয়াশ ইবনে আবি-রাবীয়া আর আমি সেখানে হাজির হলাম। অথচ হিশাম আমাদের সাথে যোগ দিতে পারেনি। তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
মদীনায় পৌঁছে আমরা বনু আমর ইবনে আওফের সাথে কুবায় থেকেছি। আবু জাহেল ইবনে হিশাম এবং আল হারিস ইবনে হিশাম আয়াশ ইবনে আবি রাবীয়ার সাথে দেখা করতে আসে। আয়াশ তাদের চাচাত ভাই ছিলেন, আবার মায়ের দিক দিয়ে ছিলেন সৎ ভাই। তারা মদীনায় আমাদের কাছে এলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় থাকাকালীন তারা মদীনায় এসেছিল। তারা আয়াশকে বলল, 'তোমার মা প্রতিজ্ঞা করেছেন, তোমাকে না দেখা পর্যন্ত তার মাথায় চিরুনি স্পর্শ করাবেন না, তোমাকে না দেখা পর্যন্ত কড়া রোদ থেকে ছায়ায় যাবেন না।' আয়াশ দুর্বল হয়ে পড়ল।
আমি তাকে বললাম, 'আয়াশ, আল্লাহর কসম, লোকগুলো তোমাকে বিভ্রান্ত করছে। সুতরাং তাদের থেকে সাবধান। আল্লাহর কসম, উকুন যন্ত্রণায় তোমার মা অতিষ্ঠ হয়ে গেলে তখন ঠিকই সে মাথায় চিরুনি দিবে, আর মক্কার তাপদাহে ঠিকই সে ছায়া খুঁজবে।' সে বলল, 'আমি বরং আমার মায়ের কসমের সম্মান রাখি। তাছাড়া সেখানে আমার কিছু সম্পদও আছে সেগুলোও নিতে হবে।' আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, 'আল্লাহর কসম, তুমি জান যে আমি কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তি। প্রয়োজনে আমি তোমাকে আমার সম্পত্তির অর্ধেক দিয়ে দিচ্ছি, তাও তুমি ওদের সাথে যেয়ো না।' সে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগল। তখন আমি বললাম, 'ঠিক আছে, তুমি যদি যেতেই চাও তাহলে আমার এই উটনী নিয়ে যাও। ও প্রশিক্ষিত উটনী, তোমার জন্য সুবিধা হবে। তুমি এর পিঠেই থেকো। কোনো রকম ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেই একে নিয়ে পালাতে পারবে।'
অতঃপর সে আমার উটনীতে চড়ে রওনা হলো। কিছুদূর গিয়ে আবু জাহেল বলে উঠল, 'শোন ভাই, আল্লাহর কসম, আমার এই উটের পিঠে বসতে সমস্যা হচ্ছে। আমি কি তোমার উটে একসাথে বসতে পারি?' সে রাজী হয়ে গেল। দু-জনের উট হাঁটু গেড়ে বসল। তারা দু-জনেই মাটিতে নামল। এমন সময় তারা আয়াশের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাকে বেঁধে মক্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কঠিন নির্যাতনের এক পর্যায়ে সে মারা যায়। আমরা বলতাম যে, আল্লাহ তা'আলাকে জানার পরে যুলুমের কারণেই হোক বা যে কোনোভাবে কেউ যদি আবার কুফরে লিপ্ত হয়, তবে তার কোনো ভালো আমল বা তওবা কবুল হয় না। তারা নিজেরাও এ কথা বলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার পরে এ প্রসঙ্গে আয়াত নাযিল হয়:
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنِيْبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَ أَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُونَ وَ اتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَ أَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ
বলুন, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তাঁর আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না; তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ উত্তম বিষয়ের অনুসরণ করো তোমাদের কাছে অতর্কিতে ও অজ্ঞাতসারে আযাব আসার পূর্বে।
উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, 'আমি উপর্যুক্ত আয়াতগুলো লিখে হিশাম ইবনুল আসের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।' এ প্রসঙ্গে হিশাম বলেছেন, 'আমি তুয়া উপত্যকায় বসে এই কাগজ পেলাম। আমি বারবার পড়তে লাগলাম। কিন্তু কিছুতেই এর অর্থ বুঝতে পারছিলাম না। অবশেষে আমি দুআ করলাম, 'হে আল্লাহ, আমাকে বুঝতে সাহায্য করুন।' সর্বশক্তিমান, মহিমান্বিত আল্লাহ তা'আলা আমাকে বুঝতে সাহায্য করলেন যে, এটা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের বিষয়ে, আমরা নিজেদের ব্যাপারে যা বলে থাকি আর আমাদের ব্যাপারে অন্যরা যা বলে থাকে সেই বিষয়ে। আমি আমার উটের কাছে ফিরে গেলাম, পিঠে চড়লাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যোগ দিতে মদীনায় চলে গেলাম।'
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কীভাবে তার দুই সাথী- আয়াশ ইবনে আবি-রাবীয়া এবং হিশাম ইবনুল আস ইবনে ওয়াইল আস-সাহমিকে নিয়ে কীভাবে হিজরতের পরিকল্পনা করছিলেন এই ঘটনায় তার একটা ধারণা পেয়েছি। তারা তিনজনই ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের। অথচ মদীনায় যাওয়ার জন্য হারাম শরীফের সীমা পেরিয়ে মক্কা থেকে দূরে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। তিনি দেখা করার জায়গা ও সময় পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছিলেন। আবার এও নির্ধারণ করেন যে, একজন দেরি করলে বাকি দুজন যেন অপেক্ষা না করে চলে যেতে পারেন। যেভাবে তাঁরা ভেবেছিলেন, হিশাম ইবনুল আস তাদের সাথে যোগ দিতে পারেননি। সুতরাং উমর এবং আয়াশ রাযিয়াল্লাহু আনহুম হিজরতে বের হন। পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়েছিল। তারা নিরাপদে মদীনা পৌঁছেন। এদিকে কুরাইশরা মুহাজিরদের ধাওয়া করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। সুতরাং অনেক চিন্তাভাবনা করে তারাও পরিকল্পনা করতে লাগল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আয়াশের সৎ ভাই আবু জাহেল ও আল-হারিস।
পরিকল্পনামতো তার মায়ের কথা বলা হয়। মায়ের প্রসঙ্গ আসায় আয়াশ তাদের বিশ্বাস করে বসেন। মায়ের প্রতি আয়াশের অতিরিক্ত দুর্বলতার কথা জানত বলে আবু জাহেল ওই গল্প বানায়। তাদের ফাঁদে পড়ে আয়াশ তাদের সাথে ফিরে যেতে চাইলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কতটা সতর্ক ছিলেন, এখানে তারও বর্ণনা আছে। তিনি অপহৃত হতে পারেন, এমন ধারণা তিনি আগেই আঁচ করেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আগে থেকেই বিপদ সম্পর্কে বুঝতে পারতেন, এই ঘটনা তার প্রমাণ বহন করে।
ইসলাম কীভাবে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এই ঘটনায় তা-ও দেখা গেছে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তার (দ্বীনী) ভাইয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের অর্ধেক সম্পত্তি হারাতে প্রস্তুত ছিলেন। কারণ, মক্কায় ফিরে গেলে মুশরিকেরা তার উপর নির্যাতন চালাতে পারে, তিনি এমন আশংকা করছিলেন। কিন্তু মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর মাকে সম্মান প্রদর্শনের ইচ্ছা আয়াশকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। তিনি মায়ের শপথকে সম্মান দেখাতে আর তার অবশিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে আসার জন্য মক্কায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মক্কায় নিজের সম্পত্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, এই আত্মাভিমান তাকে তার (দ্বীনী) ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি নিতে দেয়নি। এদিকে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন দূরদর্শী। তিনি যেন দেখতে পাচ্ছিলেন, আয়াশ মক্কায় ফিরে গেলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। তাই বোঝাতে ব্যর্থ হলেন পরে তার সাথে নিজের প্রশিক্ষিত উটনী দিয়ে দিলেন। তার আশংকা সত্য প্রমাণ করে আয়াশ মুশরিকদের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন।
মুসলিমরা ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে, যারা অবিচার-অত্যাচারের কাছে হার মানে আর জাহেলী সমাজে রয়ে যায়, আল্লাহ তাদের থেকে কোনো ভালো আমল বা তওবা কবুল করবেন না। তখন আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করলেন,
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ
বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ-যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।'
এই আয়াত নাযিলের সাথে সাথে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তা লিখে ফেললেন। প্রিয় ভাই আয়াশ এবং হিশামের কাছে পাঠিয়ে দিলেন, যেন তারা কুফরের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। আল-খাত্তাবের ছেলে কেমন মহৎ ছিলেন! তিনি ভাই আয়াশকে মদীনা ত্যাগ না করার ব্যাপারে বোঝাতে চেয়েছিলেন, দিয়ে দিতে চেয়েছিলেন নিজের সম্পত্তির অর্ধেকটা, নিজের উটনীকেও দিয়েছিলেন যাতে আয়াশ পালিয়ে আসতে পারেন। উমর তার ওপরে নিজের মতামত চাপিয়ে দেননি। কিংবা তার মতের বিরুদ্ধে যাওয়া কিংবা পরামর্শ অগ্রাহ্য করার কারণে তিরস্কার করেননি। বরং, তার জন্য ভালোবাসা এবং ভ্রাতৃত্বের দায়বদ্ধতা বার বার প্রকাশ পেয়েছে। উপর্যুক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার সাথে সাথেই তিনি তা মক্কায় থাকা ভাই এবং সমস্ত দুর্বল ও অসহায়-নিপীড়িতের জন্য পাঠিয়ে দিলেন যাতে তারা পুনরায় মুসলিমদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতে পারে।
উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মদীনায় স্থায়ী হলেন। এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একনিষ্ঠ উপদেষ্টা হয়ে উঠলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উয়াইম ইবনে সাইদা, বা উতবান ইবনে মালিক, বা মুয়ায ইবনে আফরার সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে দিলেন। ইবনে আব্দুল হাদি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, 'এই হাদীসগুলোর মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। হতে পারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে উল্লিখিত সকলেরই ভ্রাতৃত্ব গড়ে দিয়েছিলেন। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাদের ভ্রাতৃত্ব তৈরি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।'
টিকাঃ
৮১. প্রাগুক্ত পৃ. ২২১।
৮২. সহীহ আত-তাওসীক ফী সীরাত আল-ফারুক, পৃ. ৩০।
৮৩. ফাতহ আল-বারি, ৭/২৬১, সহীহ আত-তাওসীক ফী সীরাত আল-ফারুক, পৃ. ৩১।
৮৪. সহীহ, বুখারী, নং ৩৯২৫।
৮৫. সূরা মায়েদা, ৫: ৫৪, দ্রষ্টব্য।।
৮৬. সহীহ আত-তাওসীক ফী সীরাত আল-ফারুক, পৃ. ৩১।
৮৭. আল-সারিফ, মক্কার একটি উপত্যকার নাম।
৮৮. আদাআত বনি গিফার-মক্কা থেকে ১০ কি.মি. দূরে অবস্থিত।
৮৯. হিজরা আল-নাবাওয়িয়া আল-মুবারাকা, আব্দুর রহমান আব্দুল-বার, পৃ. ১২৯।
৯০. হিজরা আল-নাবাওয়িয়া আল-মুবারাকাহ, আব্দুর রহমান আব্দুল-বার, পৃ. ১২৯।
৯১. সূরা যুমার (৩৯: ৫৩-৫৫) দ্রষ্টব্য। আস-সীরাহ আন-নববীয়াহ আস-সহীহাহ, ১/২০৫।
৯২. আল-হিযরাহ আল-নাবাওয়িয়াহ আল-মুবারাকাহ, পৃ. ১৩১।
৯৩. আত-তারবিয়া আল-কিয়াদিয়া, ২/১৫৯।
৯৪. আস-সীরাহ আন-নাবায়িয়া আরদাস ওয়াকায়ি ওয়া তাহলীল আহাদাছ, আস-সাল্লাবি, পৃ. ৫২।
৯৫. সূরা যুমার, ৩৯:৫৩।
৯৬. মাহদুস সাওয়াব ফী ফাদাইল আমীর আল মুমিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, ১/১৮৪।
৯৭. প্রাগুক্ত, ২/১৬০।
৯৮. মানাকিব আমির আল-মু'মিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, ইবনে আল-জাওযী, ৩১।
৯৯. আত-তাবাকাত, ইবনে সা'দ, ৩/২৭২।
১০০. মানাকিব আমির আল-মুমিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, ইবনে আল-জাওযি, ৩১।
১০১. মাহদুস সাওয়াব ফী ফাদাইল আমীর আল মুমিনীন উমর ইবনে আল-খাত্তাব, ১/১৮৪।