📘 ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ > 📄 সাহিত্যানুরাগী

📄 সাহিত্যানুরাগী


কবি-সাহিত্যিকগণ ছিলেন তাঁর নিকট খুবই প্রিয়। বিশেষতঃ কাছীর ও নাছীবকে তিনি যে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ দিয়েছিলেন, অতীতে কেউ কোন কবিকে এরূপ অর্থ-সম্পদ দিয়েছে বলে কারো জানা নেই। তিনি যে সমস্ত লোককে মোটা অংকের অর্থ সাহায্য করেছিলেন, তন্মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) অন্যতম ছিলেন। হযরত ইবনে ওমর (রা) ছিলেন তাঁর স্ত্রী উম্মে আসেমের চাচা এবং পুত্র ওমর ইবনে আবদুল আজীজের তত্ত্বাবধায়ক ও ওস্তাদ।

ইবনে কাছীর (র) আবদুল আজীজের মৃত্যুর শোকে কাতর হয়ে এ ছোট একটি বাক্য ব্যবহার করেছিলেন- وَقَدْ كَانَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ مَرْوَانَ مِنْ خِيَارِ الْأُمَرَاءِ كَرِيمًا جَوَادًا مُمَدَّحًا

অর্থাৎ আবদুল আজীজ একজন যোগ্য শাসক ও দয়ালু-দাতা এবং প্রশংসার পাত্র ছিলেন। (আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়া, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬৮)

📘 ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ > 📄 বিবাহ

📄 বিবাহ


আবদুল আজীজ জীবনে কয়েকটি বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁর কয়েকজন পুত্র সন্তানও ছিল; কিন্তু যে পুত্রের মাধ্যমে বিশ্বজোড়া তাঁর খ্যাতি লাভ হয়েছিল তিনি ছিলেন এই ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র)।

📘 ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ > 📄 কৃতিভূত্ব

📄 কৃতিভূত্ব


ইবনে কাছীর আবদুল আজীজের গুণাবলি বর্ণনা করে এটাও বলেছেন যে, তিনি ছিলেন খলীফায়ে রাশেদীনের ওমরের-পিতা।

ইবনে কাছীরের মতে হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র)-এর মধ্যে যে সমস্ত গুণের সমাবেশ ঘটেছিল, তা এজন্যই যে, তিনি সর্বদাই স্বীয় পিতার গুণাবলি অর্জন করতে চেষ্টা করতেন।

বাস্তবিকই এ ধারণা অত্যন্ত সঠিক ও যুক্তিযুক্ত, তদুপরি এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র) যে মাতার দুগ্ধ পান করেছিলেন, তিনিও ছিলেন দুনিয়ায় একজন অসাধারণ মা।

📘 ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ > 📄 ওমর ইবনে আবদুল আজীজের মাতা উম্মে আসেম

📄 ওমর ইবনে আবদুল আজীজের মাতা উম্মে আসেম


ইবনে সাদ বলেন- আবদুল আজীজ ইবনে মারওয়ান যখন ওমরের মাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তার সচিবকে ডেকে বললেন, আমার পবিত্র আমদানী থেকে চারশত দিনার সংগ্রহ করুন, আমি পুণ্যবান ও উচ্চ ঘরে একটি বিবাহ করতে ইচ্ছা করেছি।

(তাবকাতে ইবনে সাদ, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৫) ইবনুল জাওযিও ইবনে সাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তার কিতাবে এ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। (ইবনে জওষি ৫ম খণ্ড)

ইবনুল জাওযি বলেন- এ পুণ্যবান উচ্চ ঘর ছিল হযরত ওমর ফারুক (রা)-এর বংশ। উম্মে আসেম ছিলেন হযরত ওমর ফারুক (রা)-এর পুত্র হযরত আসেম (রা)-এর কন্যা। তারপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ থেকে একটি মৌখিক ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন। মিশরের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনুল হাকাম এ ঘটনাটি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহহাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ঘটনাটি হল-

হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা) তাঁর খেলাফতের সময় দুধে পানি মিশানো নিষেধ করে একটি আদেশ জারি করেছিলেন। এক রাত্রে তিনি মদীনার ওলি-গলি ঘুরে দেখতে বের হলেন। তখন একটি স্ত্রীলোক তার মেয়েকে বলছিল, সকাল হয়ে গেল, তুমি দুধে পানি মিশাও না কেন? বালিকা উত্তর করল, আমি কিভাবে দুধে পানি মিশাব? খলীফা ওমর (রা) যে দুধে পানি মিশাতে নিষেধ করেছেন! মা বলল, লোকে পানি মিশায়, তুমিও মিশিয়ে নাও। খলীফা কিভাবে জানবেন? বালিকা বলল, ওমর (রা) যদিও না জানে, কিন্তু ওমরের আল্লাহর নিকট এটা গোপন থাকবে না। খলীফা হযরত ওমর (রা) যে কাজ করতে নিষেধ করেছেন, আমি কখনও তা করব না।

ইবনে আবদুল হাকাম বলেন- খলীফা হযরত ওমর (রা) এ কথোপকথন শুনতে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। পরদিন সকালে তিনি তার পুত্র আসেমকে ডেকে এনে বললেন, বৎস! অমুক স্থানে গিয়ে এ বালিকাটির সন্ধান করে আস। তিনি সে বালিকার গুণাবলি বলে দিলেন। আসেম সেখানে গিয়ে অনুসন্ধান করে জানতে পারলেন যে, উক্ত বালিকাটি হেলাল গোত্রের কোন একজন বিধবার কন্যা। আসেম ফিরে এসে পিতা হযরত ওমর (রা)-এর নিকট বিস্তারিত বর্ণনা করলেন। হযরত ওমর (রা) তাকে এ বালিকাকে বিবাহ করতে নির্দেশ দিয়ে বললেন, হয়তঃ এ বালিকার গর্ভেই এমন এক মনীষী জন্মগ্রহণ করবেন, যার জন্মে সমস্ত আরব গর্ববোধ করবে, যিনি আরবের মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং সমস্ত আরবের নেতৃত্ব দিবে।

আসেম এ বালিকাকে বিয়ে করে স্ত্রীরূপে বরণ করে নিলেন। এ বালিকাই পরবর্তীকালে মুসলিম জাহানের গৌরব হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র)-এর মাতা উম্মে আসেমকে গর্ভে ধারণ করে বিশ্বে অমর হয়ে রয়েছেন। আবদুল আজীজ উম্মে আসেমকে বিবাহ করলেন, তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করলো ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শাসক হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র)।

ইবনে আবদুল হাকাম এ ঘটনা বর্ণনা করার পর লিখেছেন, মিশরের রাজা আজীজ মিশর হযরত ইউসুফ (আ) কে দেখে যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন পরবর্তীকালে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। আর হযরত ওমর ফারুক (রা) এ বালিকাকে দেখে যে মন্তব্য প্রকাশ করেছিলেন, পরবর্তীকালে তাও অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।

ইবনে আবদুল হাকামের টীকায় এ বালিকার নাম 'লাইলা' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু শায়খুল কবীর মুহিউদ্দীন আল-আরাবী তার নাম 'কারীবা' বলে উল্লেখ করেছেন।

ইবনুল জাওযির বর্ণনাও প্রায় একই ধরণের। অবশ্য তার এ বর্ণনাটি কিছুটা ভিন্ন ধরণের এবং প্রসঙ্গের সাথে সর্বাধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাহল- তারপর হযরত ওমর (রা) তদীয় খাস খাদেম আসলামকে বললেন, সেস্থানে গিয়ে দেখ, যারা, এ ধরণের কথোপকথন করেছিল, তারা কে? তাদের কোন পুরুষ লোক আছে কিনা।

আসলাম বলেন, আমি সেস্থানে এসে এদিক ওদিক খোঁজ নিয়ে দেখলাম একটি কুমারী বালিকা এবং তার বিধবা মাতা ছাড়া তাদের সংসারে আর কোন পুরুষ নেই। আমি তাদের এ অবস্থা দেখে হযরত ওমর (রা)-এর নিকট বিস্তারিত বিবরণ দিলাম। তখন খলীফা হযরত ওমর (রা) তদীয় পুত্রগণকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কারও স্ত্রীর প্রয়োজন আছে কি যে, আমি এ বালিকার সাথে তার বিবাহ দিব? আবদুল্লাহ বললেন, আমার স্ত্রী আছে, সুতরাং আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর কোন প্রয়োজন নেই। আবদুর রহমানও অনুরূপ উত্তর করলেন। তখন আসেম নিবেদন করলেন, পিতা! আমার কোন স্ত্রী নেই, আমার নিকট তাকে বিবাহ দিন। তারপর হযরত ওমর (রা) সে বালিকাকে ডেকে আনালেন এবং আসেমের সাথে তাকে বিবাহ দিলেন।

আমরা এজন্যই এ বর্ণনাটি উদ্ধৃত করলাম, যেহেতু এটা পূর্বোক্ত বর্ণনার চেয়ে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত। তদুপরি এটা হযরত ওমর (রা)-এর খাস খাদেম স্বয়ং আসলামের মৌখিক বর্ণনা। মা ও মেয়ের কথোপকথনের সময় আসলামও হযরত ওমর (রা)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি তাঁকেই এটা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আসেমকে দেননি।

এ বালিকা যাকে হযরত ওমর (রা) তার পুত্র বধুরূপে গ্রহণ করলেন, তিনি ছিলেন হেলাল গোত্রের এক বিধবার কন্যা। মা-মেয়ে দুধ বিক্রয় করে জীবিকা চালাতো। সম্পূর্ণ দৈবক্রমেই হযরত ওমর (রা) এ ঘটনার সাথে পরিচিত হয়েছিলেন।

ইবনুল জাওযির বর্ণনা অনুযায়ী এ বালিকার গর্ভে আসেমের ঔরসে দু'জন কন্যা জন্মগ্রহণ করেন, তাদের একজনকে আবদুল আজীজ বিবাহ করেন এবং তার গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেন হযরত ওমর ইবনে আবদুল আজীজ (র)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00