📄 হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক সাহাবীদের ইসতিদরাক (সংশোধনী) সংবলিত
باسمـه تعالى
عَيْنُ الْإِصَابَةِ فِيمَا اسْتَدْرَكَتْهُ عَائِشَةُ عَلَى الصَّحَابَةِ
আইনুল ইসাবাহ
হযরত আয়েশা রাযি. কর্তৃক সাহাবীদের ইসতিদরাক (সংশোধনী) সংবলিত
للإمام الهمام جلال الدين السيوطي
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ. সংকলিত
بتصحيحات عديدة و تعليقات مفيدة للسيد سليمان الندوي
সাইয়্যেদ সুলাইমান নদভী রহ. সম্পাদিত
مع ترجمة النصوص إلى البنغالية لمحمد شفيق الإسلام
মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম অনূদিত
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
الْحَمْدُ لِلهِ وَ سَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى
বক্ষ্যমাণ পুস্তিকাটি হাদীসভাণ্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এতে ইমাম বদরুদ্দীন যারকাশী রহ.-সংকলিত الْإِجَابَةُ لِإِيرَادِ مَا اسْتَدْرَكْتُهُ عَائِشَةُ عَلَى الصَّحَابَةِ কিতাবটি সংক্ষেপে আনা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে যেটুকু সহজ ও সম্ভব হয়েছে সংযোজনও করা হয়েছে। নামকরণ করা হয়েছে- عَيْنُ الْإِصَابَةِ فِيمَا اسْتَدْرَكَتْهُ عَائِشَةُ عَلَى الصَّحَابَةِ।
শায়খ বদরুদ্দীন রহ.-এর আগে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকীহ-উস্তায আবু মানসূর হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে তাহের আল বাগদাদী রহ. এ বিষয়ে রচনা (তালীফ) করেছিলেন। তিনি তাঁর শায়খদের থেকে বিভিন্ন সনদে পঁচিশটি হাদীস এনেছিলেন।
আবু আবদুল্লাহ ইবনে মুকবিল রহ.-সালাহ ইবনে উমর রহ. থেকে, তিনি আবুল হাসান ইবনুল বুখারী রহ. থেকে, তিনি খুশুঈ রহ. থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে খসরু রহ. থেকে বর্ণনা করেন-
بَابُ فَضْلِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا
হযরত আয়েশা রাযি.-এর মর্যাদা
د. أَخْبَرَنَا الْمُصَنِّفُ سَمَاعاً : أَخْرَجَ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ
عَنْ عُرْوَةَ قَالَ : مَا رَأَيْتُ أَعْلَمَ بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَالْعِلْمِ وَالشَّعْرِ وَالطَّبِّ مِنْ عَائِشَةَ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হালাল ও হারামের ইলম এবং কবিতা ও চিকিৎসাবিদ্যায় হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে অধিক বিজ্ঞ কাউকে দেখিনি। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা নং ৬৭৩৩)
٢. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ وَ صَحَّحَهُ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ : قُلتُ لِعَائِشَةَ: قَدْ أَخَذْتِ السُّنَنَ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالشِّعْرَ وَالْعَرَبِيَّةَ عَنِ الْعَرَبِ ، فَعَمَّن أَخَذْتِ الطَّبَّ؟ فَقَالَتْ: عَنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ رَجُلًا سَقَاماً، وَ كَانَ أَطِبَّاءُ الْعَرَبِ يَأْتُوْنَهُ، فَأَتَعَلَّمُ مِنْهُمْ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি সুনানের ইলম অর্জন করেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে; কবিতা ও আরবী ভাষাজ্ঞান লাভ করেছেন আরবদের থেকে; কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যা রপ্ত করলেন কার কাছ থেকে? তখন হযরত আয়েশা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বললেন, তিনি (শেষ বয়সে) রোগ- পীড়াগ্রস্ত ছিলেন, আরবের বিজ্ঞ হেকিম ও চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসা করতে আসতেন; তাদের থেকেই শিখতাম। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা: ৭৪২৬)
. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ الصَّحَابَةَ يَسْأَلُوْنَ عَائِشَةَ عَنِ الْفَرَائِضِ.
অর্থ: মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমি সাহাবায়ে কেরামকে দেখেছি তাঁরা হযরত আয়েশা রাযি.-কে ফারায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা নং ৬৭৩৬; সুনানে দারিমী, বর্ণনা নং ২৯০১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, বর্ণনা নং ৩১০৩৭)
8. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: كَانَتْ عَائِشَةُ أَفْقَهُ النَّاسِ وَأَعْلَمَ النَّاسِ، وَ أَحْسَنَ النَّاسِ رَأْيًا فِي الْعَامَّةِ.
অর্থ: আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. ছিলেন সবচেয়ে বড় ফকীহ, সবচেয়ে বিজ্ঞ আলেম; সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর মতটিই গৃহীত হতো সুন্দরতম মত হিসেবে। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা: ৬৭৪৮)
৯. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: لَوْ جُمِعَ عِلْمُ النَّاسِ كُلِّهِمْ ثُمَّ عِلْمُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ، لَكَانَتْ عَائِشَةُ أَوْسَعَهُمْ عِلْماً.
অর্থ: ইমাম যুহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি সকল মানুষের জ্ঞানকে (দীনী ইলম) একত্রিত করা হয়, এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণের জ্ঞানকেও একত্রিত করা হয়; তবু দেখা যাবে, হযরত আয়েশা রাযি.-এর জ্ঞান সকলের চেয়ে অধিক প্রশস্ত। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা: ৬৭৩৪)
১০. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَفْصَحَ مِنْ عَائِشَةَ.
অর্থ: মুসা ইবনে তালহা বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর চেয়ে বিশুদ্ধভাষী আর কাউকে দেখিনি। (জামে তিরমিযী, বর্ণনা নং ৩৮৮৪; মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা নং ৬৭৩৫; মুজামে কাবীর, তবারানী, বর্ণনা নং ২৯৩)
১১. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنِ الْأَحْنَفِ قَالَ: سَمِعْتُ خُطْبَةَ أَبِي بَكْرٍ، وَ عُمَرَ، وَ عُثْمَانَ، وَ عَلِيٍّ، وَ الْخُلَفَاءِ هَلُمَّ جَرًّا، فَمَا سَمِعْتُ الْكَلَامَ مِنْ فَمِ مَخْلُوقٍ أَفْخَمَ، وَ لَا أَحْسَنَ مِنْ فِي عَائِشَةَ.
অর্থ: আহনাফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবু বকর রাযি., হযরত উমর রাযি., হযরত উসমান রাযি., হযরত আলী রাযি. এবং পরবর্তী খলীফাগণের ভাষণ শুনেছি; কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর মুখে যে মহৎ ও সুন্দর ভাষণ শুনেছি, তা আর কোনো সৃষ্ট-জীবের মুখে শুনিনি। (মুসতাদরাকে হাকেম, বর্ণনা: ৬৭২৩)
. وَ أَخْرَجَ الْحَاكِمُ عَنْ عَائِشَةَ وَ صَحَّحَهُ قَالَتْ: خِلَالٌ لِي تِسْعٌ، لَمْ تَكُنْ لِأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ قَبْلِيْ، إِلَّا مَا أَتَى اللَّهُ عَزَّ وَ جَلَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ، وَ اللَّهِ مَا أَقُولُ هَذَا أَنِّي أَفْخَرُ عَلَى أَحَدٍ مِّنْ صَوَاحِبِي قِيلَ: وَمَا هُنَّ ؟ قَالَتْ : جَاءَ الْمَلْكُ بِصُورَتِي إِلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَتَزَوَّجَنِي وَأَنَا ابْنَةُ سَبْعِ سِنِيْنَ، وَأُهْدِيْتُ إِلَيْهِ وَأَنَا ابْنَةُ تِسْعِ، وَتَزَوَّجَنِي بِكْرًا، وَكَانَ يَأْتِيْهِ الْوَحْيُ وَأَنَا وَهُوَ فِيْ لِحَافٍ وَاحِدٍ، وَكُنْتُ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيْهِ، وَ نَزَلَ فِيَّ آيَاتٌ مِّنَ الْقُرْآنِ، كَادَتِ الْأُمة تَهْلِكُ فِيْهَا، وَرَأَيْتُ جِبْرِيْلَ وَلَمْ يَرَهُ أَحَدٌ مِّنْ نِسَائِهِ غَيْرِي، وَقُبِضَ فِي بَيْتِي، لَمْ يَلِهِ أَحَدٌ غَيْرُ الْمَلَكِ إِلَّا أَنَا.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে যা আমার পূর্বে আর কোনো নারী লাভ করেনি। তবে আল্লাহ মারইয়াম বিনতে ইমরানকে যে মর্যাদা দান করেছেন তাঁর কথা আলাদা। আল্লাহর কসম, আমি এগুলো আমার ভগ্নিগণের ওপর গর্ব করার জন্য বলছি না। (তিনি এ কথা বলার পর) তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, (উম্মুল মুমিনীন,) আপনার সে বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো কী? তিনি বললেন, (আমাকে বিবাহের পূর্বে) ফেরেশতা আমার প্রতিকৃতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখিয়েছেন। আমার সাত বছর বয়সে তিনি আমাকে বিবাহ করেছেন। আমার বয়স যখন নয় বছর, তখন আমাকে তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। কুমারী মেয়ে হিসেবে একমাত্র আমাকেই তিনি বিবাহ করেছেন। তাঁর কাছে ওহী আসত আমি এবং তিনি একই বিছানায় থাকতে। আমি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছিলাম। আমার ব্যাপারে কুরআনে আয়াত নাজিল হয়েছে; অথচ (আমাকে অপবাদ আরোপের বিষয়ে) উম্মত তখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে একমাত্র আমিই জিবরীল আলাইহিস সালামকে দেখেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেছেন আমার ঘরেই; ফেরেশতা ছাড়া একমাত্র আমার দু'চোখই তখন তাঁকে দেখার সৌভাগ্য লাভ করেছে। (মুজামে কাবীর, তবারানী, বর্ণনা নং ৭৭; মাজামাউয যাওয়ায়েদ, বর্ণনা নং ১৫৩০৮)
بَابُ الطَّهَارَةِ
অধ্যায়: পবিত্রতা
د. رَوَى يَعْقُوْبُ بْنُ سُفْيَانَ الفَسَوِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْطَفَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَانِ الأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ، فَقُلْتُ : يَا أُمَّاه ! إِنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُوْلُ: الْمَاءُ بِالْمَاءِ. فَقَالَتْ : أَخْطَأَ جَابِرٌ ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ قَالَ: إِذَا جَاوَزَ الْخِتَانُ الْخِتَانَ فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ؛ أَ يُوْجِبُ الرَّجْمَ وَ لَا يُوْجِبُ الْغُسْلَ؟
অর্থ: আবু সালামা ইবনে আবদুর রাহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে হাজির হলাম এবং বললাম, আম্মাজান, হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাযি. বলেন, পানির বদলে পানি (অর্থাৎ বির্য স্খলন হলেই শুধু গোসল ওয়াজিব হবে)। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, জাবের (রাযি.) ভুল বলেছেন। নিঃসন্দেহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি একটি অঙ্গ অপর অঙ্গকে অতিক্রম করে তা হলেও গোসল ওয়াজিব হবে। কেন নয়? এতে রজম ওয়াজিব হয়; অথচ গোসল ওয়াজিব হবে না?
٢. أَخْرَجَ أَبُو مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيُّ فِي كِتَابِهِ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ فِيْهِ مَنْ يجهل، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ الْخُزَاعِيَ -
أَنَّ أُبَيَ بْنَ كَعْب أَتَى عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ لَهَا : إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ يَقُوْلُ : مَا أُبَالِي عَلَى ظَهْرِ حِمَارٍ مَسَحْتُ أَمْ عَلَى التَّسَاخِينِ. قَالَتْ عَائِشَةُ : ارْجِعْ إِلَيْهِ فَقُل لَّهُ: إِنَّ عَائِشَةَ تَنْشُدُكَ هَلْ عَلِمْتَ مَا عَمَلُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ تَنْزِيلَ سُوْرَة الْمَائِدَةِ؟ فأتاه، فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ : إِنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْنِي أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا نَزَلَتْ سُوْرَةُ الْمَائِدَةِ لَمْ يَزِدْ عَلَى الْمَسْحِ عَلَى التَّسَاخِينِ، فَلَمَّا أَخْبَرَه ذَلِكَ انْتَهَى إِلَى قَوْلِ عَائِشَة، وَعَمِلَ بِهِ. التساخين الخفاف قال ثعلب لا واحد لها .
অর্থ: উবাই ইবনে কাব হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে গিয়ে বললেন, হযরত আলী রাযি. বলেন, আমি কোনো পরোয়া করি না; গাধার পিঠে মাসেহ করলাম নাকি মোজার ওপর (অর্থাৎ গাধার পিঠে মাসেহ করা আর মোজার ওপর মাসেহ করা সমান। কারণ তাতে কোনো ফায়দা নেই)? তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, তুমি আলী রাযি.- এর কাছে গিয়ে বলো, আয়েশা আপনার কাছে জানতে চেয়েছেন, সূরা মায়েদা নাজিল হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল কী ছিল? আপনি কি তা জানেন? তখন উবাই ইবনে কাব হযরত আলী রাযি.-এর কাছে এলেন এবং বললেন, হযরত আয়েশা রাযি. আমাকে জানিয়েছেন, যখন সূরা মায়েদা নাজিল হলো তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র মোজার ওপর ভাগে মাসেহ করেছেন; এর বাইরে করেননি। বিষয়টি জানতে পেরে হযরত আলী রাযি. নিজের মতটি প্রত্যাহার করে নিলেন এবং হযরত আয়েশা রাযি.-এর বক্তব্য অনুযায়ী শুধু মোজার ওপর ভাগে মাসেহের আমল গ্রহণ করলেন।
. وَأَخْرَجَ الدَارَقُطْنِي فِي سُنَنِهِ، مِنْ طَرِيقِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا بَلَغَهَا قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ فِي الْقُبْلَةِ الْوُضُوْء"، فَقَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ، ثُمَّ لَا يَتَوَضَّأُ .
অর্থ: উবাই থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে হযরত ইবনে উমর রাযি.-এর 'চুমু খেলে ওযু ওয়াজিব হবে' উক্তিটি পৌঁছে গেল। তখন তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযাদার অবস্থায়ও চুমু খেতেন। কিন্তু তিনি ওযু করতেন না। (সুনানে দারাকুতনী, বর্ণনা নং ৪৮৯)
8. وَ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ وَ النَّسَائِيُّ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ : بَلَغَ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ يَأْمُرُ النِّسَاءَ إِذَا اغْتَسَلْنَ أَنْ يَنْقُضْنَ رُؤُوْسَهُنَّ، قَالَتْ : أَفَلَا يَأْمُرُهُنَّ أَنْ يَحْلِقْنَ رُؤُوْسَهُنَّ ! لَقَدْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ مَا أَزِيْدُ عَلَى أَنْ أُفْرِغَ عَلَى رَأْسِيْ ثَلَاثَ إِفْرَاغَاتٍ (و لفظ النسائي) وَمَا أَنْقُضُ لِي شَعْرًا.
অর্থ: উবায়েদ ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, হযরত ইবনে উমর রাযি. নারীদের গোসলের সময় খোঁপা খোলার নির্দেশ দেন। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, সে একেবারে মাথা মুণ্ডানোরই নির্দেশ দিয়ে দিক! আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্রের পানি দিয়ে গোসল করতাম। মাথায় শুধু তিনবার পানি ঢালতাম। এর বেশি কিছু করতাম না। (নাসাঈর শব্দে) খোঁপা খুলতাম না。
(সহীহ মুসলিম, বর্ণনা নং ৩৩১; সুনানে নাসাঈ, বর্ণনা নং ৪১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ, বর্ণনা নং ৬০৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, বর্ণনা নং ২৪৭)
. وَ أَخْرَجَ أَبُو مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيُّ فِي كِتَابِهِ مِنْ طَرِيْقِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرُو، عن يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ غَسَلَ مَيِّتاً اغْتَسَلَ، وَمَنْ حَمَلَهُ تَوَضَّأَ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ : أَوَ يُنَجِّسُ مَوْتَى الْمُسْلِمِينَ وَ مَا عَلَى رَجُلٍ لَوْ حَمَلَ عُوْدًا؟
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কোনো মাইয়েতকে গোসল করাবে, সেও যেন গোসল করে। আর যে মাইয়েতকে বহন করবে, সে যেন ওযু করে। কথাটি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, মুসলমানের মৃতদেহ কি অপরকে নাপাক করে দেয়? কেউ যদি কাঠের খড়ি বহন করে তা হলে তাকে কী করতে হবে?
بَابُ الصَّلَاةِ
অধ্যায়: সালাত
د. أَخْرَجَ الطَّبَرَانِي فِي الْأَوْسَطِ مِنْ طَرِيْقِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَن أَبِي سَلَمَةَ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَة، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ لَّمْ يُؤْتِرُ فَلا صَلَوةَ لَهُ، فَبَلَغَ ذَلِكَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: مَنْ سَمِعَ هَذَا مِنْ أَبِي الْقَاسِمِ؟ مَا بَعُدَ الْعَهْدِ، وَمَا نَسِيْنَا إِنَّما قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ: مَنْ جَاءَ بِصَلَوَاتِ الْخَمْسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، حَافِظاً عَلَى وُضُوْتِهَا، ومَوَاقِيْتِهَا، وَرُكُوْعِهَا ، وَسُجُوْدِهَا ، لَمْ يَنْتَقِصْ مِنْهُ شَيْئاً، كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَلَّا يُعَذِّبَهُ، وَمَنْ جَاءَ، وَقَدِ انْتَقَصَ مِنْهُنَّ شَيْئاً، فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ، إِنْ شَاءَ رَحِمَهُ، وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ.
অর্থ : মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আবি সালামার সূত্রে বর্ণিত, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, যে বিতর পড়ল না তার নামাযই নেই। কথাটি হযরত আয়েশা রাযি. পর্যন্ত পৌছে গেল। তখন তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এমন কথা কে শুনেছে? রাসূলের ওফাতের পর সময় বেশি গড়ায়নি। আর আমিও ভুলে যাইনি যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায নিয়ে আসবে এমতাবস্থায় যে, নামাযের ওযু, সময়, রুকু-সিজদার প্রতি সে যত্নশীল ছিল; কোনোটাতে কোনোরকম ঘাটতি করেনি; আল্লাহ তার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না। কিন্তু যে ব্যক্তি এই নামাযগুলো নিয়ে আসবে উল্লিখিত বিষয়গুলোতে ঘাটতিসহ, তার প্রতি আল্লাহর কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। চাইলে তাকে রহম করবেন। চাইলে তাকে আজাব দেবেন। (আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, বর্ণনা: ৪০১২)
২. وَ أَخْرَجَ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيِّ مِنْ طَرِيقِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ بَلَغَ عَائِشَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ : إِنَّ الْمَرْأَةَ تَقْطَعُ الصَّلَوةَ، فَقَالَتْ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يُصَلِّي فَتَقَعُ رِجْلِيْ بَيْنَ يَدَيْهِ أَوْ بِحِذَائِهِ فَيَصْرِفُهَا فَأَقْبِضُهَا. وَ أَصْلُهُ فِي الصَّحِيحِ.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, নারী নামায নষ্ট করে দেয় (অর্থাৎ নামাযীর সামনে কোনো নারী থাকলে বা সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নামায হবে না)। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তেন। তাঁর সামনে অথবা পাশে আমার পা থাকত। তিনি আমার পা সরিয়ে দিতেন আর আমি পা গুটিয়ে নিতাম। (আততামহীদ ২১/১৬৬; এ বর্ণনার মূল ভাষ্য সহীহ রেওয়ায়েতে পাওয়া যায়)
۳. وَ أَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنْ أَبِي نَهَيْكٍ أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ خَطَبَ فَقَالَ: مَنْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ فَلَا وِتْرَ لَهُ، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ فَقَالَتْ: كَذَبَ أَبُو الدَّرْدَاءِ ، كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يُصْبِحُ فَيُؤْتِرُ.
অর্থ: হযরত আবু দারদা রাযি. বয়ান করতে করতে বললেন, সকাল হয়ে গেলে বিতর পড়া যাবে না। কথাটি হযরত আয়েশা রাযি.-এর সমীপে উত্থাপিত হলো। তিনি বললেন, আবু দারদা ভুল বলেছেন, সকাল হয়ে গেলেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়ে নিতেন। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, বর্ণনা: ৪১৯৬; মুসনাদে আহমাদ, বর্ণনা: ২৬০৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা: ৪৬০৩)
8. وَ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ : كَانَ عُمَرُ يَضْرِبُ الْأَيْدِيَ عَلَى صَلاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ.
অর্থ: হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি. আসরের পর নামায পড়তে বাধা দিতেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৩৬)
৯. وَ أَخْرَجَ طَاؤُسٌ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ: وَهِمَ عُمَرُ : إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَحَرَّى طُلُوعُ الشَّمْسِ، وَغُرُوبُهَا.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উমর রাযি. বুঝতে ভুল করেছেন, আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইচ্ছাকৃত) সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত পর্যন্ত দেরি করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৮৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪৯৩১; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৪৩৮১; সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস নং ৩৬৯)
بَابُ الْجَنَائِزِ
অধ্যায়: জানাযা
১. أَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ عَائِشَةَ أَمَرَتْ أَنْ يُمرَّ بِجَنَازَةِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فِي الْمَسْجِدِ فَتُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَأَنْكَرَ النَّاسُ ذَلِكَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ : مَا أَسْرَعَ مَا نَسِيَ النَّاسُ! مَا صَلَّى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى سُهَيْلِ بْنِ الْبَيْضَاءِ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. চাইলেন, হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি.-এর জানাযা মসজিদে নেওয়া হোক; যাতে তিনিও জানাযা আদায় করতে পারেন। কিন্তু লোকেরা বিষয়টি মেনে নিতে পারল না। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, মানুষ কত তাড়াতাড়ি ভুলে যায়! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো হযরত সাহল ইবনে বায়যা রাযি.-এর জানাযা মসজিদেই আদায় করেছিলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৭৩)
د. وَ أَخْرَجَ الشَّيْخَانِ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ : تُوُفِّيَت ابْنَةٌ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانٍ، فَجِئْنَا لِنَشْهَدَهَا، وَحَضَرَهَا ابْنُ عُمَرَ وَ ابْنُ عَبَّاسٍ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بن عُمَرَ لِعَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ: أَلَا تَنْهَى عَنِ الْبُكَاءِ؟ فَإِنَّ رَسُوْلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: قَدْ كَانَ عُمَرُ يَقُوْلُ بَعْضَ ذَلِكَ . فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ: يَرْحَمُ اللَّهُ عُمَرَ، لَا وَاللَّهِ! مَا حَدَّثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الْمُؤْمِنَ بِبُكَاءِ أَحَدٍ عَلَيْهِ؛ وَلَكِنْ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَاباً بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ. قَالَ: وَقَالَتْ عَائِشَةُ: حَسْبُكُمُ الْقُرْآنُ، وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى (سورة الأنعام : ١٦٤) قَالَ ابْنُ مُلَيْكَةَ : فَوَاللَّهِ مَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ شَيْئاً .
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসমান ইবনে আফফান রাযি.-এর একটি মেয়ে' মারা গেলেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হলাম। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এবং হযরত ইবনে উমর রাযি.-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইবনে উমর রাযি. আমর ইবনে উসমানকে বললেন, লোকদের কাঁদতে নিষেধ করবেন না? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেছেন, পরিবারের কান্নাকাটির কারণে মাইয়েতকে আজাব দেওয়া হয়। তখন ইবনে আব্বাস রাযি. বললেন, হাঁ, হযরত উমর রাযি.-ও এমন কিছুই বলতেন। বিষয়টি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহ হযরত উমর রাযি.-কে রহম করুন। অন্য কারও কান্নাকাটির কারণে আল্লাহ কোনো মুমিনকে কষ্ট দেবেন, এমন কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি। তিনি বলেছিলেন, পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটিতে কাফেরের আজাব আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, তোমরা কুরআন দ্যাখো, وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى (سورة الأنعام : ١٦٤) কেউ কারও পাপের বোঝা বহন করবে না। (আনআম, ১৬৪)
ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, আল্লাহর কসম, হযরত ইবনে উমর রাযি. প্রতিউত্তরে কিছু বলেননি। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৮৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৯)
. وَ أَخْرَجَ الشَّيْخَانِ عَنْ عَمْرَةَ أَنَّ عَائِشَةَ ذُكِرَ لَهَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ : يَغْفِرُ اللهُ لِأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ؛ وَلَكِنَّهُ نَسِيَ أَوْ أَخْطَاً؛ إِنَّمَا مَرَّ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ عَلَى يَهُودِيَّةٍ يَبْكِي عَلَيْهَا أَهْلُها فَقَالَ: إِنَّهُمْ يَبْكُوْنَ عَلَيْهَا وَ إِنَّهَا لَتُعَذِّبُ فِي قَبْرِهَا.
অর্থ: আমরাহ থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে একবার আলোচনা করা হলো, হযরত ইবনে উমর রাযি. বলেন, পাড়ার লোকেরা কান্নাকাটি করলে মাইয়েতের আজাব হয়। কথাটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে মাফ করুন। শোনো, তিনি মিথ্যা বলেননি; কিন্তু ভুলে গেছেন। ঘটনাটি এই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার পথ চলছিলেন। পথিমধ্যে এক ইহুদি মহিলার মৃত্যুসংবাদ শুনলেন। তার পরিবারের লোকজন তার জন্য কান্নাকাটি করছিল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এরা এখানে কান্নাকাটি করছে; আর কবরে মহিলাটির আজাব হচ্ছে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৩২; জামে তিরমিযী, হাদীস নং ১০০৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪৭৫৮)
8. وَ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ
عَنْ عُرْوَةَ قَالَ قِيْلَ لِعَائِشَةَ : إِنَّهُمْ يَزْعُمُوْنَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كُفِنَ فِي بُرْدِ حِبَرَةٍ، قَالَتْ : قَدْ جَاؤُوا بِبُرْدِ حِبَرَةٍ وَ لَمْ يُكَفِّنُوهُ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-কে বলা হলো, লোকেরা দাবি করে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইয়েমেনি চাদরে কাফন দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, ইয়েমেনি চাদর আনা হয়েছিল; কিন্তু কাফন দেওয়া হয়নি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদীস নং ১১০৪৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৪৬৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১৫২; জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৯৯৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯৪১)
৯. وَ أَخْرَجَ الطَّبَرَانِي فِي الْأَوْسَطِ
عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ بَلَغَ عَائِشَةَ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ يَقُوْلُ: إِنَّ مَوْتَ الْفُجَاءَةِ تَخْفِيفٌ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَ سَخْطَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ.
অর্থ: মুসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, হযরত ইবনে উমর রাযি. বলেন, আকস্মিক মৃত্যু মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সহজায়ন; পক্ষান্তরে কাফেরদের জন্য তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ।
(মুজামে আওসাত, তবারানী, হাদীস নং ৩১২৯)
৬. وَ أَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ : وَقَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَلِيبِ بَدْرٍ فَقَالَ: هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا ثُمَّ قَالَ: إِنَّهُمُ الآنَ يَسْمَعُونَ مَا أَقُولُ، فَذُكِرَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ: إِنَّمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهُمُ الآنَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّ الَّذِي كُنْتُ أَقُولُ لَهُمْ هُوَ الْحَقُّ، ثُمَّ قَرَأَتْ {إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى } حَتَّى قَرَأَتْ الْآيَةَ.
অর্থ: ইবনে উমর রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের জলাশয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তোমরা কি তা সত্যরূপে পেয়েছ? তারপর তিনি বলেছিলেন, আমি যা বলছি, নিশ্চয় তারা তা শুনতে পাচ্ছে। হযরত আয়েশা রাযি.-কে ইবনে উমর রাযি.-এর হাদীসটি শোনানো হলে তিনি বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেননি; তিনি আসলে বলেছিলেন, তারা এখন নিশ্চয় জানতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলতাম তা সত্য ছিল। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৯৮০)
৯. وَأَخْرَجَ الدَّارَقُطْنِي مِنْ طَرِيقِ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَحَبَّ الْعَبْدُ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَائَهُ وَ إِذَا كَرِهَ الْعَبْدُ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَائَهُ، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ: يَرْحَمُهُ اللهُ، حَدَّثَكُمْ بِآخِرِ الْحَدِيْثِ وَ لَمْ يُحَدِّثْكُمْ بِأَوَّلِهِ. قَالَتْ عَائِشَةُ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ: إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدٍ خَيْرًا بَعَثَ إِلَيْهِ مَلَكًا فِي عَامِهِ الَّذِي يَمُوتُ فِيْهِ، فَيُسدِّدُه وَ يُبَشِّرُهُ، فَإِذَا كَانَ عِنْدَ مَوْتِهِ أَتَى مَلَكُ الْمَوْتِ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَقَالَ: يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ، أَخْرُجِيْ عَلَى مَغْفِرَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ، وَ يَتَهَوَّهُ نَفْسَهُ فَتَخْرُجُ؛ فَذَلِكَ حِينَ يُحِبُّ لِقَاءَ اللهِ وَ يُحِبُّ اللَّهُ لِقَائَهُ. وَ إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ شَرًّا بَعَثَ إِلَيْهِ شَيْطَانًا فِي عَامِهِ الَّذِي يَمُوْتُ فِيْهِ، فَأَغْرَاهُ، فَإِذَا كَانَ عِنْدَ مَوْتِهِ أَتَاهُ مَلَكُ الْمَوْتِ، فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ، فَقَالَ: أَيَّتُهَا النَّفْسُ ، أَخْرُجِيْ إِلَى سَخَطٍ مِّنَ اللَّهِ وَ غَضَبٍ، فَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ؛ فَذَلِكَ حِينَ يُبْغِضُ لِقَاءَ اللَّهِ وَ يُبْغِضُ اللَّهُ لِقَالَه.
অর্থ: মুজাহিদের সূত্রে বর্ণিত, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দা আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে তখন আল্লাহও তার সাক্ষাৎ কামনা করেন। পক্ষান্তরে যখন বান্দা আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, তখন আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। বিষয়টি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে উত্থাপন করা হলো। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ ইবনে উমরকে রহম করুন, তিনি তোমাদের হাদীসের শেষ অংশটুকু শুনিয়েছেন। হাদীসের প্রথম অংশটুকু শোনাননি। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তখন তার মৃত্যুর বছর একজন ফেরেশতা পাঠান, ফেরেশতা তাকে সঠিক পথের দিশা দান করেন এবং সুসংবাদ দান করেন। যখন মৃত্যুর সময় হয়, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার কাছে আসেন এবং বলেন, হে নফসে মুতমাইন্নাহ (হে ঈমানে আশ্বস্ত প্রাণ), তুমি আল্লাহর মাগফিরাত ও রেজামন্দির ওপর বেরিয়ে এসো। তখন তার প্রাণ অনায়াসে বের হয়ে আসে। এটিই হলো সেই মুহূর্ত, যখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাৎ কামনা করেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ যখন কোনো বান্দার জন্য অকল্যাণ চান, তখন তার মৃত্যুর বছর তার কাছে একজন শয়তান পাঠান। শয়তান তাকে প্ররোচিত করতে থাকে। মৃত্যুর সময় মৃত্যুর ফেরেশতা তার কাছে আসে এবং তার মাথার কাছে বসে। এরপর বলে, হে নফস, আল্লাহর ক্রোধ ও গজবের দিকে বেরিয়ে আয়। তখন সে শরীরে ছুটোছুটি শুরু করে। এটিই সেই মুহূর্ত যখন সে আল্লাহর সাক্ষাতকে ঘৃণা করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাতকে ঘৃণা করেন। (দারাকুতনী; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহুইয়াহ, হাদীস নং ১৫৯১)
ت. وَ أَخْرَجَ أَبُو داود وَ ابْنُ حِبَّانِ وَ الْحَاكِمِ وَ صَحَّحَهُ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ لما حَضَرَهُ الْمَوْتُ دَعَا بِثِيَابٍ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا ثُمَّ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يَقُوْلُ: إِنَّ الْمَيِّتَ يُبْعَثُ فِي ثِيَابِهِ الَّتِي يَمُوتُ فِيهَا.
অর্থ: আবু সাঈদ খুদরী রাযি. যখন মৃত্যুবরণ করার উপক্রম হলেন তখন নতুন কাপড় আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। এরপর বললেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মানুষ যেই কাপড়ে মৃত্যুবরণ করে সেই কাপড়েই তার হাশর হবে।... (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১১৪; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১২৬০; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৬৬০৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৭৩১৬)
(যারকাশী রহ. বলেন, আমি আবুল হাসান আহমাদ ইবনুল কাত্তানের উসুলুল ফিকহ কিতাবে দেখেছি) আবু সাঈদ খুদরী রাযি. কাপড় বলতে কাফন বুঝেছেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁর এ চিন্তাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আল্লাহ আবু সাঈদের প্রতি রহম করুন। এ কথা বলে মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের আমলকে বুঝিয়েছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বলেই দিয়েছেন, হাশরের ময়দানে মানুষ খালি পায়ে খালি গায়ে উঠবে।
ه. وَ أَخْرَجَ أَبُو مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيُّ مِنْ طَرِيقِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ الطَّنَافِسِي عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ خَيْثَمَةَ
عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَ مَسْرُوْقٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ ابْن مَسْعُودٍ: مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاتَهُ وَ مَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَائَهُ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ : يَرْحَمُ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَ بِأَوَّلِ الْحَدِيثِ وَ لَمْ تَسْأَلُوْهُ عَنْ آخِرِهِ؛ إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ خَيْرًا قَيَّضَ لَهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِعَامٍ مَلَكًا يُوَفِّقُهُ وَ يُسَدِّدُه ، حَتَّى يَقُوْل النَّاسُ مَاتَ فُلَانٌ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَ، فَإِذَا حُضِرَ وَ رَأَى ثَوَابَهُ مِنَ الْجَنَّةِ تَهَوَّعَ بِنَفْسِهِ أَوْ قَالَ تَهَوَّعَتْ نَفْسُهُ فَذَلِكَ حِينَ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَائَهُ؛ وَ إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ سُوْءًا قَيَّضَ لَهُ قَبْلَ مَوْتِهِ بِعَامٍ شَيْطَانًا فَأَفْتَنَهُ حَتَّى يَقُوْلَ النَّاسُ مَاتَ فُلَانٌ عَلَى شَرِّ مَا كَانَ، فَإِذَا حُضِرَ رَأَى مَا نَزَلَ مِنَ الْعَذَابِ فَبَلَغَ نَفْسَهُ؛ فَذَلِكَ حِينَ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَ كَرِهَ اللَّهُ لِقَائَهُ.
অর্থ: আবু আতিয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং মাসরুক হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। মাসরুক বললেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। পক্ষান্তরে যে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন。
কথাটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন, তিনি হাদীসের কিছু অংশ বলেছেন, আর তোমরাও বাকি অংশটুকু জানতে চাওনি। আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তার মৃত্যুর পূর্বে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। ফেরেশতা তাকে ভালো কাজের সুযোগ করে দেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেন। মানুষ তখন বলে, লোকটি ভালো অবস্থায় মারা গেছে। মৃত্যু যখন উপস্থিত হয় এবং সে তার জান্নাতপ্রাপ্তির বিষয়টি অবগত হয় তখন সহজেই প্রাণ সঁপে দেয়। এই সেই মুহূর্ত, যখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ কামনা করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ কামনা করেন। পক্ষান্তরে আল্লাহ যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার মৃত্যুর পূর্বে একজন শয়তানকে সুযোগ করে দেন। শয়তান তাকে প্ররোচিত করতে থাকে। এমনকি, লোকে বলে, সে মন্দ অবস্থায় মারা গিয়েছে। যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, আর সে জাহান্নামের আজাব প্রত্যক্ষ করে তখন নফস আর সহজে ধরা দিতে চায় না। এই সেই মুহূর্ত যখন সে আল্লাহর সাক্ষাতকে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাতকে অপছন্দ করেন। (আযযুহদ ওয়ার রাকাইক, ইবনুল মুবারাক, হাদীস নং ৯৭২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস নং ৬৭৪৯)
بَابُ الصِّيَامِ
অধ্যায়: রোযা
د. أَخْرَجِ أَحْمَدُ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَن عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُوْنَ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ يَرْحَمُ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، إِنَّمَا قَالَ : الشَّهْرُ قَدْ يَكُوْنُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ.
অর্থ: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, চন্দ্রমাস উনত্রিশ দিনে হয়। শিষ্যগণ বিষয়টি হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে উত্থাপন করলে তিনি বলেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, চন্দ্রমাস অনেক সময় উনত্রিশ দিনে হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪২৪৭)
. وَأَخْرَجَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّا أُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ فَلَا نَكْتُبُ وَلَا تَحْسِبُ الشَّهْرُ كَذَا وَكَذَا، وَضَرَبَ لِثَالِثَةٍ وَقَبَضَ الْإِبْهَامَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَغْفِرُ اللهُ لِأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّمَا هَجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءَهُ شَهْرًا، فَنَزَلَ لِيَسْعٍ وَعِشْرِيْنَ فَقِيْلَ يَا رَسُوْلَ اللَّهِ إِنَّكَ آلَيْتَ شَهْرًا فَقَالَ: وَإِنَّ الشَّهْرَ قَدْ يَكُوْنُ تِسْعاً وَعِشْرِينَ
অর্থ: সাঈদ ইবনে উমর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলেছেন, আমরা উম্মী-লিখতে পারি না, হিসেব করতে পারি না; মাস হচ্ছে এই, এই; তৃতীয়বার তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি গুটিয়ে রাখলেন। ইবনে উমর রাযি.-এর হাদীস শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। ঘটনা এই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাসের জন্য স্ত্রীগণকে পরিত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু উনত্রিশতম দিনে তিনি নেমে আসেন। তখন তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তো এক মাসের শপথ করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, চন্দ্রমাস উনত্রিশ দিনেও হয়。
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদীস নং ৯৬০৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৮৬৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩৪৫২)
৫. وَأَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، يَقُصُّ، يَقُولُ فِي قَصَصِهِ: مَنْ أَدْرَكَهُ الْفَجْرُ جُنُبًا فَلَا يَصُمْ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ - لِأَبِيهِ - فَأَنْكَرَ ذَلِكَ، فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، فَسَأَلَهُمَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ ذَلِكَ، قَالَ: فَكِلْتَاهُمَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلُم، ثُمَّ يَصُومُ. قَالَ: فَانْطَلَقْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى مَرْوَانَ، فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ مَرْوَانُ: عَزَمْتُ عَلَيْكَ إِلَّا مَا ذَهَبْتَ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، فَرَدَدْتَ عَلَيْهِ مَا يَقُولُ: قَالَ: فَجِئْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ وَأَبُو بَكْرٍ حَاضِرٌ ذَلِكَ كُلَّه - قَالَ: فَذَكَرَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: أَهُمَا قَالَتَاهُ لَكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: هُمَا أَعْلَمُ، ثُمَّ رَدَّ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا كَانَ يَقُولُ فِي ذَلِكَ إِلَى الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: سَمِعْتُ ذَلِكَ مِنَ الْفَضْلِ، وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: فَرَجَعَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَمَّا كَانَ يَقُولُ فِي ذَلِكَ، قُلْتُ لِعَبْدِ الْمَلِكِ: أَقَالَتَا : فِي رَمَضَانَ؟ قَالَ : كَذَلِكَ كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ ثُمَّ يَصُومُ.
অর্থ: আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-কে আলোচনা করতে শুনলাম। তিনি আলোচনায় বললেন, যে ব্যক্তি জুনুব (অর্থাৎ স্বপ্নদোষ বা স্ত্রী-সহবাসের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে এমন) অবস্থায় সকাল করবে, সে যেন সেদিন রোযা না রাখে। রাবী বলেন, আমি বিষয়টি আবদুর রহমান ইবনে হারেসকে জানালাম। তিনি আবার তার পিতাকে জানালেন। তার পিতা বিষয়টি মেনে নিতে পারলেন না। তখন আবদুর রহমান ও তার পিতাসহ আমরা হযরত আয়েশা রাযি. এবং উম্মে সালামা রাযি.-এর কাছে গেলাম। আবদুর রহমান বিষয়টি সঠিক কি না জানতে চাইলেন। রাবী বলেন, উম্মুল মুমিনীন-দুজনই বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুনুব অবস্থায় সকাল করতেন, তারপরও রোযা রাখতেন। এরপর আমরা মারওয়ানের কাছে গেলাম। আবদুর রহমান বিষয়টি তাকেও অবহিত করলেন। মারওয়ান বললেন, আমি নির্দেশ দিচ্ছি, তুমি হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-এর কাছে যাবে এবং তাঁকে তাঁর মত প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানাবে। রাবী বলেন, আমরা হযরত আবু হুরায়রা রাযি.-এর কাছে গেলাম। আবদুর রহমান তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, উম্মুল মুমিনীনগণ একথা বলেছেন? আবদুর রহমান বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তা হলে আর কী? তাঁরাই তো ভালো জানবেন। এরপর আবু হুরায়রা রাযি. তাঁর মতটিকে ফাযল ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বলে উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, আমি বিষয়টি ফাযল ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কাছ থেকে শুনেছি; স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনিনি। এভাবে আবু হুরায়রা রাযি. তাঁর মতটি প্রত্যাহার করে নিলেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১০৯; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৭৯৯৬)
بَابُ الْحَجِّ
অধ্যায়: হজ
د. أَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ
عَنْ سَالِمٍ عَنْ بن عُمَرَ ، (قال) سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُوْلُ: إِذَا رَمَيْتُمْ وَحَلَقْتُمْ فَقَدْ حَلَّ لَكُمْ كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا النِّسَاءُ، وَالطَّيِّبُ ، قَالَ سَالِمٌ: وَقَالَتْ عَائِشَةُ: كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا النِّسَاءُ، أَنَا طَيَّبْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحِلِّهِ. قَالَ سَالِمٌ : وَسُنَّةُ رَسُوْلِ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ تُتَّبَعَ.
অর্থ: সালেম হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে উমর রাযি. বলেন, আমি হযরত উমর রাযি.-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা রমি ও হলক করে নেবে, তখন তোমাদের জন্য সবকিছুই হালাল হয়ে যাবে শুধু নারী ও সুগন্ধি ছাড়া। সালেম বলেন, কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি. বলেছেন, सबकुछই হালাল শুধু নারী ছাড়া। আমি নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি। সালেম বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহই তো অধিক অনুসরণীয়। (মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার, হাদীস নং ৯৪৭৮; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৯৫৯৭, ৯৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৫১০৩; শরহু মাআনিল আছার, হাদীস নং ৪০২৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং ২৯৩৮)
٢. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ ابْنَ زِيَادٍ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَنْ أَهْدَى هَدْيَا حُرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجَ، حَتَّى يُنْحَرَ الْهَدْيُ، وَقَدْ بَعَثْتُ بِهَدْنِي، فَاكْتُبِي إِلَيَّ بِأَمْرِكِ، قَالَتْ عَمْرَةُ: قَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «أَنَا فَتَلْتُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ، ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، ثُمَّ بَعَثَ بِهَا مَعَ أَبِي، فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْءٌ أَحَلَّهُ اللَّهُ لَهُ، حَتَّى نُحِرَ الْهَدْي.
অর্থ: আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, একবার যিয়াদ ইবনে আবু সুফিয়ান হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এই মর্মে পত্র প্রেরণ করলেন যে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেছেন, যে ব্যক্তি হেরেমে হাদী প্রেরণ করবে, জবেহ হওয়া পর্যন্ত তার ওপর হজের বিধিনিষেধ আরোপিত হবে। ইতোমধ্যেই আমার পক্ষ থেকেও হাদী প্রেরিত হয়েছে; সুতরাং এ বিষয়ে আপনার মতামত ব্যক্ত করে কৃতার্থ করবেন। আমরাহ বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনে আব্বাস রাযি. যথার্থ বলেননি। আমি নিজ হাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের হাদীর কিলাদা পাকিয়েছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিয়ে দিয়েছেন; এরপর আমার পিতার মাধ্যমে হেরেমে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তার কোনো কিছুই তো তিনি তখন হারাম ধরেননি। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭০০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩২১)
. وَأَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَوَّلُ مَنْ كَشَفَ الْعَمَى عَنِ النَّاسِ وَبَيَّنَ لَهُمُ السُّنَّةَ فِي ذَلِكَ عَائِشَةُ، فَأَخْبَرَنِي عُرْوَةُ وَعَمْرَةُ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنِّي كُنْتُ لَأَفْتِلُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَبْعَثُ بِهَدْيِهِ مُقَلَّدًا، وَهُوَ مُقِيمٌ بِالْمَدِينَةِ، ثُمَّ لَا يَجْتَنِبُ شَيْئًا، حَتَّى يَنْحَرَ هَدْيَهُ، فَلَمَّا بَلَغَ النَّاسَ قَوْلُ عَائِشَةَ هَذَا، أَخَذُوْا بِهِ وَتَرَكُوْا فَتْوَى ابْنِ عَبَّاسٍ.
অর্থ: যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রথম যিনি অস্পষ্টতা দূর করেছেন এবং প্রকৃত সুন্নাহ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.। আমাকে উরওয়াহ এবং উমরাহ জানিয়েছেন, হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আমি নিজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীর কিলাদা পাকাতাম, রাসূল কিলাদা পরিয়ে মক্কায় পাঠিয়ে দিতেন। তিনি মদীনায়ই থাকতেন। হাদী নহর করা পর্যন্ত কোনো কিছু থেকেই বিরত থাকেননি। কথাটি সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছলে সকলে হযরত আয়েশা রাযি.-এর মতটিকেই গ্রহণ করেন এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর ফতোয়ার ওপর আমল করা ছেড়ে দেন। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১০১৯১)
8. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَالنَّسَائِيُّ
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ الطَّيْبِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ، فَقَالَ: لَأَنْ أَطْلِيَ بِالْقَارِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَنْضَحَ طِيْبًا، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ : يَرْحَمُ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَدْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَطُوْفُ فِي نِسَائِهِ، ثُمَّ يُصْبِحُ مُحْرِمًا يَنْضَحُ طيبا .
অর্থ: মুহাম্মাদ ইবনে মুনতাশির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত ইবনে উমর রাযি.-কে ইহরামের সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, ইহরামের সময় গায়ে সুগন্ধি লাগানোর চেয়ে গায়ে আলকাতরা মাখা আমার পক্ষে শ্রেয়। তখন আমি বিষয়টি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম। তিনি পবিত্র স্ত্রীগণকে সঙ্গে নিয়ে তাওয়াফ করতেন। তারপর তিনি মুহরিম অবস্থায় সকাল করতেন। ঘামে সুগন্ধি ভিজে উঠত। (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং ২৫৯৯; সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ২৭০৪; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৯২)
৯. وَأَخْرَجَ الشَّيْخَانِ
عَنْ مُجَاهِدٍ أَنَّ عُرْوَةَ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ، كَم اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ : أَرْبَعَ عُمَرٍ ، إِحْدَاهُنَّ فِي رَجَبَ، وَكَرِهْنَا أَنْ نَّرُدَّ عَلَيْهِ، وَسَمِعْنَا اسْتِنَانَ عَائِشَةَ فِي الْجُحْرَةِ، فَقَالَ عُرْوَةُ: أَلَا تَسْتَمِعِينَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِلَى مَا يَقُوْلُ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ؟ قَالَتْ: وَمَا يَقُوْلُ؟ قَالَ : يَقُوْلُ: اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعَ عُمَرٍ، إِحْدَاهُنَّ فِي رَجَبَ، فَقَالَتْ : يَرْحَمُ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَا اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللَّهَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا وَهِيَ مَعَهُ، وَ مَا اعْتَمَرَ فِي رَجَبَ قَطُّ.
অর্থ: মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, উরওয়াহ একবার হযরত ইবনে উমর রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা করেছিলেন? তিনি বললেন, চারবার; তার মধ্যে একটি ছিল রজব মাসে। উরওয়াহ বলেন, আমরা প্রতিক্রিয়ায় কিছু বলা অশোভন মনে করলাম। এরই মধ্যে জানতে পারলাম, দরসগাহে হযরত আয়েশা রাযি. উপবেশন করবেন। উরওয়াহ বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলাম, মাতা, হযরত ইবনে উমর রাযি. কী বলেন, শুনেছেন? তিনি জানতে চাইলেন, কী বলেন? আমি বললাম, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকি চারবার উমরা করেছিলেন; তার মধ্যে একটি নাকি রজব মাসে ছিল। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমানকে রহম করুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যত উমরা করেছিলেন, সবগুলোতেই আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি রজব মাসে কখনোই উমরা করেননি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৫৫; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৭৭৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৩৯৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৬৪৩০)
ن. وَأَخْرَجَ أَبُو داود وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَة
عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ ، كَم اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسَلَّمَ؟ فَقَالَ: مَرَّتَيْنِ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ : لَقَدْ عَلِمَ ابْنُ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِ اعْتَمَرَ ثَلَاثًا، سِوَى الَّتَيْ قَرَنَهَا بِحِجَّةِ الْوَدَاعِ.
অর্থ: মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতবার উমরা করেছিলেন? তিনি বললেন, দুইবার। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ইবনে উমর খুব ভালো করেই জানেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সঙ্গে যে উমরাটি করেছিলেন, সেটি ছাড়া আরও তিনটি উমরা করেছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৯৯২; সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস নং ৪২০৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৫৩৮৩; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৮৮৩৫; সুনানে ইবনে মাজাহ)
١. أَخْرَجَ الشَّافِعِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيْهِ، أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي النِسَاءَ، إِذَا أَحْرَمْنَ أَنْ يَقْطَعْنَ الخُفَّيْنِ. حَتَّى أَخْبَرَتْهُ صَفِيَّةُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا تُفْتِي النِّسَاءَ، إِذَا أَحْرَمْن أَنْ لَّا يَقْطَعْنَ. فَانْتَهَى عَنْهُ.
অর্থ: সালেম তার পিতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি ফতোয়া দিতেন, (পুরুষদের মতো) নারীরাও ইহরাম বাঁধলে মোজা (নিচের দিক থেকে) কেটে ফেলতে হবে। অবশেষে যখন সাফিয়্যা তাঁকে হযরত আয়েশা রাযি.-এর ফতোয়াটি শোনালেন যে, নারীদের জন্য এ হুকুম নয়, তখন তিনি এমন ফতোয়া দেওয়া বন্ধ করলেন। (মুসনাদে শাফেয়ী, হাদীস নং ৮৫৬; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৯০৭৭)
٢. وَأَخْرَجَ أَبُو داود وَابْنُ خُزَيْمَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، كَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ، ثُمَّ حَدَّثَتْهُ صَفِيَّةُ بِنْتُ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهَا ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَانَ رَخَّصَ النِّسَاءَ فِي الْخُفَّيْنِ، فَتَرَكَ ذَلِكَ.
অর্থ: সালেম আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. সম্পর্কে বলেন, তিনি নারীদের ইহরামের মধ্যে মোজা কেটে ফেলার নির্দেশ দিতেন। কিন্তু সাফিয়্যা বিনতে আবু উবায়েদ তাঁকে জানালেন, হযরত আয়েশা রাযি. বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোজার ব্যাপারে নারীদের ছাড় দিয়েছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি.-এর হাদীস শুনে হযরত ইবনে উমর রাযি. এমনটি বলা ছেড়ে দিলেন。
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১৮৩১; সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাদীস নং ২৬৮৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪৮৩৬)
৫. وَأَخْرَجَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ فِي كِتَابِ الْمَنَاسِكِ الْكَبِيْرِ عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُوْلُ: أَلَا تَعْجَبُوْنَ مِنِ ابْنِ الزُّبَيْرِ، يُفْتِي الْمَرْأَةَ الْمُحْرِمَةَ أَنْ تَأْخُذَ مِنْ شَعْرِهَا أَرْبَعَةَ أَصَابِعَ، وَإِنَّهَا يَكْفِيْهَا مِنَ ذَلِكَ الطَّرَفُ.
অর্থ: মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. বলতেন, তোমরা ইবনে যুবাইরের কথা শুনে অবাক হও না? তিনি নাকি ফতোয়া দেন, মুহরিম নারীকে চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটাতে হবে; অথচ একটু কোনা কাটানোও যথেষ্ট। (আহমাদ)
২০. وَأَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: اعْتَمَرَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ عُمَرٍ، كُلُهُنَّ فِي ذِي الْقَعْدَةِ ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: لَقَدِ اعْتَمَرَ أَرْبَعَ عُمَرٍ، بِعُمْرَتِهِ الَّتِي حَجَّ مَعَهَا.
অর্থ: বার ইবনে আযেব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি উমরা করেছিলেন। সবগুলোই করেছিলেন জিলকদ মাসে। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, তবে যেই উমরার সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ করেছিলেন, সেটি-সহ হিসাব করলে চারটি উমরা করেছিলেন। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৮৮৪০)
২১. وَأَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ - عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ قَالَ: دَخَلَ شَيْبَةُ بْنُ عُثْمَانَ عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ! إِنَّ ثِيَابَ الْكَعْبَةَ تَجْمَعُ عَلَيْنَا فَتَكْثُرُ، فَنَعْمِدُ إِلَى آبَارٍ، فَنَحْفِرُهَا فَنُعَمِّقُهَا، ثُمَّ نَدْفِنُ ثِيَابَ الْكَعْبَةِ فِيْهَا، كَيْلَا يَلْبَسَهَا الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: مَا أَحْسَنْتَ، وَبِئْسَ مَا صَنَعْتَ إِنَّ ثِيَابَ الْكَعْبَةِ إِذَا نُزِعَتْ مِنْهَا لَمْ يَضُرَّهَا أَنْ يَلْبَسَهَا الْجُنُبُ وَالْحَائِضُ، وَلَكِنْ بِعْهَا، وَاجْعَلْ ثَمَنَهَا فِي الْمَسَاكِينِ، وَابْنِ السَّبِيْلِ.
অর্থ: আবু আলকামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, শাইবা ইবনে উসমান হযরত আয়েশা রাযি.-এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করলেন, হে উম্মুল মুমিনীন, কাবা শরীফের অনেক গিলাফ জমা হয়ে যায়। আমরা গভীর গর্ত খনন করে সেগুলো পুঁতে ফেলি। কেননা আমাদের ভয় হয় যে, নাপাক অবস্থায় মানুষ তা পরিধান করবে। এতে কাবা শরীফের অমর্যাদা হবে। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, তুমি ভালো করনি। তুমি যা করেছ, খুবই মন্দ করেছ। গিলাফ যখন খুলে ফেলা হয় তখন মানুষ যদি নাপাক অবস্থায় পরিধান করেও তাতে ক্ষতি কী? তুমি বরং এগুলো বেচে দিয়ো। মূল্য যা পাবে, তা দিয়ে মিসকীন ও বিপদগ্রস্তদের সহায়তা কোরো। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ৯৭৩১)
بَابُ الْبَيْعِ
অধ্যায়: বেচাকেনা
د. أَخْرَجَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ فِي الْمُصَنَّفِ، وَالدَّارَقُطْنِي وَالْبَيْهَقِي فِي سُنَنِهِمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيْعِيّ، عَنِ امْرَأَتِهِ ، أَنَّهَا دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ فِي نِسْوَةٍ، فَسَأَلَتْهَا امْرَأَةً فَقَالَتْ ، يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ كَانَتْ لِي جَارِيَةٌ، إِنِّي بِعْتُهَا مِنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ بِثَمَانِ مِائَةٍ إِلَى عَطَائِهِ، وَ إِنَّهُ أَرَادَ بَيْعَهَا، فَأَبْتَعْتُهَا بِسِتِّمِائَةِ دِرْهَمٍ نَقْدًا، فَقَالَتْ عَائِشَةُ : بِئْسَمَا شَرَيْتِ وَبِئْسَمَا اشْتَرَيْتِ، فَأَبْلِغِيْ زَيْدًا أَنَّهُ قَدْ أَبْطَلَ جِهَادَهُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِلَّا أَنْ يَتُوْبَ. فَقَالَتِ الْمَرْأَةُ لِعَائِشَةَ : أَرَأَيْتِ إِنْ لَّمْ آخُذْ مِنْهُ إِلَّا رَأْسَ مَالِي قَالَتْ: فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ .
অর্থ: আবু ইসহাক আস-সাবীয়ী তার স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার কয়েকজন নারীর সঙ্গে হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরবারে গেলেন। জনৈকা মহিলা জিজ্ঞেস করল, হে উম্মুল মুমিনীন, আমার একটি দাসী ছিল। আমি তাকে যায়েদ ইবনে আরকাম রাযি.-এর কাছে আটশো দিরহামে বিক্রি করেছিলাম; কিন্তু বাকিতে। এরপর তিনি আমার কাছে ওই দাসীকেই বিক্রি করে দিলেন নগদ ছয়শো দিরহামে। একথা শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, বড় মন্দ বেচাকেনা করেছ তোমরা। যায়েদকে বলে দিয়ো, সে যদি তওবা না করে তা হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থেকে জিহাদ করে যে ফজিলত লাভ করেছিল, তা বিনষ্ট হয়ে গেছে। মহিলাটি বলল, আচ্ছা বলুন তো, আমি যদি শুধু মূলধন ছাড়া আর কিছু না নিই? তিনি এই আয়াতে কারীমাটি তেলাওয়াত করলেন,
فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ
অর্থ: সুতরাং যার কাছে তার প্রতিপালকের উপদেশ এসে গেছে, আর সে (সুদ গ্রহণ থেকে) বিরত থেকেছে; সে ততটুকুই পাবে যতটুকু সে দিয়েছে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস নং ১৪৮১২; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং ৩০০২; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১০৭৯৯)
بَابُ النِّكَاحِ
অধ্যায়: বিবাহ
د. أَخْرَجَ الْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ
عَنْ أَبِي مُلَيْكَةً قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ فَقَالَتْ: «بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللهِ» قَالَ: وَقَرَأَتْ هَذِهِ الْآيَةَ {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ} [المؤمنون: ٢] مَا زَوَّجَهُ اللهُ أَوْ مَلَكَهُ فَقَدْ عَدَا.
অর্থ: আবু মুলাইকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-কে মুতা বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমাদের সামনে তো কুরআন আছে; এরপর তিনি এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ....
অর্থ: (মুমিন তারা...) যারা তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তবে স্ত্রী ও বাঁদির কথা আলাদা। এক্ষেত্রে তারা তিরস্কৃত হবে না। এর বাইরে যে পা বাড়াল... (সূরা মুমিনূন: ০৫) অর্থাৎ স্ত্রী ও বাঁদি ছাড়া অন্য কারও দিকে, সে সীমালঙ্ঘন করল।' (আর মুতাকৃতা নারী স্ত্রীও নয়, বাঁদিও নয়। তা হলে এর বৈধতা আসবে কোত্থেকে?) (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৩৪৮৪; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৪১৭৪)
২. وَأَخْرَجَ مُسْلِمٌ وَالْأَرْبَعَةُ
عَنِ الشَّعْبِي قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ: فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهَا ، فَقَالَتْ: طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ، فَخَاصَمَتْهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ، قَالَتْ: فَلَمْ يَجْعَلْ لِيْ سُكْنَى وَلَا نَفَقَةً.
অর্থ: শাবি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ফাতেমা বিনতে কায়স রাযি.-এর কাছে গেলাম। (স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন—জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, তার স্বামী তাকে চূড়ান্তভাবে তালাক প্রদান করেছিলেন। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে (ইদ্দতকালে) স্বামীর ঘরে অবস্থান ও খোরপোশের বিষয়ে বাদী হয়েছিলেন। তিনি আরও বললেন, কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য স্বামীর ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত দেননি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৮০; জামে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৮০; সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং ৩৫৪৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২২৮৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৭৩৪২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ৪২৫২; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৫৭২০; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং ৩৯৫৭)
৫. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا وَأَبُو دَاوُدَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : لَقَدْ عَابَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَشَدَّ الْعَيْبِ - يَعْنِي حَدِيثَ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ - وَقَالَتْ: إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَكَانٍ وَحْشِ فَخِيفَ عَلَى نَاحِيَتِهَا، فَلِذَلِكَ رَخَّصَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. ফাতেমা বিনতে কায়সের হাদীসটির কঠোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, ফাতেমার ঘরটি ছিল অরক্ষিত; সেখানে বিপদাপদের ভয় ছিল; তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। (সহীহ বুখারী (তালীক) ৫৩২৫ নং হাদীসের অধীনে; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২২৯২; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৬৮৮১; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৫৪৯৫)
8. وَأَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ: تَزَوَّجَ يحيى بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ ابْنَةَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ، فَطَلَّقَهَا، فَأَخْرَجَهَا مِنْ عِنْدِهِ، فَعَابَ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ عُرْوَةُ، فَقَالُوْا: إِنَّ فَاطِمَةَ قَدْ خَرَجَتْ، قَالَ عُرْوَةُ: فَأَتَيْتُ عَائِشَةَ فَأَخْبَرْتُهَا بِذَلِكَ، فَقَالَتْ: مَا لِفَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ خَيْرٌ فِي أَنْ تَذْكُرَ هَذَا الْحَدِيثَ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে আস রাযি.- এর পুত্র বিবাহ করেছিলেন আবদুর রহমান ইবনে হাকামের কন্যাকে। কিছুকাল পর তিনি তাকে তালাক দেন। মেয়েটিকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। উরওয়াহ বিষয়টির সমালোচনা করলে লোকেরা জানাল, ফাতেমা বিনতে কায়স তো স্বামীর ঘরে থাকেননি। উরওয়াহ বলেন, আমি তখন হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে এলাম এবং বিষয়টি অবহিত করলাম। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ফাতেমা বিনতে কায়সের উচিত নয় যে, সে তার হাদীসটিকে এভাবে ফলাও করবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৮১; আলমুসতাখরাজ, আবু আওয়ানা, হাদীস নং ৪৬৩৮; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৫৪৯০)
بَابٌ جَامِعٌ
অধ্যায়: বিবিধ
د. أَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ مِنْ طَرِيقِ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : مَنْ زَعَمَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ أَعْظَمَ: وَلَكِنْ رَأَى جِبْرِيلَ فِي صُورَتِهِ وَخِلْقَتِهِ، سَادًا مَّا بَيْنَ الْأُفُقِ.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দাবি করল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, সে গুরুতর অপরাধ করল। অবশ্য তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে স্ব-আকৃতি ও স্ব-অবয়বে দিগন্ত ছেয়ে থাকতে দেখেছেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩২৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস নং ৩০৬৮; আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বাইহাকী, হাদীস নং ৯২২)
২. وَأَخْرَجَ مُسْلِمٌ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ : يَا أُمَّاه هَلْ رَأَى مُحَمَّدٌ رَبَّهُ؟ فَقَالَتْ: لَقَدْ قَفَّ شَعْرِي مِمَّا قُلْتَ، مَنْ حَدَّثَكَ بِأَنَّ مُحَمَّدًا رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ! ثُمَّ قَرَأَتْ: لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ (أنعام : ١٠٣) وَلَكِنَّهُ رَأَى جِبْرِيلَ فِي صُورَتِهِ مَرَّتَيْنِ.
অর্থ: মাসরুক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞেস করলাম, মাতা, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি বললেন, তোমার কথা শুনে তো আমার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। মুহাম্মাদ তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন বলে যে তোমাকে গল্প শুনিয়েছে, সে মিথ্যা বলেছে। এরপর হযরত আয়েশা রাযি. এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,
لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
অর্থ: দৃষ্টি তাকে ধারণ করতে পারে না। কিন্তু তিনি দৃষ্টিকে ধারণ করেন। (সূরা আনআম, আয়াত: ১০৩)
অবশ্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরীল আলাইহিস সালামকে দুইবার স্ব-আকৃতিতে দেখেছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৭; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৪২২৭)
৩. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ عَنْ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ: قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ: حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا (يوسف : ۱۱۰) خَفِيفَةٌ ، وَتَلَا حَتَّى يَقُوْلَ الرَّسُوْلُ وَالَّذِينَ آمَنُوْا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ، فَلَقِيْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ، فَقَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: مَعَاذَ اللَّهِ، وَاللَّهِ مَا وَعَدَ اللَّهُ رَسُوْلُهُ مِنْ شَيْءٍ قَطُّ، إِلَّا عَلِم أَنَّهُ كَائِن قَبْلَ أَنْ يَمُوْتَ، وَلَكِنْ لَمْ يَزَلِ البَلاءُ بِالرُّسُلِ، حَتَّى خَافُوْا أَنْ يَكُوْنَ مَنْ مَعَهُمْ يُكَذِّبُوْنَهُمْ، فَكَانَتْ تَقْرَؤُهَا : وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوا مُثَقَّلَةٌ.
অর্থ: ইবনে মুলাইকা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস রাযি. এই আয়াতটি পড়লেন (তাশদিদ ছাড়া)
حَتَّى إِذَا اسْتَيْأَسَ الرُّسُلُ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِبُوا
(এভাবে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায় : এমনকি, রাসূলগণ নিরাশ হওয়ার উপক্রম হলেন এবং ধারণা করলেন যে, তাদের মিথ্যা বলা হয়েছে।) এবং এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন,'
حَتَّى يَقُولُ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَى نَصْرُ اللَّهِ
(অর্থ : এমনকি, রাসূল এবং তাঁর সঙ্গে ঈমান আনয়নকারীগণ বললেন, কখন আসবে আল্লাহর সাহায্য?) (ইবনে মুলাইকা বলেন,) তখন আমি উরওয়াহর কাছে গেলাম এবং বিষয়টি আলোচনা করলাম। উরওয়াহ বললেন, হযরত আয়েশা রাযি. আয়াতটির ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, আল্লাহ মাফ করুন! আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যে প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, রাসূলগণ সে ব্যাপারে নিশ্চিত থেকেছেন যে, তা ঘটবেই। মূলত বিষয়টি এই ছিল যে, রাসূলগণের ওপর একের পর এক বিপদাপদের পাহাড় নেমে আসায় তাদের ভয় হয়েছিল যে, এভাবে চলতে থাকলে ঈমানদার উম্মতেরাও হয়তো তাদের প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা মনে করবে। হযরত আয়েশা রাযি. পড়তেন وَظَنُّوا أَنَّهُمْ قَدْ كُذِّبُوا (তাশদিদসহ)। (আর এভাবে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়: এমনকি, রাসূলগণ নিরাশ হওয়ার উপক্রম হলো এবং তারা ধারণা করলেন যে, তাদের মিথ্যাবাদী বলা হবে।) (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৫২৪, ৪৫২৫)
8. وَأَخْرَجَ الطَّيَالِسِي فِي مُسْتَدِه عَنْ مَكْحُوْلٍ قَالَ: قِيْلَ لِعَائِشَةَ: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: السُّؤْمُ فِي ثَلَاثَةٍ فِي الدَّارِ، وَالْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: لَمْ يَحْفَظْ أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ دَخَلَ، وَرَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : قَاتَلَ اللهُ اليَهُودَ ، يَقُوْلُوْنَ: إِنَّ السُّؤْمَ فِي ثَلَاثَةٍ فِي الدارِ، وَالْمَرْأَةِ، وَالْفَرَسِ، فَسَمِعَ آخِرَ الْحَدِيْثِ، وَلَمْ يَسْمَعْ أَوَّلَهُ.
অর্থ: মাকহুল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-কে বলা হলো, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অশুভ তিনটি বস্তু: নারী, বাড়ি, গাড়ি (ঘোড়া)। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আবু হুরায়রা রাযি. হাদীসটি পুরোপুরি সংরক্ষণ করতে পারেননি। কেননা তিনি পরে ঘরে ঢুকেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আল্লাহ ইহুদিদের বরবাদ করুন, তারা বলে, তিনটি বস্তু কুলক্ষুণে নারী, বাড়ি, গাড়ি (ঘোড়া)। আবু হুরায়রা রাযি. হাদীসের শেষ অংশ শুনেছেন, প্রথম অংশ শোনেননি। (মুসনাদে আবু দাউদ আততয়ালিসি, হাদীস নং ১৬৪১)
9. وَأَخْرَجَ أَحْمَدُ عَنْ أَبِي حَسَّانِ الْأَعْرَجِ، أَنَّ رَجُلَيْنِ دَخَلَا عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالا: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ: إِنَّمَا الطَّيَرَةُ فِي الْمَرْأَةِ، وَالدَّابَّةِ، وَالدَّارِ. فَقَالَتْ: وَالَّذِي أَنْزَلَ الْفُرْقَانَ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ، مَا هَكَذَا كَانَ يَقُوْلُ، وَلَكِنْ كَانَ يَقُوْلُ: كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَقُوْلُوْنَ : الطَّيَرَةُ فِي الْمَرْأَةِ، وَالدَّابَّةِ، وَالدَّارِ، ثُمَّ قَرَأَتْ عَائِشَةُ: مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَّبْرَأَهَا (الحديد: (۲۲)
অর্থ- আবু হাসান আল আরাজ থেকে বর্ণিত আছে যে, দুজন লোক হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরসগাহে গেলেন এবং বললেন, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি জিনিস অশুভ : নারী, বাড়ি, গাড়ি। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ওই আল্লাহর কসম, যিনি আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের ওপর কুরআন নাজিল করেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলতেন না। বরং তিনি বলতেন, জাহেলি যুগের মানুষেরা বলত, তিনটি জিনিস অশুভ : নারী, বাড়ি, গাড়ি। অতঃপর হযরত আয়েশা রাযি. এই আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন, مَا أَصَابَ مِنْ مُّصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَّبْرَأَهَا
অর্থ: যে বিপদই তোমাদের আক্রান্ত করে, জমিনে হোক, তোমাদের জীবনে হোক, সবই লিপিবদ্ধ রয়েছে সেটা ঘটানোর পূর্ব থেকেই। (সূরা হাদীদ, আয়াত: ২২) (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২৬০৮৮; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৬৫২৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ৩৭৮৮)
ن. وَأَخْرَجَ الْبَزَّارُ عَنْ عَلْقَمَةَ
قَالَ: قِيْلَ لِعَائِشَةَ: إِنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَرْوِي عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ امْرَأَةً عُذِّبَتْ فِي هِرَّةٍ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ: إِنَّ الْمَرْأَةَ كَانَتْ كَافِرَةٌ.
قَالَ : وَلَا نَعْلَمُ رَوَى عَلْقَمَةُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلَّا هَذَا الْحَدِيثَ.
অর্থ: আলকামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-কে বলা হলো, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যাতে বলা হয়েছে, একজন নারীকে আল্লাহ তায়ালা একটি বিড়ালের কারণে আজাব দিয়েছিলেন। ঘটনাটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, ওই নারী কাফের ছিল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১০৭২৭; মুসনাদে আবু দাউদ আত তয়ালিসি, হাদীস নং ১৫০৩; মুসনাদে বায্যার, হাদীস নং ৮০৪৪)
. وَأَخْرَجَ قَاسِمُ بْنُ ثَابِتِ السرقسطي فِي غَرِيْبِ الْحَدِيثِ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَائِشَةَ، وَمَعَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، فَقَالَتْ، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَنْتَ الَّذِي تُحَدِّثُ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ امْرَأَةُ عُذِّبَتْ بِالنَّارِ فِي هِرَّةِ؟ لَا أَطْعَمَتْهَا ، وَلَا سَقَتْهَا، وَلَا هِيَ تَرَكَتْهَا، تَأْكُلُ مِنْ حَشَائِشِ الْأَرْضِ، حَتَّى مَاتَتْ، قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: سَمِعْتُ مِنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَتْ عَائِشَةُ: الْمُؤْمِنُ أَكْرَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَنْ يُعَذِّبَهُ فِي هِرَّةٍ ، أَمَا إِنَّ المَرْأَةَ مِنْ ذَلِكَ كَانَتْ كَافِرَةٌ، يَا أَبَا هُرَيْرَةَ! إِذَا حَدَّثْتَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَانْظُرْ كَيْفَ تُحَدِّثُ.
অর্থ: আলকামা ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত আয়েশা রাযি.-এর দরসগাহে ছিলাম। হযরত আবু হুরায়রা রাযি.- ও আমাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। হযরত আয়েশা রাযি. তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরায়রা, তুমি নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একটি গল্প বর্ণনা কর, যাতে বলা হয়েছে, জনৈকা নারী একটি বিড়াল ছানাকে আটকে রেখেছিল; তাকে খানাপিনা দিত না, একসময় বিড়ালটি মাটির ময়লা আবর্জনা খেতে খেতে মারা যায়; আর সেই কারণে আল্লাহ ওই নারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করেছেন? হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, মাতা, আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই ঘটনাটি শুনেছি। হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, একজন মুমিন আল্লাহর কাছে এরচেয়ে অনেক বেশি মর্যাদার যে, একটি বিড়ালছানার কারণে তাকে জাহান্নামে দেবেন। ওই নারী কাফের ছিল, বুঝলে আবু হুরায়রা! যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করবে, ভেবেচিন্তে করবে। (আদ দালাইল ফী গরীবিল হাদীস, কাসেম ইবনে ছাবেত, হাদীস নং ৬২৭)
৮. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِيْنَ تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْن عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ مِيْرَاثَهُنَّ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَهُنَّ: أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا نُوْرَثُ، مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ.
অর্থ: উরওয়াহ হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর পবিত্র স্ত্রীগণ হযরত উসমান ইবনে আফফান রাযি.-কে হযরত আবু বকর রাযি.-এর কাছে পাঠাতে চাইলেন। উদ্দেশ্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকার প্রার্থনা করা। তখন হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, বিষয়টি কি এমন নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন, আমাদের (নবী-রাসূলগণের) কোনো উত্তরাধিকারী হয় না; আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদকা? (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭৩০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৫৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৯৭৬)
৯. وَأَخْرَجَ أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرَّانِيُّ، وَأَبُو مَنْصُورٍ الْبَغْدَادِيُّ عَنِ الْكَلْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : لَأَنْ يَمْتَلِى جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا وَدَمًا، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِى شِعْرًا، فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَمْ يَحْفَظِ الْحَدِيثَ، إِنَّمَا قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَأَنْ يَمْتَلِى جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحاً وَدَمًا، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِى شِعْرًا هُجِيْتُ بِهِ.
অর্থ: কালবি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, কবিতা দিয়ে পেট ভরানোর চাইতে রক্ত-পুঁজ দিয়ে পেট ভরানোই ভালো। কথাটি শুনে হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, আবু হুরায়রা ভালোভাবে হাদীসটি সংরক্ষণ করতে পারেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমার কুৎসা রটনা করে কাফেররা যে কবিতা ছড়িয়েছিল, তা দিয়ে পেট ভরানোর চাইতে রক্ত-পুঁজ দিয়ে পেট ভরানো ভালো। (শরহুস সুন্নাহ, বাগাভী, হাদীস নং ৩৪১৩; মুসনাদে আবু ইয়ালা আলমাওছিলী, হাদীস নং ২০৫৬; আলমাকছিদুল আলী ফী যাওয়াইদি আবী ইয়ালা আলমাওছিলী, হাদীস নং ১১১৯; শরহু মাআনিল আছার, ত্বহাবী, হাদীস নং ৬৯৮৮;)
٥٠. وَأَخْرَجَ الْحَاكِمُ وَصَحَّحَهُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي سُنَنِهِ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، قَالَ: بَلَغَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَأَنْ أُمَتَّعَ بِسَوْطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ وَلَدَ الزِّنَا، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَلَدُ الزِّنَا شَرُّ الثَّلَاثَةِ، وَإِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذِّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ. فَقَالَتْ عَائِشَةُ: رَحِمَ اللَّهُ أَبَا هُرَيْرَةَ أَسَاءَ سَمْعًا فَأَسَاءَ إِصَابَةً، أَمَّا قَوْلُهُ: لَأَنْ أُمَتَّعَ بِسَوْطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ وَلَدَ الزِّنَا أَنَّهَا لَمَّا نَزَلَتْ: "فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ" [البلد: ١٢] قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا عِنْدَنَا مَا نُعْتِقُ إِلَّا أَنَّ أَحَدَنَا لَهُ جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ تَخْدُمُهُ، وَتَسْعَى عَلَيْهِ، فَلَوْ أَمَرْنَاهُنَّ فَزَنَيْنَ، فَجِئْنَ بِالْأَوْلَادِ فَأَعْتَقْنَاهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَأَنْ أُمَتَّعْ بِسَوْطٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ آمُرَ بِالزِّنَا، ثُمَّ أُعْتِقَ الْوَلَدَ وَأَمَّا قَوْلُهُ: وَلَدُ الزِّنَا شَرُّ الثَّلَاثَةِ. فَلَمْ يَكُنِ الْحَدِيثُ عَلَى هَذَا، إِنَّمَا كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْمُنَافِقِينَ، يُؤْذِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ فُلَانٍ؟" قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَعَ مَا بِهِ وَلَدُ زِنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُوَ شَرٌّ الثَّلَاثَةِ، وَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: ﴿وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴾ [الأنعام: ۱۶۴] وَأَمَّا قَوْلُهُ: إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ الْحَيِّ، فَلَمْ يَكُنِ الْحَدِيثُ عَلَى هَذَا، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِدَارِ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ قَدْ مَاتَ، وَأَهْلُهُ يَبْكُونَ عَلَيْهِ، فَقَالَ : إِنَّهُمْ يَبْكُونَ عَلَيْهِ، وَإِنَّهُ لَيُعَذِّبُ، وَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ : ﴿لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا﴾ [البقرة: ২৮৬] .
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি.-এর কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো জারজ সন্তানকে আজাদ করার চাইতে কশাঘাত বরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, জারজ সন্তান তিনজনের নিকৃষ্টজন। তিনি আরও বলেছেন, মহল্লার লোকদের কান্নাকাটিতে মাইয়েতের আজাব হয়।
এই হাদীসগুলো শোনার পর হযরত আয়েশা রাযি. বললেন, আল্লাহ আবু হুরায়রা রাযি.-কে রহম করুন, তিনি ঠিকমতো শুনতে পারেননি; তাই ঠিকমতো বলতেও পারেননি।
প্রথম হাদীসটি সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, যখন এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো,
فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ، فَكُّ رَقَبَةٍ.
[অর্থ: কিন্তু সে তো (মানুষ) সেই দুর্গম গিরি পাড়ি দিতে চায়নি; জানো, সে দুর্গম গিরি কী? দাসত্বের শেকল খুলে দেওয়া। (সূরা বালাদ: ১১-১৩)]
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের তো মুক্ত করার মতো কোনো দাসদাসী নেই। তবে আমাদের একজনের হাবশি দাসী আছে। সে সেবাযত্ন ও কাজকর্ম করে দেয়। আমরা তাকে নির্দেশ দিলে সে যিনা করতে পারে। এতে যে সন্তানগুলো হবে, আমরা সেগুলো আজাদ করে দেব। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যিনার নির্দেশ দিয়ে কোনো জারজ শিশুকে আজাদ করার চাইতে কশাঘাত বরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।
দ্বিতীয় হাদীস-জারজ শিশু তিনজনের (মাতা-পিতা-সন্তান) নিকৃষ্টজন-সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, হাদীসটি আসলে এরকম নয়। ঘটনা এই যে, জনৈক মুনাফিক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দিত। একদিন তার কথা উঠলে জনৈক সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, সে শুধু মুনাফিকই নয়; জারজও। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে তিনজনের মধ্যে সেই নিকৃষ্ট। (সবার ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়। কেননা) আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى.
অর্থ: কেউ কারও পাপের বোঝা বহন করবে না।
তৃতীয় হাদীসটিও যথার্থ হয়নি। মূলত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইহুদীর লাশ দেখে বলেছিলেন, ইহুদীর আজাব হচ্ছে। ওই সময় ইহুদীর পরিবারের লোকজন তার জন্য কান্নাকাটিও করছিল। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন,
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا .
অর্থ: আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপান না। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ২৮৫৫; সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৯৯৯১; মারিফাতুস সুনানি ওয়াল আছার, হাদীস নং ২০২৩৫-২০২৩৭)
২১. وَأَخْرَجَ الْبُخَارِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ، فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُوْمٍ.
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, হযরত বেলাল রাতে আজান দেবে; তখন থেকে ইবনে উম্মে মাকতুমের আজান পর্যন্ত তোমরা পানাহার করবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৫৬)
২২. وَأَخْرَجَ الْبَيْهَقِيُّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ رَجُلٌ أَعْمَى فَإِذَا أَذَّنَ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ بِلَالٌ" قَالَتْ عَائِشَةُ : وَكَانَ بِلَالٌ يُبْصِرُ الْفَجْرَ قَالَ هِشَامٌ: وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ: غَلِطَ ابْنُ عُمَرَ.
অর্থ: উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা রাযি. বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ইবনে উম্মে মাকতুম অন্ধ মানুষ। তাই সে আজান দিলে তোমরা বেলালের আজান পর্যন্ত পানাহার করবে। বেলাল ফজরোদয় ভালোভাবে পরখ করতে পারবে। হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, ইবনে উমর রাযি. বলতে ভুল করেছেন। (সুনানে কুবরা, বাইহাকী, হাদীস নং ১৭৯৪)
সংযোজিত (ইমাম সুয়ূতি রহ. বলেন,) আল্লামা যারাকশী রহ. কর্তৃক সংকলিত ইসতিদরাক (সংশোধনী)-সংবলিত এটিই সর্বশেষ হাদীস। তিনি আরও কিছু হাদীস এনেছিলেন, সেগুলো সরাসরি ইসতিদরাক-সংবলিত না হওয়ায় বক্ষ্যমাণ পুস্তিকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিচে ইসতিদরাক- সংবলিত আরও কিছু হাদীস সংযোজিত হলো:
১. أَخْرَجَ الْأَئِمَّةُ السَّنَةُ إِلَّا أَبُو دَاوُد عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِلَحْمٍ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ، وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ.
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে গোশত হাদিয়া এল। তাঁর সম্মুখে রান উপবেশন করা হলো। তিনি এটা পছন্দ করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭১২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৯৪; জামে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৩৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৩০৭; সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস নং ৬৬২৬)
২. وَأَخْرَجَ التَّرْمِذِيُّ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا كَانَتْ الذِّرَاعُ أَحَبَّ إِلَى رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ لَا يَجِدُ اللَّحْمَ إِلَّا غِبًّا، فَكَانَ يَعْجَلُ إِلَيْهِ، لِأَنَّهُ أَعْجَلُهَا نضجا.
অর্থ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রান পছন্দ করতেন তা নয়। আসলে গোশত অনেক দেরিতে পাওয়া যেত। তাই তিনি এটাই খেতেন। তা ছাড়া, এটা তাড়াতাড়ি রান্না হতো। (জামে তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৩৮)
. وَأَخْرَجَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ
عَنْ أَبِي رُزَيْنِ قَالَ : خَرَجَ إِلَيْنَا أَبُو هُرَيْرَةَ يَضْرِبُ بِيَدِهِ عَلَى جَبْهِتِهِ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّكُمْ تُحَدِّثُوْنَ أَنِّي أَكْذِبُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا انْقَطَعَ شِسْعُ أَحَدِكُمْ فَلَا يَمْشِ فِي الْأُخْرَى، حَتَّى يُصْلِحَهَا .
অর্থ: আবু রাযীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা রাযি. আমাদের কাছে এলেন। তিনি কপালে হাত দিয়ে আঘাত করে বললেন, তোমরা বলো, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যা বলি। তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যদি কারও জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায়, তা হলে সেটা ঠিক না করে অন্যটি পরে যেন কেউ না হাঁটে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদীস নং ২৪৯২৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪১৩৭)
8. وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ . عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَمْشِي فِي خُفْ وَاحِدٍ وَتَقُوْلُ لَأُخِيْفَنَّ أَبَا هُرَيْرَةً .
অর্থ: আবদুর রহমান ইবনে কাসেম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, হযরত আয়েশা রাযি. একটি মোজা পরে হাঁটতেন আর বলতেন, আবু হুরায়রাকে ভয় দেখাচ্ছি। (কারণ সে বলে, এভাবে এক জুতা বা মোজা পরে হাঁটা যাবে না।) (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদীস নং ২৪৯৩০; আখবারে মাক্কা, ফাকিহী, হাদীস নং ২৫৩৮)
***
প্রখ্যাত হাদীসবিশারদ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ. সংকলিত عَيْنُ الْإِصَابَةِ فِيْمَا اسْتَدْرَكَتْهُ السَّيِّدَةُ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَلَى الصَّحَابَةِ এখানেই সমাপ্ত হলো। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা, তিনি যেন এই মহান মানুষটিকে আপন করুণা ও মার্জনা এবং সন্তুষ্টির চাদরে ঢেকে নেন; এবং তাঁর ইলম ও কামালের বরকতে আমাদের উপকৃত করেন, অনুগ্রহ করেন। আমীন।
(প্রিয় পাঠক, এইমাত্র জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহ. কৃত পুস্তিকা আইনুল ইসাবা পড়ে শেষ করেছেন। বিভিন্ন সাহাবীর বর্ণনা, বক্তব্য সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি.-এর সংশোধনী বক্তব্য পড়েছেন। পাঠককে বিনয়ের সঙ্গে একটি অনুরোধ করব—কোথায় কোন বক্তব্যটি চূড়ান্ত, কোন বক্তব্য অনুসারে আমল করব, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কোনো বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হবেন। উম্মুল মুমিনীনের সংশোধনী অবশ্যই শিরোধার্য; কিন্তু ‘ইজমায়ে সাহাবা’ যদি তাঁর বক্তব্যের বিপরীত হয়, তা হলে অবশ্যই সাহাবীদের সেই সর্বসম্মত মতটিকেই অগ্রগণ্য হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। -সম্পাদক)
সমাপ্ত
টিকাঃ
د. أَخْبَرَنَا الْمُصَنِّفُ سَمَاعاً : أَخْرَجَ الْحَاكِمُ فِي الْمُسْتَدْرَكِ
سكت عنه الذهبي في التلخيص، وأخرجه الطبراني بسند صحيح كما في شرح الزرقاني على المواهب ص ۲۷۷/۳ ۵.
د. التساخين الخفاف لا واحد لها مثل المناشيب، قال ثعلب ليس للتساخين واحد من لفظها كالنساء لا واحد لها، و قيل الواحد تسخان و تسخن و في الحديث أنه صلى الله عليه وسلم بعث سرية فأمرهم أن يمسحوا على المشاوذ و التساخين المشاوذ : العمائم والتساخين : الخفاف، قال ابن الأثير وحمزة الأصبهاني في كتاب الموازنة التسخان تعريب تشكن و اسم غطاء من أغطية الرأس، كأن العلماء و الموابذة يأخذونه على رؤوسهم خاصة دون غيرهم، قال و جاء ذكر التساخين في الحديث فقال من تعاطى تفسيره هو الخف خين لم يعرف فارسية و التاء فيه زائدة (لسان العرب : الجزء ۱۷، والصفحة ٦٩ ، فصل السين حرف النون "سخن" انتهى .
في إِسْنَادِهِ مَنْ يُجْهَلُ. ... قَالَ تَعْلَبُ : لَا وَاحِدَ لهَا، وَهَذَا الْحَدِيثُ لَا يَصِحُ فَإِنَّ مُسْلِمًا رَوَى فِي صَحِيحِهِ عَنْ شُرَيْحٍ بْن هَانِي قَالَ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ أَسْأَلُهَا عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الخُفَّيْنِ فَقَالَتْ: عَلَيْكَ بِابْنِ أَبِي طَالِبٍ فَسَلْهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ: جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلِيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَة لِلْمُقِيمِ.
ورَوَاهُ النَّسَائِيُّ مِنْ حَدِيْثِ عَائِشَةَ عَنْ شُرَيْحٍ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْحُقَّيْنِ فَقَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا أَنْ تَمْسَحَ الْمُقِيمِ يَوْمًا وَلَيْلَهُ وَالْمُسَافِر ثَلَاثًا. (من الإجابة الإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة" للزركشي (٨٥/١)
د. سنن دارقطني : ج / ص ۵۰
د. مسلم، باب إفاضة الماء و نسائي باب ترك المرأة نقض رأسها
د. في مسنده، ص ٢٤٣/٦
د و لفظ البخاري : إن الله ليعذب المؤمن ببكاء أهله عليه
د. كما عند البخاري و عند مسلم : من شيء
১. সহীহ মুসলিমের তথ্যানুসারে-মেয়েটির নাম ছিল উম্মে আবান। তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।
د. أيضا في مسند أحمد ج/۱/ص ١٤٣
قال الدارقطني غريب من حديث مجاهد عن أبي هريرة و عائشة؛ تفرد به عطاء بن السائب عنه، ولا أعلم أحدا حدث به عنه غير محمد بن فضيل.
د المستدرك للحاكم ٣٤١/١
د. في جامع الترمذي، باب ما جاء في كراهية المشي في نعل واحدة، ص ٣٠١ الترمذي أيضا 2.