📄 আয়েশা রাযি. বর্ণিত আরেকটি হাদীস
বুখারী শরীফের হিজরত-সংক্রান্ত মশহুর হাদীসটিও আমাদের মতকে সমর্থন করে। দেখুন, হযরত আয়েশা রাযি. নিজেই বর্ণনা করছেন-
قَالَتْ: لَمْ أَعْقِلُ أَبَوَيَّ قَطُّ إِلَّا وَهُمَا يَدِيْنَانِ الدِّيْنَ ، وَلَمْ يَمُرُّ عَلَيْنَا يَوْمٌ إِلَّا يَأْتِيْنَا فِيْهِ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَرَفَ النَّهَارِ، بُكْرَةً وَعَشِيَّةٌ ، فَلَمَّا ابْتُلِيَ الْمُسْلِمُوْنَ ، خَرَجَ أَبُو بَكْرٍ مُهَاجِرًا قَبْلَ الْحَبَشَةِ .
অর্থ: বুদ্ধি হওয়ার সময় থেকেই আমি আমার মা-বাবাকে ইসলামের ওপর দেখছি। আর এমন কোনো দিন অতিবাহিত হতো না, যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যা আমাদের কাছে আসতেন না। এরপর যখন মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আবু বকর হাবশার উদ্দেশে হিজরত করলেন।
হযরত আবু বকর রাযি. সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর স্ত্রী উম্মে রুমান মাত্র সতেরো জনের পরেই নবুওয়াতের তৃতীয় বছর বা তারও আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কারণ চতুর্থ বছর মুসলমানদের সংখ্যা চল্লিশ জন অতিক্রম করেছিল। তা হলে, হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী হযরত আবু বকর রাযি.-এর হিজরত নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে হওয়ার কথা। আর আবু বকর রাযি.-এর বাড়িতে নবীজীর সকাল-সন্ধ্যা আগমন তারও আগের ঘটনা। আর ওই সময় আয়েশা রাযি.-এর বুদ্ধির বয়সে উপনীত হওয়ার অর্থই হলো পাঁচ-ছয় বছর বয়স হওয়া। সুতরাং আয়েশা রাযি.-এর বয়স-সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে সহীহ ধরলে নবুওয়াতের পঞ্চম বছর তার পাঁচ-ছয় বছর বয়স হওয়ার পরিবর্তে তখন তাঁর জন্ম হওয়ার কথা। এমতাবস্থায় কীভাবে তাঁর বয়স বর্ণিত হাদীসগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেওয়া যায়?
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। হযরত আয়েশা রাযি.-কে যখন বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তখন তাঁর পিতা আবু বকর রাযি. উত্তরে বলেছিলেন, আয়েশার বিষয়ে আগে আরেকজনকে বলা হয়েছে। সুতরাং তার কাছ থেকে জেনে তারপর এ বিষয়ে আগে বাড়া যাবে।
এই ঘটনাও প্রমাণ করে যে, নবীজীর সঙ্গে বিবাহের সময় তাঁর বয়স ছয়-সাত বছর নয়; বরং এর চেয়ে বেশি ছিল। কারণ পাঁচ/ছয় বছর বয়সে নিশ্চয় বিবাহের কথা আলোচনা হওয়ার প্রথা আরবেও ছিল না। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে, নবীজীর সঙ্গে বিবাহের আগে হযরত আয়েশা রাযি.-এর অন্য জায়গায় বিবাহের আলোচনা হয়েছিল।
📄 সাহিবে মেশকাতের বক্তব্য
এটা ঠিক যে, সাহিবে মেশকাত হযরত আয়েশা রাযি.-এর বিবাহের বয়স ছয়-সাতের চেয়ে বেশি হওয়ার বিষয়টিকে এর মতো দুর্বল শব্দ দিয়ে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমার বিশ্বাস—তাঁর মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া নিজের একটা কথাকে ১ (অন্যের বক্তব্য) বলে চালিয়ে দিতে পারেন না। তালাশ করলে হয়তোবা কোনো রেওয়ায়েত পাওয়া যেতেই পারে। তা ছাড়া, বুখারী শরীফের অন্য হাদীসে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, নবুওয়াতের ৫ম/৬ষ্ঠ বছর হযরত আয়েশা রাযি. বুদ্ধিসম্পন্ন একজন বালিকায় পরিণত হয়েছিলেন। যেমনটি بَلِ السَّاعَةُ
আয়াত অবতীর্ণ হওয়া প্রসঙ্গে জানা গেছে। এই ঘটনাটিও সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যে, বিবাহের সময় তাঁর বারো-তেরো আর বাসরের সময় ষোলো-সতেরো বছর বয়স ছিল। পর্যাপ্ত অনুসন্ধান দ্বারা এটা আরও সুপ্রমাণিত হতে পারে।